রাজধানীর রমনা,মোহাম্মদপুর ও লালবাগ এলাকা থেকে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩০০০ পিস ইয়াবা ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানিয়েছে শিল্পকলা একাডেমির মূল গেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩০০০ পিস ইয়াবাসহ রাকিব ও আরিফ নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরা রাজধানীতে ইয়াবা ব্যবসা করতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে ৫০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি’র গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। গ্রেফতারকৃতের নাম মামুন খান। মোহাম্মদপুর থানার বছিলা রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রাইভেট গাড়িতে গাঁজা নিয়ে এরা ঢাকা হয়ে দিনাজপুর যাওয়ার কথা ছিল। গোপন তথ্যে বছিলা তিন রাস্তার মোড় এলাকার জালাল টেলিকমের সামনে গাঁজা বহনকারী প্রাইভেটকারটি পৌঁছালে ব্যারিকেডের মাধ্যমে থামানোর চেষ্টা করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় পালানোর চেষ্টাকালে মামুনকে প্রাইভেটকারসহ গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গাড়িতে তল্লাশি করে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া লালবাগ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবাসয়ীকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। শনিবার বিভিন্ন সময় এসব অভিযান চালায় পুলিশ।
রাজধানীতে ৩০০০ পিস ইয়াবা ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার
বিদেশে যেতে খালেদা জিয়াকে কারাগারে গিয়ে আবেদন করতে হবে: আইনমন্ত্রী
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে চাইলে তাকে কারাগারে গিয়ে আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
রবিবার আইন কমিশনের রজত জয়ন্তী উপলক্ষে বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ আছে কি না- এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) যে আবেদন করেছেন তা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার একটি আবেদন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত রেখে তাকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছিল। এ অবস্থায় একে পরিবর্তন করার আইন নেই। যদি এটা করতে হয়, তাহলে তাকে (খালেদা জিয়া) আবার জেলে গিয়ে এই (বর্তমান) আবেদন বাতিল করতে হবে। এরপর আবার নতুন আবেদন করতে হবে। এ আবেদনের মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই।
তিনি জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর পক্ষে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে মতামত দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত নথি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এর আগে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ আরো বক্তব্য রাখেন বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটের মহাপরিচালক সাবেক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব গোলাম সারওয়ার প্রমুখ।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। এ মামলায় হাইকোর্টে তার সাজা বেড়ে ১০ বছর কারাদণ্ড হয়। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতে সাত বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। ২৫ মাস কারাভোগের পর গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার খালেদা জিয়ার সাজা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী স্থগিত করলে কারামুক্ত হন খালেদা জিয়া। দ্বিতীয় দফায় তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়। চলতি মাসে সাজা স্থগিতের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষে সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এই আবেদনটির ওপর মতামত দিয়ে পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এতে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরো ৬ মাস বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে অসম্মতি জানাতে পারবে না কোনো ক্লিনিক হাসপাতাল: হাইকোর্ট
দেশের সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি যদি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে সংশ্লিষ্ট রোগীকে পাঠাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সব বেসরকারি-সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তালিকা, জরুরি চিকিৎসাসেবা বিভাগ রয়েছে- এমন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর পৃথক তালিকা এবং স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক চিত্রও তিনমাসের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে যখনই হাসপাতাল বা ক্লিনিক অথবা চিকিৎসকদের কাছে আনা হবে, তাৎক্ষণিক তাকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অসম্মতি জানাতে পারবে না। যদি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকে সেক্ষেত্রে জরুরি সেবা রয়েছে, এমন নিকটস্থ কোনো হাসপাতালে ওই ব্যক্তিকে পাঠাতে হবে।
রুলে দেশে বিদ্যমান সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর প্রয়োজন বিশেষে যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে অসম্মতি জ্ঞাপন কেন বেআইনি হবে না এবং যদি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকে, সেক্ষেত্রে জরুরি সেবা রয়েছে, নিকটস্থ এমন কোনো হাসপাতালে ওই ব্যক্তিকে কেন পাঠানো হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া রুলে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের নতুন লাইসেন্স ইস্যু করার সময় এবং বিদ্যমান রেজিস্টার্ড হাসপাতাল বা ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন করার সময় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ আবশ্যিকভাবে বিদ্যমান থাকতে হবে- শর্ত যুক্ত করে দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতেও পৃথক রুল জারি করা হয়েছে।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের আদেশের ফলে হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মুমূর্ষু রোগীকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে বাধ্য থাকবে।
অস্ট্রেলিয়া যেতে নারীর ফাঁদে পড়ে ৫৫ লাখ টাকা খোয়ালেন আইনজীবী
পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার প্রলোভনে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর কাছ থেকে ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। আইনজীবী এমএবিএম খায়রুল ইসলামের (৪৭) সঙ্গে প্রতারণায় জড়িত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
তারা হলেন- মো.সাইমুন ইসলাম (২৬) ও মো. আশফাকুজ্জামান খন্দকার (২৬)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি কম্পিউটার, জাল ভিসা ও জাল টিকিটসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। এ চক্রের মূলহোতা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী (৩৫)। তাকেও দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
রোববার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাসের কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে জাল ভিসা প্রস্তুত করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী। তিনি মাঝেমধ্যে দেশে এসে উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে আত্মীয়ের ভিসায় অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাবেন বলে প্রলোভন দেখান। সপরিবারে গেলে (স্বামী-স্ত্রী) ২৩ লাখ আর একা গেলে ১৮ লাখ, সে হিসেবে চুক্তি করতেন তিনি। রোজী নিজেকে অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিতেন।
সিআইডি জানায়, রোজী দেশে থাকাকালীন তার সঙ্গে পরিচয় হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এমএবিএম খায়রুল ইসলামের। তখন রোজী অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছ থেকে পুরস্কৃত হন ও পুরস্কারের ছবি ভুক্তভোগীকে দেখান। এতে করে ভুক্তভোগী বিশ্বাস করতে থাকেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশনমন্ত্রী এলেক্স হাউকির সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান রোজী। এরপর ধাপে ধাপে কাগজপত্র ও ভিসার কথা বলে টাকা নিতে থাকেন। ওই আইনজীবীও রোজীর ফাঁদে পড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের আট সদস্যসহ অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন তিনি। এজন্য রোজীর দেওয়া দু’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা দেন এ আইনজীবী। টাকা দেওয়ার পর কাগজপত্র ও ভিসা হাতে পেয়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে পান সবগুলোই ভুয়া এবং জাল।
অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী আইনজীবী প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে গত ১ জুলাই রাজধানীর খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার বনশ্রী ও শাজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
জামাতের ৫ নেতা ফের রিমান্ডে
জামাতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো দুই দিনের রিমান্ডের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
রাজধানীর ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় এর আগে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে গ্রেপ্তার জামাতের এই পাঁচজন ছাড়া রোববার বাকি চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মাসুদ-উর-রহমান।
নতুন করে রিমান্ডে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন জামাতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন, ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত ও রফিকুল ইসলাম খান।
রোববার আদালতে মনিরুল ইসলাম ও আবুল কালাম নামে দুই জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন। তাদেরসহ দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ও আব্দুর রবকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিন হাকিম শহিদুল ইসলাম আসামি মনিরুল ইসলাম এবং হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া আরেক আসামি আবুল কালামের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতে পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রনপ কুমার ভক্ত এসব তথ্য জানান।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক কাজী ওয়াজেদ মিয়া রিমান্ডে থাকা ৯ আসামিকে আদালতে হাজির করেন।
তিনি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৫ জনকে ফের ১০ দিনের রিমান্ড, দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং অন্য দুই আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
গত ৬ সেপ্টম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে থেকে জামাতের সেক্রেটারি জেনারেলসহ তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখানে তারা একটি বৈঠক করছিলেন।
রোববার নতুন করে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, “তদন্তে জানা গেছে ৫ আসামিসহ তাদের সহযোগীরা ঘটনার দিন ও সময়ে ঘটনাস্থলে সমবেত হয়ে বর্তমান সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত, প্রজাতন্ত্রের ব্যক্তিসত্ত্বা বা প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।
“তারা বিভিন্ন উস্কানিমূলক লিফলেট তৈরি করে তা বিলি করে সাধারণ মানুষকে ধ্বংসাত্মক কাজে উদ্বুদ্ধ করে।“
এতে আরও বলা হয়, তারা সরকারকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তাড়ায় আর কি কি পরিকল্পনা করেছিল, পরিকল্পনার নেপথ্যে আর কে কে জড়িত, দেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার কাজে তারা কী ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল এবং এ ধরনের কাজে তাদের কোথা থেকে, কিভাবে অর্থ সংস্থান হয় তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।“
এ জন্য তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু রিমান্ডের পক্ষে ও জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। বিডি নিউজ ।
নাটোরের এমপি শিমুলের কানাডায় বাড়ি কেনার তথ্য চেয়েছে হাই কোর্ট
নাটোরে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল ও তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ও কানাডায় বাড়ি কেনার তথ্য জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে তা নাটোর সদরের বনবেল ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রেজাউল চৌধুরীকে হলফনামা করে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
অর্থ পাচারে জড়িত দ্বৈত নাগরিক ও দ্বৈত পাসপোর্টধারী সংক্রান্ত হাই কোর্টের স্বঃপ্রণোদিত মামলায় পক্ষ হতে আবেদন করেছিলেন রেজাউল চৌধুরী।
রোববার তার আবেদনটি নিষ্পত্তি করে শিমুলের তথ্য নিয়ে আদেশ দেয় বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ।
আদালত আদেশে বলেছে, “আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হল। আবেদনকারীর কাছে এ সংক্রান্ত (সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল ও তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতীর বিষয়ে) বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে যথাযথ অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে তা হলফনামা করে আদালত, রষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন –দুদকে সরবরাহ করতে বলা হল।”
পাশাপাশি রষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করতেও বলা হয়েছে আবেদনকারী রেজাউল চৌধুরীকে।
আদালতে আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আবদুর রাজ্জাক ও মো. বেলাল হোসেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
পক্ষভুক্তির আবেদনে রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতা ছিল জানিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, “আজকে একজন এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন পক্ষভুক্ত হতে, কাল আরেকজন আসবেন কোনো একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে। এভাবে চলতে থাকলে মামলাটি নিষ্পত্তি হবে না।”
তিনি বলেন, “১৩ হাজার ৯৩১ জন দ্বৈত নাগরিকের তালিকা আমরা আদালতে দাখিল করেছি। সেটির এখনও শুনানি হয়নি। আবেদনকারী বলছেন, এই তালিকা থেকে সংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল ও তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতীর নাম বাদ পড়েছে। যদি বাদ পড়ে থাকলে তা যুক্ত করে নিতে পারি আমরা। এর জন্য পক্ষভুক্ত হওয়ার কোনো দরকার নেই।”
এ আইন কর্মকর্তা বলেন, রেজাউল চৌধুরীর আবেদনটি আদালত নিষ্পতি করে আদেশ দিলেও তাকে মামলায় পক্ষভুক্ত করতে বলা হয়নি।
গত বছরের ১৮ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাচারের সত্যতা পাওয়ার কথা জানান।
প্রাথমিকভাবে অর্থপাচারে জড়িত যাদের তথ্য পাওয়া গেছে তার মধ্যে সরকারি কর্মচারীই বেশি বলে জানান তিনি।
এছাড়া রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীও রয়েছেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেলেন। তবে সেদিন কারও নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
সে বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বাঙালি অধ্যুষিত কানাডার ‘বেগম পাড়া’র প্রসঙ্গ উঠে আসে।
সেসব প্রতিবেদন নজরে আসার পর গত বছর ২২ নভেম্বর হাই কোর্ট অর্থপাচারকারী, দুর্বৃত্তদের নাম-ঠিকানার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না, তা জানতে চায়।
স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়।
এছাড়া প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে অর্থপাচারকারী সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, ব্যাংক কর্মকর্তা ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল দেয়।
নির্দেশ অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
এসব প্রতিবেদনের উপর শুনানির পর বাংলাদেশিদের মধ্যে যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট আছে এবং যারা দেশের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে দেশে-বিদেশে নির্বিঘ্নে আসা-যাওয়া করছেন, তাদের তালিকা চায় হাই কোর্ট।
ইমিগ্রেশন পুলিশ সুপারকে (ইমিগ্রেশন) সে তালিকা দিতে বলা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে সে তালিকা দাখিল করা হয় আদালতে; যেটি উপস্থাপনের অপেক্ষায় আছে।
এর মধ্যে গত সপ্তাহে এ মামলায় পক্ষভুক্ত হতে আবেদন করেন নাটোরের রেজাউল চৌধুরী।
সংসদ সদস্য শিমুল ও তার স্ত্রী জান্নাতীর অর্থ পাচার ও কানাডায় বাড়ি কেনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে আবেদনটি করেন তিনি। সেই আবেদনটিই নিষ্পত্তি করে আদেশ দিল উচ্চ আদালত। বিডি নিউজ।
ধামাকার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকা পাচারের মামলা
আরও একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকার বিরুদ্ধে প্রায় ১১৬ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
বৃহস্পতিবার সিআইডির পক্ষ থেকে সহকারী পুলিশ সুপার আল আমিন বাদী হয়ে বনানী থানায় মুদ্রা পাচার আইনে মামলাটি করেন।
ধামাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসীম উদ্দিন চিশতীসহ ছয়জন এবং তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলাটি করা হয়েছে।
ধামাকার মালিকানা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোট্রেড গ্রুপ, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম লিমিটেড এবং ইনভেরিয়েন্ট টেকনোলজি লিমিটেড- এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বাকি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- জসীম উদ্দিনের স্ত্রী ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদা রোকসানা খানম, জসীম উদ্দিনের ছেলে একই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তাশফির রেদোয়ান চিশতী, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিমউদ্দীন আসিফ, পরিচালক মাশফিক রেদোয়ান চিশতী ও পরিচালক সাফওয়ান আহমেদ।
সিআইডির মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান জানান, “ধামাকার ব্যাংক একাউন্ট থেকে প্রায় ১১৬ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং হয়েছে।”
সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির বলেন, “ধামাকার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের উপর তদন্ত করে এই আর্থিক কেলেঙ্কারির সন্ধান পাওয়া গেছে।”
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ার মধ্যে বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকরা।
গত বছরের নভেম্বর মাসে যাত্রা শুরুর পর ধামাকা গাড়ি, বাইকসহ বিভিন্ন পণ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে নেয়। মার্সিডিজ বেঞ্জসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়িতে ৩৫ শতাংশ ছাড়ের অফারও দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
এসপি হুমায়ুন কবির বলেন, “ধামাকা তাদের হাজার হাজার গ্রাহককে ‘ডাবল টাকা ভাউচার’, ‘সিগনেচার কার্ডস’ এবং মোটা অঙ্কের ছাড়ের মতো আকর্ষণীয় সব অফারের মাধ্যমে প্রতারিত করে আসছে।”
অনলাইন মার্কেট প্লেস ইভ্যালির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের নানা অভিযোগের পর ১৪টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নিয়ে নিজ উদ্যোগে তদন্ত শুরু করে সিআইডি।
প্রাথমিক তদন্তে ধামাকাসহ অন্তত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়া গেছে বলে জানান সিআইডি কর্মকর্তারা। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়েও তদন্ত চলছে বলে তারা জানান। বিডিনিউজ।
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর সৌরঝড়, ভেঙে পড়তে পারে বিশ্বের ইন্টারনেট যোগাযোগ
ভয়ঙ্কর সৌরঝড় (‘সোলার স্টর্ম’)ধেয়ে আসছে। যার ফলে ভেঙে পড়তে পারে গোটা বিশ্বের যাবতীয় ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা। আর তা বেশ কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসও স্থায়ী হতে পারে।
এই ধরনের সৌরঝড়কে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয়, ‘করোনাল মাস ইজেকশান (সিএমই)’। যা গোটা সৌরমণ্ডলের পক্ষেই হয়ে ওঠে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
আমেরিকার আরভিনে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা এই অশনিসঙ্কেত দিয়েছে। গবেষণাপত্রটি পিয়ার রিভিউ পর্যায় পেরিয়ে একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশের অপেক্ষায়। মঙ্গলবার অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্রটি।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এ বার যে সৌরঝড় আসছে তেমন ভয়ঙ্কর সৌরঝড়ের ঝাপ্টা আধুনিক পৃথিবীকে এর আগে সইতে হয়েছিল ১৮৫৯ আর ১৯২১ সালে। সে ক্ষেত্রে বলা যায়, ১০০ বছর পর ফের ভয়ঙ্কর সৌরঝড়ের মুখোমুখি হতে চলেছে পৃথিবী। ১৯২১ সালে ভয়ঙ্কর সৌরঝড় আছড়ে পড়ায় পৃথিবীর যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল তা অভূতপূর্ব। বিজ্ঞানের পরিভাষায় তার নাম ‘ক্যারিংটন এফেক্ট’। সেই সৌরঝড়ের ঝাপ্টায় পৃথিবীকে ঘিরে থাকা বিশাল চৌম্বক ক্ষেত্রে বড় বড় ফাটল ধরেছিল। আর তার ফাঁক গলে ঢুকেছিল অত্যন্ত বিষাক্ত সৌরকণা আর মহাজাগতিক রশ্মি। টেলিগ্রাফের তার সশব্দে ফেটে গিয়ে দাউদাউ করে জ্বলেছিল দীর্ঘ সময় ধরে। যে মেরুজ্যোতি (‘অরোরা’) শুধু পৃথিবীর দুই মেরুতেই দেখা যায় সাধারণত, সৌরঝড়ের প্রবল ঝাপ্টায় সে বার তা বিষুবরেখার নীচে থাকা কলাম্বিয়াতেও দেখা গিয়েছিল। খুব উজ্জ্বল ভাবে।
গবেষকরা লিখেছেন, “এমন ভয়ঙ্কর সৌরঝড় বা সিএমই-র পৃথিবীর উপর আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রতি দশকে থাকে ১.৬ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ। এ বার তেমনই একটি সিএমই-র ঝাপ্টা সইতে হতে পারে পৃথিবীকে। যার সম্ভাবনা খুব বেশি।”
১৮৫৯ এবং ১৯২১ সালের মতো তীব্রতায় অতটা না হলেও ১৯৮৯ সালের মার্চে যে সিএমই ধেয়ে এসেছিল পৃথিবীর দিকে তার ঝাপ্টায় কানাডার গোটা কুইবেক প্রদেশে টানা ন’ঘণ্টা ‘ব্ল্যাক আউট’ হয়ে গিয়েছিল।
পৃথিবীর চার পাশে থাকা শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রই সৌরঝড়-সহ সূর্য থেকে ছুটে আসা নানা ধরনের হানাদারের হাত থেকে বাঁচায় আমাদের। দুই মেরুতে চৌম্বক ক্ষেত্র সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী থাকে বলে সৌরকণারা ধেয়ে এলে তাদের বেশির ভাগকেই ফিরিয়ে দেয় দুই মেরুর চৌম্বক ক্ষেত্র। সেই সঙ্ঘর্ষেই মেরুজ্যোতির জন্ম হয়। পৃথিবী-সহ সৌরমণ্ডলের সব গ্রহের দিকেই ধেয়ে যায় এই সৌরঝড়। যে গ্রহের চৌম্বক ক্ষেত্র প্রায় নেই বা খুব পাতলা, নেই বায়ুমণ্ডলও সেই গ্রহকে এই ঝাপ্টা বেশি সহ্য করতে হয়। তাই কোনও কালে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব হলেও সেখানে তা টিকে থাকতে পারেনি মঙ্গল গ্রহে। তার চার পাশে চৌম্বক ক্ষেত্রে প্রায় নেই বলে। বায়ুমণ্ডলও খুব পাতলা বলে।
মূল গবেষক, আরভিনের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঙ্গীতা আবদু জ্যোতি বলেছেন, “যেটা সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় তা হল, আমরা অতিমারির জন্য যেমন আদৌ প্রস্তুত ছিলাম না এ ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটার আশঙ্কা। কারণ, সূর্যের বায়ুমণ্ডলে (করোনা) কখন ভয়ঙ্কর সৌরঝড় উঠবে তার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয় এখনও। তবে এটুকু বলা যায়, সেই ভয়ঙ্কর সৌরঝড়ের পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে অন্তত ১৩ ঘণ্টা সময় লাগবে।”
গবেষণাপত্রটিতে বলা হয়েছে, আধুনিক ইন্টারনেট যোগাযোগব্যবস্থার উপর এ বারের সিএমই-র আঘাত কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে সে ব্যাপারে কোনও তথ্যাদি বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। কারণ, এর আগে যখন (১৯২১) এমন ভয়ঙ্কর সিএমই পৃথিবীর উপর এসে আছড়ে পড়েছিল তখন পৃথিবীতে ইন্টারনেট ব্যবস্থাই গড়ে ওঠেনি।
গবেষকদের আশঙ্কা, এ বার যে ভয়ঙ্কর সিএমই আসছে প়ৃথিবীর দিকে তার ঝাপ্টায় সমুদ্রের নীচ দিয়ে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে যাওয়া ইন্টারনেটের যাবতীয় কেব্লই খুব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বার্তার গতি বাড়াতে এই ইন্টারনেট কেব্লগুলিতে ৩০ থেকে ৯০ মাইল অন্তর বসানো থাকে ‘রিপিটার’। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র স্বাভাবিক না থাকলে যেগুলি বিগড়ে যায়। একটি রিপিটার ক্ষতিগ্রস্ত হলেই ভেঙে পড়ে সেই লাইনের যাবতীয় ইন্টারনেট যোগাযোগব্যবস্থা। দেশের মধ্যে ইন্টারনেট যোগাযোগের কেব্লগুলির মতো সমুদ্রের নীচে থাকা এই কেব্লগুলি ফাইবার দিয়ে বানানো হয় না। তাই সেগুলির নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। সূত্র -আনন্দবাজার পত্রিকা।
পরীমনির রিমান্ড সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও আইন অমান্য হয়েছে: হাইকোর্ট
চিত্রনায়িকা পরীমনিকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেয়ার আবেদনের মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার পাশাপাশি আইন অমান্য করা হয়েছে বলে অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি কিসের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তী দুই দফায় পরীমনির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উচ্চ আদালত।
আদালত বলেছেন, ‘এই মামলায় মনে হচ্ছে তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার পাশাপাশি আইন অমান্য করেছেন, যা ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলায় প্রতিবন্ধকতা। তা ছাড়া দুই দফা রিমান্ড আবেদন মঞ্জুরে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে এত সন্তুষ্ট হলেন, যা আমাদের বিচারিক ঐকমত্যকে বিদ্ধ করেছে।’
জামিন আবেদনের শুনানির দিন দেরিতে ধার্য নিয়ে পরীমনির করা এক আবেদনের ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট ২ সেপ্টেম্বর দেয়া এক আদেশে এসব কথা বলেছেন। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ আদেশ ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ আদেশে যা বলা হয়েছে :
পূর্ণাঙ্গ আদেশে বলা হয়, নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্তকে (পরীমনি) সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার বিপরীতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী গ্রেফতার করে। আইনের মীমাংসিত নীতি সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণ না করে কোনো নাগরিকের অধিকার বাধাগ্রস্ত করা যায় না। একইভাবে প্রতিটি নাগরিককে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হয়। দেশের উপযুক্ত কোনো আদালত থেকে সিদ্ধান্ত আসার আগে কারও ব্যক্তিগত জীবন ও স্বাধীনতা নিয়ে ‘ট্রলিংয়ের’ মতো অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দণ্ডিত করা উচিত নয়। সংবিধানের ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদ বলেছে, কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেয়া যাবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেয়া যাবে না কিংবা কারও সঙ্গে অনুরূপ ব্যবহার করা যাবে না। আদেশে বলা হয়, সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু নথিতে দেখা যায়, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডের আবেদন করেন।
কিসের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালত সন্তুষ্ট হয়ে রিমান্ড মঞ্জুর করে গত ১০ ও ১৯ আগস্ট আদেশ দিয়েছিলেন? দুই দফা রিমান্ড আবেদন মঞ্জুরে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে এত সন্তুষ্ট হলেন, যা আমাদের বিচারিক ঐকমত্যকে বিদ্ধ করেছে।
আরও বলা হয়, নথিতে দেখা যায় প্রথমে অভিযুক্তকে চার দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। অবশ্যই এটি যথেষ্ট সময় কোনো তথ্য বা উপাদান থাকলে তা বের করার জন্য। কিন্তু পরবর্তী মেয়াদে আরও রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত উপাদান রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে না।
ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতা উল্লেখ করে আদালত বলেছেন, আদেশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলামের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হলো। কোন ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতায় তাঁরা অভিযুক্তের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ড মঞ্জুরে উৎসাহিত হলেন—এর কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হলো। ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ সন্তোষজনক না হলে আরও স্পষ্টীকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে আদালতে উপস্থিত হতে হবে।
আদালত বলেছেন, তা ছাড়া অপরাধ এককভাবে পুলিশের জন্য সমস্যা নয়, সমাজের সমস্যা। পুলিশ বিভাগকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে মানবজীবন অত্যন্ত মূল্যবান। কোনো অভিযুক্তের জন্য রিমান্ড নেয়ার আগে পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনি ও মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রথমে চিন্তা করতে হবে। সমাজ পুলিশ বিভাগের ওপর সর্বোচ্চ আস্থা রাখে।
আদেশে বলা হয়, কিন্তু বর্তমান মামলায় মনে হচ্ছে তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার পাশাপাশি আইন অমান্য করেছেন, যা ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলায় প্রতিবন্ধকতা। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কারণ ব্যাখ্যা করলে ন্যায়বিচার দৃশ্যমান হবে। তাই নিজের অবস্থান, কারণ ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফাকে মামলার সিডি (নথি) নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হলো।
পরীমনিকে ৪ আগস্ট রাতে তাঁর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে আটক করে র্যাব। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। এই মামলায় পরীমনিকে তিন দফায় প্রথমে চার দিন, দ্বিতীয় দফায় দুই দিন ও তৃতীয় দফায় এক দিনসহ মোট সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে বিফল হয়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন পরীমনি। ২২ আগস্ট ওই আদালত ১৩ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন রাখেন।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন পরীমনি। শুনানি নিয়ে ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট রুল দিয়ে ১ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন রাখেন। অন্যদিকে নিম্ন আদালত জামিন শুনানির দিন এগিয়ে আনেন।
৩১ আগস্ট শুনানি নিয়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন ১ সেপ্টেম্বর কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান পরীমনি।
সেদিন হাইকোর্টে রুল শুনানির দিন ধার্য ছিল। ধার্য তারিখে শুনানিতে পরীমনির তিন দফা রিমান্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শুনানি নিয়ে ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট দুই বিচারককে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) ব্যাখ্যা দিতে এবং সিডি নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন।
পরীমনিকে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টা : নাসিরসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক সভাপতি নাসির ইউ মাহমুদ ও তার সহযোগী তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন। এফআইআর এ আসামি শাহ শহিদুল আলমের নাম না থাকলেও তদন্তের সময় পুলিশ তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় চার্জশিটে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মইনুল ইসলাম জানান, আসামিদের মধ্যে নাসির ও অমি জামিনে আছেন এবং শহিদুলকে চার্জশিটে পলাতক দেখানো হয়েছে। শহিদুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতে আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসির, অমি এবং আরও চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন পরীমনি। সেদিনই উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নাসির ও অমিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা আরও একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।











