ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ১১:৫০ 

Home Blog Page 77

গোপন বৈঠকের সময় জামাতের সেক্রেটারিসহ ১০ নেতা গ্রেফতার

0

জামাতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদসহ ১০ জন নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের গুলশানের বিভাগের উপকমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহের ষড়যন্ত্র এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে তারা গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন তারা। এমন খবর পেয়ে আমরা সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।’ ভাটারা থানার পরিদর্শক রফিকুল হক জানান, সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকেও সেখানে অভিযান চলছিল।
জানা গেছে, আটক অন্যরা হলেন- জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদ, সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা নির্বাহী পরিষদের আবদুর রব, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ ও মোবারক হোসাইন এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত।
এদিকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রটারিসহ নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার রাতে বিবৃতি দিয়েছে জামাতে ইসলাম। বিবৃতিতে অবিলম্বে নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

কার্যালয়ে বসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে না, আইন প্রয়োগে আরও সতর্ক থাকতে বললো হাই কোর্ট

0

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আরও সতর্ক থাকতে বলেছে হাই কোর্ট। আদালত বলেছে, কার্যালয়ে বসে কোর্ট পরিচালনা করা যাবে না। ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আইনের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটদের যথাযথ প্রশিক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।
বাল্যবিয়ের অভিযোগে নিজের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দুই শিশুকে সাজা দেয়ার ঘটনায় এক রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ পর্যবেক্ষণ দেয়।
আবেদনকারী পক্ষে আদালতে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
শিশির মনির পরে সাংবাদিকদের বলেন, “নেত্রকোণায় বাল্যবিয়ের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই শিশুকে সাজা দিয়েছিলেন। চিঠির মাধ্যমে সে বিষয়টি আমি হাই কোর্টের নজরে এনেছিলাম। আজকে বিষয়টির পরিপূর্ণ শুনানি শেষে নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালত তিনটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।”
পর্যবেক্ষণ তিনটি হল- আইন প্রয়োগের ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আরও সতর্ক হওয়া দরকার। সংশ্লিষ্ট আইনের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা দরকার। কার্যালয়ে বসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে না, ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।
নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া গত ১ অগাস্ট নিজের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্য বিয়ের অভিযোগে দুই শিশুকে এক মাসের আটকাদেশ দেন।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ার পর ৪ অগাস্ট আইনজীবী শিশির মনির এক চিঠিতে বিষয়টি হাই কোর্টের নজরে আনেন।
সে চিঠিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুদের সাজা দেয়ার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত দুই শিশুর তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশনা চান এ আইনজীবী।
পরে সেদিন বিকেলেই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম দুই শিশুকে মুক্তির নির্দেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আদালতের আদেশটি নেত্রকোণার ডিসিকে জানাতে গিয়ে জানতে পারেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা বাতিল করে তার আগেই শিশুদের মুক্তি দেয়া হয়েছে।
পরদিন ৫ আগস্ট বিষয়টি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। শিশির মনির শুনানিতে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রযোজ্যতা নিয়ে সারাদেশেই এক ধরনের বিভ্রান্তি আছে। এটিই প্রথম ঘটনা নয়, এরকম অনেক ঘটনাই ঘটছে।
“উনাকে (সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া) নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যে কারণ দর্শাতে বলেছেন, সেটির একটি অনুলিপি হাই কোর্টে দাখিল করার আদেশ দিতে পারেন।
“দেখা দরকার কোন ধারণার উপর ভিত্তি করে এ ঘটনা (দুই শিশুকে সাজা দেয়া) ঘটেছে। এখানেই শেষ করে না দিয়ে এটা আপনার (উচ্চ আদালতের) সামনে আসা উচিত। তাই আমার আরজি হচ্ছে, বিষয়টা এখানেই শেষ না করে তার ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া দরকার।”
বিচারক তখন বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়া তার চেম্বারে বসে আদেশ দিয়েছিলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত এটা পারে না। চেম্বারে বা থানায় বসে বিচার করার সুযোগ নাই। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা দেখা যাচ্ছে।
সেদিন অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, “এরকম ঘটনা ঘটছে। সুতরাং এগুলো আপনারা সরকারের কাছে বলেন। যখন ম্যাজিস্ট্রেটদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং হয়, মোবাইল কোর্ট কীভাবে চলবে, চালাতে হবে, কিভাবে এর প্রয়োগ করবে এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ”
অ্যাটর্নি জেনারেল সে সময় বিচারককে আশ্বস্ত করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি মন্ত্রী পরিষদ সচিবের সাথে কথা বলবেন।
পরে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, “ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, তার একটা অনুলিপি ২৬ আগস্টের মধ্যে হাই কোর্টে প্রেরণ করতে বলছি। নেত্রকোণার সিনিয়র জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একটা অনুলিপি ২৬ অগাস্টের মধ্যে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। আমরা দেখি কী ব্যাখ্যা উনি (সুলতানা রাজিয়া) দেন। কী কনসেপশনে উনারা কাজ করছেন ফিল্ড লেভেলে।”
ওই নির্দেশের পর নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়ার দাখিল করা ব্যাখ্যার সত্যায়িত অনুলিপি গত ২২ আগস্ট হাই কোর্টে দাখিল করা হয়।
রাজিয়া সুলতানা তার ব্যাখ্যায় সাজা দেওয়ার ঘটনায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা আর ঘটবে না বলে অঙ্গীকার করেন।
সেটি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মাধ্যমে হাই কোর্টে উপস্থাপন করা হলে বৃহস্পতিবার আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করে দিল। বিডি নিউজ।

প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট; নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে রেহাই পেলেন আইনজীবী আশরাফ

0

ফেইসবুকে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে পোস্ট দিয়ে আদালত অবমাননার মুখে পড়া আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন । এর আগে রুলের জবাবে হলফনামা করে তিনি জবাব দিয়েছিলেন তাঁর পোস্টটি আদালত অবমাননাকার না হওয়ায় ক্ষমা চাইবেন না। কিন্তু পরবর্তীতে সেই হলফনামা প্রত্যাহার করে নি:শর্ত ক্ষমা চাইলে বৃহস্পতিবার আদালত তাকে ক্ষমা করে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন।
একই সঙ্গে আদালত অবমাননা প্রশ্নে জারি করা কারণ দর্শাও নোটিসটি পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি কর করা হয়েছে।
আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল বেঞ্চ আইনজীবী আশরাফের ক্ষমার আবেদন গ্রহণ করে এ আদেশ দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আশরাফুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন শেখ আওসাফুর রহমান বুলু। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম আশরাফ জানান, আপিল বিভাগ আদালত অবমাননার অভিযোগ আনার প্রশ্নে এবং দেশের যে কোনো আদালতে আমার পেশা পরিচালনা থেকে বিরত রাখার প্রশ্নে যে নোটিস ইস্যু করেছিলেন, গত ৫ অগাস্ট তার জবাব হলফনামা আকারে দাখিল করেছিলাম।
“আজ সে হলফনামাটি প্রত্যাহার চাওয়ার পাশাপাশি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে অবেদন করেছিলাম। সে অবেদনটি গ্রহণ করে হলফনামাটি প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছেন আপিল বিভাগ। যেহেতু আদালত আমার আবেদনটি গ্রহণ করেছেন, তাই আইন পেশা চালিয়ে যেতে আর কোনো সমস্যা থাকছে না।”
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের পদত্যাগ দাবি করে ফেইসবুকে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য করায় গত ১৫ জুলাই তাকে তলব করে আপিল বিভাগ।
কেন তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না, ৮ অগাস্ট আপিল বিভাগে হাজির হয়ে সেই ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় এবং ওই সময় পর্যন্ত তাকে আইন পেশা থেকে বিরত থাকতেও বলে সর্বোচ্চ আদালত।
আর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) আইনজীবী আশরাফের ওই ফেইসবুক পোস্ট অপসারণ করে তার সবগুলো ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ওইদিন আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম আশরাফের ফেইসবুক পোস্টটি নজরে আনলে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক মোহাম্মদ ইমান আলী সেদিন উষ্মা প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আইনজীবী মো. আশরাফুল ইসলাম আশরাফের ফেইসবুক স্টেটমেন্ট মারাত্মক অবমাননাকর। তার এই স্টেটমেন্ট সরাসরি প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টকে আঘাত করেছে।”
আশরাফ আদালতের অদেশ অনুযায়ী গত ৮ অগাস্ট আপিল বিভাগে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য সময় চাইলে আদালত তাকে সময় দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান এই আইনজীবী।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এ সময় আদালতকে বলেন, “বয়স কম। আর যেহেতু ক্ষমা চেয়েছেন, তাই আপনারা এটি বিবেচনা করতে পারেন।”

জিয়ার থেকে একধাপ এগিয়ে খুনীদের সংসদে বসিয়েছেন খালেদা : প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ আগস্টের খুনীদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানে খালেদা জিয়া স্বামী জিয়াউর রহমানের থেকেও একধাপ এগিয়ে ছিলেন উল্লেখ করে বলেছেন, ১৫ আগস্টের খুনীদের জিয়াউর রহমান যেমন ইনডেমনিটি করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন তেমনি খালেদা জিয়া আরো একধাপ এগিয়ে খুনীদের সংসদে বসায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৯৬ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচনে চান্দিনা থেকে রশিদকে সংসদ সদস্য করে পার্লামেন্টে নিয়ে আসে খালেদা জিয়া এবং বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসায়। চুয়াডাঙ্গা থেকে হুদাকেও (বঙ্গবন্ধুর অপর খুনী) সংসদ সদস্য করে নিয়ে আসা হয়।’
প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বুধবার বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে সাবেক ডেপুটি স্পিকার, সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কুমিল্লা-৭ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফের মৃত্যুতে গৃহীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় এসব কথা বলেন।
এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন।
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, কৃষি মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, সরকারি দলের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ ফারুক খান, মুজিবুল হক, জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, বিরোধী দলের চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর আহমেদ, তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি এবং বিকল্প ধারার আবদুল মান্নান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে যে নির্বাচন হয়, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থেকে যে নির্বাচনটা করেছিল। সকল রাজনৈতিক দল সেটা বয়কট করেছিল। সেটা ছিল ভোটারবিহীন নির্বাচন। সারা বাংলাদেশে সেনাবাহিনী নামিয়ে প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে নির্বাচনটা করা হয়। সেই নির্বাচনে চান্দিনা থেকে রশিদকে সংসদ সদস্য করে পার্লামেন্টে নিয়ে আসে খালেদা জিয়া এবং বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসায়। চান্দিনা থেকে কর্নেল রশিদকে এবং চুয়াডাঙ্গা থেকে হুদাকে (বঙ্গবন্ধুর অপর খুনী) সংসদ সদস্য করে নিয়ে আসা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া জনগণের সংসদে এনে একজন খুনীকে বসিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই আসনে অবশ্য আলী আশরাফই জনগণের ভোটে জয়যুক্ত হন। কাজেই, তিনি সবসময়ই একটা আদর্শ নিয়ে চলতেন এবং তিনি কেবল রাজনীতিবিদ নন একাধারে বিশিষ্ট লেখকও ছিলেন, ইংরেজি-বাংলা মিলিয়ে ১৫টি বই লিখেছেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সব থেকে দুর্ভাগ্যের হলো তিনি যে এলাকা থেকে নির্বাচন করতেন কুমিল্লার চান্দিনা এলাকা সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর খুনী কর্নেল রশিদের বাড়ি। তারপাশেই খন্দকার মোস্তাকের বাড়ি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অধ্যাপক আলী আশরাফ একজন অধ্যাপক, রাজনীতিবিদ এবং গবেষক ছিলেন। এরকম বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন সংসদ সদস্যকে আমরা হারালাম। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের। কেননা তিনি একজন প্রবীণ সংসদ হিসেবে নবীন সংসদ সদস্যদের নানারকম বুদ্ধি পরামর্শ দিতেন। আরো দুঃখজনক এই সংসদের আমরা অনেক সদস্যকেই হারিয়েছি।
সংসদ নেতা বলেন, পাঁচ বার অধ্যাপক আলী আশরাফ সংসদ সদস্য হয়েছেন। সপ্তম সংসদে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। আর বিভিন্ন কমিটিতে কখনো চেয়ারম্যান কখনো সদস্য হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায়ের পর ’৮০ সালে লন্ডনে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দেখা হওয়ার কথা উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা স্মৃতি রোমন্থনে বলেন, অধ্যাপক আলী আশরাফ সবসময় জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের যেমন প্রতিবাদ করেছেন তেমনি ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডে খুনীদের বিরুদ্ধে সাক্ষীও দিয়েছিলেন। আলী আশরাফ অসুস্থ থাকাকালীন তার নিয়মিত খোঁজ-খবর নেয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা ছিল হয়তো ফিরে আসবেন কিন্তু দুর্ভাগ্য অনেক চেষ্টা করেও তাকে আমরা ফিরিয়ে আনতে পারলাম না। তিনি না ফেরার দেশেই চলে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী আলী আশরাফের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান।
এছাড়া, সংসদে সাবেক সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ, তোফাজ্জল হোসেন সরকার, জামাল উদ্দিন আহম্মদ, খুররম খান চৌধুরী, মো. রেজা খান জাহানারা বেগম, আনোয়ার হোসেন এবং গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর, ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলেইন্সের পাইলট নওশাদ আতাউল কাইউমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।
এছাড়াও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশ-বিদেশে যারা মারা গেছেন তাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।
চলমান সংসদের কোনো আইনপ্রণেতা মারা গেলে সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে সংসদের বৈঠক মুলতবির রেওয়াজ থাকায় এর পরই স্পিকার সংসদের এদিনের অধিবেশন মূলতবি করে দেন। তবে, প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়। বাসস।

জাল নোট: বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা শহীদ খান ও তাঁর স্ত্রীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

0

জাল টাকা রাখার দায়ে বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা শহীদ উদ্দিন খান এবং তার স্ত্রী ফারজানা আনজুমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সৈয়দা হাফসা ঝুমা বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
১০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে রায়ে।
এ মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে সৈয়দ আজিজুল আলী ও  খোরশেদ আলম পাটোয়ারিকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। অপর আসামি জহুরুল হক খন্দকার মামলার বিচার চলাকালেই মারা যান।
বিতর্কিত কমর্কাণ্ড ও জঙ্গী সম্পৃক্ততার কারণে কর্নেল থাকা অবস্থায় সেনাবাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয় শহীদ উদ্দিন খানকে। পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তার কর্নেল পদবীও বাতিল করা হয়।
লন্ডনে পলাতক শহীদ খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি বারিধারার একটি ছয় তলা ভবনের তৃতীয় তলায় শহীদ উদ্দিন খানের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে দুটি পিস্তল, ছয়টি গুলি ও দুটি শটগান এবং শোবার ঘরে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে এক হাজার টাকার জাল নোটের তিনটি বান্ডেল উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই ঘটনায় শহীদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, সন্ত্রাস দমন আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। এর মধ্যে জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় শহীদ ও তার স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক  বিপ্লব কুমার শীল।
মামলার এজাহারে বলা হয়, “আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সরকার ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।”
তদন্ত শেষে পুলিশ কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র কুমার ভৌমিক অভিযোগপত্র দেন। মামলার বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে  ১০ জনের জবানবন্দি নেয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কবির আহাম্মদ রুমী জানান, আসামিদের মধ্যে সৈয়দ আজিজুল আলী ও  খোরশেদ আলম পাটোয়ারি কারাগারে ছিলেন। রায়ের সময় তাদের এজলাসে হাজির করা হয়।
এর আগে গতবছর ১০ নভেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শহীদ উদ্দিন খানসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ঢাকার আরেকটি আদালত।
আর ২০ ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির অভিযোগে এনবিআরের দায়ের করা মামলায় ঢাকার ১০ নম্বর বিশেষ জজ আদালত শহীদ উদ্দিন খানকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেয়।
লন্ডনে বসে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডঃ
সাবেক সেনাকর্মকর্তা শহীদ উদ্দিন খান লন্ডনে বসে ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্র, সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জামাত শিবির ও জঙ্গী সম্পৃক্ত কিছু সাংবাদিক।
ইতিপূর্বে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করাসহ নানা অভিযোগে তার কর্নেল পদবী বাতিল করা হয়।
একই সঙ্গে তাঁকে বরখাস্তের পরিবর্তে স্বাভাবিক অবসর গ্রহণের যে আদেশ ২০০৯ সালে দেয়া হয়েছিল, তা-ও বাতিল করা হয়।
গত ৩ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বাতিলাদেশ দেয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইতিপূর্বে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের ছকের ৩৫ নম্বর ক্রমিকের বিএ-২৪২৮ কর্নেল মো. শহীদ উদ্দিন খাঁন, পিএসসি (অব.)-এর বরখাস্তের পরিবর্তে স্বাভাবিক অবসর সংক্রান্ত আদেশ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২৩ মার্চ ২০১০ তারিখে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের ছকের ঘ-এর ৩৫ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত কর্মকর্তার কর্নেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ অকালীন অবসর সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো।’
শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে প্রবাসে পলাতক থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পাগলা শহীদ হিসেবে পরিচিত সাবেক এই সেনাকর্মকর্তার বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগও রয়েছে।
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির মামলায় শহীদ উদ্দিন খাঁনকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ রায় দেন। তিন অর্থবছরে ১৭ কোটি ছয় লাখ ৪০ হাজার ১০৭ টাকা আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে মামলা করেন সহকারী কর কমিশনার শেখ আলী হাসান। এই মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ২০১০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
এতে বলা হয়, শহীদ উদ্দিন খাঁন ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৬ টাকার আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকির অপরাধ করেছেন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ৬০০ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে সাত কোটি সাত লাখ ১৪ হাজার ২২১ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়।

পরীমনি মুক্ত

0

২৬ দিন কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। পরীমনির মুক্তি পাবেন—এই খবর পেয়ে ভোর থেকে কারা ফটকে উৎসুক মানুষ তাঁকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন। কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার হালিমা খাতুন বলেন, গতকাল মঙ্গলবার পরীমনির জামিন হলেও সঠিক সময়ে জামিনের কাগজ কারাগারে না পৌঁছানোয় তাঁকে মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি। আজ সকালে তাঁর জামিনের কাগজ যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। মাদক মামলায় জামিন পাওয়া চিত্রনায়িকা পরীমনির মুক্তির অপেক্ষায় স্বজনেরা সকাল থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের সামনে অবস্থান করছিলেন। তখন পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, পরীমনিকে কারাগার থেকে নিতে তাঁর খালু জসীমউদ্দিনসহ সাত-আটজন স্বজন এসেছেন।
পরীমনিকে দেখতে সকাল থেকে ভিড় জমান উৎসুক জনতা। কারাগার থেকে বের হয়ে তাদের উদ্দেশে হাত নাড়ান এই চিত্রনায়িকা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস পরীমনির জামিনের আদেশ দেন।
গত ৪ আগস্ট পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। এসময় তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরণের মাদক উদ্ধার করে। মাদকের মামলায় তাঁর ৫ আগস্ট চার দিনের, ১০ আগস্ট দুই দিনের ও ১৯ আগস্ট এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২১ আগস্ট তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২২ আগস্ট পরীমনির পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন। আদালত ১৩ সেপ্টেম্বর জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন। জামিন শুনানির জন্য ২১ দিন পর দিন ধার্য করায় ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন পরীমনি। ২১ দিন পর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। এই রুল শুনানির আগেই জামিন শুনানির তারিখ এগিয়ে এনে মঙ্গলবার শুনানি করে জামিন দেয়া হয়।

ধর্ষণ মামলায় শেরেবাংলা নগর থানার এসআই কারাগারে

0

আবারও রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় পুলিশ। হয়রানী থেকে বাঁচতে পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলেন এক তরুণী। সহায়তার কথা বলে এই তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্টতা এর পর জোর করে ধর্ষণের অভিযোগ। আর এই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানার এক এসআইকে। গ্রেফতারের পর এসআই খায়রুল আলমকে(৩২) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তার অভিযুক্ত এসআইকে কারাগারে পাঠান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাসখানেক আগে এক বন্ধুর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে এসআই খায়রুলের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। তার সূত্র ধরে খায়রুল তাকে বিভিন্ন সময় ফোন করে দেখা করতে বলতেন। গত সোমবার সকালে অফিসে যাওয়ার সময় স্কয়ার হাসপাতালের কাছে পান্থপথে খায়রুল ওই তরুণীকে দেখতে পান। বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগের মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলে এসআই খায়রুল তাকে মোটরসাইকেলে করে গুলশানের নিকেতনে এক বাসায় নিয়ে যান। সেই বাসায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে মোটরসাইকেলে করে পান্থপথে নামিয়ে দেন।
এ ঘটনার পরে গুলশান থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী তরুণী। এরপরে মঙ্গলবার সকালে খায়রুলকে গ্রেপ্তার করা হয়
আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গুলশান থানার মামলায় গ্রেপ্তার এসআই খায়রুল আলমকে হাজির করে পাঁচদিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দেশী-বিদেশী ব্রান্ডের নকল প্রসাধনীসহ গ্রেফতার এক

0

নামিদামি দেশী-বিদেশী ব্রান্ডের নকল প্রসাধনী সামগ্রী তৈরী হচ্ছে খোদ রাজধানীতেই। আর এসব নকল পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকার পাড়া মহাল্লার দোকান থেকে অভিজাত চেইন শপেও। যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ব্যবহার না করা পর্যন্ত খালি চোখে সহজে বোঝার উপায় নেই এসব নকল প্রসাধনী। আর এই ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহার করে নানাবিধ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশী।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর কামরাঙ্গীর চরে অভিযান চালিয়ে দেশী-বিদেশী ব্রান্ডের নকল প্রসাধনী তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতের নাম মাহবুব রহমান।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ ফজলুর রহমান জানান, সোমবার সন্ধ্যায় কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে বিপুল দেশী-বিদেশী ব্রান্ডের নকল প্রসাধনীসহ মাহবুবকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা হয় বিদেশী Johnsons & Johnsons কোম্পানির Johnsons Shampoo, Johnsons Baby Shampoo, Johnsons Baby Oil, ভারতীয় Kumarika ব্রান্ডের Hair Oil, Dabur Amla ব্রান্ডের Hair Oil, চীনের । GUNGZHOU YILI কোম্পানির ALOE VERA GEL, স্পেনের Well’s ব্রান্ডের CASTOR OIL এবং দেশীয় প্যারাসুট ব্রান্ডের বেলী ফুলের কোকোনাট Hair Oil।

পরীমনির জামিন

0

হাইকোর্টের নির্দেশে জামিন শুনানির নির্ধারিত সময় তের দিন এগিয়ে এনে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে জামিন দিলেন ঢাকার মহানগর ও দায়রা জজ আদালত।
মঙ্গলবার জামিন আবেদনের শুনানির পর মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ জামিন আদেশ দেন।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল জানিয়েছেন, ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন বা অভিযোগপত্র না হওয়া পর্যন্ত পরীমনিকে জামিন দেয়া হয়েছে।
পরীমনির আইনজীবী মজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, ”মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৪৭ ধারা অনুযায়ী মহিলা একটি প্রিভেলেজ পাবেন। যেহেতু পরীমনি একজন মহিলা, তার দেশে বিদেশে তার পরিচিতি আছে, তার কিছু সিনেমা প্রক্রিয়াধীন আছে, সেগুলোর শিডিউল বিনষ্ট হচ্ছে, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।” তিনি বলছেন, আমরা চেষ্টা করবো আজকেই তাকে যেন জেল হাজত থেকে মুক্ত করা যায়।

নিয়ম অনুযায়ী, পরীমনি যে কারাগারে রয়েছেন, সেই কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে জামিনের আদেশটি পৌঁছলে পরীমনি সেখান থেকে বের হতে পারবেন।
এর আগে এই মামলায় জামিন আবেদন করা হলে শুনানির জন্য একুশ দিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ।
তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন পরীমনি। তখন এই মামলায় কেন অবিলম্বে জামিন শুনানি হবে না, তা জানতে হাইকোর্ট রুল জারি করলে শুনানির তারিখ ১৩ দিন এগিয়ে আনা হয়।

২৬ দিন পরে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনিঃ

বনানীর বাসা থেকে ৪ আগস্ট পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তার বাসা থেকে ‘মদ, আইস ও এলএসডির মতো মাদকদ্রব্য’ উদ্ধার করার কথা জানিয়ে পরদিন মাদক আইনে মামলা হয়।
সেই মামলায় তিন দফা রিমান্ড নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি।
গত ২২শে অগাস্ট মহানগর দায়রা জজ আদালতে পরীমনির পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত জামিন শুনানির জন্য ২১ দিন পর ১৩ই সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন।
পরদিন আরেকটি আবেদনে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও, তাতে আদালতের সাড়া মেলেনি।
ফলে ২৫শে অগাস্ট হাইকোর্টে আবেদন করে রুল চাওয়া হয়। পাশাপাশি পরীমনির জামিনের আবেদনও করা হয়।
বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের ভার্চুয়াল বেঞ্চ ২৬শে অগাস্ট সরাসরি জামিনের আদেশ না দিয়ে রুল জারি করেন।
আদেশের অনুলিপি পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে পরীমনির জামিন আবেদনের শুনানি করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, সেটা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। সেই সঙ্গে ২১দিন পর জামিন শুনানির যে আদেশ দিয়েছেন জজ আদালত, সেটা কেন বাতিল করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়।
পহেলা সেপ্টেম্বর রুল শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে মহানগর দায়রা জজকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। তবে তার আগেই জামিন আবেদনের শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন মহানগর দায়রা জজ আদালত।
তবে মাদক মামলায় একজন চিত্রনায়িকাকে তিন দফা রিমান্ডে এবং জামিন না দেয়ায় সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার মুক্তি চেয়ে মানববন্ধনও হয়েছে। পরীমনির মুক্তি দাবী করে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন দেশের কবি, লেখক, প্রকাশক, শিক্ষক ও মানবাধিকার কর্মীরাও।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার না করে, বিদেশের মিশনে চাকরি দিয়েছেন জিয়াউর রহমান : আইনমন্ত্রী

0

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইনের শাসনের প্রতি আজীবন শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য তিনি প্রায় ১৩ বছর জেল খেটেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। অথচ এদেশের মাটিতে, এদেশেরই কিছু কুলাঙ্গার তাঁকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে। আরো আশ্চর্যজনক বিষয়- এ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সে জন্য হাইকোর্ট গেলে হাইকোর্টের সাতজন বিচারতি বিব্রতবোধ করে এ মামলার শুনানি করতে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
আনিসুল হক বলেন, জিয়াউর রহমান যদি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হতেন তাহলে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিনত না করে বাতিল করতেন ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান তা না করে খুনিদের বিদেশী মিশনে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন। আর এরশাদ খুনিদের ফ্রিডম পার্টি গঠনের অনুমতি দেন। খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিনা ভোটে নির্বাচন করে বঙ্গবন্ধুর খুনিকে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসান। জগগণের মুখে চপেটাঘাত করার জন্য এসব করা হয়।
বঙ্গবন্ধু বন্দুকের নল দেখিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন না উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনীতি করে জনগণকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেছেন এবং অধিকার আদায়ের পদ্ধতি শিখিয়েছেন। এরপর জনগণ যখন তাঁকে মেন্ডেট দিয়েছেন তখনই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা ‍দিয়েছেন এবং বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজনে যা কিছু প্রয়োজন বঙ্গবন্ধু তা করে দিয়েছেন। আজকে বাংলাদেশ যে আইনি কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে তা বঙ্গবন্ধুর তৈরি করে দেয়া।বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ২১ বছর এই আইনি কাঠামো পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো রাস্তায় ঘোরাফেরা করছে। এদের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়েছেন আমরা বাঙালি। তিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, সংবিধান দিয়েছেন। বিনিময়ে আমরা তাঁকে হত্যা করেছি। আমরা এ কলঙ্ক কোনদিন মোচন করতে পারবে না।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আলী আকবর, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহীদুল আলম ঝিনুক, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুম, ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. গোলাম কিবরিয়া বঙ্গবন্ধুর জীবন আলেখ্য নিয়ে আলোচনা করেন।