ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ৮:৪৩ 

Home Blog Page 83

১১শ’ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ; ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া ও স্বামী মাসুকুর কারাগারে

0

অগ্রীম টাকা পুরোটা পরিশোধের পরও মাসের পর মাস পণ্য ডেলিভারি না দেয়ায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর প্রতিষ্ঠানটির মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুবকর সিদ্দিক এই আদেশ দেন।
প্রতিশ্রুত সময়ে পণ্য না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেন একজন গ্রাহক।
সোমবার রাতে অভিযোগ দায়েরের পর মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) সকালে গুলশান থানা এটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। মামলাটি করেছেন ই-অরেঞ্জের প্রতারণার শিকার মো. তাহেরুল ইসলাম নামে একজন গ্রাহক। থানায় উপস্থিত থেকে তার সঙ্গে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রতারণার শিকার আরও ৩৭ জন। মামলায় ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের মোট ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আজ (মঙ্গলবার) ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদী এজাহারে বলেন, গেল ২১ এপ্রিল পণ্য কেনার জন্য ই-অরেঞ্জে অগ্রিম টাকা দেন। তবে তারা নির্ধারিত তারিখে পণ্য সরবরাহ ও টাকাও ফেরত দেয়নি। নিজেদের ফেসবুক পেজে বার বার নোটিশ দিয়েছে এবং সময় চেয়েছে। কিন্তু ই-অরেঞ্জ পণ্য ও টাকা দেয়নি। সর্বশেষ তারা গুলশান-১ এর ১৩৬/১৩৭ নম্বর রোডের ৫/এ নম্বর ভবনে অবস্থিত ই-অরেঞ্জের অফিস থেকে পণ্য ডেলিভারির কথা বললেও তারা ডেলিভারি দেয়নি। এ ছাড়াও তারা যে বিভিন্ন আউটলেটের গিফট ভাউচার বিক্রি করেছিল, সেগুলোর টাকা আটকে রাখায় আউটলেটগুলো ভাউচারের বিপরীতে পণ্য দিচ্ছে না। আমরা এই করোনার সময় আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ পাচ্ছি না, বরং প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছি। এছাড়াও আজ পর্যন্ত তারা ভুক্তভোগীদের কোনও পণ্য ডেলিভারি না করে এক লাখ ভুক্তভোগীর প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেছে।
মামলায় অর্থ আত্মসাৎকারী হিসেবে যেসব আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন- মাসুকুর রহমান, আমানউল্ল্যাহ, বিথী আক্তার, কাউসার আহমেদ, সোনিয়া মেহজাবিনসহ ই-অরেঞ্জের সব মালিক।
মামলার এজাহারে উল্লেখিত আসামিদের প্রত্যেককেই ই-অরেঞ্জের মালিক বলে দাবি করা হয়েছে। মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধি ৪২০ ও ৪০৬ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
৪০৬ ধারায় ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অপরাধে সর্বোচ্চ ৩ বছর জেল, অর্থ জরিমানা ও উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আর প্রতারণার ৪২০ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের কারাদণ্ড।

মুনিয়ার মৃত্যু: পুলিশ রিপোর্টের বিরুদ্ধে বাদির নারাজি ও অন্য সংস্থা দিয়ে তদন্তের আবেদন, আদেশ বুধবার

0

কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পুলিশ দাখিল করেছে, তাতে অনাস্থা (নারাজি) জানিয়েছেন মুনিয়ার বোন, মামলার বাদী নুসরাত জাহান তানিয়া।
মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালতে এই নারাজি আবেদন দাখিল করে অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে মামলাটি তদন্তের আবেদন করেছেন তিনি।
নথি পর্যালোচনা শেষে বিচারক বিষয়টি বুধবার আদেশের জন্য রেখেছেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, “তদন্তে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। বিভিন্ন অডিও ভিডিও সারাদেশে ভাইরাল হয়েছে। তদন্তে মুনিয়ার পরিবার ন্যায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই অন্য কোনো তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে পুনরায় তদন্ত না করা হলে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ন্যায় থেকে বঞ্চিত হবে।”
আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৯ জুলাই আদালতে ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ দাখিল করেন।

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় ‘প্ররোচনার’ অভিযোগ এনেছে মুনিয়ার পরিবার।
বাদীর অন্যতম আইনজীবী ব্যরিস্টার এম সরোয়ার হোসেন জানান, গত ২৯ জুলাই মামলার ধার্য তারিখেই মামলার বাদী নারাজি আবেদন জমা দিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু লকডাউনে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তা জমা নেওয়া হয়নি।
এরপর ৮ অগাস্ট আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদন এখনই গ্রহণ না করে নারাজি আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন তানিয়ার আইনজীবীরা। তা মঞ্জুর করে আদালত সেদিন চূড়ান্ত প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য ১৭ অগাস্ট দিন ধার্য করেন।
গত ১৯ এপ্রিল রাতে ঢাকার গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ২১ বছর বয়সী মোশারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সেই রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন ওই তরুণীর বোন নুসরাত জাহান তানিয়া।
সেখানে বলা হয়, ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে সায়েম সোবহান আনভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন মুনিয়ার সঙ্গে। ওই বাসায় তার যাতায়াত ছিল। কিন্তু বিয়ে না করে তিনি উল্টো ‘হুমকি’ দিয়েছিলেন মুনিয়াকে।

অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কখনো কথা বলেননি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি। এপ্রিলের শেষ দিকে তার আগাম জামিনের জন্য হাই কোর্টে একটি আবেদন করা হলেও মহামারীর মধ্যে লকডাউনে সে আবেদনের শুনানি তখন আর হয়নি।
পুলিশের প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তির কারণ ব্যাখ্যা করে বাদীর আইনজীবী বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের শুধুমাত্র ৯(১) ধারার ধর্ষণ নয়, ধর্ষণের ফলে উদ্ভূত বিষয় ৯(২) ধারায় সঙ্গে আসবে। আসবে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারাও। ধর্ষণজনিত কারণে আত্মহত্যা এখানে আসে।”
মুনিয়া ঢাকার মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার মনোহরপুরে; পরিবার সেখানেই থাকেন। মৃত্যুর মাস দুয়েক আগে এক লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন তিনি।
মুনিয়ার মৃতদেহ উদ্ধারের পর সেখান থেকে তার মোবাইলসহ বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধার করে পুলিশ, যার মধ্যে ছয়টি ডায়েরি ছিল। সিসিটিভির ভিডিও পরীক্ষা করে মুনিয়ার ফ্ল্যাটে আনভীরের যাতায়াতের ‘প্রমাণ পাওয়ার’ কথাও সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল।
আইনজীবী সরোয়ার হোসেন বলেন, তদন্ত কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে তার বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেনি। অটোপসি রিপোর্ট দেখেননি অথবা গুরুত্ব দেননি। তদন্তে কী পাওয়া গেল তা নিয়ে বাদীর সঙ্গে আলাপ আলোচনাও করেননি।বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা এখনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত – আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ইতিহাস ভুলে গেলে বাঙালি জাতি আবারও পথভ্রষ্ট হবে। তিনি বলেন, যারা এদিন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিসমাপ্তি ঘটানোর চেষ্টা করেছিলেন, তারা এখনও সেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তারা আজও এই হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস বিকৃত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। এবার কিন্তু শত্রুদের আর জায়গা করে দেওয়া যাবে না।
মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল শোকসভায় সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, যে মহান ব্যক্তিটি পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর নির্যাতন, শোষণ ও বঞ্চনা থেকে আমাদের মুক্তি অর্জনের জন্য প্রায় ১৪ বছর জেল খেটেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তাঁকে হত্যা করে বাঙালি জাতি যে কলঙ্ক লেপন করেছে তা কোন ভাবেই মুছে ফেলা যাবে না। বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য, বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আজীবন চেষ্টা করে গেছেন। আমাদের সকলের দায়িত্ব হবে বঙ্গবন্ধুর এ স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করা, তাঁর আদর্শ লালন করা।
দুঃখের সঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ হয়েছে, আইনের শাসন ধুলিস্যাৎ হয়েছে, ২১ বছর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার কোন এফআইআর হয়নি। ১৯৯৬ সালে উক্ত অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। অথচ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাত জন বিচারক আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল শুনতে বিব্রত বোধ করেছেন। এগুলো ইতিহাসের সত্য কথা, ভুলে গেলে চলবে না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সামনের দিকে চলতে হবে।
শোকসভায় অংশ নেওয়া আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, তবেই বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীব হবেন। জাতির পিতা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, আমরা কতটুকু তা করতে পেরেছি তা অনুধাবন করতে হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন ফরহাদ, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহীদুল আলম ঝিনুক, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা বঙ্গবন্ধুর জীবন আলেখ্য নিয়ে আলোচনা করেন।
শোকসভায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ও আইন মন্ত্রণালয়ের উভয় বিভাগের কর্মকর্তাগণসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ অংশ নেন।
আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বেগম মুজিব, শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

জাতির পিতা হত্যার ষড়যন্ত্রকারী ও ক্ষেত্র প্রস্তুতকারীদের বিচারের সম্মুখীন করা হবে, অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

0

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতির পিতা হত্যার ষড়যন্ত্রকারী এবং ক্ষেত্র প্রস্তুতকারী উভয়কেই বিচারের সম্মুখীন করার সংকল্প ব্যক্ত করে বলেছেন, এই দেশের দুঃখী জনগণের মুখে হাসি ফোটানোই হবে এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত প্রতিশোধ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দুঃখী নিরন্ন জনগণের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা এবং উন্নত জীবনের ব্যবস্থা করা যেটা জাতির পিতার আজীবন লালিত স্বপ্ন, সেই ব্যবস্থা যখন করতে পারবো সেদিনই আমি মনেকরি এই হত্যার প্রকৃত প্রতিশোধ নিতে পারবো।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই হত্যাকান্ডের বিচার করাটা জরুরী ছিল সেটা করেছি এবং কারা জড়িত ছিল একদিন সেটাও বের হবে। সেদিনও খুব বেশি দেরী নয়। এই হত্যাকান্ড যারা ঘটিয়েছে এবং যারা পাশে ছিল ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে, সবাই কিন্তু সমানভাবে দোষী।
প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সোমবার বিকেলে জাতির পিতার ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী এবং ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভেনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা তখনকার পত্র-পত্রিকাগুলো পড়লেই অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে। একটা বিধ্বস্ত দেশ গড়তে যেখানে বছরের পর বছর লেগে যায় সেখানে একটি বছরও সময় দেয়া হলো না, সাথে সাথে সমালোচনা শুরু হলো। ধৈর্য্য না ধরে নানা সমালোচনা, নানা কথা লেখা হলো। কারা এগুলো লিখেছিল, কাদের খুশী করতে এবং এই হত্যাকান্ডের জন্য গ্রাউন্ড প্রিপেয়ার কারা করছিল? আত্মস্বীকৃত খুনী ফারুক-রশিদের বিবিসিতে প্রদত্ত ইন্টারভিউ এর উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই হত্যাকান্ড যারা ঘটিয়েছে এবং যারা পাশে ছিল ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে সবাই কিন্তু সমানভাবে দোষী।
শেখ হাসিনা বলেন, একটা জিনিস চিন্তা করেন ’৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা দেশে ফেরেন এবং সেই ’৭২ সাল থেকেই এদেশে ষড়যন্ত্র শুরু। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিভক্তি হলো, জাসদ সৃষ্টি হলো, পাকিস্তানী হানাদারবাহিনীর দোসর যারা এদেশে থেকে গিয়েছিল সব আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টির সঙ্গে মিশে গেল।
তিনি বলেন, এই হত্যাকান্ডের বিচার করাটা জরুরী ছিল সেটা করেছি এবং কারা জড়িত ছিল একদিন সেটাও বের হবে। সেদিনও খুব বেশি দেরী নয়। তবে, আমার একটাই লক্ষ্য ছিল আমি সবসময় বলেছি বাংলাদেশের দুঃখী নিরন্ন জনগণের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা এবং উন্নত জীবনের ব্যবস্থা, যেটা জাতির পিতার আজীবন লালিত স্বপ্ন। সেই ব্যবস্থা যখন করতে পারবো সেদিনই আমি মনেকরি এই হত্যার প্রকৃত প্রতিশোধ নিতে পারবো।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় প্রারম্ভিক বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ’৭৫ এর ১৫ আগষ্টে শহিদ জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং তাঁদের পরিবারের শাহাদতবরণকারি সদস্যদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, জাতির পিতা রক্ত দিয়ে গেছেন এদেশের মানুষের জন্য,রক্ত দিয়ে গেছেন আমার মা, আমার ভাইয়েরা। আমিও সেই রক্ত দিতেই বাংলাদেশে পা রেখেছি।
তিনি বলেন, মৃত্যুকে সামনা সামনি দেখেছি। কিন্তু কোনদিন আমি ভীত হইনি,আমি ভীত হবো না। কারণ আমি প্রস্তুত। আমি তো জানি যেকোন মুহুর্তে আমাকে চলে যেতে হবে। যেটুকু সময় আছে দেশের জন্য কতটুক করতে পারি। তিনি বলেন, কাজেই আমিও জানি। আমার জীবনের কোন মায়া নেই, আমার কোন কিছু চাওয়ার নেই। আমার একটাই চাওয়া যেই আদর্শ নিয়ে আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছেন তার সেই আদর্শ বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দেব। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,আজকে ১৫ই অগাষ্টের এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে যে ওই রক্ত কখনো বৃথা যায়নি, বৃথা যাবে না, বৃথা যেতে আমরা দেব না। এদেশের দুখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে আমার বাবা, মা,ভাইয়ের আত্মা যেন শান্তি পায়। সেটাই আমি চাই। দেশবাসীর দোয়া চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে। এখন বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে। তবে, করোনা মোকাবেলায় তিনি সকলকে সাবধান করে পুণরায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় খুনীদের বিচারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এখনও যারা পলাতক তারমধ্যে পাকিস্তানী পাসপোর্টধারী ডালিম পাকিস্তানেই আছে, মাঝে মাঝে কেনিয়া বা অন্যান্য দেশেও যায়, রশিদ পাকিস্তান এবং লিবিয়া এই দুই জায়গায় থাকে। রাশেদ এবং নূর চৌধুরী আমেরিকা ও কানাডায় আছে। মোসলেহ উদ্দিনের খোঁজ মাঝে মাঝে পাওয়া যায়, মাঝে মাঝে পাওয়া যায়না।
তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পাকিস্তান সরকারকে বহুবার বলা হলেও তারা এটা স্বীকার করেনা। এমনকি অপরাধীদের ফিরিয়েও দেয়না। এমনই একটা অবস্থার মধ্যে বিষয়টা রয়েছে।
নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে ডিপোর্ট (দেশে ফেরত) করার কথা উঠলেও সেটা না হওয়ায় সে সময়রকার কানাডার বাংলাদেশি হাইকমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী এবং বলেন, সে খন্দকার মোশতাকের দ্বিতীয় স্ত্রী’র আগের পক্ষের ছেলে। তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যে দায়িত্বটা পালন করার ছিল সেটা কিন্তু সে পালন করে নাই। কাজেই সে নূরকে ডিপোর্ট করার কোন ব্যবস্থাই নেয়নি। তবে, সেখানকার প্রবাসী বাঙালি এবং আমরা মামলা করে তারপরেও চেষ্টা চালাচ্ছি তাকে ফিরিয়ে আনার।
বঙ্গবন্ধুকে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েই এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ’৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে একরকম জোর করেই দেশে ফিরে আসলেও অনেক সমস্যা ও বাধা তাঁকে মোকাবেলা করতে হয়েছে। তারপরেও জাতির পিতার এনে দেয়া স্বাধীনতার সুফল বাংলার মানুষের প্রত্যেক ঘরে পৌঁছে দেয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়েই তিনি সকল বাধা অতিক্রমে কাজ করে যাচ্ছেন। এ সময় দলের নেতা-কর্মী সহ সকলের সহযোগিতা প্রাপ্তির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ এমনও আছেন যারা তাৎক্ষণিক কিছু প্রাপ্তির আশায় অস্থির থাকেন, তারা দলের দু:সময় দেখলেই ঘাবড়ে যান, ভয় পেয়ে যান। আর এটা তাদের মধ্যে আসে যাদের অর্থের লোলুপতা থাকে। তিনি বলেন, যারা রাজনীতি করে ব্যাপক ধনসম্পদ গড়ে তুলে অর্থের লোলুপতা নিয়ে বাঁচে তারা প্রয়োজনের সময় দাঁড়াতে পারেনা। আত্মসমর্পন করে। আর যাঁরা এর উর্ধ্বে উঠতে পারে তাঁরা যেকোন বাধা আসুক তা অতিক্রম করতে পারে এই কারণে কেননা সততাই শক্তি। আর এই সততা দিয়েই এগিয়ে যাওয়া যায় এবং সেটাই বড় সম্পদ।
বিত্ত-বৈভব এবং সামরিক শক্তি অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের কোন কাজে আসেনা উল্লেখ করে তিনি সারাবিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টিকারি করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গ টেনে উন্নত দেশগুলোর পরিস্থিতির দিকে এ বিষয়ে লক্ষ্য করে দেখার আহবান জানান।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, আজকের শোক দিবসে আমি এইটুকুই বলবো আপনাদের সকলের সহযোগিতায় জাতির পিতা হত্যাকান্ডের বিচার আমরা করতে পেরেছি। অর্থনৈতিক ভাবে অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ ধরে আমরা চলেছি। বাসস।

স্বল্প সময়ে মানুষ ন্যায়বিচার পেলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে: প্রধান বিচারপতি

0

দেশের মানুষ স্বল্প সময়ে ন্যায়বিচার পেলে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। বলেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন । তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুযায়ী আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে ও আগামীতেও করে যাবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রোববার সুপ্রিম কোর্ট আয়োজিত ভার্চুয়াল শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। শোকসভায় প্রধান বিচারপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। এজন্য তাঁর জীবনের অনেকটা সময় কারাগারে কেটেছে। আদর্শ ও মূল্যবোধ থেকে তিনি এক পা পিছু হটেননি। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে সুসংহত করতে বঙ্গবন্ধু জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম করেছেন। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তিনি আমাদের একটি সংবিধান উপহার দিয়েছেন। বাঙালির স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ যাই বলা হোক না কেন—এসব শব্দের অপর নাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের সঞ্চালনায় এ শোকসভা শেষে জাতির জনক ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান। সভায় আপিল বিভাগের চারজন বিচারপতি ও হাইকোর্ট বিভাগের ২২ জন বিচারপতি বক্তব্য দেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রোববার সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন বিষয়ক সুপ্রিম কোর্ট জাজেস কমিটি। এদিন সকাল সোয়া আটটায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় জাজেস কমিটির সদস্য আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম.ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম, বিচারপতি জে বি এম হাসান, বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ভোর পৌনে ছয়টায় রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে, প্রেসিডেন্ট গানি পালিয়েছেন

0

দুই দশক পর ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার দুয়ারে পৌঁছে যাওয়া তালেবান বাহিনী বলেছে, কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদও এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।
প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি রোববার তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নিয়ে তাজিকিস্তানের উদ্দেশ্যে কাবুল ত্যাগ করার পর তালেবানের দুই কর্মকর্তার বরাতে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্স লিখেছে, তালেবানের ওই দাবির সত্যতা তারা যাচাই করতে পারেনি। আফগানিস্তানের কোনো সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গেও তারা এ বিষয়ে কথা বলতে পারেনি।
বিবিসি লিখেছে, তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের দর কষাকষিতে উপস্থিত দুই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন বিলাল সারওয়ারি নামের স্থানীয় একজন সাংবাদিক।
তারা বিলালকে বলেছেন, দুই পক্ষের সমঝোতায় এটা ঠিক হয়েছিল যে প্রেসিডেন্ট প্রসাদেই ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা হবে এবং প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি নিজে সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
কিন্তু জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের নিয়ে তিনি কাবুল ত্যাগ করার পর প্রেসিডেন্ট প্রসাদের কর্মীদের সবাইকে সরে যেতে বলা হয়। কর্মীরা তখন প্রাসাদ খালি করে চলে যায়।
এদিকে কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোলাগুলির খবর জানিয়ে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে কাবুলের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। ওই বিমানবন্দরেই এখন দূতাবাসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
দূতাবাসের বার্তায় মার্কিন নাগরিকদের সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে, কারণ কাবুলের পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসি লিখেছে, বিমানবন্দরের টারমাকে লোকজনকে দৌড়াতে দেখা গেছে। ফ্লাইট পরিচালনা এবং ইমিগ্রেশন ডেস্কের কাজের জন্য খুব কম কর্মীই এখন বিমানবন্দরে আছেন।
নেটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টোলটেনবার্গ এক টুইটে বলেছেন, জোটভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। কূটনীতিক ও দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শেষ করার জন্য বিমানবন্দর চালু রাখার কাজে তারা সহায়তা দিচ্ছে।
কাবুলে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ডেভিড মার্তিনোন তার ‘গ্রিন জোন’ ত্যাগ করার ভিডিও শেয়ার করেছেন টুইটারে। আফগানিস্তানের বিভিন্ন সরকারি ভবন এবং বিদেশি দূতাবাসগুলো ওই গ্রিন জোনের ভেতরেই অবস্থিত।
বিবিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রস ইউলসনও দূতাবাস ত্যাগ করে বিমানবন্দরে অবস্থান নিয়েছেন। গ্রিন জোনে মার্কিন দূতাবাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাও নামিয়ে ফেলা হয়েছে।
কাবুলে ইউনিসেফের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, এখন পর্যন্ত তাদের কর্মীদের প্রতি ‘ভদ্র আচরণই’ করছে তালেবান যোদ্ধারা। তারা চায় জাতিসংঘ আফগানিস্তানে থাকুক এবং তাদের কাজ চালিয়ে যাক।
আফগানিস্তানের নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় ইউনিসেফের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে মুখপাত্র স্যাম মোর্ট বলেছেন, তারা শিগগিরিই আবার কাজ শুরু করার আশায় আছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত এপ্রিলে ঘোষণা দেন, দুই দশকের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে তার দেশের সেনাবাহিনী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান ছেড়ে যাবে। এরপর মে মাসে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে তালেবান।
অত্যন্ত দ্রুত গতিতে দেশটির অধিকাংশ প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নিয়ে রোববার কাবুলে প্রবেশ করে তালেবান যোদ্ধারা। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস খালি করে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়।
বিভিন্ন প্রাদেশিক রাজধানীর পতনের পর যারা আশ্রয়ের আশায় কাবুলে এসেছিলেন, তারা সেখান থেকেও পালাতে শুরু করেন। কিন্তু পাকিস্তান সীমান্ত বন্ধ করে রাখায় বহু মানুষ ভিড় করেন কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
তালেবান যোদ্ধারা কাবুলের সব প্রবেশ পথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আফগান সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি শুরু করে। আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল সাত্তার মিরজাকওয়াল সে সময় বলেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ‘শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের’ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারা।
তালেবানের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী আশরাফ গানি পদত্যাগ করে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলেও খবর দেয় আফগানিস্তানের টোলো নিউজ।
কিন্তু পরে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানির দেশত্যাগের খবর এলে তালেবান কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন কোনো সরকার আফগানিস্তানে হবে না। তালেবান সরাসরি দেশের ক্ষমতা বুঝে নেবে।
তালেবানের সঙ্গে সরকারের শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতার জন্য যে ‘হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনসিলেশন’ গঠন করা হয়েছিল, তার চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আশরাফ গানি এখন ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট’, যিনি দেশকে ‘এ অবস্থায় রেখে’ পালিয়ে গেছেন।
“এখন আল্লাহর কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। পুরো জাতিই তার বিচার করবে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

পরীমনি ইস্যুতে কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে সিটি ব্যাংকের মামলা

0

চিত্রনায়িকা পরীমনি ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত মামলার পথেই হাটলো সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সিটি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ভাষায় ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে সিটি ব্যাংক।
রাজধানীর গুলশান থানায় শনিবার রাতে মামলাটি করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্ত শুরু করেছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
মামলার বাদী সিটি ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট (হেড অব কোর্ট) গাজী এম শওকত হাসান। মামলা নম্বর ১২ তারিখ ১৪-৮-২০২১।
মামলার এজাহারে বলা হয়, পরীমনি ইস্যুতে সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের চরিত্র হনন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক, ইউটিউব, ওয়েবসাইট) মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এতে ব্যাংক, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্য কর্মকর্তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
অভিযোগ, পরস্পর যোগসাজশে অজ্ঞাতনামা আসামিরা সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়াই বানোয়াট তথ্য ব্যবহার করে ফেসবুক, ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য ওয়েবসাইটে মিথ্যা এবং মানহানিকর তথ্য প্রচার করছে।
সিটি ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সমাজের চোখে হেয়প্রতিপন্ন করাসহ ব্যাংক থেকে অসাধু উপায়ে অর্থ আদায়ের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে মিথ্যা, মানহানিকর তথ্য দিয়ে ভিডিও তৈরি করে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জড়িয়ে প্রচার করা কয়েকটি ভিডিওর লিংকও যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
পরীমনি ইস্যুতে সিটি ব্যাংককে জড়িয়ে কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে চাঁদাবাজির আশঙ্কায় গত ১১ আগস্ট একই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
যেসব গণমাধ্যমে ব্যাংকটিকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে ওইদিন জানিয়েছিলেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর আরেফিন।
সিটি ব্যাংকের করা মামলায় ১৫ পৃষ্ঠার সংযুক্তি দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ১২টি লিংক উল্লেখ করা হয়েছে এজহারে। সেগুলো হলো-
১. ফেসবুক পেজ: ভাইরাল প্রতিদিন (facebook.com/bdviralpratidin) পোস্ট। জানা গেল পরীর ৩ কোটি টাকার গাড়ির উপহারদাতার নাম সিটি ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসরুর আরেফিন (facebook.com/104460278012031/posts/355369012921155)
(facebook.com/bdviralpratidin/videos/3544963729613950)
২. ফেসবুক পেজ: Nayeem Korea (facebook.com/NayeemElli/)
পোস্ট: পরীমনির দামি গাড়িদাতার পরিচয় (facebook.com/NayeemElli/videos/1618784535135680)
৩. ফেসবুক পেজ: Md Elias Hossain ইলিয়াস হোসাইন (facebook.com/jounalisteliashossain/)
পোস্ট: ব্যাংকের এমডি ও পরীর নষ্টামি ফাঁস। সেই গাড়ি গিফটদাতা কে এই আরেফিন। পরীমনি।
(facebook.com/jounalisteliashossain/videos/824712884853804)
৪. ফেসবুক পেজ: CarHubBD (facebook.com/mycarhub) পোস্ট City bank এর কার্ড দিয়েই কেনা যাবে মাসেরাতি!
(facebook.com/2451522388207639/posts/5174655199227664)
৫. ইউটিউব চ্যানেল Khobor BD (youtube.com/channel/UCma6twZQc20VuhWrde3nJzw)
পোস্ট: পরীমনির ৩ কোটি টাকার গাড়ি উপহারদাতার নাম সিটি ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসরুর KhoborBD (youtube.com/watch?v=Ie684GG-JTM)
৬. ইউটিউব চ্যানেল MTIS BD VOICE
(youtube.com/channel/UCfFkzrmK4_61N62 HjSnntw)
পোস্ট: পরীমনির নষ্টামি ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে। কে এই লোক। Poriz (youtube.com/watch?v=zLs-pue8ts)
৭. ইউটিউব চ্যানেল: TALK WITH SHAWON (youtube.com/channel/UCBRgWUEXQXoPeb_vHmISa8Q)
পোস্ট: পরীমনিকে গাড়ি উপহার দেয়া কে এই মাসরুর আরেফিন? Who is Mashrur Arefin Pori Moni Update News (youtube.com/watch?v=2qjpa-zGcw8)
৮. ইউটিউব চ্যানেল: STAR NEWS BANGLA (youtube.com/channel/UCbnmjRkVy0zrE7fpR9Gvmww)
পোস্ট: ৩ কোটি টাকার গাড়ির উপহারদাতার নাম সিটি ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসরুর আরেফিন (youtube.com/watch?v-tTX3b0tM15k)
৯. ইউটিউব চ্যানেল: London Bangla-লন্ডনবাংলা (youtube.com/channel/UCgSFvxyxhHA806lhAGcjzuQ)
পোস্ট: পরীমনিকে তিন কোটি টাকার গাড়ি কিনে দেয়া কে এই মাসরুর আরেফিন। (youtube.com/watch?v-5DzobsXddz8)
১০. ইউটিউব চ্যানেল: AROUND NEWS24 (youtube.com/channel/UCxEqNxVngVtlo4 Mqva X2Q)
পোস্ট: পরীমনিকে গাড়ি উপহার দেয়া কে এই মাসরুর আরেফিন? Who is Mashrur Arefin/Pori Moni Maserati levanta Car (youtube.com/watch?v-MnzplqS9Mpo)
১১. ইউটিউব চ্যানেল Probashi360 (youtube.com/channel/UCOoos37kBL5_00B0k52yBQ)
পোস্ট: পরীমনিকে গাড়ি উপহার দেয়া কে এই মাসরুর আরেফিন youtube.com/watch?v=ykQR-Fn pXE)
১২. ইউটিউব চ্যানেল: Monira Sultana Popy youtube.com/user/Sultanapopy).
পোস্ট: সিটি ব্যাংকের এমডি লম্পট, চরিত্রহীন মাদক সেবন করে-জোর করে মেয়েদের রেপ করে। (youtube.com/watch?v=i4n0r]JojNg&feature=share)

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে কমিশন হবে, জানালেন আইনমন্ত্রী

0

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে যে কমিশন গঠন করা হবে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।তিনি জানান, দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে এই কমিশন গঠন করা হবে। কমিশনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কুশীলব ও নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা হবে। জিয়াউর রহমানসহ সকলের পরিচয়, তাদের ন্যাক্কারজনক কাজ সাক্ষ্যপ্রমাণসহ জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হবে।
রোববার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে ‘বঙ্গবন্ধু গ্যালারি’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ইনডেমনিটি নামক কালো আইন দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনা এই কালো আইন বাতিলের মাধ্যমে তাঁর পিতা-মাতাসহ আপনজনদের হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনি বিদেশে পালিয়ে আছে। তাদের ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করার সবরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, পলাতক পাঁচ খুনির ফাঁসির রায় কার্যকর না করা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের জনগণ ক্ষ্যান্ত হবে না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন নিরহংকার, সাদামাটা মানুষ। তিনি অনেক বড় মাপের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ জীবনযাপন করতেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মতো আমাদেরকে চলতে হবে। তাঁর আদর্শ ধারণ করতে হবে।ব্যক্তি শেখ মুজিব কি জিনিস ছিলেন সেটাও ধারণ করতে হবে। অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শদীদুল আলম ঝিনুক, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম-সচিব বিকাশ কুমার সাহা, সলিসিটর রুনা নাহিদসহ নিবন্ধন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতাদানের আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক নিবন্ধন অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপন করেন।

বিনম্র শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত

0

বিনম্র শ্রদ্ধায় শোক ও ভালোবাসায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে রোববার পালিত হয়েছে স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করে থাকে এ দিনটি। তবে এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হয়।
শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের মাঝে জোরালো দাবী ছিল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রকারী ও কুশীলবদের ধরে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য গণতদন্ত কমিশন গঠন করার।

দেশজুড়ে নানা কর্মসূচিতে ছিল শোকের আবহ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার ছিল মানুষের কণ্ঠে। বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রেতাত্মা এবং স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার শপথ উচ্চারণ করা হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।
পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত তাঁর প্রতিকৃতিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক থেকে বনানী কবরস্থানে যান। সেখানে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ত্যাগ করার পরপরই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলের সিনিয়র নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন ও এডভোকেট আফজাল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসীম কুমার উকিল, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বডুয়া প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতী লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মোহাম্মদ নাসিম ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ বেতার, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, শেখ রাসেল শিশু সংসদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বিভিন্ন দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সর্বস্তরের হাজারো মানুষ।
এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এদিকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতার ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সামরিক সচিব এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
রাজধানী ছাড়াও সারাদেশে এবং দেশের বাইরে বাংলাদেশের কুটনৈতিক মিশনগুলো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শোক দিবস পালন করে।
শোক দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার, বঙ্গবন্ধুর সমাধী ও প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মিলাদ মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
ভোরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দলের ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিট কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।
সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ১৫ আগস্ট নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় প্রেসক্লাব, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুস্থ ও গরীব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর থানা ও ওয়ার্ড ইউনিটগুলো।
এদিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।
এছাড়াও আওয়ামী যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করে। বাসস।

জাতীয় শোক দিবস আজ

0

আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিবসটি পালন করবে। তবে, এবারও বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা , বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।
পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

দেশে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে ও জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে এ মাসের প্রথম দিন থেকেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করছে।
স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন। টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়াও, দিবসটি উপলক্ষে দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকী বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থা জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।
মূলত, ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকেই বাংলাদেশে এক বিপরীত ধারার যাত্রা শুরু করে। বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক শাসনের অনাচারি ইতিহাস রচিত হতে থাকে ।
সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানীর নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যে কোন জঘন্য কাজ করতে পারে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।
দ্য টাইমস অব লন্ডন এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সব সময় স্মরণ করা হবে। কারণ, তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই। একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকান্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’
শেখ মুজিবের সুচিন্তা থেকে আজকের বাঙালিরও শেখার আছে উল্লেখ করে ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন সম্প্রতি বলেছেন, তাঁকে ‘বাংলাদেশের জনক’ বা বঙ্গবন্ধু বলাটা নিতান্তই কম বলা। তিনি এর চেয়ে বড় কোনও অভিধা এবং নাম কিনতে চাননি। মানুষ তাঁকে অন্তর থেকে ভালবাসতেন।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোস্তাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনীদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ একুশ বছর পর ক্ষমতায় আসলে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামী বরখাস্ত লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেফতার করা হয়।
একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারি (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন।

১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনীদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশীট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামীর উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়।
১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রের নানা বাধার কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে, ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ বিভক্ত রায় প্রদান করে। বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামীর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। কিন্তু অপর বিচারক এ বি এম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার কাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ ছয় বছর পর আওয়ামীলীগ আবার ক্ষমতায় আসলে ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে ৫ আসামীকে নিয়মিত আপিল করার অনুমতিদানের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।
২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর-২৯ দিনের শুনানির পর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় । ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামীর দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামীদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করা হয়। এরপর আমেরিকায় পলাতক মহিউদ্দিনকে দেশে এনে ফাঁসী কার্যকর করা হয়। আর
গতবছরের (২০২০) ১২ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর আরো একজন খুনি আবদুল মাজেদকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে বাকি খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।