ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ১০:০৬ 

Home Blog Page 84

বিএমডিসি’র নিবন্ধনভুক্ত ডিগ্রিধারী ছাড়া কেউ ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না: হাইকোর্ট

0

বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধনভুক্ত মেডিকেল বা ডেন্টাল ইন্সটিটিউট থেকে এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ তাদের নামের পূর্বে ডাক্তার (Dr.) পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না।
এ সংক্রান্ত এক রিট পিটিশনে কতিপয় পরামর্শ প্রদান পূর্বক ইতোপূর্বে জারি করা রুল খারিজ করে দেন আদালত। ন্যাশনাল মেডিক্যাল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও অন্যান্যের আনা রিট পিটিশন নং- ৫৩৫/২০১৯ এর ওপর বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ শনিবার ৭১ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করেছেন। এই রায়ে বলা হয়, বিকল্প ধারার কিংবা প্রচলিত চিকিৎসক হওয়ার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় আইনী কাঠামো প্রস্তুত করে দেয়া সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
রায়ে বলা হয়, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড কর্তৃক ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জারীকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন শাখায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগনকে তাদের নামের পূর্বে পদবী হিসেবে ডাক্তার ব্যবহারের অনুমতি প্রদান বেআইনি।
রায়ে বলা হয়েছে, ‘দুঃখজনকভাবে এটি লক্ষ্যণীয় যে, এখানে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ২৯ ধারা অনুযায়ী বিএমডিসি (BMDC) এর নিবন্ধনভুক্ত মেডিকেল বা ডেন্টাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ তাদের নামের পূর্বে ডাক্তার (Dr.) পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না। সেখানে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বিগত ২০১৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তারিখের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে Alternative Medical Care শীর্ষক অপারেশনাল প্লানের বিভিন্ন পদে কর্মরত হোমিওপ্যাথি, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব নামের পূর্বে ডাক্তার (ডাঃ) পদবি সংযোজনের অনুমতি প্রদান করেছে, যা এক কথায় আইনের কর্তৃত্ব ব্যতিত তথা বেআইনি।
এ ছাড়াও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড কর্তৃক ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জারীকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন শাখায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগনকে তাদের নামের পূর্বে পদবী হিসেবে ডাক্তার (Dr.) ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করাও বেআইনি।
রায়ে আরো বলা হয়, বিকল্পধারার চিকিৎসা পদ্ধতির পেশাধারীরা নামের পূর্বে ১. ইন্ট্রিগ্রেটেড ফিজিশিয়ান (Integrated Physician), ২. কমপ্লিমেন্টারি ফিজিশিয়ান (Complementary Physician) ৩. ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিন প্র্যাকটিশনার (Integrated Medicine Practitioner) এবং ৪. কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন প্র্যাকটিশনার (Complementary Medicine Practitioner) পদবী ব্যবহার করতে পারেন। পাশের দেশ ভারতেও বিকল্প ধারার চিকিৎসকরা (Dr.) লিখতে পারে না বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
রায়ে বলা হয়, বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি পাঁচ হাজার বছরের প্রাচীন। পাঁচ হাজার বছর ধরে সমগ্র পৃথিবীতে চলে আসা প্রাচীন বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির যথাযথ এবং সঠিক ভাবে পঠন এবং প্রশিক্ষণ জনমানুষের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন করবে। রায়ে বলা হয়, ‘প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি তথা পশ্চিমা চিকিৎসা পদ্ধতি আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়া শুরু হয় আজ থেকে মাত্র ১৬২ বছর আগে। পৃথিবীর প্রথম প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির আইনটির নাম ‘The Medical Act, 1858’ যা ইংল্যান্ডের সংসদ পাস করেছিল। অর্থাৎ ১৮৫৮ সালের পূর্বে চিকিৎসা ব্যবস্থা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল না। অপরদিকে পাঁচ হাজার বৎসর পূর্ব হতে মানুষ বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করে আসছে।’
রায়ে বলা হয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হয়েছে। অর্থাৎ চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার। প্রত্যেক নাগরিক তার বিবেকের মাধ্যমে এবং চিন্তার মাধ্যমে কোন পদ্ধতির চিকিৎসা তথা প্রচলিত/পশ্চিমা/অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণ করবেন নাকি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করবেন এটি সম্পূর্ণ তার মৌলিক অধিকার।
অপরদিকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪০ অনুযায়ী আইনের দ্বারা অরোপিত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো পেশা (Profession) গ্রহণের অধিকার তার মৌলিক অধিকার। একজন নাগরিক প্রচলিত চিকিৎসক হবেন না বিকল্প ধারার চিকিৎসক হবেন এটি তার মৌলিক অধিকার।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ মোতাবেক চিকিৎসা পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে আদালত চার দফা পরামর্শ প্রদান করেন। এতে বলা হয়-১) ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে ‘কাজাখাস্তান ঘোষণা’ থেকে ‘আলমাআটা ঘোষণা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সার্বিক পরিকল্পনা, নীতিমালা এবং প্রয়োজনীয় আইন দ্রুত প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে পরামর্শ প্রদান করা হয়।
২) সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় তথা প্রচলিত এবং বিকল্প ধারার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ‘রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা সেবা’ নীতিমালা অনুসরণের পরামর্শ প্রদান করা হয়।
৩) প্রয়োজনে বিকল্প ধারার চিকিৎসা পদ্ধতির পৃথক মন্ত্রণালয় তথা ‘মিনিস্ট্রি অব আয়ুশ গভর্নম্যান্ট অব ইন্ডিয়া’ এর আদলে বাংলাদেশের একটি পৃথক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করার পরামর্শ দেয়া হয়।
৪) বিকল্প ধারার চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কিত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সেবার মান নির্ধারণ ও উন্নয়ন এবং বিকল্প ধারার চিকিৎসা শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তৎপ্রদত্ত ডিগ্রিসমূহকে স্বীকৃতি প্রদান করার পদ্ধতি নির্ধারণ করার পরামর্শ প্রদান করা হয়।
রায়ে বিকল্প ধারার চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ রায় ও আদেশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়। বাসস।

তালেবানে যোগ দিতে কিছু লোক আফগানিস্তান চলে গেছে, ডিএমপি কমিশনারের তথ্য: উদ্বিগ্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা

0

তালেবানের সাথে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে কিছু মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাবার পর সেখানে ধরা পড়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। আফগানিস্তানে তালেবানের সাথে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে কিছু ব্যক্তি সে দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে এই ধারণার কথা জানান।
শনিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি জানান, সাইবার ওয়ার্ল্ড ডিএমপিসহ সরকারের সব গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে তৎপর।
এদিকে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে তালেবান যেরকম দ্রুত গতিতে একের পর এক জায়গা দখল করে নিচ্ছে, তার আঁচ কিছুটা হলেও পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে।
ঢাকার পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে এ বিষয়টি নিয়ে কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যায়।
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, তালেবানের হাতে রাজধানী কাবুলের পতন এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার ।
আফগানিস্তানের উগ্রপন্থীদের সাথে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর যোগাযোগ অনেক পুরনো বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেন, “আফগানিস্তানে যুদ্ধে যাবার জন্য একটি আহবান জানানো হয়েছে তালেবানদের পক্ষ থেকে। এবং বাংলাদেশ থেকে কিছু মানুষ অলরেডি তালেবানদের সাথে যুদ্ধে যোগদান করার জন্য হিজরত করেছে। কিছু মানুষ আমরা ধারণা করছি যে ইন্ডিয়ায় ধরা পরেছে। আর কিছু পায়ে হেঁটে বিভিন্নভাবে আফগানিস্তানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।”
আফগানিস্তানে যাবার পথে কোন বাংলাদেশি ভারতে ধরা পড়েছে কিনা – সেটি ভারতের দিক থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উগ্রপন্থীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এমন গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, আফগানিস্তানের পট-পরিবর্তন বাংলাদেশকে প্রাভাবিত করবেই – তাতে কোন সন্দেহ নেই

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের চেয়ারপার্সন মেজর জেনারেল (অব.) মুনিরুজ্জামান ব্যাখ্যা বলেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হবার কারণ আছে।
“বাংলাদেশে ১৯৯০’র দশকের শুরুর দিকে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়, সে লগ্ন থেকে আফগান জিহাদের সাথে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সরাসরি একটি যোগসূত্র আমরা দেখতে পেয়েছি।”
১৯৯০’র দশকে আফগানিস্তানে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাংলাদেশ থেকে অনেকে আফগানিস্তান গিয়েছিল।
“যারা তখন আফগানিস্তানে গিয়েছিল, তারা সেখান থেকে ফিরে এসে বাংলাদেশে সন্ত্রাসের গোড়াপত্তন করে,” বলেন জেনারেল মুনিরুজ্জামান।
আফগানিস্তান এই অঞ্চলের দেশ হলেও বাংলাদেশের সাথে তাদের কোন সীমান্ত নেই। বাংলাদেশ থেকে কেউ অবৈধ পথে আফগানিস্তানে যেতে চাইলে তাকে ভারত ও পাকিস্তান পাড়ি দিতে হবে।

গত ১২ বছর যাবত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ে যে জোরালো সহযোগিতা আছে – তাতে করে বাংলাদেশের সীমান্ত পেরিয়ে ভারত হয়ে পাকিস্তান পর্যন্ত যাওয়া উগ্রপন্থীদের জন্য কতটা সহজ হবে?
জবাবে মি. মুনিরুজ্জামান বলেন, ” ব্যাপারটা আপাতদৃষ্টিতে কঠিন মনে হলেও যারা এ ধরণের কর্মকাণ্ডের সাথে লিপ্ত – তাদের জন্য এটা বেশ সহজ। সিরিয়াতে যখন আইএস যুদ্ধ করছিল, তখনও বাংলাদেশ থেকে যোদ্ধাদের যাওয়া সম্ভব হয়েছিল। কাজেই বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে যাওয়াটা অপেক্ষাকৃত সহজ।”
পুলিশ বলছে, বাংলাদেশের ভেতরে উগ্রপন্থীদের একটি অংশ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে।
কিন্তু তাদের এরই মধ্যে নানা অভিযানে আটক করা হয়েছে এবং কোন ধরণের হামলার ক্ষমতা তাদের সেই বলে পুলিশ দাবি করছে।

পরীমনির মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে সমাবেশ, মানববন্ধন

0

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী চিত্রনায়িকা পরীমণির মুক্তির দাবিতে ‘জাস্টিস ফর পরীমনি’ ব্যানারে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা অচিরেই পরীমণিকে মুক্তি দেয়া না হলে আরো কঠোর এবং বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন।
শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রবীণ সাংবাদিক ও কলাম লেখক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ সমাবেশের সঙ্গে আন্তরিক সমর্থন জ্ঞাপন করছি। পরীমনিকে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি।
সমাবেশের সমন্বয়ক ও শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক রবিন আহসান বলেন, আমরা শুধু পরীমনির জন্য এখানে দাঁড়াইনি। আমরা দাঁড়িয়েছি সমস্ত নারীদের জন্য। পরীমণির বাসায় শুধুমাত্র ৫ বোতল মদ পাওয়ার ঘটনায় তাকে ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আপনারা আমাদের নারী সমাজকে বলতে চেয়েছেন পরীমণি কতটা খারাপ। তার বিরুদ্ধেতো কেউ মামলা করেনি। তারপরেও তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হলো। কিন্তু আপনারা তার বিচার করছেন। বনানী, গুলশান, উত্তরা সব স্থানে মদের বোতল পাওয়া যায়। কই তাদেরতো কোনো বিচার হয় না। অচিরেই পরীমণিকে মুক্তি দেয়া না হলে আরো বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত পরিচালক রাশিদ পলাশ বলেন, পরীমনি একজন শিল্পী, তাকে নিয়ে এ হেনস্তা মেনে নেয়া যায় না। আমরা বলতে চাই পরীমনি আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হোক।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের কো-ফাউন্ডার মুশফিকা লাইজু, মানবাধিকার কর্মী বেগম জোনাকি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি শরিফুজ্জামান শরিফ, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী শ্বাশতী বিপ্লব, জাসদ-এর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কাজী সালমা সুলতানা, যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খান আসুদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র লীগের সদস্য ও রূপসজ্জাকার হাফিজউদ্দিন মাহবুব, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মঈনউদ্দিন, ছাত্র ইউনিয়নের সহ সভাপতি আণিক রায়।

পরীমনি কেলেঙ্কারী: মাদক মামলায় ব্যবসায়ি নাসির ও অমির বিরুদ্ধে চার্জশিট

0

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং তুহিন সিদ্দিকী অমির বিরুদ্ধে মাদক আইনের মামলায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এই মামলাটি প্রায় দ্রুততার সঙ্গেই তদন্ত শেষে করে ৪২ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
তবে তাদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া তিন নারীকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে চার্জশিটে।
বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মামলাটির চার্জশিট গত ২৭ জুলাই মহানগর হাকিম আদালতের ডেসপ্যাচ শাখায় জমা হয় বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের সংশ্লিষ্ট সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা ফরিদ মিয়া। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
তিনি বলেন, “গত ৮ অগাস্ট মামলাটির ধার্য তারিখ ছিল। কিন্তু সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে নিয়মিত আদালত না থাকায় চার্জশিট আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি।”
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ন কমিশনার হারুণ অর রশিদ জানান “নাসির এবং অমির বিরুদ্ধে মাদকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আমরা বেশকিছুদিন আগে আদালতে চার্জশিট দিয়েছি।”
গুলশান গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান রহমান জানান, নাসির এবং অমির কাছ থেকেই মাদক পাওয়া গেছে। তাই অভিযোগপত্র থেকে তাদের বাদ দেয়ার সুযোগ নেই।
“সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করেছি, (মাদক) রিকভারও করেছি। যেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা করে নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।”
চার্জশিটে তিন নারীকে অন্তর্ভুক্ত না করার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা সেখানে প্রলোভনের কারণে ছিলেন। একটা ঘোরের মধ্যে ওই কাজে তারা তাদের নিয়ে গেছে। কেউ কর্মচারী ছিলেন, কাউকে ভরণপোষণ দিয়ে থাকেন। সে কারণে এগুলো স্বেচ্ছাকৃত না, জবরদস্তিমূলক বিষয়।”
ঢাকার তুরাগ নদীর তীরে অবস্থিত বোট ক্লাবে ধর্ষণ এবং হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে গত জুনে চিত্রনায়িকা পরীমনি অভিযোগ করেন। পরে সাভার থানায় ১৫ জুন এই ঘটনায় একটি মামলা হয়।
এই মামলার সূত্রে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ উত্তরার একটি বাসা থেকে নাসির, অমি এবং তিন নারীকে গ্রেপ্তার করে।
সে সময় ওই বাসা থেকে মদ ও ইয়াবা উদ্ধারের কথাও জানানো হয়।
পরে বিমানবন্দর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের এসআই মানিক কুমার শিকদার। এই মামলায় নাসির ও অমিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
পরীমনির করা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলায়ও নাসিরের সঙ্গে আসামি অমি।
এই দুই মামলাতেই জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (বিনোদন ও সংস্কৃতি) নাসির উদ্দিন।
তবে মানবপাচার ও পাসপোর্ট আইনের মামলায় জামিন না হওয়ায় অমি এখনও কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী এএইচ ইমরুল কাওছার।
পরীমনির দায়ের করা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলার তদন্ত এখনও চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার।

স্বর্ণবার ডাকাতি: গোয়েন্দা পুলিশের ৫ কর্মকর্তা ফের রিমান্ডে

0

ফেনীতে ২০টি স্বর্ণবার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে আবার তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে আদালত।
শনিবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুরের পর আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিনালী জানান।
তিনি জানান, তিন দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার দুপুর মামলার পাঁচ আসামি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোতোহের হোসেন, উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান, উপ-পরিদর্শক নুরুল হক, সহকারী উপ-পরিদর্শক অভিজিৎ বড়ুয়া এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক মাসুদ রানাকে আদালতে আনা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনির হোসেন প্রত্যেক আসামির জন্য ৭ দিন করে ফের রিমান্ড আবেদন করে।
শনিবার দুপুরে ফেনী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন জানান, মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে মামলাটি পিবিআই বা সিআইডিতে স্থানান্তরের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “তদন্তের প্রয়োজনে মামলার বাদীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বাদী কোথা থেকে স্বর্ণের বারগুলো সংগ্রহ করেছে, কবে করেছে, কীভাবে করেছে, কার কাছে বারগুলো বিক্রি করতে যাচ্ছিল, কেন ডিবি পুলিশ স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বারগুলো লুট করেছে, এ বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন।”
পুলিশ নতুন কিছু তথ্য পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সে-ই তথ্যগুলোও যাচাই-বাছাই করছে।”
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাশ গত ৮ অগাস্ট চট্টগ্রাম থেকে ২০টি স্বর্ণের বার নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। পথে ফেনীর ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে তার গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির সময় আসামি পুলিশ সদস্যরা স্বর্ণবারগুলো ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় গত ১০ অগাস্ট চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাশ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় ২০টি স্বর্ণের বার ডাকাতির মামলা করেন। ওই দিন রাতেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন ডিবির অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে জেলা পুলিশ।
পরে পুলিশ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের বাসা থেকে ১৫টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। ‘বাকি পাঁচটি স্বর্ণবার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে’। বিডি নিউজ।

দেশে বিদেশে ১৮ দিন নারী ইন্সপেক্টরকে ধর্ষণ করেছেন এসপি মোক্তার হোসেন, আদালতের নির্দেশে মামলা নিলো থানা

0

বিয়ের আশ্বাস দিয়ে, ছল-চাতুরির আশ্রয় নিয়ে নিজের সহকর্মী ইন্সেপেক্টর পদমর্যাদার নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেন পুলিশ সুপার (এসপি) মোক্তার হোসেন। জাতিসংঘ মিশনে গিয়ে তিনি এই নারী সহকর্মীর সহায়তা চাওয়ার নামে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তাকে ফাঁদে ফেলে দেশে ও বিদেশে অন্তত ১৮দিন ধর্ষণ করেন। প্রতিবার ধর্ষণের আগে এসপি মোক্তার বিয়ের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এক পর্যায়ে তিনি বিয়ে না করে এই নারী সহকর্মীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে এই নারী ইন্সপেক্টর মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন। আদালতে দাখিল করা জবানবন্দিতে এসব উল্লেখ করেছেন এই নারী ইন্সপেক্টর।
আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাতেই এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করেছে ডিএমপির উত্তরা পূর্ব থানা। থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আলমগীর গাজী জানান, আদালতের নির্দেশের ডকেট হাতে পেয়ে সেটির এফআইআর গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। যথাযথ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গত বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের আদালতে মামলা করেন ওই নারী ইন্সপেক্টর। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আবেদনটি উত্তরা পূর্ব থানাকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে পিবিআইতে কর্মরত পুলিশ সুপার (এসপি) মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ মিশনে গিয়ে তারই সহকর্মী নারী ইন্সপেক্টরকে ধর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়ে উর্ধতন একজন কর্মকর্তার হাতে অধস্তন নারী কর্মকর্তার ওপরে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তী এবং নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে আদালতে দাখিল করা আবেদনে ধর্ষণের শিকার নারী পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে তাকে ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮ দিন ধর্ষণ করেছেন এসপি মোক্তার।
আদালতের দাখিল করা আবেদনে ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা এসপি’ মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উল্লেখ করেন সেগুলো হলো:
দারফুর ক্যাম্পে:
ওই নারী ইন্সপেক্টরের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দায়িত্বরত অবস্থায় সুদানের দারফুর ক্যাম্পে ভিন্ন তারিখে ৩ দিন ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী- সুদানের নর্থ দারফুরে এসসিসি-৫, সুপার ক্যাম্পে তার বাসায় ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর আনুমানিক দুপুর ৩ টায় এবং এর দুই দিনের মাথায় ২২ ডিসেম্বর দুপুর ১ টায় তাকে ধর্ষণের ঘটনা। এর কিছুদিন পর ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি মৌখিকভাবে বিয়ে করে পরবর্তীতে নিকাহ রেজিস্ট্রি করার প্রলোভন দিয়ে আবারও ধর্ষণ করা হয়।
সুদানের খার্তুম হোটেলে:
অভিযোগ অনুযায়ী- সুদানের খার্তুম হোটেলে টানা ৫ দিন তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন- ২০২০ সালের ২৬ থেকে ৩০ জুন টানা ৫ দিন সুদানের খার্তুম হোটেল শামলোতে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
উত্তরার হোটেল ডি মেরিডিয়ানে:
নারী কর্মকর্তার অভিযোগ অনুযায়ী- উত্তরার হোটেল ডি মেরিডিয়ানে বিভিন্ন তারিখে ৫ দিন ধর্ষণের শিকার হন তিনি। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন-
২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১১ টা থেকে পরদিন ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫ টা পর্যন্ত হোটেল ডি মেরিডিয়ান লিমিটেডের ২০৬ নম্বর কক্ষে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ওই বছরেরই ১০ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত একই হোটেলের ৩০৬ নং কক্ষে আবারও ধর্ষণের শিকার হন।
মিরপুরের গ্র্যান্ড প্রিন্স হোটেলে:
অভিযোগ অনুযায়ী মিরপুরের গ্র্যান্ড প্রিন্স হোটেলে নিয়েও তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর মিরপুর-১ এর গ্র্যান্ড প্রিন্স হোটেল লিমিটেডের ৭০৫ নম্বর কক্ষে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
শান্তিনগরের হোটেল হোয়াইট হাউজে:
রাজধানীর শান্তিনগরের হোটেল হোয়াইট হাউজেও ওই নারী কর্মকর্তাকে টানা ৪ দিন ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী- ২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শান্তিনগরের হোটেল হোয়াইট হাউজের ২০৯ নম্বর কক্ষে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
কাবিনের দাবিতে গেলে মধুমতি অফিসার্স কোয়ার্টার্সে হুমকি:
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ এপ্রিল আসামীর বাসা এইচ-০৯, রাজারবাগ মধুমতি অফিসার্স কোয়ার্টার্সে বাদিনীকে হুমকি-ধমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
আদালতে দাখিল করা ওই নারী কর্মকর্তার বিস্তারিত অভিযোগে বলা হয়-
আসামী মোক্তার হোসেন বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ সুপার জাতিসংঘের শান্তিমিশনে বাংলাদেশ পুলিশের কন্টিনজেন্ট এর কমান্ডার হিসাবে ২০১৯ সালের মে মাসে সুদানে নিযুক্ত হন। বাদিনী সুদানে উক্ত মিশনের পূর্ববর্তী সদস্য হিসাবে কর্মরত থাকা মিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় আসামী বিভিন্ন অজুহাতে বাদিনীর সহযোগিতা নেয়ার নাম করে যোগাযোগ করতেন।
বাদিনী সরল বিশ্বাসে নিজের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সার্বিক দাপ্তরিক সহযোগিতা প্রদান করতেন। আসামী বাদিনীকে তার জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে বললে বাদিনী লজিস্টিক অফিসার হিসেবে আসামীকে একটি বাসার ব্যবস্থা করে দেন।
খাবার খাওয়ার সুযোগ:
একপর্যায়ে আসামী নিজে রান্না করে খেতে পারেন না, তার খাওয়া-দাওয়ার খুবই কষ্ট হয় এবং রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলেন এমন কথা বাদিনীকে জানিয়ে বাদিনীর সাথেই খাবার খাওয়ার সুযোগ দিতে অনুরোধ করেন। বিদেশের মাটিতে নিজের দেশের একজন মানুষ এবং নিজের একজন বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে আসামীকে নিজ বাসাতেই খাওয়াতে রাজি হন বাদিনী।
এভাবেই আসামী নিয়মিত বাদিনীর বাসায় খাওয়া দাওয়া করতেন। এভাবে কিছুদিন যেতে না যেতেই আসামী বাদিনীকে বিভিন্ন ব্যক্তিগত তার নিজ স্ত্রীর সাথে পারিবারিক কলহের বিষয়ে প্রয়োজনাতিরিক্ত কথোপকথন করতে উদ্যত হন। বাদিনী আসামীকে বারবার বুঝাইতে চাইতেন যে- বাদিনী আসামীর কাছ থেকে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা আশা করেন না। এবং বাদিনী আসামীকে বিভিন্ন ইংগিতে এটিও বুঝাতে চান যে- বাদিনীর স্বামী আসামীর বাদিনীর বাসায় আসা-যাওয়া, খাওয়া ও অপ্রয়োজনীয় কথা পছন্দ করেন না। তবুও আসামী বাদিনীর সাথে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা চালাতে থাকতেন।
সেদিন ক্যাম্পে যা ঘটেছিলো:
এক পর্যায়ে ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে মধ্যাহ্নভোজ সেরে আসামী বাদিনীর বাসা হতে বেরিয়ে গেলে বাদিনী বিশ্রাম নিতে থাকেন। এর ১ ঘণ্টা পর আসামী বাদিনীর দরজা নক করিলে ঘুমের ঘোরে বাদিনী দরজা খুললে আসামী বাদিনীর বাসায় প্রবেশ করে সোফায় বসে বাদিনীকে বাদিনীর ব্যবহৃত গাড়ির চাবিটি দিতে বলেন।
ওই সময়ে বাদিনী ইউনিফরমের প্যান্টের পকেট থেকে চাবি বের করতে গেলে আসামী বাদিনীকে পেছন দিক দিয়ে জাপটে ধরেন। এই সময় বাদিনী আত্মরক্ষার্থে ঘরময় ছুটে বেড়ানোর এক পর্যায়ে আলমারির চিপায় আশ্রয় নিলে আসামী বাদিনীকে জোর করে টেনেহিচড়ে বের করে এনে আলমারির পার্শ্ববর্তী টেবিলের উপর শোয়াইয়ে বাদিনীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
ক্ষমা চাইতে গিয়ে আবারও ধর্ষণ:
এরপর এই ঘটনা কাউকে না জানাতে বাদিনীকে ভয়ভীতি দেখান ওই এসপি। পরবর্তীতে বাদিনীর সাথে দেখা করে আসামী বাদিনীর কাছে ক্ষমা চাইতে বারবার অনুরোধ জানিয়ে ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর বাদিনীর বাসায় গিয়ে আগের ঘটনার জন্য বাদিনীর কাছে ক্ষমা চান। এবং পরক্ষণেই আসামী আগের মতো আচরণ করে ওইদিনই দুপুর ১ টায় বাদিনীর বাসায় বাদিনীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন। এই ঘটনার পর বাদিনী আসামীকে আর বাদিনীর বাসায় ঢুকতে দিতেন না। কিন্তু আসামী সবসময় বাদিনীর বাসার দরজা উচ্চশব্দে ধাক্কাধাক্কি করতেন এবং টেলিফোন করে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বাদিনীর সাথে দেখা করতে চাইতেন।
দরজা ধাক্কাধাক্কির বিষয়টি টের পেয়েছিলেন অন্যরা:
বাদিনীকে জরুরি কথা বলার নাম করে ফোনে জোর করে বাদিনীর বাসায় আসামী প্রবেশ করতে চাইলে বাদিনী আসামীকে বাদিনীর বাসায় প্রবেশ করতে দিতে চাইতেন না। বাদিনী আসামীকে বারবার বলেন “…আপনি আমার দরজা ধাক্কাচ্ছেন কেন? আমি আপনাকে আমার বাসায় ঢুকতে দিব না। আপনি আমার বাসায় ঢুকে আমাকে জোর করে ধর্ষণ করেছেন।. .আমি আপনাকে নিষেধ করার পরও আপনি আমার বাসায় জোর করে ঢুকতে চাচ্ছেন কেন? দয়া করে আপনি চলে যান।” ওই সময়ে দরজা ধাক্কাধাক্কির কারণ জানতে পাশের অন্যান্য বসবাসকারীরা বাদিনীকে জিজ্ঞাসা করতে বাদিনী মানসম্মানের ভয়ে কাউকে কিছুই জানাতে পারেননি।
ডিপার্টমেন্টাল হয়রানীর ভয়ভীতি:
আসামী বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে, বাদিনীকে অসহায় ও ভীতসন্ত্রস্ত করে এবং ডিপার্টমেন্টাল হয়রানীর ভয়ভীতি দেখিয়ে বাদিনীর বাসায় প্রবেশ করে বাদিনীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন। এবং ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি আসামী বাদিনীকে ফুসলিয়ে, ভুল বুঝিয়ে, প্রতারণা করার উদ্দেশ্য মুখে কালেমা পড়ে বাদিনীকে মৌখিকভাবে বিয়ের প্রতারণা করেন এবং বাদিনীকে আশ্বস্ত করেন- বাংলাদেশে ফিরে এই মৌখিক বিয়েকে রেজিস্ট্রি কাবিন করে গ্রহণ করবেন বলে আবারও বাদিনীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
একসঙ্গে দেশে ফিরে উত্তরার হোটেল ডি মেরিডিয়ানে:
পরবর্তীতে বাদিনীকে সঙ্গে করে ছুটি নিয়ে দেশে এনে ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক রাত ১১ টা থেকে পরদিন ভোর ৫ টা পর্যন্ত উত্তরার হোটেল ডি মেরিডিয়ানের ২০৬ নম্বর কক্ষে বাদিনীকে আসামী বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করেন। এরপর ছুটি শেষে সুদানে গিয়ে ওই বছরেরই ২৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেদেশের খার্তূম হোটেল শামলোতে বাদিনীকে আসামী বিবাহের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করেন।
আবারও ছুটিতে ওই নারী ইন্সপেক্টরকে সঙ্গে করে দেশে ফেরেন এসপি। তিনি আগের মতোই ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরার হোটেল ডি মেরিডিয়ান লিমিটেডের ৩০৬ নম্বর কক্ষে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করেন।
আসামীর দেয়া পূর্ব আশ্বাসের ভিত্তিতে বাদিনী আসামীকে মৌখিক নিকাহ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার জন্য তাগিদ দিলে আসামী বাদিনীর সাথে অশোভন আচরণ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে কৌশলে বাদিনীকে এড়িয়ে যেতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বাদিনী চলতি বছরের ১২ এপ্রিল আসামীর রাজারবাগের মধুমতি এইচ-০৯ বাসায় উপস্থিত হয়। তিনি ওই এসপির দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী বিয়ের কাবিন সম্পন্ন করতে পুনরায় তাগিদ দেন। এক পর্যায়ে আসামী কাবিন সম্পন্ন করতে অস্বীকৃতি জানায়। এবং আসামী, আসামীর স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে বাদিনীকে মারধর করেন এবং আসামী বাদিনীকে বিভিন্ন রকম হুমকি-ধমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমন পরিস্থিতিতে বাদিনী অসহায় হয়ে পড়ে এবং বুঝতে পারে যে- আসামী বাদিনীর সরলতার সুযোগ নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় প্রথমে বাদিনীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে বাদিনীর সাথে প্রতারণা করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাদিনীকে ধর্ষণ করেছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এই বিষয়ে বাদিনী গত ১০ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেয়।

বংশালে ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

0

রাজধানীর বংশাল থানা এলাকা থেকে ১২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ। গ্রেফতারকৃতদের নাম মোঃ আবু হানিফ ও মোছাঃ নাসরিন সুলতানা। এ সময় তাদের হেফাজত হতে ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার ও গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বংশাল থানার ফুলবাড়ীয়া কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারী হাসপাতাল এলাকায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী গাঁজা বিক্রির জন্য মাইক্রোবাসসহ অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশের কোতয়ালী জোনাল টিম। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইক্রোবাস রেখে পালানোর সময় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মাইক্রোবাস তল্লাশী করে ১২০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা শহরে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল।

আফগানিস্তানে ফিরছে তালিবানি নিষ্ঠুর শাসন : মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ, গান বাজনা নিষিদ্ধ, চালু হচ্ছে শরিয়া আইন

0

সেই নৃশংস শাসনের পথেই ফিরে আসছে তালেবানরা। আফগানিস্তানের একের পর এক জায়গা তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রেখে যাচ্ছে নৃশংসতার চিহ্ন। নির্বিচারে হত্যা, মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করা, নারীদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ,গানবাজনা নিষিদ্ধ করে শরিয়ত আইন চালু করছে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে বেশ কিছু এলাকা ঘুরে এসে সেখানকার সর্বশেষ অবস্থা এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন বিবিসির সাংবাদিক সেকান্দার কেরমানি।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহার দখলের দাবি করেছে তালেবান, যা তাদের জন্য একটি বড় ধরণের বিজয় হতে পারে।

শহরটি এক সময় তালেবানের শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে এটি কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার দেশটির কয়েকটি শহরের নাটকীয় পতন ঘটেছে যদিও তালেবান এখনো বিজয় ঘোষণা করেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে তারা আফগানিস্তানের মার্কিন দূতাবাস থেকে আটকেপড়া কর্মীদের উদ্ধারে তিন হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে।
বিশেষ বিমানে করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীকে নিয়ে আসতে কাবুল বিমানবন্দরে যাবে তারা।
অন্যদিকে ব্রিটিশ নাগরিকদের আফগানিস্তান ছাড়তে সহায়তা করতে অন্তত ছয়শ সৈন্য পাঠানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

বিবিসির সাংবাদিক সেকেন্দার কেরমানি লিখেছেন,সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে একের পর এক প্রাদেশিক রাজধানী দখল করে তালেবান যোদ্ধারা এগিয়ে চলেছে কাবুলের দিকে, দুই দশক পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা ফিরে পাওয়াই তাদের লক্ষ্য।
ইতোমধ্যে দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা তালেবান নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র দেড়শ কিলোমিটার দূরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর গজনিও তারা দখল করে নিয়েছে বৃহস্পতিবার।
দুই দশকের রক্তাক্ত যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র যখন চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে তাদের সর্বশেষ সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই তালেবানের এই অগ্রযাত্রা।

যুদ্ধের মধ্যে কয়েক লাখ মানুষ ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। কয়েকশ মানুষ নিহত কিংবা আহত হয়েছে গত কয়েক সপ্তাহে।
যে পথ ধরে বিজয়ী বেশে তালেবানরা অগ্রসর হচ্ছে, সেই পথেই ফিরে আসছে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তালেবান শাসনামলের আতঙ্ক জাগানো স্মৃতি, তখনকার মতই বেশ কিছু নিষ্ঠুর নিয়ম তারা এরই মধ্যে ফিরিয়ে এনেছে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পাওয়া এলাকগুলোতে।
তার সঙ্গে যখন তালেবান যোদ্ধাদের দেখা হয়, তারা সে সময় আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় শহর মাজার-ই-শরিফ থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থান করছিল। যুদ্ধে পাওয়া ‘গনিমতের মাল’ তারা দেখাচ্ছিল, যার মধ্যে একটি হামভি, দুটি পিকআপ ভ
ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হওয়া একদল যোদ্ধার মাঝে পাথরের মত কঠিন চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবেক মাদ্রাসা ছাত্র আইনুদ্দিন। তিনি এখন একজন তালেবান কমান্ডার।
বিবিসির প্রতিবেদক আইনুদ্দিনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, যে সাধারণ মানুষের জন্য তারা লড়াই করছেন বলে দাবি করেন, তাদের দুর্ভোগে ফেলে এই সহিংসতাকে তিনি কীভাবে যৌক্তিক মনে করেন।
ঠাণ্ডা স্বরে আইনুদ্দিন তাকে বলেন, “লড়াই চলছে, তাই মানুষ মারা যাচ্ছে।” তারা ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করছেন, যাতে বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি না হয়।
কিন্তু তালেবানরাই যে এ যুদ্ধের সূচনা করেছে, সে কথা তুলতেই আইনুদ্দিনের জবাব- “না, আমাদের নিজেদের একটা সরকার ছিল, যাকে উৎখাত করা হয়েছে। তারাই (আমেরিকানরা) এই যুদ্ধ শুরু করেছে।”
আইনুদ্দিনসহ বাকি তালেবানরা মনে করেন, পরিস্থিত এখন তাদের অনুকূলে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে তাদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়েছিল। এখন আবারও তারা আধিপত্য ফিরে পাচ্ছেন।
কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘পুতুল’ সরকার ক্ষমতায় আছে মন্তব্য করে আইনুদ্দিন বলেন, “তারা পশ্চিমা সংস্কৃতি ছাড়ছে না … তাই তাদেরকে হত্যা করতে হবে।”
বিবিসির সাংবাদিক সেকান্দার কেরমানি লিখেছেন, “আমাদের কথোপকথন শেষ হওয়ামাত্র হেলিকপ্টারের শব্দ শোনা গেল। হামভি নিয়ে তালেবান যোদ্ধারা মুহূর্তে উধাও হয়ে গেল। এ ঘটনা মনে করিয়ে দিলে আফগান বিমান বাহিনী এখনও তালেবানদের জন্য বড় বাধা, আর এ যুদ্ধ শিগগির শেষ হওয়ার নয়।”
কিছুদিন আগে প্রাচীন বাল্খ নগরীতে ঘুরে আসার কথাও লিখেছেন বিবিসির প্রতিবেদক। ধারণা করা হয়, ওই শহরেই জন্মেছিলেন ইসলামের খ্যাতনামা মরমী কবি জালাউদ্দিন রুমি।
সেকান্দার কেরমানি যখন বাল্খে গিয়েছিলেন, তখনও ওই এলাকা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে চারপাশের গ্রামগুলো তালেবান যেদ্ধারা দখল করে নিয়েছিল।
এখন প্রায় ২০০ জেলা শহর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চারপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সংহত করছে তালেবান। বাল্খও এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।
তালেবান বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সেকান্দার কেরমানিকে বলেছেন, তারা যে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, তার বেশি কিছু কারণ আছে। একটি হল, ঐতিহাসিকভাবেই ওই এলাকায় তালেবানবিরোধী মনোভাব প্রবল। আবার ওই এলাকর জাতিগত বৈচিত্র্যও একটি কারণ।
তালেবানের মূল নেতৃত্বে থাকা পশতুরা সংখ্যায় বেশি হলেও তারা এখন আফগানিস্তানের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। সে কারণেই উত্তরাঞ্চল বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাল্খ এর স্থানীয় তালেবান নেতা হাজি হেকমতের অতিথি হয়েছিলেন বিবিসি প্রতিবেদক। তিনি তার প্রতিবেদনে লিখেছেন, যুদ্ধের মধ্যেও মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রাকে ‘স্বাভাবিক’ দেখাতে হাজি হেকমত ছিলেন উদগ্রীব।
বাল্খের বাজারে নারী এবং পুরুষ উভয়েরই ভিড় দেখেছেন বিবিসির সাংবাদিক। রাস্তায় মেয়েদের স্কুলে যেতেও দেখেছেন। কিন্তু অন্যান্য এলাকায় তালেবান কমান্ডাররা নারীদের চলাফেরায় কড়াকড়ি আরোপ করছেন বলেও তিনি খবর পেয়েছেন। কোথাও কোথাও মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করারও খবর এসেছে।
ওই এলাকায় যে নারীদের সেকান্দার কেরমানি দেখেছেন, তাদের সবাই পুরো দেহ ঢাকা বোরখা পরা ছিলেন, তাদের মুখ আর চুলও ছিল ঢাকা।
হাজি হেকমত তাকে বলার চেষ্টা করেছেন তালেবান কাউকে বোরখা পরতে বাধ্য করছে না, শুধু এই ‘নসিহত’ করছে যে নারীদের এরকম পোশাকেই বাইরে আসা উচিত।
তবে সেকান্দার কেরমানি শুনেছেন, শহরের ট্যাক্সি চালকদের এই হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, পুরোপুরি বোরখা না পরা থাকলে কোনো নারীকে যেন তারা গাড়িতে না তোলে।
বিবিসির সাংবাদিক যেদিন বাল্খ শহর ত্যাগ করেন, তার পরদিনই তিনি খবর পান, বোরখা না পরায় সেখানে এক তরুণীকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হেকমত তার কাছে দাবি করেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তালেবানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সেকান্দার কেরমানি তার প্রতিবেদনে লিখেছেন, বাজারে অনেকেই তালেবানের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা বলেছেন। তালেবান আসায় নাকি তাদের ‘নিরাপত্তা জোরদার’ হয়েছে।
“কিন্তু আমি যেখানেই গেছি, যার সঙ্গে কথা বলেছি, তালেবান যোদ্ধারা সব সময় আমার সঙ্গে ছিল। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা সত্যিকারে তালেবানের বিষয়ে কী ভাবছে, সেটা বোঝার উপায় আমার ছিল না।”
নীল টালির ওপর কারুকাজ করা মাজার-ই-শরিফ মসজিদের আশেপাশে গত সপ্তাহেও আফগান নারী আর পুরুষদের অনেক বেশি সামাজিক এবং স্বাভাবিক ভঙ্গিতে চলাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল।
এই নগরী এখনও আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিবিসি প্রতিবেদক যাদের সঙ্গেই কথা বলেছেন তাদের প্রত্যেকেই তালেবানের পুনরুত্থান নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা বেড়ে উঠেছে তুলনামূলক একটি ‘স্বাধীন’ পরিবেশে।
কিন্তু বাল্খ জেলায় রকারি বিভিন্ন স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের ‘সরকার ব্যবস্থা’ গড়ে তুলছে তালেবান। ইতোমধ্যে শহরের সব সরকারি ভবনের দখল নিয়েছে তারা। এর মধ্যে পরিত্যক্ত একটি পুলিশ ভবনও রয়েছে।
ওই ভবনটি স্থানীয় পুলিশ প্রধানের সদর দপ্তর ছিল, ওই এলাকার দখল নিতে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে ভবনটির একটি অংশ ধ্বংস করেছে তালেবানরা।

বিবিসি প্রতিবেদক লিখেছেন, ওই অভিযানের বিষয়ে তিনি যখন কথা বলতে গেলেন, হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল তালেবান ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর আব্দুল্লহ মনজুরের মুখ। তার সহযোগীদেরও মুখেও ছিল হাসি।
আফগানিস্তানের বেশিরভাগ এলাকায় এসব যুদ্ধের পেছনে আদর্শিক কারণ যতটা রয়েছে, ঠিক ততটাই রয়েছে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ।
তালেবানরা এসব এলাকার দখল নিলেও বেশ কিছু বিষয় বদলায়নি। সেখানে কমলা রঙের পোশাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আগের মতই কাজে যেতে দেখা গেছে। নিয়ম করে অফিস করছেন কিছু সরকারি আমলাও।
এরা সবাই নতুন তালেবান মেয়রের তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন। তার কার্যালয়ে বড় একটি কাঠের টেবিলের কোনায় বসানো পতাকার মধ্যে লেখা রয়েছে ‘ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তান’।
বাল্খের বর্তমান মেয়র একসময় তালেবান বাহিনীকে গোলাবারুদ সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন, এখন তিনি ‘কর’ আদায়ের দায়িত্বে। বিবিসির প্রতিবেদককে তিনি গর্বের সঙ্গে বলেছেন, ব্যবসায়ীদের ওপর তারা আফগান সরকারের চেয়ে কম কর ধার্য করছেন।
বিবিসি প্রতিবেদক লিখেছেন, অনেক জায়গাতেই এখন তালেবানদের কট্টর ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো আরও বেশি প্রকট। স্থানীয় রেডিও স্টেশনে এক সময় ইসলামী সংগীতের পাশাপাশি বিভিন্ন জনপ্রিয় গানও বাজানো হতে। এখন সেখানে কেবল ধর্মীয় বয়ান শোনা যায়।
হাজী হেকমত তাকে বলেছেন, গান ‘অশ্লীলতা’ উসকে দেয়, তাই প্রকাশ্যে গান বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ চাইলে তো শুনতেই পারেন।
বিবিসির প্রতিবেদক অবশ্য স্থানীয়দের কাছে শুনেছেন, এক লোক বাজারে গান শোনায় তালেবান যোদ্ধারা তাকে আটক করে। তারপর শাস্তি হিসেবে তাকে তপ্ত রোদের মধ্যে খালি পায়ে হাঁটতে বাধ্য করা হয়, যতক্ষণ না তিনি চেতনা হারাচ্ছেন।
হাজী হেকমত দাবি করেছেন, তেমন কিছু বাস্তবে ‘ঘটেনি’। রেডিও স্টেশন থেকে বের হওয়ার পর দাড়ি ছাড়া কিছু তরুণকে দেখিয়ে শুকনো হেসে তিনি সেকান্দার কেরমানিকে বলেছেন, “দেখুন! আমরা কাউকে জবরদস্তি করছি না।”
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এটা স্পষ্ট যে তালেবান বিশ্বের কাছে নিজেদের নমনীয় একটি ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চেয়েছে। কিন্তু আফগানিস্তানের অন্যান্য স্থান থেকে যেসব খবর আসছে, তাতে তাদের কঠোর ভূমিকার কথাই শোনা যাচ্ছে। অবশ্য সেটা স্থানীয় কমান্ডারদের আচরণগত পার্থক্যের কারণেও হতে পারে।
তালেবানের দখল চলে যাওয়া কিছু এলাকা থেকে প্রতিশোধমূলক এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর আসার পর পশ্চিমা দেশগুলো হুঁশিয়ার করে বলেছে, জোর করে দখলের চেষ্টা করলে আফগানিস্তানকে একঘরে করা হবে।
আগের তালেবান শাসনামলে ‘শরিয়া আইনে’ শাস্তির নামে নিষ্ঠুরতার বহু ঘটনা দেখা গেছে। এ বাহিনীর নতুন অগ্রযাত্রা শুরুর পর গত মাসে দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশে তালেবান যোদ্ধারা শিশু অপহরণের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝোলায়। বলা হয়, অপহরণের দায়ে তারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
বিবিসি প্রতিবেদক বাল্খ অঞ্চল পরিদর্শনের সময় একটি আদালতের কার্যক্রমও দেখতে যান। যেখানে সব মামলাই ছিল জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে।
অনেকেই যখন তালেবানের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আতঙ্কিত, এমনও অনেকে আছেন, যারা আফগান সরকারের দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবস্থার চেয়ে তালেবানি বিচারে দ্রত সমাধান পাওয়াকেই শ্রেয় বলে মনে করছেন।
একটি মামলার বাদী তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিবিসিকে বলেছেন, “আমাকে এ পর্যন্ত অনেক ঘুষ দিতে হয়েছে।”
তালেবান বিচারক হাজী বদরউদ্দিন বলেছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত চার মাসে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেননি। আর গুরুতর মামলার ক্ষেত্রে তাদের ব্যবস্থায় আপিল আদালতও রয়েছে।
তবে কঠোর সাজার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে এই বিচারক বলেন, “আমাদের শরিয়া আইনে এটা স্পষ্ট, অবিবাহিত কেউ যদি যৌনকর্মে লিপ্ত হয়, সে নারী হোক বা পুরুষ, জনসম্মুখে ১০০ দোররাই তার শাস্তি।
“কিন্তু বিবাহিত কেউ যদি ব্যাভিচার করে, তাহলে সে যেই হোক না কেন, পাথর ছুড়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে হবে… আর চুরির ক্ষেত্রে, যদি প্রমাণ হয়, তার হাত কেটে ফেলতে হবে।”

এমন শাস্তি যে আধুনিক সভ্য সমাজের সঙ্গে যায় না, সেই সমালোচনার জবাবে হাজী বদরউদ্দিন বলেন, “কারও সন্তানকে অপহরণ করা হল, এটা কি ভালো? নাকি একজনের হাত কেটে দিয়ে সমাজে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ভালো?”
তালেবান বাহিনী দ্রুত বিভিন্ন এলাকার দখল নিলেও আফগান সরকার এখনও বড় নগরীগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। সামনের মাসগুলোতে আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
বিবিসি প্রতিবেদক হাজী হেকমতকে প্রশ্ন করেছিলেন, তালেবান বাহিনী যে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে জিতবে, সে বিষয়ে তিনি কতটা নিশ্চিত।
জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, যদি শান্তি আলোচনা সফল না হয় তবে আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা জয়ী হব।”
সেই শান্তি আলোচনা এখন কার্যত থমকে আছে। তালেবান বাহিনীর তরফ থেকে বার বার একটি ‘ইসলামি সরকার’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হচ্ছে, প্রতিপক্ষের কাছে যা আত্মসমর্পণেরই নামান্তর।
তালেবান কমান্ডার হেকমত বলেন, “আমরা দুই বিদেশি শক্তিকে পরাজিত করেছি। এখন সামনে ভেতরের শত্রু।”

রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার ষড়যন্ত্র বিশ্বব্যাংকের, ধানাইপানাই না করতে বলেছে সংসদীয় কমিটি

0

রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা দেশে অন্তর্ভুক্ত করাসহ বিশ্বব্যাংকের সংস্কার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবনাকে ‘রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়ার অভিপ্রায়’ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত এক সভায় কমিটি বলেছে, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য বাড়ি তৈরি বা শিক্ষার সুযোগের নামে বিশ্বব্যাংক যেন ধানাইপানাই না করতে পারে।’

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা কমিটিকে বলেছি যে বিশ্বব্যাংক এ ধরনের ধানাইপানাই করে রোহিঙ্গাদের স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করতে চায়। রোহিঙ্গাদের সেটেলমেন্টের জন্য এই সব প্রস্তাবনা মানা যাবে না। আমরা স্পষ্টতই এর বিরোধিতা করেছি।’
‘আমরা খুব কঠোরভাবে বলেছি, বিশ্বব্যাংকের ঘাপলার চক্করে যেন আমরা না পড়ি,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছি আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হবে, আমরা তাদের সাময়িক জায়গা দিয়েছি। আপনারা তাদের মিয়ানমারে ফেরতের যাবতীয় ব্যবস্থা করুন। আমাদের এখানে থাকার জন্য তাদেরকে ভবন তৈরি করে দেবেন। তাদের চাকরির সুযোগ করে দেবেন। জমি কেনার সুযোগ দেবেন এসব ধানাইপানাই নয়।’
তিনি জানান, সংসদীয় কমিটির অবস্থান হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে কোন ধরনের আলোচনায় মন্ত্রণালয় যেন বলে যে ‘তারা শরণার্থী নয় বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী।’
‘কাজেই আলোচনার প্রথম এজেন্ডা হবে তাদের কীভাবে ফেরত পাঠানো যাবে,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী কমিটিকে জানিয়েছেন আমাদের এখানে ৯-১০ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে তিনশ জনেরও কম আছে যারা গ্রাজুয়েট। তাদের তো সেই দেশেই পড়াশোনা করার অধিকার নেই। বিশ্বব্যাংক চাইলে মিয়ানমারকে টাকা দিক সে দেশে রোহিঙ্গাদের পড়াতে।’
বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা ভাসানচর পরিদর্শনে গিয়ে খুশি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশ এ রকম করার কথা বলেছে। কিন্তু, আমরা সেটা কেন করবো। এখানকার জায়গা সংকটের কারণেই আমরা ভাসানচরে তাদের নিচ্ছি। তাছাড়া এটা আমাদের বনের জমি। তাদের কারণে আমাদের বন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা দেশে অন্তর্ভুক্ত করাসহ একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাবসহ ‘রিফিউজি পলিসি রিফর্ম ফ্রেমওয়ার্ক’ নামে ১৬টি দেশের শরণার্থী ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক।
ফ্রেমওয়ার্কের বিষয়ে মতামত চেয়ে জুনের ৩০ তারিখ বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে সেটি অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়।
পরে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানান, সরকার ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখান করেছে। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, কাজ, চলাফেরা, জমি কেনা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে সম্পৃক্ত হওয়াসহ সব ধরনের আইনি অধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জীবনমান সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত:
এদিকে, রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়ন এদেশে তাদের স্থায়ী বসবাসে উৎসাহিত করবে বলে বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়-রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ক্যাম্পগুলোকে জীবনমান ও সুযোগ-সুবিধাসমূহ বৃদ্ধি, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নানাবিধ বহুবার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে বেশি তৎপর হয়ে উঠছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ধরণের কর্মকাণ্ড বিশেষ করে ক্যাম্পের জীবনমানের ক্রমাগত উন্নয়ন বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বসবাসে উৎসাহিত করতে পারে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে বলে জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাবাসনের স্বার্থে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জীবনমান ও সুযোগ-সুবিধাসমূহ যৌক্তিক ও সীমিত পর্যায়ে রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব করা হলে প্রধানমন্ত্রী তার অনুমোদন দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, আব্দুল মজিদ খান, হাবিবে মিল্লাত প্রমুখ অংশ নেন। খবরের সূত্র-ডেইলি স্টার,ছবি -বিবিসি বাংলা।

হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন রন হক ও দিপু হক সিকদার

0

এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ও অতিরিক্ত ডিএমডি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদারকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী পুলিশের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলার দায় থেকে দুজনকে অব্যাহতি দেন।
মামলার দায় থেকে দুজনকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে গত ২৬ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রিপন উদ্দিন। যেখানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, কিছু তথ্যগত ভুল বা ভুল বোঝাবুঝির ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করেন বাদী। তাদের (বাদী-বিবাদী) মধ্যে একটি আপসনামা হয়েছে।
এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) দুজনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত বছরের ১৯ মে গুলশান থানায় রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ। মামলার বাদী ছিলেন এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) সিরাজুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঋণের জন্য বন্ধকী সম্পত্তির মূল্য বেশি দেখাতে রাজি না হওয়ায় ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ও অতিরিক্ত এমডি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেন সিকদার গ্রুপের ওই দুই পরিচালক।
বিবরণে উল্লেখ করা হয়, পুরো ঘটনাটি ৫০০ কোটি টাকা ঋণ প্রস্তাব নিয়ে। এই ঋণের বিপরীতে বন্ধকী সম্পত্তি পরিদর্শনের নামে এক্সিম ব্যাংকের ওই দুই কর্মকর্তাকে গুলশানের একটি বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়।
এ সময় জামানত হিসেবে ওই সম্পত্তির বন্ধকী মূল্য কম উল্লেখ করেন ব্যাংকটির এমডি ও অতিরিক্ত এমডি। এরপরই গুলি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদার ব্যাংকটির এমডির কাছে একটি সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেন।