রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মতিঝিল এলাকা থেকে ৫৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন এবং মতিঝিল এলাকা থেকে ৮ কেজি গাঁজাসহ আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে ২৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ছয়টায় যাত্রাবাড়ী থানার মাতুয়াইল থেকে ৫০ কেজি গাঁজাসহ এনামুল ও আশিকুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হবিগঞ্জ জেলা হতে গাঁজা সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই দিন বিকেলে মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর বিপরীত পাশে অভিভাবক ছাউনির সামনে থেকে আট কেজি গাঁজাসহ রিনা বেগম ও সুরাইয়া বেগমকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা এসব গাঁজা ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্পটে সরবরাহ করার জন্য ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
৫৮ কেজি গাঁজাসহ রাজধানীতে ৪জন গ্রেফতার
রোহিঙ্গা গণহত্যা : আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের একটি নির্দেশনাও বাস্তবায়ন করেনি মিয়ানমার
রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়াসহ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) যে রায় ঘোষণা করেছিল, গত ২০ মাসে রায়ের একটি নির্দেশনাও বাস্তবায়ন করে নি মিয়ানমার। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জোর করে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে নেয়ার সব উদ্যোগই থেমে গেছে। এ নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনাও যেমন ঝিমিয়ে গেছে তেমনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গত বছর (২০২০) ২৩ জানুয়ারী বাস্ত্যুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য যে নির্দেশ ও রায় দিয়েছিল তার কোনো নির্দেশনাই বাস্তবায়ন করেনি মিয়ানমার। বরং দেশটির শাসন ক্ষমতাই এখন পাল্টে গেছে। রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদে সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে যিনি সমর্থন জানিয়েছিলেন সেই গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে উচ্ছেদ করে দেশটির শাসন ক্ষমতায় এখন সামরিক বাহিনী। দেশজুড়ে চলছে সামরিক বাহিনীর গণহত্যা। চলতি বছরের পয়লা ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থান করার পর থেকেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশটির বেসামরিক নেত্রী এবং ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলের প্রধান অং সান সু চিকে আটক করে রেখেছে সামরিক জান্তা। এই গোলমালে পড়ে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি এখন ভুলতেই বসেছে মিয়ানমার। এ নিয়ে তারা আর আলোচনাই করছে না। নিজেদের অভ্যন্তরীণ গোলযোগ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র করেছে ভাসানচরে। সেখানে কয়েকশ রোহিঙ্গা পরিবারকে নেয়া হয়েছে। এই রোহিঙ্গারা কবে ফিরে যাবে নিজ দেশে তা এখন অনিশ্চিত। রাখাইন প্রদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে সেখানে তাদের জায়গাজমিতে ইপিজেড, সেনানিবাসসহ নানা স্থাপনা গড়ে তুলছে মিয়ানমার। চীনের আর্থিক সহায়তায় গড়ে তোলা হচ্ছে এসব স্থাপনা। ফলে নিজ ভূমিতে রোহিঙ্গারা আদৌ ফিরে যেতে পারবে কী না এ নিয়ে সন্দেহ দিন দিন বাড়ছে। মিয়ানমার যেমন আন্তর্জাতিক আইন আদালতের তোয়াক্কা করছে না তেমনি আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ও তারা মানছে না। গতবছরের (২০২০) ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) তাদের রায়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সুরক্ষায় মিয়ানমারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা এবং রাখাইন থেকে বাস্ত্যুচুত ও নিহতদের পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগে আইসিজের প্রধান বিচারপতি আবদুল কাভি আহমেদ ইউসুফের নেতৃত্বে ১৭ জন বিচারক প্যানেল সর্বসম্মতক্রমে রায় ঘোষণা করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ে যা বলা হয়েছিল:
১. রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অধিকারের সুরক্ষায় এখনও কোনও ধরনের প্রস্তাব দেয়নি মিয়ানমার।
২. জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেয়ার দরকার হলেও মিয়ানমার তা করেনি।
৩.দেশটিকে অবশ্যই গণহত্যার সনদ মানতে হবে।
৪. আর কোনও ধরনের হত্যাকাণ্ড যাতে না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. দেশটির সামরিক বাহিনী ও অন্যান্য সামরিক শাখা গণহত্যা সংঘটিত করবে না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
৬. রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সব ধরনের অপরাধের আলামত সংরক্ষণের নির্দেশ।
৭. আইসিজে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সেব্যাপারে আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে আগামী চার মাসের মধ্যে মিয়ানমারকে অবশ্যই প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
৮.প্রথম প্রতিবেদন দাখিলের পর প্রতি ছয় মাস পরপর একই ধরনের প্রতিবেদন আদালতের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।
আইসিজের প্রধান বিচারপতি আবদুল কাভি আহমেদ ইউসুফ তার মন্তব্যে বলেছিলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা অত্যন্ত ঝুঁকিতে আছেন। এছাড়া বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমার সরকার যে ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে তা পর্যাপ্ত নয় বলেও আদালতের রায়ে উঠে আসে।
রায়ে বলা হয়, রাখাইনে জাতিগত সংহতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি মিয়ানমার। এই আদেশের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া গণহত্যা সনদের ২ নং ধারা অনুযায়ী মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে একটি বিশেষ সুরক্ষার অধিকারী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে বলা হয় রায়ে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ এনে ২০২০ সালের নভেম্বরে মামলা করেছিল গাম্বিয়া। ২০২০ সালের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গাম্বিয়ার পক্ষে মামলার শুনানিতে নেতৃত্ব দেন দেশটির বিচার বিষয়ক মন্ত্রী আবুবকর তামবাদু। অন্যদিকে মিয়ানমারের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন দেশটির নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি। সেসময় শুনানিতে মামলাকারী গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যাতে আর কোনও ধরনের সহিংসতার ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ৫টি আদেশ চেয়েছিল।
রায়ে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এই আদালত বলেছেন, গণহত্যা সনদের ৪১ ধারার আওতায় তিনটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশের শর্ত বিরাজ করছে। গাম্বিয়া সংখ্যালঘু এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী যেসব ব্যবস্থার আদেশ চেয়েছে; সেগুলোর প্রথম তিনটির লক্ষ্য হচ্ছে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

আইসিজেতে যে ভাবে মামলা:
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নভেম্বরে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলা করে গাম্বিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক এ আদালতে গণহত্যার দায়ে তৃতীয় মামলা ছিল এটি।
গাম্বিয়া ও মিয়ানমার দুই দেশেই ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী হিসেবে শুধু গণহত্যা থেকে বিরত থাকা নয় বরং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধের জন্য দেশগুলো বিচারের মুখোমুখি হতে বাধ্য।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে প্রথম জেনোসাইড কনভেনশন মামলা হয়েছিল সার্বিয়ার বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালে। এ মামলায় সার্বিয়া বসনিয়া হার্জেগোভিনিয়ায় গণহত্যা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছিল বলে প্রমাণ হয়।
কানাডা, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, তুরস্ক এবং ফ্রান্স জোর দিয়ে বলেছে যে, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার গণহত্যা চালিয়েছে। ইসলামী দেশসমূহের সংগঠন ওআইসি তার ৫৭টি সদস্য দেশকে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে তোলার কাজে সহায়তা করে।
যেভাবে মামলার তদন্ত :
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মিয়ানমারের বিচারের এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আছে বলে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর ফাতো বেনসুদা মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর রোহিঙ্গাদের ওপর যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা তা নিয়ে তদন্ত শুরু করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসির অনুমতি চান প্রসিকিউটর ফাতো বেনসুদা। জুলাই মাসে (২০১৯) তার তদন্ত দল বাংলাদেশে এসে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করে।
এরপর প্রাথমিক তদন্ত শেষে পূর্ণ তদন্তের জন্য আবেদন করেন ফাতো বেনসুদা, যাতে সায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকরা। ফলে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিপীড়নের ঘটনায় কোনো আন্তর্জাতিক আদালতে তদন্ত শুরু হয়।
তবে শুরুর দিকে অনেকে এ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কারণ মিয়ানমার আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র নয়। একইভাবে আইসিসির প্রতিনিধি দলকেও রাখাইনে পরিদর্শনে যাওয়ার অনুমতিও দেয়নি।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সামরিক অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর জ্বালাও-পোড়াও, খুন, ধর্ষণের মুখে অন্তত ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এই অভিযান গণহত্যার অভিপ্রায়ে পরিচালনা করেছে বলে মন্তব্য করেছে।
রায়ে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার দায়েরকৃত মামলার পক্ষে রোহিঙ্গা নিপীড়ন ও গণহত্যার যেসব আলামত আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেসব বিরোধের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর রক্তাক্ত অভিযানের ঘটনায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সেটাই ছিল আন্তর্জাতিক কোনও আদালতের প্রথম আদেশ। এই আদেশ মিয়ানমারকে মানতে বাধ্য করার মতো ক্ষমতা আন্তর্জাতিক আদালতের না থাকলেও জাতিসংঘের যে কোনও সদস্য দেশ এ আদেশের ভিত্তিতে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তা পরিষদের কাছে অনুরোধ জানাতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্য রোহিঙ্গাদের পক্ষে কেউ এগিয়ে আসছে না। জাতিসংঘে এ ইস্যুটি তোলার জন্য চেষ্টা হলেও চীন বরাবরাই এটা বাধা দিয়ে আসছে। বলা যায় চীনের সমর্থনের কারণেই মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে না। আর এখন সেখানে যে সামরিক শাসন চলছে তাও চীনের সমর্থনপুষ্ট। ফলে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশ মিয়ারমারে ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত হয়েই গেলো।
নঈম নিজামের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে সম্পাদক পরিষদ
সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে নঈম নিজামের পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিষদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভায় সংগঠনটির সহ-সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বুধবার ডেইলি স্টার সেন্টারে অনুষ্ঠিত পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
পরিষদ সভাপতি মাহফুজ আনামের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় সম্পাদক পরিষদ ও পরিষদের সভাপতির বিরুদ্ধে নঈম নিজামের করা বিভিন্ন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং সংগঠনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে করা হয় বলে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
পরিষদের সিনিয়র সদস্য রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, পরিষদের সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নঈম নিজামকে সভায় আনতে যে দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়েছিল, সেটি সম্ভব হয়নি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ফাইনান্সিয়াল হেরাল্ডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শাহ হোসেন ইমাম, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক অমিত হাবিব, নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, দৈনিক করোতোয়ার সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, দ্য ইনডিপেনডেন্টের সম্পাদক এম শামসুর রহমান, যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, বণিকবার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান এবং সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি।
কারও ব্যাংক হিসাব জব্দ ও সম্পত্তি ক্রোকের ক্ষমতা দুদকের নেই: হাইকোর্ট
আদালতের অনুমতি ছাড়া কারও ব্যাংক হিসাব জব্দ কিংবা সম্পত্তি ক্রোকের ক্ষমতা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ইতিপূর্বে দেয়া রায় স্বাক্ষরের পর প্রকাশ করা হয়েছে।

হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক বা ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করতে চাইলে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সিনিয়র স্পেশাল জজ বা বিচারিক আদালতে আবেদন করতে হবে। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আদেশ দিলে তখন ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা সম্পত্তি ক্রোক করার সুযোগ রয়েছে। এমনকি সেই সম্পত্তি যদি অপরাধলব্ধও হয়ে থাকে।
উচ্চ আদালত রায়ে আরও বলেছেন, দুদকের কোনো তদন্ত কর্মকর্তা কারও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ দিতে পারেন না। কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে আদালতের আদেশে ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার সুযোগ রয়েছে। দুদকের আইন ও বিধিতে কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত কর্মকর্তা এমনকি অন্য কোনো কর্মকর্তাকে এ ধরনের অপরাধলব্ধ সম্পত্তি ক্রোকের ক্ষমতা দেয়া হয়নি।
কক্সবাজারে বেলায়েত হোসেন নামের এক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চিঠি পাঠায় দুদক। সেই চিঠির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। হাইকোর্ট তার রায়ে সেই চিঠির কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
২০০৭ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালার ১৮ বিধি তুলে ধরে রায়ে বলা হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বেআইনি পন্থায় অর্জিত ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধকরণ বা সম্পত্তি অ্যাটাচমেন্ট করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিধিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। ২০০৭ সালে বিধিতে ‘অপরাধলব্ধ সম্পত্তি’ জব্দ বা ক্রোক বা অন্য কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করার ক্ষমতা অনুসন্ধান বা তদন্তকারী কোনো কর্মকর্তা বা দুদকের অন্য কোনো কর্মকর্তাকে দেয়া হয়নি।
দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের কক্সবাজার শাখার ব্যবস্থাপককে বেলায়েত হোসেন নামের এক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফার্মেসি ব্যবসায়ী বেলায়েত কক্সবাজারের বাসিন্দা।
ব্যাংক হিসাব জব্দের ওই নির্দেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেলায়েত হাইকোর্টে রিট করেন। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। রুলে বেলায়েতের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে দুদকের ওই উপসহকারী পরিচালকের দেয়া ৬ জানুয়ারির নির্দেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২৭ জুন হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, এই মামলায় দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ব্যাংক হিসাব জব্দে যে চিঠি দিয়েছেন- তা শুধু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এখতিয়ারবহির্ভূত ও বেআইনিই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহারও বটে।
অপহরণ করে মুক্তিপণের অভিযোগ: সিআইডির এএসপিসহ ৫ জন কারাগারে
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রাম থেকে মা ও ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে করা মামলায় সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপারসহ ৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার দিনাজপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শিশির কুমার বসু এ আদেশ দেন। এ ছাড়া আদালত অপহরণের শিকার জহুরা বেগম ও তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছেন। বিচারক তাদের ছেড়ে দেয়ার আদেশ দেন।
এই পাঁচজন হলেন: রংপুর সিআইডির এএসপি মো. সারোয়ার কবির, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. হাসিনুর রহমান, কনস্টেবল আহসানুল হক, গাড়িচালক হাবিব মিয়া এবং যার অভিযোগের ভিত্তিতে মা-ছেলেকে তুলে নেওয়া হয় সেই দিনাজপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা ফসিহ উল আলম পলাশ।
দিনাজপুর কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ পাওয়া মাত্র পাঁচজনকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে সিআইডির তিনজন নান্দেরাই গ্রামের লুৎফর রহমানকে ধরতে যান। তাঁকে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নেন। পরে মুক্তিপণ দাবি করেন। এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার সকালে লুৎফর রহমানের ভাই খলিলুর রহমান চিরিরবন্দর থানায় ৬ থেকে ৭ জনের নামে অভিযোগ করেন। লুৎফর রহমানের স্বজনেরা মুক্তিপণের টাকা নিয়ে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় অপহরণকারীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে বুধবার অভিযোগটি মামলা আকারে গ্রহণ করে চিরিরবন্দর থানা।
চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার মামলায় পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ: বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাকের ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার কুমিল্লার ৩নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
জালিয়াতি করে পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি বিক্রিসহ নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় তার বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করা হয়। বুধবার বিকালে মোশতাক পুত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী খন্দকার জাবির আহম্মেদ সারোয়ার। এ সময় আদালত ইশতিয়াককে গ্রেফতার করতে দাউদকান্দি থানা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেন। তবে অভিযুক্ত ওই আসামি দীর্ঘদিন কানাডায় পালিয়ে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুনি মোশতাকের পিতা হযরত খন্দকার কবির উদ্দিন আহামেদ ছিলেন একজন পীর। রয়েছে তার ভক্তবৃন্দ। মৃত্যুকালে তিনি পাঁচ ছেলে এবং পাঁচ মেয়েসহ রেখে গেছেন বিশাল সম্পত্তি। এরমধ্যে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুসারে কিছু সম্পত্তি কল্যাণমূলক কাজের জন্য ট্রাস্টের নামে লিখে দেওয়া হয়।
এছাড়া ওয়ারিশ সূত্রে বংশের সব সদস্যরা বাকি সম্পত্তির মালিক হলেও কবির উদ্দিনের সপ্তম সন্তান খুনি মোশতাকের একমাত্র ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আহম্মেদ বাবু বংশের সব সদস্যদের সম্পত্তি জোরপূর্বক বেদখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তাই নয় খন্দকার কবির উদ্দিনের নামে ট্রাস্টের স্বঘোষিত চেয়ারম্যান হয়ে বাবু ওই স্টেটের কার্যালয়ে নিজের এবং স্ত্রী সন্তানদের ছবি টানিয়ে রেখেছেন। কিন্তু কবির উদ্দিনের অন্যসব ওয়ারিশগণকে ওই সম্পত্তি এবং বাড়িসহ মাজারে প্রবেশ করতে দেয় না বাবু।
ট্রাস্ট এবং দাদার সম্পত্তি দখলে রাখতে মোশতাক পুত্র এলাকায় একটি বাহিনী গঠন করে রেখেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কানাডায় বসে ওই বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। এরই মাঝে বেশ কিছু সম্পত্তি জাল দলিল এবং ভুয়া স্বাক্ষরে বিক্রয় করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা এবং স্টেটের উত্তরাধিকারীর অংশিদারিত্ব পেতে কবির উদ্দিনের ওয়ারিশ খন্দকার জাবির আহাম্মেদ সারোয়ার গত বছরের শেষের দিকে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে মোশতাকপুত্র ইশতিয়াক, নাতি ইফতেখার আহমেদ শাদসহ অভিযুক্ত কেয়ার টেকার নিজামুদ্দিনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় মঙ্গলবার মোশতাক পুত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
মামলার বাদী খন্দকার জাবির আহাম্মেদ সারোয়ার অভিযোগ করে বলেন, খুনি মোশতাকের ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আমাদেরকে ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছেন। তিনি কানাডায় বসে এলাকার একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে স্টেটসহ অন্য সব সম্পত্তির ভোগ দখল ও সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আমাদের ওয়ারিশদের স্বাক্ষর জাল করে বেশ কিছু সম্পত্তি বিক্রি করেছেন।
এছাড়া আরো কিছু সম্পত্তি বিক্রির পায়তারা করছে। তার নির্দেশে এসব জালিয়াতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন মোশতাকের বাড়ির কেয়ারটেকার নিজামুদ্দিন। তিনি বলেন, কেয়ার টেকার নিজামুদ্দিনই মোশতাক পুত্রের সব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে থাকেন। কানাডায় বসে ওই কেয়ারটেকারের মাধ্যমেই বাহিনী নিয়ন্ত্রণসহ এলাকার আধিপত্য ধরে রেখেছেন মোশতাক পুত্র ইশতিয়াক।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদালত থেকে ওয়ারেন্টের কপি হাতে পেলে আসামি যদি দেশে না থাকে তাহলে সেটার বিষয়েও সিনিয়র অফিসারদের পরামর্শ নেয়া হবে।
দুদকও আইনের ঊর্ধে নয়, তদন্তে ধীরগতিতে হতাশ হাইকোর্ট
অনুসন্ধান বা তদন্ত আইনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেষ করার ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ‘ইতিবাচক’ কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন হাইকোর্ট। বিশেষ বিধান থাকার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান, তদন্ত শেষ না করায় সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান বা তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এমন পর্যবেক্ষণ এসেছে উচ্চ আদালতের এক রায়ে।
হাইকোর্ট বলেছেন, দুদক আইনের ৩২ ধারা ও বিধি ১৫ অনুযায়ী কমিশনের উচিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় আনা। দক্ষতার সঙ্গে বিচার কাজ শেষ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
গত ২৪ জানুয়ারি দুদকের মামলায় এক আসামির অব্যাহতির আদেশ বাতিল করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীম হাইকোর্ট বেঞ্চ মৌখিকভাবে রায় দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সেই পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানেই এসেছে এসব পর্যবেক্ষণ। ৭২ পৃষ্ঠার রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন বিচারক মহি উদ্দিন শামীম।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, কমিশনের উচিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় আনা এবং দক্ষতার সঙ্গে বিচার কাজ শেষ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তাহলেই দুর্নীতি এবং দুর্নীতি চর্চা নির্মূল হবে। যদি কমিশনের কোনো কাজ, আদেশ, কার্যপ্রণালী এবং নিষ্ক্রিয়তা সংশ্লিষ্ট আইনের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে এবং দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন যদি যথাযথ ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে নীরবতা অবলম্বন করে, তবে সব প্রচেষ্টাই ব্যাহত হবে।
২০১১ সালের ২৬ জুলাই কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মমিনুর রহমান ও সহকারী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলামকে ঘুস নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। দুদকের রংপুরের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ওই দিনই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ৬ মে মো. জহিরুল ইসলাম মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। শুনানির পর ওই বছর ১২ জুন রংপুরের বিশেষ জজ আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে তাকে অব্যাহতি দেয়। বিশেষ জজ আদালতের আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন হাইকোর্টে একটি রিভিশন পিটিশন দায়ের করে।
প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। জহিরুল ইসলামকে দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় সেই রুলে। চূড়ান্ত শুনানির পর রুলটি যথাযথ ঘোষণা করে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। বিশেষ আদালতে বিচারাধীন মামলাটির বিচার কাজ এক বছরের মধ্যে অথবা দ্রুত সময়ে শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয় হাইকোর্টের রায়ে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, আজকাল আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি, বড় বড় দুর্নীতির মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া তরান্বিত করার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আত্মসাতের টাকা পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত। এর ফলে অভিযুক্তরা নিজেদের রক্ষায় সুবিধা পাচ্ছে বা সুবিধা নিচ্ছে। হাইকোর্ট বলেছেন, টাকা উদ্ধার দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ না, আইনেও সে ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। টাকা পুনরুদ্ধারে শুধু এটুকু প্রতীয়মান হয় যে, অভিযুক্ত বা ব্যক্তি অর্থ আত্মসাত বা পাচার করেছেন। তার মানে এটা বলা যাবে না যে, টাকা উদ্ধার হলেই অভিযুক্ত বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুততার সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু মামলা দায়েরের পর অনেক সময় পার হলেও বহু মামলার ক্ষেত্রে দুদক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র বা অনুসন্ধান প্রতিবেদন দিতে পারেনি, যা স্পষ্টত আইনের বিধিবদ্ধ বিধানের লঙ্ঘন। তাছাড়া বিশেষ বিধান থাকা সত্ত্বেও এমন অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান বা তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, দুর্নীতি করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অনেক সরকারি দপ্তরের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। কিন্তু সে মামলাগুলোর অনুসন্ধান, তদন্ত, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ দুদক নেয়নি। তাছাড়া এ ব্যাপারে কমিশনের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে না। ফলে প্রশ্ন ওঠে, কমিশন কি আইনের ঊর্ধ্বে? নিশ্চিতভাবে এর উত্তর হচ্ছে ‘না’। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধি, ২০০৭ – এ কমিশনের কার্যক্রম বিশদভাবে বর্ণনা করা আছে। ফলে দেশের দুর্নীতি চর্চা বন্ধ করতে আইনগত অবস্থান থেকে কমিশনের উচিত আরও কঠোর হওয়া। তবে আইন এবং কর্যপ্রণালীর (বিধি) বাইরে গিয়ে অন্য কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা কমিশনকে দেয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, কমিশন আইনের ২০ (ক) ১ ও ২ উপধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৮০ দিনের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষ করতে ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে নতুন করে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করতে পারে দুদক।
আর ২০০৭ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালার ৭ বিধিতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান কাজ শেষ করতে না পারলে যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লে¬খ করে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আরও ৩০ দিন সময় নিতে পারবেন। আর ২০ (খ) অনুযায়ী, তদন্তে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অদক্ষতার অভিযোগে কমিশন আইন বা প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে কমিশন। ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ১৯ ও ২০ ধারায় অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষেত্রে দুদককে বিশেষ ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে।
পরীমনি, পিয়াসা, হেলেনাদের ১৫ মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে, জানিয়েছে সিআইডি
চিত্রনায়িকা পরীমনি, প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্নজনের নামে থাকা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ১৫টি মামলার তদন্ত কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
সরকারের এ তদন্ত সংস্থার প্রধান মাহবুবুর রহমান বলেছেন, আগামী ‘এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে’ এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “চিত্রনায়িকা পরীমনি, রাজ, পিয়াসা, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্নজনের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা সিআইডির তদন্তে আছে। মামলাগুলো এখনও তদন্তাধীন। তবে আমরা মামলার তদন্ত কাজ অনেকাংশে গুছিয়ে এনেছি। কিছু ফরেনসিক প্রতিবেদন এখনও বাকি আছে। সব হাতে এলে আমরা এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া শুরু করতে পারব।”
তিনি বলেন, এসব মামলার আসামিরা ছাড়াও তদন্তের প্রয়োজনে অনেককে ডেকে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আপাতত আর কাউকে ডাকার পরিকল্পনা তাদের নেই।
এক প্রশ্নের উত্তরে পুলিশের এই অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বলেন, “আসামিদের আর্থিক অপরাধ রয়েছে কি না, তার তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আমরা তথ্য চেয়েছি। তবে তদন্তের প্রয়োজনে আমরা এখনই সব বলতে চাচ্ছি না।”
চিত্রনায়িকা পরীমনিকে এক মামলায় তিন দফা রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে, তারও জবাব দেন সিআইডি প্রধান।
তিনি বলেন, “প্রথমবার আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করিনি। দিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। পরে কিন্তু তাকে আর রিমান্ড চাওয়া হয়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া কিছু তথ্য মেলানোর প্রয়োজন ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাকে আবারো রিমান্ডে চাই। সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে ভুলের ঊর্ধ্বে থাকতে চায়। তাই তদন্তের প্রয়োজনেই সব করা হচ্ছে।”
পরীমনি বা পিয়াসাদের বাসায় মদ বা মাদক রাখার বিষয়ে সিআইডি কী ধরনের তথ্য পেয়েছে প্রশ্ন করা হলে অতিরিক্ত আইজিপি মাহবুবুর রহমান বলেন, “মাদক মামলার আলামত তো পজেশনেই পাওয়া গেছে। সেগুলো আদৌ মাদক কিনা তা জানতে কেমিকেল ও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।”
জব্দ মাদকের উৎস জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেকেই অনেক রকম তথ্য দিয়েছেন। কেউ বলেছেন বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছেন, কেউ বলেছেন বিমানবন্দর থেকে কিনেছেন, কেউ নানা উপায়ে সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু যেখান থেকেই সংগ্রহ করা হোক না কেন, এইসব মাদক অনুনোমোদিত উপায়ে সংগ্রহে রাখা বা মজুদ রাখা আইনত অন্যায়।”
১৫ মামলার আসামিদের আর্থিক অপরাধের কী ধরনের তথ্য উপাত্ত মিলেছে প্রশ্ন করলে সিআইডি প্রধান বলেন, “তদন্তের এই পর্যায়ে আমরা মানি লন্ডারিং এর তথ্য উপাত্ত ইনকোয়ারি পর্যায়ে আছি। মানি লন্ডারিং মামলার ক্ষেত্রে দুটি পর্যায়। একটি যাচাই বাছাই, আরেকটি ইনকোয়ারি। আমরা ইনকোয়ারি পর্যায়ে আছি। প্রায় ২২টি জায়গা থেকে রিপোর্ট পেতে হয়। সব রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর যদি মনে হয় মানি লন্ডারিং হয়েছে, তাহলে আমরা তদন্ত করব।”
আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গত ২৯ জুলাই তার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার পর তার বাসা থেকে বিদেশি মদ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল র্যাব। পরে তার বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে পাঁচটি মামলা হয়।
এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ১ আগস্ট বারিধারা ও মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে ফ্যাশন মডেল হিসেবে পরিচয় দেওয়া ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের বাড়ি থেকেও মদ ও মাদক উদ্ধারের কথা বলা হয়, দুজনের বিরুদ্ধে আলাদা মামলাও দায়ের করা হয়।
‘ডিজে পার্টি’ আয়োজনের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ অগাস্ট ঢাকায় শরিফুল হাসান (মিশু হাসান) ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসান নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পরদিন র্যাব যায় পরীমনির বনানীর বাসায়।
কয়েক ঘণ্টা অভিযান শেষে পরীমনি এবং তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে আটক করে নিয়ে যায় র্যাব। এরপর অভিযান চলে বনানীতে চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বাড়িতে। সেখান থেকে রাজ এবং তার ব্যবস্থাপক সবুজ আলীকে র্যাব আটক করে।
৫ অগাস্ট উত্তরায় র্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, পরীমনি ও রাজের বাড়িতে ‘মদ ও মাদকদ্রব্য’ পেয়েছেন তারা। পরীমনির একটি মদের লাইসেন্স পাওয়া গেলেও তার মেয়াদ ছিল না। এছাড়া রাজকে গ্রেপ্তারের সময় কম্পিউটারে ‘পার্ন কনটেন্ট’ পাওয়া গেছে।
মিশু ও জিসানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরীমনি ও রাজের বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে কমান্ডার আল মঈন সেদিন জানান।
এরপর চারজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়, বনানী থানায় দায়ের করা হয় মাদক আইনে দুটি মামলা। এছাড়া রাজ ও সজুজের বিরুদ্ধে পর্নগ্রাফি আইনে আরেকটি মামলা করা হয়।
র্যাব করা জব্দ তালিকায় পরীমনির বাসা থেকে ‘বিপুল পরিমাণ মদ এবং আইস ও এলএসডির মতো মাদকদ্রব্য’ উদ্ধারের কথা বলা হয়। আর রাজের ফ্ল্যাট থেকে মদ ও ইয়াবার সঙ্গে ‘সেক্স টয়’ এবং একটি সাউন্ড বক্স জব্দ করার কথা বলা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ২০ অক্টোবর
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ১১টি মামলার শুনানির তারিখ পড়েছে আগামী ২০ অক্টোবর। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ তারিখ ধার্য করেছেন।
মঙ্গলবার মামলার তারিখের বিষয়টি জানা গেছে।
গতবছর ১০ অগাস্ট এসব মামলার শুনানির তারিখ ছিল। তবে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার আটটি, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা। সব মামলার কার্যক্রম খালেদা জিয়ার পক্ষে স্থগিত করেছে হাই কোর্ট।
১১ মামলার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় অভিযোগ গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। অপর ১০ মামলায় অভিযোগ শুনানির দিন ধার্য ছিল।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি দায়ের করা হয়।
২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রল বোমা হামলা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামের এক যাত্রী।
ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার উপ-পরিদর্শক এসআই কে এম নুরুজ্জামান। ওই বছরের ৬ মে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক বশির আহমেদ।
২০১৫ সালে দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। এই আট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়।
২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে মামলাগুলোয় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
বিচারপতি আমির হোসেন আর নেই
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মারা গেছেন।
মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাই কোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান।
“তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। এর আগে দেশের বাইরেও তার চিকিৎসা হয়েছে। সর্বশেষ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসাপাতালে উনার চিকিৎসা চলছিল। আজ সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে তিনি মারা যান।”
বিচারপতি আমির হোসেনের বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। দুপুর পৌনে ২টায় সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনসংলগ্ন প্রাঙ্গণে তার জানাজা হবে।
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
এদিকে এ বিচারকের মৃত্যুতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচার কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
তিনি বলেন, “আমরা সকলে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজকের জন্য আমাদের বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আজকে আর কোর্ট হবে না।”
বিচারপতি আমির হোসেন ১৯৫৭ সালের ৩০ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের নিকলীতে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল এল বি ও এল এল এম ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বিচার বিভাগে মুন্সেফ (সহকারী জজ) হিসেবে তিনি নিয়োগ পান।
২০০৯ সালের ৬ মে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান আমির হোসেন। গাজীপুরের জেলা জজ থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে তিনি হাই কোর্টে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তাকে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর বিচারপতি আমির হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন এ বিচারক।











