ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ১:১৮ 

Home Blog Page 78

জুলহাজ-তনয় হত্যা: চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াসহ ৬ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড

0

সমকামী অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয় হত্যা মামলার রায়ে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়াসসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে খালাস দেয়া হয়েছে।
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান মঙ্গলবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস, শেখ আব্দুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ।
তাদের সবাইকে মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হযেছে। পাশাপাশি আরেকটি ধারায় ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তাদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক। বাকি চারজনের উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন।  
আর অভিযোগে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় পলাতক আসামি সাব্বিরুল হক চৌধুরী এবং জুনাইদ আহমদ ওরফে মওলানা জুনায়েদ আহম্মেদ ওরফে জুনায়েদকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।
দেশে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস রোডের বাড়িতে প্রবেশ করে ইউএসএইড কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু থিয়েটারকর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১২ মে জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম। এরপর গত বছরের ১৯ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। নয় মাসের মাথায় বিচার শেষে রায় ঘোষণা হল।
এ মামলায় দণ্ডিত সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সদস্য বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য। তাদের মধ্যে জিয়া, মোজাম্মেল, আরাফাত ও আকরাম বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
এছাড়া প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় জিয়া, আকরাম, মোজাম্মেল ও শেখ আব্দুল্লাহর ফাঁসির রায় হয়েছে এ বছরের শুরুতে।
‘দুই মাসের প্রস্তুতি’ ছিল খুনিদেরঃ

দেশজুড়ে ‘উগ্রপন্থিদের’ একের পর এক হত্যা-হামলার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল কলাবাগানে জুলহাজ মান্নান ও তনয়কে হত্যার ঘটনা পুরো দেশকে নতুন করে চমকে দেয়।
৩৫ বছর বয়সী জুলহাজ মান্নান  ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির খালাতো ভাই। ইউএসএইডের আগে তিনি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রটোকল অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবেও কাজ করেন। সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সাময়িকী ‘রূপবান’ সম্পাদনায় যুক্ত ছিলেন জুলহাজ।
আর তার বন্ধু ২৬ বছর বয়সী মাহবুব রাব্বী তনয় ছিলেন লোকনাট্য দলের কর্মী। পিটিএ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ‘শিশু নাট্য প্রশিক্ষক’ হিসেবেও তিনি কাজ করতেন।
লেকসার্কাস রোডের আছিয়া নিবাস নামে ছয়তলা একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে মাকে নিয়ে থাকতেন জুলহাজ। সেদিন বিকাল ৫টার দিকে টি শার্ট ও প্যান্ট পরা একদল যুবক ওই বাসায় যায়।
পার্সেল দেওয়ার কথা বলে তারা জুলহাজ মান্নানের ফ্ল্যাটে যেতে চাইলে বাসার নিরাপত্তাকর্মী তাদের ঢুকতে দেন। নক করার পর জুলহাজ দরজা খুলে তাদের দেখে আবার দরজা বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করেন।
তখন তারা জোর করে বাসায় ঢুকতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মী পারভেজ মোল্লা বাধা দেন। পরে তারা ঘরে ঢুকে জুলহাজ ও তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে।
হামলাকারীরা ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে বলতে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা সে সময় জানিয়েছিলেন।
যাওয়ার পথে তাদের আটকাতে গিয়ে মমতাজ নামে পুলিশের একজন এএসআই জখম হন। তবে হামলাকারিদের একজনের কাছ থেকে একটি ব্যাগ ছিনিয়ে রাখেন কলাবাগান এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এএসআই মমতাজ; সেখানে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মোবাইল ফোন পাওয়া যায়।
ঘটনার রাতেই জুলহাজের ভাই মিনহাজ মান্নান অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এএসআই মমতাজের ওপর হামলা এবং অস্ত্র পাওয়ার ঘটনায় আরেকটি মামলা করেন কলাবাগান থানার এসআই শামীম আহমেদ।  অস্ত্র আইনের ধারায় করা মামলাটি এখনও তদন্তাধীন।

সে সময় আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ (একিউআইএস) শাখা ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে খবর এলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দেশীয় উগ্রপন্থিদের দায়ী করা হয়; বলা হয়, দেশীয় জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্যরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম ২০১৯ সালের ১২ মে জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি অপরাধে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

“দীর্ঘ তদন্তে আসামিদের জবানবন্দি ও অন্যান্য সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জানা গেছে, আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় সদস্য। সংগঠনের নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হকের নির্দেশে সংগঠনের সামরিক শাখার সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।”
তদন্ত করতে গিয়ে ওই হত্যাকাণ্ডে ১৩ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছিল কাউন্টার টেরোজিম ইউনিট। অভিযোগপত্রের আট জন ছাড়া বাকিদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সে কারণে তাদের আসামির তালিকায় রাখা সম্ভব হয়নি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

জিয়াকে নিয়ে বক্তব্যের জের: সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

0

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাড ও নাম ব্যবহার করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পক্ষে বিবৃতি দেয়ার ঘটনায় পক্ষে বিপক্ষে বিক্ষোভ করেছেন আওয়ামী লীগ বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভবনে এ বিক্ষোভ করেন তারা। সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের কক্ষের সামনে দুই পক্ষের আইনজীবীরা নিজ নিজ দলের পক্ষে স্লোগান দিতে শুরু করেন। মিছিল ও স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে এই উত্তেজনা।
এর আগে, গত শনিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাডে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ’ শীর্ষক বিবৃতি দেন সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সমিতির প্যাড ব্যবহার করে দলীয় ও ব্যক্তিগত বিবৃতি দেয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন সমিতির সভাপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাড ব্যবহার করে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পক্ষে বিবৃতি দেয়া এটাই প্রথম। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে যারা নির্বাচিত হন, তারা মূলত আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করে থাকেন। তারা অনেকেই কিন্তু রাজনীতি করেন। কিন্তু এ ভাবে সমিতির প্যাড ব্যবহার করে কেউ বিবৃতি দেননি।
অন্যদিকে বিএনপি-জামাত সমর্থিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তার বিবৃতির পক্ষে সাফা্‌ই গেয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান একটি মীমাংসিত সত্য। ১৯৭১ সালে দিশেহারা এ জাতির ক্রান্তিকালে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান যদি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করতেন ও চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন, তাহলে আজ বাংলাদেশ নামে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হতো কিনা সেটাই যেখানে প্রশ্ন, সেখানে মুক্তিযুদ্ধকালে রণাঙ্গনে শহীদ জিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন উত্থাপন মুক্তিযুদ্ধের প্রতি চরম অবমাননার শামিল। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সরকার একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে যে সাহসিকতা ও ভূমিকা রেখেছিলেন তার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করে।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের মতো এমন একজন বীর সেনানী এবং সফল রাষ্ট্রনায়ক সম্পর্কে তার চরিত্রে কালিমা লেপনের যে অপচেষ্টা সম্প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে করা হয়েছে, সেটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিমূলক এবং ইতিহাসের মীমাংসিত সত্যের বিকৃতি। এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দেয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান মি.কাজল।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিক উল্লাহর নেতৃত্বে সংবাদ সম্মেলন হয় সমিতির দক্ষিণ হলে । এতে অ্যাডভোকেট শফিক উল্লাহ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাড ও স্মারক ব্যবহার করে জনসম্মুখে সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজলের ব্যক্তিগত বক্তব্যকে প্রচার করে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা হয়েছে মাত্র। এই বিবৃতি একান্ত তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, যা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নয়। কারণ এর আগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সভাপতি-সম্পাদক থেকে অনেকেই জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং আছেন। কিন্তু আইনজীবী নেতারা নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনকে কখনোই রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেননি। দল-মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সবসময় তারা বদ্ধপরিকর ও আপসহীন ছিলেন। অথচ আজ সুপ্রিম কোর্ট বারের প্যাড ব্যবহার করে নিজ রাজনৈতিক দলের মত প্রকাশ করার মতো সস্তা রাজনীতি করে সমিতির দীর্ঘদিনের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার চক্রান্ত শুরু করা হলো।

তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও জিয়াউর রহমানসহ কিছু ব্যক্তি পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে কনফেডারেশন করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু যখন দেশ গড়ার কাজে ব্যস্ত তখন জিয়াউর রহমান দেশে অরাজক সৃষ্টিকারী গণবাহিনী ও সর্বহারা বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতা করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী সৈনিক জিয়া ও মোশতাকের ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য সফল করার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করে।’

জিয়া সামরিক আইন জারি করে বন্দুকের নল দ্বারা ক্ষমতায় প্রতিস্থাপিত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তর পরবর্তী খুনি জিয়াউর রহমান সামরিক বাহিনীতে গুপ্ত হত্যা, রাজনীতিবিদদের হত্যাসহ এমন কোনো কর্মকাণ্ড নেই যা করেননি।
অ্যাডভোকেট শফিক উল্লাহ আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদকের বক্তব্য তার দলীয় বক্তব্য, যা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বক্তব্য নয় বরং তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাড ও স্মারক তাদের হীন দলীয় ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বারের ঐতিহ্য ও রীতিনীতি লংঘনের মতো জঘন্য অপরাধ করেছেন। অনতিবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

জিয়াউর রহমান প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন, সেটা তার কাজেই প্রমাণিত : আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগ নেতারা একটিমাত্র ডাকের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন কিন্তু সেই ডাক বা আহবান তারা পাননি। রোববার রাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। আলোচনার বিষয় ছিল ” সপরিবারে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডে মূল ষড়যন্ত্রকারী ও সুবিধা ভোগী কারা”? আইনমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান বিনা ভোটে প্রেসিডেন্ট হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন। তিনি যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন সেটা তার কাজেই প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে একটি কমিশন গঠন করা হলে, সে কমিশন যে মতামত দিবে তা ইতিহাসে গুরুত্ব পাবে। সেজন্য ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে তার মাধ্যমে আজকের কথাগুলো ‘ফরমালাইজড’ করে নতুন প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে হবে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ড. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এমপি,আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এমপিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দিতে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ

0

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংসদ সদস্যদের অস্ত্রের লাইসেন্স দিতে সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের পাঠানোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “কমিটি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বরাদ্দের ক্ষেত্রে মাননীয় সংসদ সদস্যদেরকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে আরও তৎপর হওয়ার জন্য সুপারিশ করেছে।”
কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, মোঃ হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পীর ফজলুর রহমান, নূর মোহাম্মদ, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ও রুমানা আলী অংশ নেন।
কমিটির আগের বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, বৈঠকে জননিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে সকল জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেয়া হয়েছে। কমিটির আগের বৈঠকে এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে ডোপ টেস্ট ও মাদক বিরোধী কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পালন করায় কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।
এছাড়া দেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুবির্ধাথে প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি ডিএনএ ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সার্বিক কার্যক্রমের উপর একটি সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
বিজিবির বিওপির (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) সংখ্যা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাড়ানো ও স্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়।

জজ আদালতে পরীমনির জামিন শুনানি মঙ্গলবার

0

হাই কোর্ট রুল জারি করার পর মাদক আইনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন আবেদন শোনার তারিখ এগিয়ে এনে মঙ্গলবার দিন রেখেছে ঢাকার জজ আদালত।
মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ রোববার শুনানির জন্য এই দিন ঠিক করে দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস পাল জানান।
গত ২২ অগাস্ট পরীমনির পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে মহানগর দায়রা জজ আদালত শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন রাখেন। পরদিন আরেক আবেদনে ‘দ্রুত শুনানির’ আর্জি জানান পরীমনির আইনজীবী মজিবুর রহমান।
তাতে সাড়া না পেয়ে গত ২৫ অগাস্ট তিনি হাই কোর্টে আবেদন করেন। সেখানে রুল চাওয়ার পাশাপাশি পরীমনির জামিনের আবেদনও করা হয়।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ ২৬ অগাস্ট সরাসরি জামিনের আদেশ না দিয়ে রুল জারি করে।
আদেশের অনুলিপি পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে পরীমনির জামিন আবেদনের শুনানি করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। সেই সঙ্গে ২২ অগাস্ট পরীমনি জামিন অবেদন করার পর শুনানির জন্য ২১ দিন পরের তারিখ রেখে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত যে আদেশ দিয়েছে, সেটি কেন বাতিল করা হবে না, তাও জানতে চায় হাই কোর্ট।
১ সেপ্টেম্বর রুল শুনানির তারিখ রেখে এই সময়ের মধ্যে মহানগর দায়রা জজ আদালতকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। আর হাই কোর্টের এ আদেশ বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিবাদীর কছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে সরকারের আইন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়।
শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম সেদিন রাষ্ট্রপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “জামিন আবেদনের বিষয়ে নিম্ন আদালত রীতিনীতির বাইরে গিয়ে আদেশ দিয়েছে। ২১ দিন পর আদেশ দেবে, এটা জামিন আবেদনটি খারিজ করার শামিল।”
এখন সেই রুল শুনানির নির্ধারিত তারিখের আগেই পরীমনির জামিন শুনানির জন্য তারিখ রাখলেন মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ।
গত ৪ অগাস্ট রাতে ঢাকার বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরদিন তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক আইনে এ মামলা করা হয়। জব্দ তালিকায় পরীমনির বাসা থেকে ‘মদ এবং আইস ও এলএসডির মতো মাদকদ্রব্য’ উদ্ধারের কথা বলা হয়।
এ মামলায় তিন দফায় সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে গত ২১ অগাস্ট পরীমনিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সেপ্টেম্বরে ১৫দিন ছুটি কাটাবেন না সুপ্রিমকোর্টের বিচারকরা; তবে অক্টোবর ও ডিসেম্বরের ছুটি থাকবে

0

সেপ্টেম্বর মাসে ১৫ দিন সুপ্রিমকোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকরা অবকাশকালীন ছুটি না কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অক্টোবর মাসে ১২দিন তারা ছুটি কাটাবেন। ডিসেম্বরেও রয়েছে ১০ দিন ছুটি। শনিবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে ফুলকোর্ট সভা করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য করোনা মহামারির কারণে গত দেড় বছর ধরে সশরীরে বিচার কাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল আদালতে বিচারকাজ চলছে। এ ছাড়া সরকার ঘোষিত লকডাউনে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রমও বন্ধ থাকে। সম্প্রতি নিম্ন আদালতে সশরীরে ও ভার্চুয়াল পদ্ধতীতে এবং সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ শুরু হয়েছে। বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গত ১৯ আগস্ট সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে প্রধান বিচারপতির কাছে এক চিঠিতে ২০২১ সালের সব অবকাশকালীন/ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল ও পরবর্তী বছরগুলোতে ছুটি কমিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
শনিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় বিচারপতিরা সুপ্রিম কোর্টের চলতি বর্ষপঞ্জির সেপ্টেম্বর মাসের পূর্ব নির্ধারিত অবকাশকালীন ছুটি ভোগ না করে বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সর্বসম্মতিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপ্রিমকোর্টের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি বাদে চলতি বছর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২৭ কার্যদিবস অবকাশকালীন ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি ছিল ১৫ কার্যদিবস। আর ১২ কার্যদিবস অবকাশকালীন ছুটি রয়েছে অক্টোবরে। ডিসেম্বরে রয়েছে আরও ১০ দিন। শনিবারের ফুল কোর্ট সভায় ডিসেম্বরের ছুটির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয় নি। আর নিম্ন আদালতের (দেওয়ানী আদালতসমূহ) ২ ডিসেম্বর হতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকে। এবারও সেটা বন্ধ থাকবে কী না এ নিয়েও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
প্রধান বিচারপতিকে চিঠি:
করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ২০২১ সালের সব অবকাশকালীন/ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল ও পরবর্তী বছরগুলোতে ছুটি কমিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়ে গত ১৯ আগষ্ট প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। এতে বলা হয়েছিল, বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালতের বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ৫ এপ্রিল, ২০২১ থেকে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে আসছিল। দেশব্যাপী জারি লকডাউন শিথিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ আগস্ট, ২০২১ থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদালতগুলো পরিচালিত হচ্ছে। করোনাকালে দীর্ঘদিন সুপ্রিম কোর্ট বন্ধ থাকলেও সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বিশেষত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম বন্ধ ছিল না। ফলে লকডাউনেও বিচার প্রার্থী জনগণ পুলিশি হয়রানি ও অনেকাংশে প্রশাসনিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। কিন্তু দেশব্যাপী আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিচার প্রার্থীরা আইন-আদালতে আশ্রয় লাভের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
দীর্ঘদিন দেশব্যাপী আদালত বন্ধ/সীমিত পরিসরে চালু থাকায় শুধুমাত্র ন্যায় বিচারই লঙ্ঘিত হয়নি, অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যাও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে অত্র সমিতি মনে করে, ২০২১ সালের বাকী সময়ের ক্যালেন্ডারভুক্ত সব অবকাশকালীন ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল করে এবং পরবর্তী বছরগুলোর ছুটি কমিয়ে এনে এ ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব।
চিঠিতে বলা হয়, গত বছর করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অত্র সমিতির পক্ষ থেকে ৮ জুলাই প্রধানবিচারপতি বরাবর পাঠানো এক আবেদনে বছরের বাকী ছুটি বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ আগস্ট, ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভায় বছরের বাকি ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় (বিজ্ঞপ্তি নং-৩১৯)। এ সিদ্ধান্ত বিজ্ঞ আইনজীবী, বিচার প্রার্থী মানুষ ও সর্ব মহলে প্রসংসিত হয়েছিল। এবারও সবাই অনুরূপ সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করে।
উপরোক্ত অবস্থাধীনে করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দেশের সব আদালতের জন্য প্রযোজ্য ২০২১ সালের বাকি সময়ের সব অবকাশকালীন/ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল ও পরবর্তী বছরগুলোতে ছুটি কমিয়ে আনার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

জামিন ও অন্তর্বর্তী আদেশের মেয়াদ ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ল

0

জামিন ও আদালতের সব ধরনের অন্তর্বর্তী আদেশের কার্যকারিতার মেয়াদ আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবার বাড়ানো হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর শনিবার সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “যে সকল মামলায় আসামীকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন প্রদান করা হয়েছে বা যে সকল মামলায় উচ্চ আদালত হতে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন প্রদান করা হয়েছে বা যে সকল মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তবর্তীকালীন আদেশ প্রদান করা হয়েছে, সে সকল মামলার জামিন এবং সকল প্রকার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশসমূহের কার্যকারিতা গত ২৬ জুলায়ের বিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছে মর্মে গণ্য হবে।
এরপর জামিন বা অন্তর্বর্তী আদেশের কার্যকারিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সংশ্লিষ্ট আদালতে অবেদন করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এর আগে গত ৪ এপ্রিল, ১৮ এপ্রিল, ২ মে, ৩০ মে, ২৭ জুন ও ২৬ জুলাই জামিন ও অন্তবর্তী সব আদেশের মেয়াদ মোট ৬ বার বাড়ানো হয়েছিল।

বিদেশ যেতে চাইলে খালেদা জিয়াকে আগে জেলে ফিরতে হবে: আইনমন্ত্রী

0

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারেপার্সন খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে চাইলে তাকে কারাগারে ফিরে গিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। প্রচলিত আইনে এর বাইরে কোনো সুযোগ নেই, বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে আইন সাংবাদিকতার এক কর্মশালায় আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে একথা বলেন তিনি।
দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে কারাগারে যাওয়ার পর গত বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটলে পরিবারের আবেদনে সরকার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়।
খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চাইছে তার পরিবার ও দল। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন হলেও দুই মাস আগে তা নাকচ করে দেয় সরকার।
শনিবারের কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা নিয়ে আলোচনার সময় খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টানেন।
তিনি বলেন, সাজা মওকুফের ক্ষমতা সরকারের আছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় এ সংক্রান্ত ছয়টি উপধারা আছে। একজনের সাজা শর্ত ছাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করতে পারে অথবা শর্ত ছাড়া কিছুটা মওকুফ করতে পারে। আবার শর্ত সাপেক্ষে পুরোটা মওকুফ করতে পারে কিংবা কিছুটা মওকুফ করতে পারে বা বাতিল করতে পারে।
“এখানে (৪০১ ধারা) কিন্তু কোথাও বলা নাই, একটা আবেদন যখন নিষ্পত্তি করে ফেলা হয়, সেই আবেদনটিকে আবার রিকনসিডার করতে পারবে। তার মানে হচ্ছে আবেদনটি রিকনসিডার করার কোনো সুযোগ নাই।”
আইনমন্ত্রী বলেন, ৪০১ ধারায় সরকারের ক্ষমতার কথা বলা আছে। এই ধারা সংস্কারের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এটা ব্যবহার করে থাকে। সেক্ষত্রে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী থেকে অনুমতি নিতে হয়। আর মতামত নিতে হয় আইন মন্ত্রণালয়ের।
“খালেদা জিয়ার মামলার ক্ষেত্রে আমাদের মতামত দিতে হয়েছে। উনার আত্মীয়-স্বজনদের পক্ষ থেকে যখন আবেদন করা হল, তখন তার সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিলাম। তার মানে, খালেদা জিয়ার পক্ষে যে আবেদনটা করা হয়েছিল, সেটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।”
এরপরই আইনমন্ত্রী অলোচনা করেন, বিদেশ যেতে হলে খালেদা জিয়ার এখন কী করতে হবে, তা নিয়ে।
তিনি বলেন, “এখন তারা বিদেশ যেতে অনুমতি চায়। কিন্তু কথা হচ্ছে, যে আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে, সেটি পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা আইনে আমাদের দেওয়া হয়নি। তাহলে উনাদের কী করতে হবে? তাদেরকে আবার আবেদন করতে হবে। আর আবেদন করতে হলে আগের আবেদনটি বাতিল করতে হবে এবং উনাকে (খালেদা জিয়া) আবার জেলে যেতে হবে।”
সংবিধান, আইন ও বিচার বিভাগে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম ও ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় আনিসুল হক ছাড়াও প্রশিক্ষক ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।
ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাশহুদুল হক এতে সভাপতিত্ব করেন, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইয়াছিন ছিলেন সঞ্চালনায়। বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন

0

বাংলাদেশ সরকার আটকে পড়া পাকিস্তানিদের নাগরিকত্ব দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অফ আমেরিকা,ভিওএ । সংবাদ মাধ্যমটির বাংলা বিভাগের ২৬ আগস্ট প্রচারিত সংবাদে বলা হয়, উচ্চ আদালতে একটি রায় অনুযায়ী আটকে পড়া পাকিস্তানিদের নাগরিকত্ব দেয়ার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আদালত এই রায়ে বলেছে যে বাংলাদেশে বসবাসরত আগ্রহী পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারবেন। আদালত বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের শরনার্থীর মর্যাদা বাতিল করেছে। তবে উচ্চ আদালতের রায়ের পরও অনেকেই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নেননি। আবার অনেকে নিয়েছেন। ভোটার তালিকায়ও তাদের নাম উঠেছে। ২০০৩ সনে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়, যে সব পাকিস্তানি বা বিহারী নাগরিক এদেশে রয়েছেন তারা ইচ্ছে করলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিতে পারেন।জিনিভা ক্যাম্পে বসবাসকারী ১০ জন অবাঙালি ভোটার হওয়ার অধিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেন। এই মামলার রায়ে তাদেরকে ভোটার হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। এর পর থেকে আইনগতভাবে তাদেরকে আর শরণার্থীও বলা যাচ্ছে না।

সৌদি ভিত্তিক রাবেতা আল ইসলামের জরিপ অনুযায়ী, ৬৬টি ক্যাম্পে দুই লাখ ৭৫ হাজার অবাঙালি রয়েছেন। পাকিস্তানে যাদের জন্ম তাদের মধ্যে নাগরিকত্ব নেয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহ বেশি। তারা ক্যাম্পে কথা বলে উর্দূতে। আর যাদের জন্ম বাংলাদেশে তারা নাগরিকত্ব নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। তারা উর্দূ নয়, বাংলায় কথা বলে। ঢাকার জিনিভা ক্যাম্পে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এর মধ্যে ভোটার হয়েছেন ১১ হাজার। স্বাধীনতার পর থেকে এই অবাঙালিদের পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেয়ার একাধিক উদ্যোগ নেয়া হয়। ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৪৩ জন পাকিস্তানি নাগরিককে ফিরিয়ে নেয়ার পর থেমে যায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।জেনারেল জিয়াউল হক যখন ক্ষমতায়, তখন একাধিক উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান এগিয়ে আসেনি।
আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৮৮ সনে রাবেতা ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার পর পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে বিহার থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য ৪০ হাজার ঘর তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ৬৩টি পরিবারকে নেয়ার পর হঠাৎ করেই এটা বন্ধ হয়ে যায়। এর জন্য অনেকেই পাকিস্তানের ঘন ঘন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকে দায়ী করেন। উচ্চ আদালতের রায়ের পর থেকে ত্রাণ সামগ্রী দেয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে যাদের চাকরি-বাকরি নেই, কোনো কাজ নেই, তারা খুব দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ক্যাম্পে পানীয় জলের অভাব, নোংরা পরিবেশ, কাজের সুযোগও সীমিত।এর মধ্যেই বেঁচে থাকার লড়াই।ক্যাম্পের ভেতর গাদাগাদি করে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছেলে-মেয়েরা বেড়ে উঠছে। এদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। স্বাস্থ্য সেবা থেকেও তারা বঞ্চিত।
স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানি জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকাত আলী বলেছেন, নাগরিকত্ব দেয়ার সুযোগ এসেছে ঠিকই।কিন্তু আমরা সব ধরণের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্বাধীনতার পর থেকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণ বিরতণ করা হতো। পুণর্বাসনের দাবি তখন থেকেই ছিল জোরালো।
নাগরিকত্ব দেয়ার ঘোষণার পর ২০১৬ সনে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় একটি তালিকা তৈরি করে। তখন বলা হয়েছিল, ঢাকার মোহাম্মদপুরেই ১৪ হাজার ২১২ টি পরিবার রয়েছে। যেখানে বসবাস করেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৯ জন। দুর্যোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ তালিকার ভিত্তিতে পরিবার প্রতি ৩ শতাংশ হারে পুনর্বাসনের জন্য ৫২৬ একর জমি বরাদ্দের কথা বলা হয়। কিন্তু ‘পরিকল্পনার মধ্যেই’ আটকে যায় সে উদ্যোগ। এর পর বিহারী বাংলাদেশি পরিবারের তরফে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর একাধিক চিঠি দেয়া হয়। এক পর্যায়ে ২০১৯ সনে পরিকল্পনা কমিশন ৬ হাজার ১০১ কোটি ২৩ লাখ টাকার একটি পুনর্বাসন প্রকল্প তৈরি করে। এরই অংশ হিসেবে পাঁচটি ২০ তলা ভবন নির্মাণ করার কথা বলা হয়। সে সময় ১৫২টি পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদে মাসিক কিস্তিতে ফ্ল্যাট দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়।

টাঙ্গাইলে বিচারককে হত্যার হুমকি দিয়ে ‘জঙ্গি সংগঠনের’ নামে চিঠি

টাঙ্গাইল থেকে বদলি হয়ে না গেলে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিনকে। তাঁকে হত্যা করতে ব্যর্থ হলে আউটসোর্সিং হিসেবে প্রসেস সার্ভার পদে কর্মরত ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠিতে এ হুমকি দেয়া হয় বলে আজ শুক্রবার খালেদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন। চিঠিতে ইতি—‘জঙ্গি সংগঠন’ লেখা। আর খাকি রঙের খামে প্রেরকের স্থানে লেখা—জুবায়ের রহমান।
চিঠির শুরুতেই প্রেরক ‘জঙ্গি সংগঠনের লোক’ বলে দাবি করা হয়েছে।
হত্যা করতে চাওয়ার কারণের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, খালেদা ইয়াসমিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত বড় ধরনের মামলার রায় দিয়েছেন। এতে সংগঠনের লোকজনের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তাই খালেদা ইয়াসমিনকে টাঙ্গাইল থেকে বদলি হয়ে যেতে বলা হয়েছে। তা না করলে হত্যার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চিঠির প্রেরকদের যাঁরা সহযোগিতা করেন, তাঁদের কয়েকজন আইনজীবী এবং জজকোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের স্টাফ। চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে খালেদা ইয়াসমিন জানান, চিঠিটি পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, চিঠির বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিচারক খালেদা ইয়াসমিন ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।