ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ৩:৫৪ 

Home Blog Page 80

সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো মেজর(অব.) সিনহা হত্যার বিচার

0

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল পৌণে ১০ টায় কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈলের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যে দিয়ে আলোচিত এই মামলার বিচার শুরু হয়।
মামলার বাদী সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়েছে বলে জানান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম।
এছাড়া মামলার ১৫ জন আসামিকে সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।
এর আগে গত ২৬ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণের দিন থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারীতে লকডাউন শুরু হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে গত ১৬ অগাস্ট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ২৩, ২৪ ও ২৫ অগাস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে আদেশ দেন। খবর বিডি নিউজ টোয়েন্টফোর ডটকম।

সিনহা হত্যার বিচার শুরু

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় গত ২৭ জুন, ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল আদালত।
আসামিরা হলেন: পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, মোহাম্মদ মোস্তফা, এপিবিএন এর তিন সদস্য এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজীব ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী নুরুল আমিন, নেজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজ, টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মা এবং সাবেক এএসআই সাগর দেব।
তাদের মধ্যে প্রদীপসহ ছয় আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে বিচারক তা নাকচ করেছেন।
সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আসামিদের সবাইকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে নেওয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ তে দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম গতবছর ১৩ ডিসেম্বর আলোচিত এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
গতবছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ।
তিন বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া রাশেদ ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য প্রায় একমাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন।
ওই কাজে তার সঙ্গে ছিলেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথ।
কক্সবাজারের পুলিশ সে সময় বলেছিল, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেক পোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে।
পুলিশ সেদিন ঘটনাস্থল থেকেই সিফাতকে গ্রেপ্তার করে। পরে নীলিমা রিসোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শিপ্রাকে।
সিনহা নিহতের ঘটনায় এবং গাড়ি থেকে মাদক উদ্ধারের অভিযোগে টেকনাফ থানায় দুটি মামলা করে পুলিশ, যাতে সিনহা এবং তার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আসামি করা হয়।
আর নীলিমা রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে গ্রেপ্তার করার সময় মাদক পাওয়া যায় অভিযোগ করে তার বিরুদ্ধে রামু থানায় মামলা করা হয়।
কিন্তু পুলিশের দেওয়া ঘটনার বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতবছর ২ অগাস্ট উচ্চ পর্যায়ের এই তদন্ত কমিটি গঠন করে। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘বিচার বহির্ভূত হত্যার’ অভিযোগগুলোও নতুন করে আলোচনায় আসতে শুরু থাকে।

সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস ৫ অগাস্ট ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ নয় জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে মামলা করলে র‌্যাবকে তদন্তভার দেন বিচারক।
তাদের মধ্যে সাতজন পরদিন কক্সবাজারের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সিনহা হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন জন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টের দায়িত্বরত আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার ১৪ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। তাদের মধ্যে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল ছাড়া ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ওই ১৪ জনের বাইরে টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেবকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনার পর কক্সবাজারের পুলিশকে নতুন করে সাজানো হয়। এসপি থেকে কনস্টেবল- প্রায় সব পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয় অন্য জেলায়।
সিনহার সঙ্গী সিফাত ও শিপ্রার বিরুদ্ধে পুলিশ মাদক আইনে যে দুটি মামলা করেছিল, অভিযোগের ‘সত্যতা পাওয়া যায়নি’ জানিয়ে সেসব মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
কী ঘটেছিল
সিনহার বোনের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, সিনহা ও সিফাত ৩১ জুলাই(২০২০) বিকালে ডকুমেন্টারির জন্য ভিডিও ধারণ করতে নীলিমা রিসোর্ট থেকে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তার পাশের পাহাড়ে যান। ‘ডকুমেন্টারির প্রয়োজনেই’ সিনহার পরনে তখন কমব্যাট গেঞ্জি, কমব্যাট ট্রাউজার ও ডেজার্ট বুট ছিল।
রাত ৮টা পর্যন্ত পাহাড়ে ভিডিও ধারণ করে তারা ফিরতি পথে রওনা হন এবং রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে সিনহার প্রাইভেট কার শামলাপুর চেক পোস্টে পৌঁছায়। পরিদর্শক লিয়াকতসহ পুলিশ সদস্যরা সেখানে গাড়ির ‘গতিরোধ’ করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়।
এজাহারে বলা হয়, সিনহা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হিসেবে পরিচয় দিলে পুলিশ সদস্যরা গাড়ির সামনের বাঁ দিকের দরজা খুলে ‘টেনেহিঁচড়ে’ সিফাতকে বের করে নিয়ে যান। সিফাত তখন দুই হাত তুলে নিজের এবং গাড়িতে বসা সিনহার পরিচয় দেন।
“আসামিরা ওই সময় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।”
মামলায় বলা হয়, এ সময় সিনহা গাড়ি থেকে নেমে দুই হাত উপরে তুলে বারবার নিজের পরিচয় দেন। কিন্তু পরিদর্শক লিয়াকত তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।
“বলতে থাকেন, ‘তোর মত বহুত মেজরকে আমি দেখছি। এইবার খেলা দেখামু’। এরপর লিয়াকত টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ফোন করে নিচুস্বরে সলাপরামর্শ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে লিয়াকত ফোনে প্রদীপকে বলতে থাকেন, ‘ঠিক আছে, শালারে শেষ কইরা দিতাছি’।
“ওই সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরিদর্শক লিয়াকত সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা মাথায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের শরীরের উর্ধ্বাংশে কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। গুলির আঘাতে সিনহা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান এবং নিজের জীবন রক্ষার জন্য ঘটনাস্থল থেকে উঠে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন অন্য আসামিরা তাকে চেপে ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। লিয়াকত আলি তখন সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করতে আরও এক রাউন্ড গুলি করেন।”
এজাহারে বলা হয়, “এর পরপর ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে ওসি প্রদীপ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা সিনহার শরীর ও মুখে কয়েকবার লাথি মেরে তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং নিজের বুট জুতা দিয়ে ঘষা দিয়ে নিহতের মুখমণ্ডল বিকৃত করার চেষ্টা করতে থাকেন।”
পুলিশ সদস্যরা এ সময় মামলার সাক্ষী এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে উপস্থিত লোকজনকে ‘অস্ত্র উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে’ সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন। এরপর রাত পৌনে ১২টার দিকে সিনহাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে উল্লেখ করা হয় মামলায়।

নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠনের নেতা গুনবি ফের রিমান্ডে

0

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের কথিত ‘আধ্যাত্মিক নেতা’ মাহমুদ হাসান গুনবীকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হওয়া একটি মামলায় আদালত রোববার এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম সূত্র জানায়, গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর শাহ আলী থানার বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে গুনবীকে গ্রেপ্তার করে। গুনবীকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব জানায়, কথিত এই আধ্যাত্মিক নেতা ওয়াজের আড়ালে জঙ্গিবাদী মতাদর্শ প্রচার করে সাধারণ জঙ্গিদের ‘আত্মঘাতী’ হতে উদ্বুদ্ধ করতেন। পরে তাঁকে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হওয়া মামলায় কাউন্টার টেররিজম তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর কয়েক দিন পর তাঁর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় থাকা আরেকটি মামলায় কাউন্টার টেররিজম তাঁকে আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। রোববার শুনানি শেষে আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম বিভাগের উপকমিশনার আবদুল মান্নান জানান, গুনবীকে সোমবার কাশিমপুর কারাগার থেকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনে তলোয়ার নিয়ে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে গত মে মাসে আবু সাকিব ওরফে আল আমিন নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে যে মামলা হয়েছিল, সেখানে মাহমুদ হাসান গুনবীর নামও ছিল। ওই মামলায় গত ২৪ মে কুষ্টিয়া থেকে আরেক বিতর্কিত বক্তা আমির হামজাকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম বিভাগ।

জাল টাকার মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামীর বিচার শুরু

0

জাল টাকা উদ্ধারের মামলায় নরসিংদী যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া, তাঁর স্বামী মফিজুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেন। আগামী ১৩ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করা হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত উল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়িবা নূর।

গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বুকিং দেওয়া বিলাসবহুল প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট রুম এবং ইন্দিরা রোডের ফ্ল্যাট থেকে র‍্যাব ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, পিস্তলের ২০টি গুলি, ৫ বোতল দামি বিদেশি মদ ও ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেক, কিছু বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পাপিয়া, তাঁর স্বামীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে পুলিশ।

অস্ত্র মামলায় বিচার শেষে ঢাকার একটি আদালত পাপিয়া ও তাঁর স্বামীকে ২০ বছর কারাদণ্ড দেন আদালত। এ ছাড়া মাদক মামলায় পাপিয়া ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ঢাকার আরেকটি আদালতে বিচার চলমান রয়েছে।
২০০৬ সালে নরসিংদী সরকারি কলেজে পড়ার সময় পাপিয়ার সঙ্গে মফিজুরের সম্পর্ক হয়। ২০০৯ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তাঁরা স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১০ সালে নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক করা হয় পাপিয়াকে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে তাঁকে জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার কারা কর্মকর্তাকে জামিন দেয়ায়, হাইকোর্টে ক্ষমা চাইলেন বিশেষ জজ ইকবাল হোসেন

0

৮০ লাখ টাকাসহ হাতে নাতে গ্রেফতারের পর বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি (প্রিজন্স) পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিক ভাবে জামিন দেয়ায় বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে হাইকোর্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন। একইসঙ্গে এ অভিযোগ থেকে অব্যাহতিও চেয়েছেন তিনি।
হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে লিখিত ব্যাখ্যা দেন বিচারক ইকবাল হোসেন। এ বিষয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
পার্থ গোপালকে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেয়ার ঘটনায় গত ২৮ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেনকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। একইসঙ্গে পার্থ গোপাল বণিকের জামিন দেয়ার বিষয় নিয়ে চ্যানেল ২৪ এ প্রচারিত প্রতিবেদনের ভিডিও ক্লিপ আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিকের জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে আদালত। গত ১৭ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেনের ভার্চুয়াল আদালত পার্থ গোপাল বণিককে ১৫ জুলাই পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর তিনি কারামুক্ত হন। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই জামিন নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

লিখিত ব্যাখ্যায় বিচারক ইকবাল হোসেন বলেন, ফৌজদারি আপিল নং (১০৫৩৪/১৯) মামলায় গত বছরের ২ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে পার্থ গোপাল বণিকের মামলার বিচার ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্নের জন্য জজ ইকবাল হোসেনকে নির্দেশ দেন। এই আদেশ যথাসময়ে না পৌঁছায় ছয় মাসের সময়সীমা অতিক্রম হয়েছে বলে আসামির আইনজীবী বিশেষ আদালতকে জানান।
এছাড়া ফৌজদারি রিভিশন (১৪৫/২১) মামলায় গত ২৫ জানুয়ারি অপর এক আদেশে মামলাটির বিচার এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে বলা হয়। গত ১০ মার্চ এই আদেশের অনুলিপি পান। এই আদেশে উল্লিখিত সময়সীমার মেয়াদ এখনো রয়েছে। বিশেষ আদালতের বিচারক ইকবাল হোসেন ব্যাখ্যায় বলেছেন, তিনি হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালনে সদাসচেষ্ট রয়েছেন।
দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান জানান, গত বছরের ৪ নভেম্বর পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর ১৫ ডিসেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। একই বছরের ২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন ডিআইজি পার্থের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। এতে মোট ১৪ জনকে সাক্ষী করা হয়। রাজধানীর নর্থ রোডের ফ্ল্যাট থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় বরখাস্ত ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিল দুদক।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, পার্থ গোপাল বণিকের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৮০ লাখ টাকার কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। অর্থাৎ তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৮০ লাখ টাকা উপার্জন করে বাসায় লুকিয়ে রেখেছেন বলে প্রমাণিত হয়।
এতে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালে তিনি ৩১ হাজার ২৫০ টাকা বেতন স্কেলে কারা উপ-মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তার এই বেতন স্কেলের সঙ্গে এত টাকা উপার্জন অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি তার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তা উত্তোলন করেননি বা তিনি কখনো এই অর্থ আয়কর বিবরণীতেও প্রদর্শন করেননি, যা দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
২০১৯ সালের ২৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুদকের সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফের নেতৃত্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পার্থ গোপাল বণিককে। ঘুষ ও দুর্নীতির কয়েক লাখ নগদ টাকা তার বাসায় রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পার্থ গোপাল বণিককে গ্রেপ্তারের দিন থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং রোধে হাইকোর্টের রুল

0

মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে বুলিং রোধে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বুলিং রোধে কেন একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ১৬ বছর বয়সী কিশোর আজওয়াদ আহনাফ করিম বডি শেমিংয়ের শিকার হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসারকে ওই ঘটনা তদন্ত করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রবিবার (২২ আগস্ট) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. তানভীর আহমেদ।
এর আগে গত ৮ জুলাই ‘মোটা বলে সহপাঠী ও শিক্ষকের লাঞ্ছনার শিকার মৃত কিশোরের পরিবার যা বলছে’ শিরোনামে বিবিসি বাংলায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় অ্যানোরেক্সিয়া এবং বুলিমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক কিশোরের মৃত্যুর পর তার পরিবার অভিযোগ করেছে, স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকদের বুলিংয়ের শিকার হওয়ার ফলস্বরূপ এই ঘটনা ঘটেছে। ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট কয়েক হাজার মানুষ শেয়ার করেছেন, যাদের প্রায় সবাই বডিশেমিং, বুলিংয়ের মতো ইস্যুতে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কিশোরের বাবা মো. ফজলুল করিম বলেছেন, তার ছেলের ওজন স্বাভাবিকের চাইতে বেশি হওয়ার কারণে, স্কুলে তাকে প্রায় নিয়মিতই বুলিং ও উপহাসের শিকার হতে হতো। কিন্তু স্কুলে কখনো এ নিয়ে অভিযোগ জানাননি তারা। এখনো বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ জানাতে চান না তারা। তবে পরিবার চায় স্কুলে বুলিং বন্ধ করার জন্য যেন সরকার ব্যবস্থা নেয়।
পরে ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রতি একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। তবে সে নোটিশের কোনো জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ।

জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় মারাত্মক অপরাধ: হাইকোর্ট

0

জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনা তদন্ত কর্মকর্তার ভুল নয়, এটি মারাত্মক অপরাধ বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। বগুড়ায় এক শিশুর কাছ থেকে জোর করে ছোট ভাই হত্যার স্বীকারোক্তি আদায় করার ঘটনা পর্যালোচনায় বিষয়টি উল্লেখ করেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ।
রোববার নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেও তদন্ত কর্মকর্তার এমন কাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। জোর করে ১২ বছর বয়সী শিশুর স্বীকারোক্তি নেয়ার বিষয়ে গত ১১ জুন একটি ইংরেজি দৈনিকে এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন ছাপা হয়।
এটি যুক্ত করে বগুড়ার আদালতে থাকা ওই হত্যা মামলার যথার্থতা ও আইনি পর্যালোচনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী গত ২০ জুন আবেদন করেন।
২৯ জুন আবেদনটির ওপর শুনানির পর হাইকোর্ট ‘জোর করে’ স্বীকারোক্তি আদায়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত (সিআইডি) বিভাগের পরিদর্শক (নাটোর) নয়ন কুমারকে তলব করে।
নয়ন সারিয়াকান্দি থানায় সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে মামলাটির প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন।
সেই সঙ্গে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) তদন্তাধীন মামলাটির কেস ডকেট (সিডি) নিয়ে বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর আলীকেও (উপপরিদর্শক, পিবিআই, বগুড়া) আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়।
আদালতের নির্দেশে রোববার সকালে মনসুর আলী ও নয়ন কুমার আদালতে হাজির হন এবং ১২ বছর বয়সী শিশুর কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন।
ক্রম অনুসারে বিষয়টি শুনানির জন্য উঠলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী আদালতে বলেন, সাবেক ও বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা হাজির হয়েছেন। সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার লিখিত জবাব দিয়েছেন।
তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উনি (নয়ন কুমার) সরাসরি বিচারপতিদের অ্যাড্রেস করেছেন। উনি কি এটি পারেন, জিজ্ঞেস করেন। উনি কীভাবে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি নিয়েছেন জিজ্ঞেস করেন। উনি ১২ বছর বয়সী শিশুর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি কীভাবে নিয়েছেন, বলতে বলেন।
মামলার বৃত্তান্ত তুলে ধরে আইন কর্মকর্তা মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী তখন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে নারী ও শিশু আদালত পিবিআইকে মামলাটি অধিকতর তদন্ত করতে নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্ত করার সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা নিজেদের জড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ পর্যায়ে বলেন, আদালত উনাকে (নয়ন কুমার) আসতে বলেছেন, উনি এসেছেন। নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন দিয়েছেন। আর পিবিআইয়ের যিনি এখন মামলাটি তদন্ত করছেন, তিনি মামলাটির চতুর্থ তদন্ত কর্মকর্তা। উনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, আদালত সন্তুষ্ট হলে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কেননা, উনি (নয়ন কুমার) প্রসিকিউসনের অংশ।
তখন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উনি ভুল করলে আমরা কি ছেড়ে দেব?
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সেটা আপনাদের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। আমি বলতে চাচ্ছি হি (নয়ন কুমার) অলসো পার্ট অব দ্য প্রসিকিউশন। তিনি যে ভুল করেছেন সে ভুলের জন্য তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এটা ভুল নয়, এটা মারাত্মক অপরাধ, যেটা তিনি করেছেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অপরাধ বলবেন, নাকি অবহেলা।
বিচারক বলেন, ‘না, তিনি এটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছেন। ১২ বছরের একটি শিশুর স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছে ‘আমি আমার ভাইকে মেরে ফেলেছি। এটা কি সম্ভব! ১২ বছরের একটি ছেলে ৮ বছরের একটি ছেলেকে মেরে ফেলবে?’
‘তাহলে আপনি কীভাবে ১৬৪ ধারা আবেদন দিলেন ও নিলেন? রাষ্ট্রপক্ষ ইতিমধ্যে অধিকতর তদন্ত চেয়েছে, পিবিআই তদন্ত করছে। এতে দুজন স্বীকার করেছে, তারা আট বছর বয়সী শিশুটিকে মেরেছে। তাহলে ১২ বছর বয়সীর শিশুটির জবানবন্দি কীভাবে নিলেন এই তদন্ত কর্মকর্তা (নয়ন)! এটি তো মারাত্মক ধরনের অভিযোগ। অবহেলা মনের অজান্তে হয়। এটি অবহেলা না।”
এ পর্যায়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ওই কর্মকর্তার (নয়ন) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা সম্পর্কিত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন। এর মধ্যে মামলার বর্তমান ও সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
তবে নয়ন কুমারের লিখিত ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। যে কারণে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে। সেদিনও নয়ন কুমারকে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আর ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে আপাতত অব্যাহতি দিলেও বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর আলীকে সেদিন ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নৃশংস গ্রেনেড হামলা যে ভাবে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার জন্য পুণরায় তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকার এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতাকেই অভিযুক্ত করে বলেছেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এটা হতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘আলামত ধ্বংস, খুনীদের পালাতে সহায়তা করা এবং বিচারকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার যে অপচেষ্টা তাতেই এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়।’ ‘বেগম খালেদা জিয়াও ঘটনা সম্পর্কে আগেই অবহিত ছিলেন,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঐ দিন রাত ১১ টার দিকে চারজনকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে খালেদা জিয়ার সরকার দেশ থেকে বাইরে পাঠিয়ে দেয়। তাদের মধ্যে তাজউদ্দিন ছিল, একজন কারারক্ষী এবং শোনা যায় কর্নেল রশিদ এবং ডালিম সে সময় ঢাকায় এসেছিল এবং খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার তত্ত্বাবধানে ছিল।’
তিনি বলেন, ‘ডিজিএফআই, এনএসআইসহ গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ সবাই এর সঙ্গে জড়িত ছিল। কাজেই, তারাই এদের রক্ষা করে এবং দেশ থেকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। কারণ, যখন তারা জানলো যে আমি মরি নাই, বেঁচে আছি, তখন তারা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।’
প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শনিবার সকালে গ্রেনেড হামলার ১৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৩, বঙ্গবন্ধু এভেনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন কারারক্ষী এর সঙ্গে জড়িত ছিল। জেলখানার ভেতর গ্রেনেড পাওয়া গেল (২১ আগস্ট হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেডের মত আর্জেজ গ্রেনেড) এরা অনেকগুলো ক্রিমিনাল জোগার করেছিল তাদের মধ্যে কিছু জেলখানা থেকে বের করে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু, প্রত্যেকের হাতে যে গ্রেনেডগুলো ছিল সবাই সেগুলো মারতেও পারেনি। রমনা হোটেলের সামনের গলিতে এবং কয়েকটি জায়গায় সেই গ্রেনেড পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আক্রমণকারীদের রক্ষা করার জন্য সেদিন ভয়াবহতার মধ্যেই পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ছুড়েছে। সব আলামত সিটি করপোরেশনের গাড়ি দিয়ে ধুয়ে নষ্ট করা হয়েছে। একটা গ্রেনেড অবিস্ফোরিত ছিল, সেটি সংরক্ষণের কথা বলায় একজন অফিসারকে ধমকানো হয়। পরে তাকে নির্যাতনও করা হয়েছে। সরকারের সহযোগিতা না থাকলে তো এমন হতে পারে না।
আলোচনা সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রারম্ভিক ভাষণ দেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদও বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলা হল। আমরা সেটার প্রতিবাদ করলাম। সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ ডাকলাম। মুক্তাঙ্গনে সভা হওয়ার কথা ছিল, অনুমতি দেয়নি। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আওয়ামী লীগ অফিসের সামনেই করবো। পোস্টার করা হলো, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলাম আমরা। কিন্তু তারা (সরকার) মধ্যরাতে মুক্তাঙ্গনে করার অনুমতি দিল। তখনই সন্দেহ হল এতো রাতে অনুমতি দিল কেন? তাছাড়া, আমাদের সমাবেশ করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। অবশ্য প্রকাশ্যে দিবালোকে এভাবে আর্জেজ গ্রেনেড হামলা করে মানুষ হত্যা করবে, তা কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, গ্রেনেড হামলায় মানুষ মারা কোন ধরনের গণতন্ত্র ছিল?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও এর আগেই খালেদা জিয়া বক্তৃতা দিয়ে তাঁর নাম ধরেই বলেছে- ‘প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা বিরোধী দলের নেতাও কোনদিন আমি হতে পারবো না।’ এরআগে কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টার আগেও খালেদা জিয়া বলেছিলেন- ‘একশ বছরেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যখন জাতীয় সংসদে গিয়ে বিষয়টি তুলতে চেষ্টা করলাম তখন কিছুতেই এ ব্যাপারে কথা বলতে দেবে না। শোক প্রস্তাব দিতে চাইলাম সেটা প্রত্যাখ্যান করা হলো, নিল না। আমরা যারা কথা বলতে চেয়েছি তাদের কোন মাইক দেয়া হলো না। খালেদা জিয়া নিজেই দাঁড়িয়ে বললেন-ওনাকে আবার কে মারবে। উনিতো ভ্যানিটি ব্যাগে করে নিজেই গ্রেনেড নিয়ে সেখানে গেছেন এবং নিজেই গ্রেনেড মেরেছেন। এটা খালেদা জিয়ার নিজের ভাষ্য।
তিনি বলেন, আমি বাবার পথ ধরেই এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করছি। গ্রেনেড, বোমা, বুলেট দিয়ে বারবার হত্যা চেষ্টা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে নেতাকর্মীরা আমাকে বাঁচিয়েছেন।
বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘তারা গুম-খুনের কথা বলে। তাদের হারিছ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আরও কে কে গুম হয়েছে বলে বেড়ায়। পরে বিদেশে খোঁজ পাওয়া যায়। কেউ ভারতে, লন্ডনে , আসলে তারা নিজেরা নিজেদের গুম করে রাখে। এটাও এ দেশে ঘটে, দুর্ভাগ্য।
বিএনপির এই অত্যাচারটা শুরু হয়েছিল ২০০১ সালের ১ অক্টোবর থেকে। এমনকি জুলাই মাসে আমার ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই এক অদৃশ্য শক্তির বলে তাদের দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়। সামরিক অসামরিক আমাদের অনেক কর্মকর্তাকে ও এসডি করা, চাকুরিচ্যুত করা থেকে শুরু করে হত্যা, গুমসহ, নারীদের ওপর পাশবিক অত্যাচারসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে। তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতোই নির্যাতন শুরু করেছিল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহিদ, ১৫ আগস্টের সকল শহিদ এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং সম্ভ্রমহারা দু’লাখ মা-বোন স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভায় আরো বক্তৃতা করেন দলের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা এবং বিএমএ মহাসচিব ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও দক্ষিণের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফী প্রমুখ। দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, এমপি গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নজির বিহীন গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহুর্মুহু ১৩টি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় মুহূর্তেই মানুষের হাত-পাসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিন্নভিন্ন হয়ে রক্ত-মাংসের স্তুপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। ওই ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীরা মানববর্ম রচনা করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও তাঁর কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর গ্রেনেডের আঘাতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী আইভি রহমান এবং নেতা-কর্মীসহ মোট ২৪ জন প্রাণ হারান। রাজনৈতিক কর্মী, পথচারী. নিরাপত্তাকর্মী, সাংবাদিকসহ প্রায় ৫ শতাধিক আহত হন।
সেদিনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাবেশ শেষ করা মাত্র একজন ফটোগ্রাফার এসে ছবি নিতে না পারার কথা জানাতেই তিনি থমকে দাঁড়ালেন। মাইকটি তিনি হাত থেকে রাখতেও পারেননি তখনই গ্রেনেড হামলা শুরু হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘গ্রেনেড বিস্ফোরিত হবার শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে হানিফ ভাইসহ (সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফ) কয়েকজন ঘিরে ফেলেন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেখলাম আমার গায়ে শুধু রক্ত আর রক্ত। অর্থাৎ ঐ যে স্প্লিন্টারগুলো সব এসে আঘাত করছে হানিফ ভাইয়ের মাথায় ও গায়ে। যেহেতু সে ধরে রেখেছে তার রক্তে আমার শরীর ভেসে যাচ্ছে। তিনটি গ্রেনেড ফোটার পর কয়েক সেকেন্ড বিরতি দিয়ে আবার। মনে হচ্ছে যেন এর শেষ নেই, কেয়ামতের মতো। চারিদিকে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। জানিনা, আল্লাহ কিভাবে হাতে তুলে আমাকে বাঁচালেন। আমার গায়ে একটাও স্প্লিন্টার লাগেনি। কিন্তু আওয়াজে ডান দিকের কানে আর শুনতে পাচ্ছিলাম না।’
তিনি আরো বলেন, যখন আমি গাড়িতে উঠতে যাব, দরজাটা খুলে মাহবুব দাঁড়ানো (২১ আগস্ট শহিদ, তাঁর দেহরক্ষী) তখনই গুলি আসলো এবং সেই গুলিতে মাহবুব মারা গেল। আরো কয়েকটি গুলি এসে গাড়িতেও লাগলো (বুলেট প্রুফ গাড়ি)।
ওই দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সাধারণত পুলিশ এগিয়ে আসে সাহায্য করতে, যারা আহত বা তাদেরকে রক্ষা করতে। এইখানে দেখা গেল উল্টো। বরং আমাদের নেতাকর্মী দূরে যারা ছিল তারা যখন ছুটে আসছে তাদেরকে আসতে দেয়া হচ্ছে না বরং টিয়ারগ্যাস মারা হচ্ছে, লাঠিচার্জ করছে পুলিশ।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার মানেটা কি? যারা আক্রমণকারী এদেরকে রক্ষা করা, এদেরকে রেসকিউ করার জন্যই এই টিয়ারগ্যাস মারা, লাঠিচার্জ করা।
সরকার প্রধান বলেন, সব থেকে দুর্ভাগ্যের বিষয় বিএনপিমনা ডাক্তাদের কেউ সেদিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিল না। আর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে কোন আহতকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বলেছে এখানে ইমর্জেন্সিতে চিকিৎসা নিতে পারবে না। সেটা সম্পূর্ন বন্ধ। আর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিএনপিমনা কোন একটা ডাক্তারও সেদিন ওখানে কোন চিকিৎসা করেনি। আমাদের ডাক্তার রোকেয়া আইভি রহমানসহ প্রায় ৭০জনকে নিজে একা অ্যানেস্থেসিয়া দিয়েছে।
গ্রেনেড হামলায় যারা মারা গিয়েছিলেন তাদের লাশ প্রথমে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছিল না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে ঘিরে থাকলে কর্তৃপক্ষ ভোর রাতে লাশ দিতে বাধ্য হয়।
তিনি বলেন, বিএনপি জামাত জোট সরকার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জজ মিয়া নামের দরিদ্র একজনকে তার পরিবার লালন পালনের আশ্বাস দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কাহিনী তৈরি করে। অথচ তার আর্জেজ গ্রেনেড সংগ্রহ করা বা গ্রেনেড মারার মতো, লোক সংগ্রহ করার মতো কোন ধরনের সামর্থ্যই ছিল না।
পাশাপাশি, ওই সময় মগবাজার আওয়ামী লীগ নেতা মোখলেসকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করাসহ আওয়ামী লীগের কর্মীদের গ্রেপ্তার করে তাদের দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের পরিকল্পনা হয়েছিল যে, আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলেই এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে।
সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আপনারা জানেন একটা গ্রেনেড পাওয়া গেল জেলখানার ভেতরে, দেয়ালের সাথে। সেটা আবার আমাদের কোন কোন স্বনামধন্য পত্রিকা ডায়াগ্রাম এঁকে দেখালো যে জেলখানার পাশের কোন এক বাড়ি থেকে ওই গ্রেনেড ছুড়ে মারাতে ওটা ওখানে পড়েছে। জেলখানার পাশে এমন কোন বাড়ি নেই যেখান থেকে গ্রেনেড মারলে ওই জায়গায় এসে গ্রেনেড পড়বে।
এছাড়া, পাশের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা নাকি এ কান্ড ঘটিয়ে চলে গেছে এমন কথাও বলা হলো।
তিনি বলেন, পাশের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এসে দিনে দুপুরে এভাবে এতগুলো গ্রেনেড যদি শহরের ভেতরে মেরে যেতে পারে তাহলে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো কি করছিল? তাহলে তারা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে কিভাবে? আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনী, বিডিআর, পুলিশ, তারা কি করছিল? এভাবে তারা (বিএনপি-জামাত) সবার দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাবার চেষ্টা করেছিল, বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাসস।

পরীমনি কারাগারে

0

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে একদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২১ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমাম বনানী থানার দায়ের করা মাদক মামলার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
তৃতীয় দফায় এক দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার বেলা পৌণে ১২ টায় পরীমনিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি। এরপর তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
গত ১৯ আগস্ট পরীমনির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম। এর আগে গত ১৩ আগস্ট পরীমনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পরে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।
কারা সূত্র জানায়, নায়িকা পরীমনিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে (রজনীগন্ধা ভবন) রাখা হয়।
তার আগে পরীমনি দুই দফায় ৬ দিনের রিমান্ডে ছিলেন।
গত ৪ আগস্ট রাতে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র‍্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে বিভিন্ন মাদক জব্দ করা হয়। ৫ আগস্ট র‍্যাব-১ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য আইনে পরীমণি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে।

২১ আগস্ট ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলার ১৭তম বার্ষিকী পালিত

0

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে একুশে আগস্ট ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলার ১৭তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত বেদিতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নেতৃবৃন্দ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
প্রথমে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শহীদদের স্মরণে স্থাপিত বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ সময়ে এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন ও আফজাল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পদক সুজিত রায় নন্দী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর আহত ব্যক্তিবর্গ এবং নিহতদের পরিবার, আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর , অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মৎস্যজীবী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অন্যান্য সংগঠন ও তাদের শাখাগুলোর পক্ষ থেকে বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এর আগে সকালে একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত বেদিতে জড়ো হন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক অরুন সরকার রানার নেতৃত্বে জোটের নেতৃবৃন্দ অস্থায়ী বেদিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন।
দিবসটি উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১০ টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। গণভবন থেকে ভিডিও কনফরেন্সের মাধ্যম সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আলোচনা সভায় আারও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহবুব উল আলম হনিফ, তথ্যমন্ত্রী ও সম্প্রচারসন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পদক এসএম কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ।
এদিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হমলা দিবস উপলক্ষে সেগুনবগিচায় আলোচনা সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট শাহবাগ থান শাখা। শাহবাগ থানা শাখার সভাপতি দিলীপ সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কার্যকরী সভাপতি রফিকুল আলম, সহ সভাপতি চিত্রনায়ক শাকিল খান, সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভিনেত্রী তারিন জাহান, অভিনেত্রী তানভীন সুইটি প্রমুখ। বাসস।

তারেক রহমানসহ পলাতকদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর

0

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমানসহ পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।
পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি’র এআইজি মহিউল ইসলাম বাসসকে জানান, ‘তারেক রহমানসহ পলাতক আসামীদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকরের জন্য সম্ভাব্য দেশগুলোর সঙ্গে এনসিবি ঢাকা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। এছাড়া ইন্টারপোলের রেড নোটিশে নাম ওঠাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে।’
২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় মোট ৪৯ জন আসামী ছিলেন। যাদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।। এদের মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবর এবং আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ২৭ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন। এছাড়া তারেক রহমান এবং হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ জন রয়েছেন পলাতক । কারাগারে থাকা অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আব্দুর রহিম কয়েকদিন আগে মারা গেছেন।

দণ্ডিতরা কে কোথায়?
তারেক রহমান:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১২ বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। গ্রেনেড হামালা মামলায় তাঁকে যাবজ্জীবন শাস্তি দেয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে তাকে ‘পলাতক’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। অর্থ পাচার এবং দুর্নীতির মামলায় এরই মধ্যে তাঁর সাজা হয়েছে। তারেক রহমানকে ফেরত আনার জন্য ২০১৪ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাজ্যকে চিঠি দেয় ৷ কিন্তু এরপর নতুন কোনো চিঠি বা সরকারি যোগাযোগের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে৷ তিনি ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আটক হয়ে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে লন্ডনে গিয়ে আর ফিরে আসেননি৷

লুৎফুজ্জামান বাবর:
বিএনপি সরকারের সময় তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর মি: বাবরকে আটক করা হয়। সে থেকে তিনি কারাগারে আছে। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায়ও লুৎফুজ্জামান মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আব্দুস সালাম পিন্টু :
বিএনপি সরকারের সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী ছিলেন আব্দুস সালাম পিন্টু। এছাড়া তখন তিনি টাঙ্গাইল জেলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। উপমন্ত্রী থাকলেও তারেক রহমানের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। তিনি আছেন কারাগারে।
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ:
জামাতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। গ্রেনেড হামলা মামলায় তিনি ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামী। কিন্তু যুদ্ধাপরাধ মামলায় তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়।
মুফতি হান্নান:
উগ্র ইসলামপন্থী দল হরকাতুল জিহাদের নেতা ছিলেন মুফতি হান্নান। গ্রেনেড হামলা মামলার মূল আসামী। তাঁর স্বীকারোক্তির মাধ্যমেই গ্রেনেড হামলা মামলায় মোড় ঘুরে যায় বলে জানান রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীরা। মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তির পর তারেক রহমান এবং লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অনেককেই এ মামলার আসামী করা হয়। সিলেটে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যার দায়ে ২০১৭ সালে তাঁর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। সে গ্রেনেড হামলায় ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী আহত হয়েছিলেন। এছাড়া টুংগিপাড়ায় শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলে বোমা পুতে রাখাসহ আরো কয়েকটি বোমা হামলার সাথে জড়িত ছিলেন এ জঙ্গি নেতা।
তাজুল ইসলাম:
তিনি মাওলানা তাজউদ্দীন হিসেবে পরিচিত। বিএনপি সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু তার ভাই। গ্রেনেড হামলার পর তাকে ভুয়া পাসপোর্টের মাধ্যমে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন বলে জানা যায়। গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে তাকে।
হারিছ চৌধুরী:
বিএনপি সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব ছিলেন তিনি। তৎকালীন সরকারে যাদের প্রভাব অনেক বেশি ছিল হারিছ চৌধুরী তাদের মধ্যে অন্যতম। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন শাস্তি দেয়া হয়েছে। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান মি: চৌধুরী। বর্তমানে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত নয়। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশে আসা যাওয়া করছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন। অবশ্য সম্প্রতি তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে তিনি লন্ডনে আছেন এবং করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী:
বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর তাকে আটক করা হয়। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআই-এর প্রধান ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী। তৎকালীন প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় এরই মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিম :
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা বা এনএসআই-এর সাবেক মহাপরিচালক। গ্রেনেড হামলা মামলায় তিনি ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামী। মামলার রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় এরই মধ্যে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে তার মত্যু হয়েছে।
লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক:
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা খালেদা জিয়ার ভাগ্নে। এ মামলায় দীর্ঘ সময় তিনি জামিনে থাকলেও এখন তিনি কারাগারে রয়েছেন।

শহুদুল হক :
আওয়ামীলীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার সময় আইজিপি ছিলেন শহুদুল হক। মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তার। গ্রেনেড হামলা হওয়ার পর তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাষ্ট্র পক্ষ। কারণ, হামলার পর ঘটনাস্থল একবারও পরিদর্শন করেননি মি: হক। শহুদুল হক এক সময় সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শহুদুল হককে পুলিশ প্রধানের পদে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। বিএনপি সরকারের সময় পুলিশ প্রধান পদে খুব বেশি দিন থাকতে পারেননি তিনি। আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডিত হওয়ায় তাকে সে পদ ছাড়তে হয়েছিল। ২০০৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত, অর্থাৎ এক বছর আট মাস পুলিশ প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন মি: হক। তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন।
মোহাম্মদ আশরাফুল হুদা :
গ্রেনেড হামলার সময় আশরাফুল হুদা ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০০৫ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত অর্থাৎ চার মাসেরও কম সময় পুলিশ প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন আশরাফুল হুদা। মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তাকে। তিনি জামিনে আছেন।
খোদাবক্স চৌধুরী:
গ্রেনেড হামলার সময় অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন খোদাবক্স চৌধুরী। পরবর্তীতে তিনি আইজিপি হয়েছেন। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তিনিও বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ:
বিএনপির টিকিটে কুমিল্লা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। জঙ্গীদের অন্যতম আশ্রয় ও প্রশ্রয় দাতা। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়। মামলার অভিযোগপত্রে তাকে পলাতক দেখানো হয়েছে। ধারনা করা হয়, তিনি সৌদি আরবে পলাতক আছেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন আমেরিকায়:
বিএনপি সরকারের সময় তিনি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআই-এর দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি ছিলেন। পরবর্তীতে সেনা-সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি ডিজিএফআই-এর প্রধান হয়েছিলেন। সে সরকারের মেয়াদ শেষ হলে তিনি আমেরিকায় চলে যান। তাকে দেয়া হয়েছে দুই বছরের কারাদণ্ড। মামলার কাগজপত্রে তাকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম:
সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।
এ ছাড়া সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান এবং এএসপি আব্দুর রশিদ বর্তমানে কারাগারে আছেন। এ তিনজন বিএনপি সরকারের সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন।
গ্রেনেড হামলা মামলার আরেক আসামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক হানিফ পলাতক রয়েছেন। তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।