ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   ভোর ৫:৩২ 

Home Blog Page 81

হাইকোর্টে শুনানির জন্য প্রস্তুত ২১ অগাস্ট মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের

0

২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলার দণ্ডিতদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের আবেদন এবং আসামিদের আপিল হাইকোর্টে শুনানির জন্য প্রস্তুত। প্রধানবিচারপতি বেঞ্চ গঠন করে দিলেই শুনানি শুরু হবে।
এ মামলায় দণ্ডিত পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবীও নিয়োগ দিয়েছে আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে শুনানি শুরু করে এ বছরের মধ্যেই তা শেষ করা সম্ভব হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল এম আমিন উদ্দিন জানিয়েছেন, “পেপারবুক রেডি হয়ে আছে। পলাতক আসামিদের পক্ষে মামলা করার জন্য আদালত রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবীও নিয়োগ দিয়েছেন। অর্থাৎ মামলাটি শুনানির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
“লকডাউন শেষে কেবল তো কোর্ট খুলল, আগামী সপ্তাহ নাগাদ কোর্টে মেনশন করব এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে শুনানি শুরু করার চেষ্টা করব। আশা করি এ বছরের মধ্যে শুনানি শেষ করতে পারব।”
এ মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত লুৎফুজ্জামান বাবরের আইনজীবী হিসেবে হাই কোর্টে আপিল করেছেন আইনজীবী আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “হাই কোর্টে ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি হয় বছর এবং ক্রম অনুসারে। এখন হাই কোর্টে ২০১৫-১৬ সালের মামলাগুলো চলছে। নম্বর এবং বছরের ক্রমানুসারে যদি শুনানি হয়, আরও চার থেকে পাঁচ বছর লেগে যাবে।
“কিন্তু এ মামলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে রায় হওয়ার পরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডেথ রেফারেন্স রেকর্ড হয়েছে এবং পেপারবুকও প্রস্তুত করা হয়েছে। মামলাটি এখন শুনানির জন্য প্রস্তুত আছে। গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধান বিচারপতি চাইলে মামলাটি শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন করে দিতে পারেন।”
কী ছিল রায়ে
২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করা হয়।
নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর এ মামলার রায় দেয়।
বিএনপি-জামাত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় সেই রায়ে।
আর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, খালেদার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
এছাড়া ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয় রায়ে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আব্দুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. উজ্জল, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ।
পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যার দায়ে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম মাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু।
তাদের দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আশরাফুল হুদা ও শহিদুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, ডিজিএফআইয়ের মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, ডিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, আরেক সাবেক উপ-কমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোদা বক্স চৌধুরী, সিআইডির সাবেক বিশেষ সুপার মো. রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমানকে দুই বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আরেকটি ধারায় খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমিন, আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমানকে তিন বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।
নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে উচ্চ আদালতের অনুমোদন লাগে। সেই অনুমোদনের জন্য যে আবেদনটি (রায় ও মামলার নথিসহ) করা হয় সেটি ‘ডেথ রেফারেন্স’ নামে পরিচিত।
বিচারিক আদালতে রায়ের দেড় মাসের মাথায় ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার নথি হাই কোর্টে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র হাই কোর্টে দাখিল করা হয়।
হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলায় রায়ের কপিসহ মোট ৩৭ হাজার ৩৮৫ পৃষ্ঠার এ নথি হাই কোর্টের রেকর্ড রুমে সংরক্ষণ করা হয়।
এর মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার রায় ৩৬৯ পৃষ্ঠার এবং হত্যা মামলার রায় ৩৫৬ পৃষ্ঠার।
এদিকে রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্তরা জেল আপিলের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামিরা জেল আপিল করেন।
আসামিদের করা আপিল, জেল আপিল, ডেথ রেফারেন্স, মামলার রায় ও যাবতীয় নথি যাচাই-বাছাই করে পেপারবুক তৈরির জন্য সেসব পাঠানো হয় সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসে। সেখানেই পেপারবুকটি প্রস্তুত করা হয়।
এরপর গত বছর ১৬ আগস্ট পেপারবুক এসে পৌঁছায় সুপ্রিম কোর্টে। তা আরেক দফা যাচাই-বাছাই শেষে শুনানির জন্য পেপারবুকটি প্রস্তুত করা হয়।
এখন প্রধান বিচারপতি মামলাটি শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন করে দিলেই হাই কোর্টে এ মামলার শুনানি শুরু হতে পারে। বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

ভয়াল ২১ আগষ্ট আজ; আওয়ামীলীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ১৭তম বার্ষিকী

0

রক্তাক্ত বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট আজ । বাংলাদেশের ইতিহাসে ২১ আগস্ট একটি নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন।
বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানী বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধি সমাবেশে চালানো হয় নজির বিহীন গ্রেনেড হামলা। আক্রান্ত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ওই ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীরা মানববর্ম রচনা করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও গ্রেনেডের আঘাতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ মোট ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। পরবর্তি সময়ে গ্রেনেড হামলার বিচারের রায়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোট সরকারের মন্ত্রী ও সরকারের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততায় প্রমাণ মিলে ওই সরকারের প্রত্যক্ষ মদতেই হামলাটি পরিচালিত হয়েছিল।
বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাবনচিত্তে ইতিহাসের জঘন্যতম গ্রেনেড হামলার ১৭তম বার্ষিকী পালন করবে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তবে করোনা সংক্রমণের কারণে কর্মসূচিতে অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। সেদিন ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি বিরোধী’ শান্তি সমাবেশেরে আয়োজন করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশের আগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে স্থাপিত অস্থায়ী ট্রাকমঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরপরই তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক গ্রেনেড। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহুর্মুহু ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় মুহূর্তেই মানুষের রক্ত-মাংসের স্তুপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে। স্প্লিন্টারের আঘাতে মানুষের হাত-পাসহ বিভিন্ন অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। সভামঞ্চ ট্রাকের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় রক্তাক্ত নিথর দেহ। লাশ আর রক্তে ভেসে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সামনের পিচঢালা পথ। নিহত-আহতদের জুতা-স্যান্ডেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভেসে আসে শত শত মানুষের গগন বিদারী আর্তচিৎকার। বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টারত মুমূর্ষুদের কাতর-আর্তনাদসহ অবর্ণনীয় মর্মান্তিক সেই দৃশ্য।
সেদিন রাজধানীর প্রতিটি হাসপাতালে আহতদের তিল ধারণের জায়গা ছিল না। নারকীয় গ্রেনেড হামলায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। ঘাতকদের প্রধান লক্ষ্য শেখ হাসিনা বেঁচে গেছেন দেখে তার গাড়ি লক্ষ্য করে ১২ রাউন্ড গুলি করা হয়। তবে টার্গেট করা গুলি ভেদ করতে পারেনি বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বহনকারী বুলেটপ্রুফ গাড়ির কাচ। হামলার পরপরই শেখ হাসিনাকে কর্ডন করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তার তৎকালীন বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনে। ২১ আগস্টের রক্তাক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। পরে সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ জনে। রক্তাক্ত-বীভৎস ওই ভয়াল গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান ছাড়াও সেদিন নিহত হন ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, হাসিনা মমতাজ রিনা, রিজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, মোশতাক আহমেদ, লিটন মুনশি, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসির উদ্দিন, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের সঙ্গে যুদ্ধ করে ঢাকার মেয়র মোহাম্মদ হানিফসহ আরও কয়েকজন পরাজিত হন।
হামলায় আওয়ামী লীগের চার শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়ে শরীরে স্প্লিন্টার নিয়ে আজও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আহত হয়েছিলেন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। এখনও অনেক নেতাকর্মী সেদিনের সেই গ্রেনেডের আঘাতে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। অনেক নেতাকর্মীকে তাৎক্ষণিক দেশে-বিদেশে চিকিৎসা করালেও তারা এখন পর্যন্ত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি।
এদিকে গ্রেনেড হামলার পর ভয়, শঙ্কা ও ত্রাস গ্রাস করে ফেলে গোটা রাজধানীকে। এই গণহত্যার উত্তেজনা ও শোক আছড়ে পড়ে দেশ-বিদেশে। হামলার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজে বাঁচতে ও অন্যদের বাঁচাতে যখন ব্যস্ত হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই পুলিশ বিক্ষোভ মিছিলের ওপর বেধড়ক লাঠি-টিয়ার শেল চার্জ করে। একইসঙ্গে নষ্ট করা হয় সেই রোমহর্ষক ঘটনার যাবতীয় আলামত। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রত্যক্ষ মদদে ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার।
কর্মসূচি: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করা হবে।
এছাড়াও সকাল সাড়ে ১০ টায় ২১ আগস্টের নারকীয় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ ও নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় সভাপতিত্ব করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গ্রেনেড হামলার দিনটি স্মরণে সীমিত পরিসরে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতারা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে উপস্থিত থাকবেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাসস।

রাজধানীতে ৩টি চোরাই গাড়িসহ ৩ জন গ্রেফতার

0

রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি চোরাই গাড়িসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী। গ তাদের হেফাজত হতে ১ টি মাইক্রোবাস ও ২ টি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।

সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ, গাড়ি চুরি প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার হাসান মুহাম্মদ মুহতারিম জানান, ১৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে গেন্ডারিয়া থানার কাঠেরপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১টি চোরাই মাইক্রোবাস‌ ও ১টি চোরাই প্রাইভেটকার উদ্ধারসহ আনোয়ার ও জসিমকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মোতাবেক নিউমার্কেট থানার কাঁটাবন এলাকা আরও ১টি চোরাই প্রাইভেটকার উদ্ধারসহ মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আনোয়ার বিভিন্ন কৌশলে গাড়ি চুরি করে জসিমের কাছে হস্তান্তর করে। জসিম চোরাই গাড়ি মোহাম্মদ আলীর গ্যারেজ হতে গাড়ির ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রি করে। যাতে পরবর্তীতে গাড়িগুলো ট্র্যাকিং করা সম্ভব না হয়।

মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণ : সেই মুন্না ভগতের বিরুদ্ধে চার্জশিট

0

হাসপাতালের মর্গে মৃত নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ডোম সহযোগী মুন্না ভগতের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
ঢাকার সিএমএম আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ৩০ মে শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় মুন্না ভগতের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সুব্রত কুমার রায়। তবে সে সময়ে চার্জশিট জমা দিলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এর আগে, গত বছরের ২০ নভেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মুন্না ভগত। ১৯ নভেম্বর রাতে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সিআইডি সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে আনা মৃত নারীদের ধর্ষণ করতেন মুন্না ভগত।
সিআইডি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া মুন্না ভগত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে ডোম জতন কুমার লালের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। দুই-তিন বছর ধরে সে মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করে আসছিলেন। এমন একটি অভিযোগ পেয়ে মুন্নার বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না মৃত নারীদের ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছিলেন।
সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, মৃত নারীদের ধর্ষণ করা পৃথিবীর জঘন্যতম একটি কাজ। সুস্থ ও স্বাভাবিক কেউ এমন জঘন্যতম কাজ করতে পারে না। গ্রেফতার মুন্না বিকৃত মানসিকতার। তা না হলে এমন কাজ তার করার কথা নয়।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে দায়িত্বরত ডোম ও মুন্নার মামা জতন কুমার লাল জানান, মুন্না গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তার সহযোগী হিসেবে মর্গে কাজ করছিলেন। তার বাবার নাম দুলাল ভগত। গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজারে। তিনি আরও দুই থেকে তিনজনের সঙ্গে মর্গের পাশে একটি কক্ষেই রাতে থাকতেন। ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন মৃত কিশোরীর মরদেহ ধর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।

মাদক রাখার কথা স্বীকার করেছেন ‘মডেল’ পিয়াসা

0

বাসায় মাদক রাখার কথা স্বীকার করেছেন কথিত মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা। মাদক মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করে তাঁকে ও একই মামলায় গ্রেপ্তার শরফুল হাসানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
১ আগস্ট রাজধানীর বারিধারা থেকে মাদকসহ গ্রেপ্তার হন পিয়াসা। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে খিলক্ষেত ও ভাটারা থানায় আরও দুটি মামলা হয়।
আদালত ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্র বলছে, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় পিয়াসা ও শরফুল হাসানকে সম্প্রতি আদালত তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের মধ্যে পিয়াসা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামি শরফুল হাসানকে কারাগারে পাঠানো হয়। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পিয়াসা দাবি করেছেন, অস্ত্র হাতে তাঁর একটি ছবি ভাইরাল হয়। একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাঁর অফিসে এ অস্ত্র দেখান। তখন সেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মাদক মামলা করেন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক (এসআই) শাহিদুল ইসলাম। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ১ আগস্ট রাত ৯টা ২৫ মিনিটে গুলশানের নতুন বাজার এলাকায় অবস্থান করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী অবৈধ মাদক কেনাবেচার জন্য বারিধারার এক বাসায় অবস্থান করছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে রাত ১০টার দিকে পিয়াসাকে আটক করেন। পর তাঁর ভাড়া বাসার উত্তর-পূর্ব কোনায় চারটি হুঁকা ও একটি শপিং ব্যাগের ভেতর ইয়াবা খুঁজে পান। আর রান্নাঘর থেকে আট বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

কোটি টাকা আত্মসাৎ: বেতারের সাবেক ডিজির অনিয়ম অনুসন্ধান করবে দুদক

0

সুষ্ঠুভাবে অফিসের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সফটওয়্যার তৈরির নামে বাংলাদেশ বেতারের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) নারায়ণ চন্দ্র শীলের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, নারায়ণ চন্দ্রের বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি বাণিজ্য, মালামাল ক্রয় ও আমদানিতে বিভিন্ন অনিয়ম ও লুটপাটসহ অটোমেশন সফ্টওয়্যার ক্রয়ের নামে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎপূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।
বেতারের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমআইএস বিভাগের অটোমেশন সফটওয়্যার তৈরির চুক্তিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য নথি চেয়ে গত ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) বরাবর চিঠি দেয় দুদক।
দুদকের উপপরিচালক (বিশেষ তদন্ত-২) মোহাম্মদ ফয়সাল স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ বেতার কর্তৃক ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ইনোভেশন কার্যক্রমের আওতায় স্বচ্ছ দুর্নীতিমুক্ত অফিস ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমআইএস বিভাগের সঙ্গে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকায় ‘অটোমেশন সফটওয়্যার’ তৈরির চুক্তি হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পায় দুদক।
প্রাপ্ত অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে ‘অটোমেশন সফটওয়্যার’ সরবরাহ ও সংস্থাপনের বিপরীতে সুনির্দিষ্ট কিছু নথি পর্যালোচনার জন্য এগুলোর সত্যায়িত ছায়ালিপি ৩০ জুনের মধ্যে সরবরাহ করতে বলা হয় চিঠিতে।
সেখানে নথিপত্রের বিষয়বস্তু হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কোন অনুষদের কোন বিভাগ কিংবা ইনস্টিটিউটের সামগ্রী ও সেবা সরবরাহ ও সংস্থাপনের বিপরীতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার নীতিমালাও কমিশনে দাখিল করতে বলা হয়। যদিও ঢাবির পক্ষ থেকে কোনো নথি সরবরাহ করা হয়নি বলে জানিয়েছে দুদক।
ওই সময় দুদক উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, ‘অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। ভিসির চিঠির কোনো উত্তর আমরা পাইনি। পরে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেও চিঠি পাঠাব।’
তবে গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ বেতারে ট্রান্সক্রিপশন বিভাগের পরিচালক আনোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, আমরা একটি সফটওয়্যার ইন্সটল হওয়াও কথা শুনেছি কিন্তু বেতারে কোনো ধরণের সফটওয়্যার ইন্সটল হয়নি।
বেতারে কোনো ধরনের সফটওয়্যার ইন্সটল না হলেও একটি চিঠির মাধ্যমে সফটওয়্যার প্রাপ্তি স্বীকার নিশ্চিত করেছেন বেতারে সাবেক মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীল। তবে ওই চিঠি প্রাপ্তি নিয়েও রয়েছে বিপত্তি। দেখা যায় দুইটি চিঠিতে দুইবার প্রাপ্তি স্বীকার করেছেন মহাপরিচালক।
সফটওয়্যার ক্রয় বাবদ যে বরাদ্দ করা হয় সেই অর্থ দুই দফায় ছাড় করার কথা জানিয়েছেন বেতারে একাধিক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেতারের এক কর্মকতা বলেন, দুই বা তিন দফায় যে টাকা ছাড় করা হয়েছে তা বেতারের মহাপরিচালকের হিসাবে ঢুকেছে।

সন্তানদের দেখতে ঢাকায় আসা জাপানি নারীর সঙ্গে অমানবিক আচরণ স্বামীর! বিচার চাইলেন হাইকোর্টে

0

দুই কন্যা শিশুকে নিজের হেফাজতে নিতে বাংলাদেশে এসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন এক জাপানি নারী। তার নাম নাকানো এরিকো।
এরিকোর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, ২০০৮ সালের ১১ জুলাই জাপানি আইন অনুসারে জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো (৪৬) এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক শরীফ ইমরানের (৫৮) বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিনটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তাদের তিনজনকেই টোকিও’র চফো সিটিতে আমেরিকান স্কুল ইন জাপান (এএসআইজে)-এ ভর্তি করা হয়। সেখানেই তারা পড়ালেখা করছিল। কিন্তু পারিবারিক বিরোধের জেরে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য জাপানি আদালতে মামলা করেন এরিকো।
কয়েকদিন পর ২১ জানুয়ারি বড় মেয়েকে নিজের সঙ্গে নিতে শরীফ ইমরান স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু এরিকোর সম্মতি না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ সে আবেদন খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে বড় দুই মেয়েকে স্কুলবাস থেকে নামিয়ে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান ইমরান। এরপর বাচ্চাদের পাসপোর্ট হস্তান্তরের জন্য গত ২৫ জানুয়ারি শরীফ ইমরান আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেন। কিন্তু এরিকো তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এ অবস্থায় গত ২৮ জানুয়ারি এরিকো টোকিও’র পারিবারিক আদালতে তার বাচ্চাদের জিম্মায় রাখতে মামলা করেন। আদালত শিশুদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সাক্ষাতের আদেশ দেন। পরবর্তীতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ইমরান তার মেয়েদের জন্য নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেন এবং গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। এরপর ইমরান বড় মেয়ে দুটিকে নিয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।
এদিকে টোকিও’র পারিবারিক আদালত গত ৩১ মে এরিকোর জিম্মায় মেয়ে দুটিকে হস্তান্তরের আদেশ দেয়। এ অবস্থায় গত ১৮ জুলাই এরিকো শ্রীলংকা হয়ে বাংলাদেশে আসেন। এরপর মেয়েদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেন। ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইমরান সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাতে অস্বীকৃতি জানান। অবশেষে সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও তা ছিল হৃদয়বিধারক ঘটনা।
গত ২৭ জুলাই এরিকোকে চোখ বেঁধে গুলশান থেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। এরপর কোনো একটি বাসায় নিয়ে মেয়েদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। সাক্ষাত শেষে আবার চোখ বেঁধে একই গাড়িতে করে গুলশানে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় সন্তান দুটিকে আদালতে হাজির করা এবং নিজের জিম্মায় নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মা এরিকো। এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট শিশু দুটি ও তাদের বাবার বাংলাদেশ ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এক মাসের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শিশু দুটিকে আগামী ৩১ আগস্ট হাইকোর্টে হাজির করতে তাদের বাবা শরীফ ইমরান ও ফুফু আমিনা জেবিনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের আদালতে হাজির নিশ্চিত করতে গুলশান ও আদাবর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। শিশু দুটির মা নাকানো এরিকোর করা এক রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন আদালত।
আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ: বিমা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে দুদকে তলব

0

ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেনসহ ছয় কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
বৃহস্পতিবার দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক নুরুল হুদার স্বাক্ষরে এক নোটিসে তাদেরকে আগামী ২২ ও ২৩ অগাস্ট রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।
সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক এই তথ্য জানিয়েছেন। মোশাররফ হোসেনসহ তলব করা অন্যদের মধ্যে আইডিআরএ’র সদস্য মো. দলিল উদ্দিন ও মইনুল ইসলাম এবং পরিচালক মো. শাহ আলম রয়েছেন।
গত মার্চে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স থেকে ঘুষ দাবির অভিযোগে অনুসন্ধানের নামে দুদক। দুদক উপ-পরিচালক নুরুল হুদাকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা এবং সংস্থাটির পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে তদারক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
২০১৭ সালের ১ নভেম্বর আদিবা রহমান চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম এ পদে আসেন। তিন বছর মেয়াদী এ পদে তার মেয়াদ ছিল গত বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
সে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২২ সেপ্টেম্বর এক বোর্ড সভায় ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আদিবা রহমানের নিয়োগ আরও তিন বছরের জন্য নবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়।
সে সিদ্ধান্তের অনুমোদনসহ আরও কিছু বিষয়ের অনুমোদন চেয়ে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। পরে গত বছর ডিসেম্বরের শুরুতে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে দুদকে লিখিত অভিযোগ করেন ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্সের যুগ্ম নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান পল্লব ভৌমিক। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

পরীমনি তৃতীয় দফায় আরও ১ দিনের রিমান্ডে

0

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে তৃতীয় দফায় আরও একদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার পরীমনির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
বনানী থানায় করা মাদক মামলায় পরীমনিকে তৃতীয় দফায় পাঁচ দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছিল সিআইডি। এই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদেশ দেন আদালত।
দ্বিতীয় দফায় দুদিনের রিমান্ড শেষে গত শুক্রবার পরীমনিকে আদালতে হাজির করেছিল সিআইডি। আদালত সেদিন পরীমনির জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত সোমবার আবার পরীমনির জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। এ জামিন আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল গতকাল বুধবার। কিন্তু গতকাল শুনানি শুরুর আগে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, পরীমনিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে সিআইডি। পরে আদালত আজ এ আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেন।
পরীমনিকে প্রথম দফায় চার দিন ও দ্বিতীয় দফায় দুদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি।
৪ আগস্ট পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। মামলার বাদী র‍্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ৪ আগস্ট বাদীসহ র‍্যাব-১-এর সদস্যরা গুলশান-১ গোলচত্বরে অবস্থান করছিলেন। বিকেল ৪টা ৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, বনানীর একটি বাসায় পরীমনি তাঁর সহযোগী আশরাফুল ইসলামের মাধ্যমে বিদেশি মদ সংগ্রহ করে মজুত করে রেখেছেন। তাঁরা বাসায় অবস্থান করছেন। পরে বাসার পঞ্চম তলায় অভিযান চালানো হয়। পরীমনির বাসা থেকে নারী র‍্যাব সদস্যের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়। বাসার একটি কক্ষে কাঠের ফ্রেমের ভেতর থেকে বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়, পরীমনির বাসা থেকে একটি সাদা জিপারে রাখা চার গ্রাম আইস বা ক্রিস্টাল মেথ জব্দ করা হয়। আরও জব্দ করা হয় এক ব্লট এলএসডি মাদক। পরীমনির বাসা থেকে জব্দ বিদেশি মদসহ অন্যান্য মাদকের মোট দাম দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার টাকা।
মামলায় বলা হয়, পরীমনি এসব মাদকদ্রব্য কবির নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করে বাসায় রাখতেন। মামলায় কবিরের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা উল্লেখ নেই।
একই মামলায় র‍্যাব দাবি করেছে, পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তিনি প্রযোজক নজরুল ইসলাম ওরফে রাজের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করতেন।
তবে পরীমনি ও আশরাফুল ইসলামের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, র‍্যাব তাঁদের বাসায় মাদক পাওয়ার অভিযোগে যে মামলা করেছে, তা সঠিক নয়।

কাজী আরেফ হত্যার ফাঁসির আসামি গ্রেফতার

0

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী আরেফ আহমেদসহ দলটির পাঁচ নেতাকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রওশন আলী ওরফে উদয় মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।
র‍্যাব সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক (এএসপি) আ ন ম ইমরান এ তথ্য জানান।
র‍্যাব সূত্র জানায়, রওশন আলীকে বুধবার রাতে রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসবিরোধী এক জনসভা চলছিল। এ সময় একদল সন্ত্রাসী গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই নিহত হন কাজী আরেফ আহমেদ, তৎকালীন জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরায়েল হোসেন ও শমসের মণ্ডল। ওই দিনই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সাড়ে পাঁচ বছর পর ২০০৪ সালের ৩০ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১০ আসামির ফাঁসি ও ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল করলে ২০০৮ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্ট নয়জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। একজনকে খালাস দেন। ১২ জনের সাজা মওকুফ করেন।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিদের দুজন রাশেদুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন আপিল করেন।
পরে ২০১১ সালের ৭ আগস্ট ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া নয়জনের সাজা বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর রিভিউ আবেদনও খারিজ করেন সর্বোচ্চ আদালত। পরে তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। সেই আবেদনও নাকচ হয়।
২০১৬ সালে ৮ জানুয়ারি তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তাঁরা হলেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের রাজনগর গ্রামের হাবিবুর রহমান, কুর্শা গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও রাশেদুল ইসলাম।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নয়জনের মধ্যে বর্তমানে চারজন পলাতক। একজন কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। আরেকজন বুধবার ধরা পড়লেন।