নারী সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ সুপার (এসপি) মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার জন্য ডিএমপির উত্তরা-পূর্ব থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মোক্তার হোসেন বাগেরহাটে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) কর্মরত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭–এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার এ আদেশ দেন। ওই ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আফরোজা আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিপি আফরোজা বলেন, ‘বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার আবেদন করেন পুলিশ ইন্সপেক্টের পদমর্যাদার এই নারী পুলিশ কর্মকর্তা। আদালত বাদীর জবানবন্দি, অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে ওই নারীর অভিযোগে এজাহার হিসেবে নেয়ার জন্য উত্তরা-পূর্ব মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।’
এর আগে নারী পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা নেয়ার আবেদন করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, পুলিশ সুপার মোক্তার হোসেন ২০১৯ সালের মে মাসে সুদানে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের কন্টিনজেন্টের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হন। বাদী আগে থেকেই সেখানে কর্মরত থাকায় মিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় বিভিন্ন অজুহাতে সহযোগিতার নামে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখানে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর দুপুরে আসামি বাদীর বাসায় গিয়ে তার ব্যবহৃত গাড়ির চাবি চান। বাদী চাবি ইউনিফর্মের পকেট থেকে আনতে গেলে আসামি পেছন থেকে তাকে জাপ্টে ধরে ধর্ষণ করেন। এরপর এ ঘটনা কাউকে না জানাতে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি হুমকি-ধামকি দেন। ২২ ডিসেম্বর ক্ষমা চেয়ে আবারও তাকে ধর্ষণ করেন।
২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি মৌখিকভাবে বিয়ে করে বাদীকে আবারও ধর্ষণ করেন। এরপরও আরও কয়েকদফা ধর্ষণ করেন মোক্তার হোসেন। নিকাহ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে বাদীকে গ্রহণ করার তাগিদ দিলে মোক্তার হোসেন তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। বাদীকে এড়িয়ে যেতে থাকেন। এর অবস্থায় গত ২১ এপ্রিল বাদী মোক্তার হোসেনের রাজারবাগ বাসায় গিয়ে আশ্বাস অনুযায়ী বিয়ের কাবিননামা সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। এতে মোক্তার হোসেন অস্বীকৃতি জানান।
মোক্তার হোসেন, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে বাদীকে মারধর করেন এবং হুমকি ধামকি দেন। করোনার কারণে আদালত বন্ধ থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান বাদী। গত ১০ আগস্ট বাদী উত্তরাপূর্ব থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলার করার জন্য বলেন। এজন্য আদালতে এসে মামলা দায়ের করলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন বাদী।
নারী সহকর্মীকে ধর্ষণ, এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার নির্দেশ আদালতের
নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে কমিশন হচ্ছে; জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত,বললেন আইনমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে কমিশন গঠনের কাজ এগুচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে এই কাজ পিছিয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কমিশন গঠন করে কার্যক্রম শুরু হবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, এটা দিনের আলোর মত সত্য যে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তার সাক্ষ্য-প্রমাণ কমিশনের মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে ইনশাল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) গুলশানে নিজ বাস ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, যখন এ মামলার তদন্ত হয় তখন জিয়াউর রহমানকে আসামি করা হয়নি। কারণ তখন তিনি মৃত। মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার সুযোগ আইনে নেই। বাংলাদেশের আইনে মরণোত্তর সাজা দেয়ার কোনো বিধান নেই। আইনের বাইরে গিয়ে শুধু তামাশা করার জন্য একজনকে সাজা দেয়া যায় না। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডে যে জিয়াউর রহমান জড়িত সেটার সাক্ষ্য প্রমাণ, ইনশাআল্লাহ এই কমিশনের (বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের খুঁজতে কমিশন গঠিত হবে) মাধ্যমে জন সম্মুখে প্রকাশ করা হবে। বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনীদের ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করার ব্যাপারে শেখ হাসিনার সরকার বদ্ধ পরিকর বলে জানান আইনমন্ত্রী । তিনি বলেন, শুধু তার সরকার নয় আওয়ামী লীগ যতদিন বাংলাদেশে থাকবে, বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের একজন বেঁচে থাকলেও হত্যাকারীদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করা হবে। খুনিদেরকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এ চলমান প্রক্রিয়ার ব্যাপারে বিশদ কিছু বলতে গেলে এ প্রক্রিয়ার কিছু ব্যাঘাত হবে। তবে এই ব্যাপারে সরকারের কোনো শিথিলতা নেই। খুনিদেরকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা সরকার চালিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও আলাপ আলোচনায় এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন শুধু তারাই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। এর পিছনে একটা ষড়যন্ত্র আছে এবং সেই ষড়যন্ত্রকারী কারা তাদেরকে অন্ততপক্ষে চিহ্নিত করে দেশের মানুষের কাছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা দরকার। মন্ত্রী বলেন, এই ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া কি হবে তা নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে আলাপ আলোচনা করে একটি কমিশন গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে করোনার মহামারী শুরু হয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই কমিশনের রূপরেখা কি হবে, কমিশনের কার্যাবলি কি হবে, কমিশন কাদের দ্বারা গঠিত হবে তা দেশবাসী জানতে পাবেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পলাতক খুনি মুসলেম উদ্দিন ভারতে পলাতক রয়েছে এমন প্রশ্নের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা তা যাচাই বাচাই করে দেখেছি। এখন পর্য ন্ত তার কোন সত্যতা আমরা পাইনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসার পর যে আদলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, আমরা চলমান আইনগুলোতে সেই আদর্শ এবং ভিত্তি অনুসরণ করেই কাজ করছি।’
এসপির বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা
একজন পুলিশ সুপারের (এসপি) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে আদালতে মামলার আর্জি জানিয়েছেন তারই এক নারী সহকর্মী, যিনি পুলিশের ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
এই নারী কর্মকর্তার অভিযোগ, ২০১৯ সালে সুদানের দারফুরে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে থাকাকালে এবং পরে দেশে ফেরার পর ঢাকার উত্তরার একটি হোটেলে তাকে কয়েক দফা ধর্ষণ করেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা।
ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার বৃহস্পতিবার প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বাদীর জবানবন্দি শোনেন। পরে তিনি বিষয়টি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার মো. জাফর হোসেন বলেন, “মামলার আর্জি হয়েছে। আদালত আদেশ পরে দেবেন।”
এ ট্রাইবুনালের রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আফরোজা ফারহানা অরেঞ্জ জানান, অভিযোগকারী নারী পুলিশের ওই সদস্য বর্তমানে পরিদর্শক পদে আছেন। আর যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই পুলিশ সুপার মোক্তার হোসেন এখন বাগেরহাটে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) কর্মরত।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোক্তার হোসেনকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) মো. সোহেল রানা বলেন, “বিষয়টি জেনে পরে আপনাকে জানাচ্ছি।” কিন্তু পরে তিনি আর কোনো সাড়া দেননি।
পিপিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন মামলা হয়েছে, সে অনুযায়ী তদন্ত হবে। তদন্তেই সব জানা যাবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যিনি মামলা করেছেন তিনি মামলা করার আগে পিবিআইতে কোনো অভিযোগ করেননি।”
বাদী তার আর্জিতে লিখেছেন, ২০১৯ সালের মে মাসে সুদানের দারফুরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যান পুলিশ সুপার মোক্তার হোসেন। তার আগে থেকেই বাদী ওই মিশনে ছিলেন।
যেহেতু মিশনের বিভিন্ন বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা হয়ে গিয়েছিল, সেজন্য মোক্তার হোসেন ‘সহযোগিতা নেওয়ার নাম করে’ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং এক পর্যায়ে বিভিন্ন অজুহাতে তার বাসায় যাতায়াত শুরু করেন বলে বাদীর ভাষ্য।
আর্জিতে তিনি বলেছেন, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর দুপুরে তার বাসায় তাকে ‘ধর্ষণ করেন’ তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন। সেই ঘটনার একটি বিবরণও মামলার আবেদনে তুলে ধরেছেন বাদী।
তিনি বলেছেন, ওই ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য ‘হুমকি দিয়ে’ সেদিন চলে যান মোক্তার হোসেন। পরে ২২ ডিসেম্বর আবারও ওই বাসায় গিয়ে প্রথমে ‘ভুল হয়েছে; বলে ক্ষমা চান এবং তারপরই আবারও ‘ধর্ষণ’ করেন।
আর্জিতে বলা হয়েছে, বাদীকে ‘মুখে মুখে কলেমা পড়ে বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়েছিলেন আসামি। পরে ছুটিতে দেশে ফিরে ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে’ ঢাকার উত্তরার একটি হোটেলে নিয়ে তাকে আবারও ‘ধর্ষণ’ করেন।
পরে ওই বছরের ২৬ জুন থেকে ৩০ জুন সুদানের খার্তুমের একটি হোটেলে এবং ১০ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর ঢাকার উত্তরার ওই হোটেলে ৩০৬ নম্বর কক্ষে আবারো তাকে ‘ধর্ষণ’ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
তিনি আর্জিতে লিখেছেন, দেশে ফেরার পর তিনি বিয়ে নিবন্ধনের তাগিদ দিলে আসামি ‘তালবাহানা’ শুরু করেন। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিলে বাদী রাজারবাগে আসামির বাসায় উপস্থিত হয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি ও কাবিন নামা সম্পন্ন করতে বলেলে আসামি তাতে ‘অস্বীকৃতি’ জানান।
আসামির বাসায় তার স্ত্রী এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা উত্তজিত হয়ে সেদিন বাদিকে ‘মারধর করেন’ বলেও আর্জিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
মহামারীতে আদালত বন্ধ থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে আর্জিতে উল্লেখ করেছেন বাদী।
বিজিবি’র ১৯৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার সুযোগ সুবিধা বহাল রাখতে আপিল বিভাগে রায়
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৯৬ জনকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা দিতে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে বিজিবি সদস্যদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন ও ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ূম লিটন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।
এর আগে ২০২০ সালের জুলাই মাসে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক হাজার ১৩৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল করে জারি করা প্রজ্ঞাপন ১৯৬ জনের ক্ষেত্রে স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সব সুযোগ সুবিধা দিতে নির্দেশ দেন। বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্টে বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত বছরের ৭ জুন ১১৩৪ জন বিজিবি সদস্যের গেজেট বাতিল করে সরকার। ওই গেজেটে বলা হয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০০২ এর ৭ (ঝ) ধারা অনুযায়ী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর শিডিউল-১ এর তালিকা ৪১-এর ৫ নম্বর ক্রমিকে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে জামুকার ৬৬তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বাধীনতা যুদ্ধের পর (১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এ যোগ দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ১১৩৪ জনের নামে প্রকাশিত গেজেট বাতিল করা হলো। পরে এই প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে বাগেরহাটের সদর উপজেলার বেগুরগাতি গ্রামের মোল্লা মোশাররফ হোসেন, টাঙ্গাইলের সদর উপজেলারে বেথবাড়ীর ফজলুল হকসহ ১৯৬ জন পৃথক ৪টি রিট করেন।
পরীমনি,হেলেনা জাহাঙ্গীরের ব্যাংক হিসাব তলব, আরও ৬ মামলা সিআইডিতে
চিত্রনায়িকা পরীমনি, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ ৮ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এরা হলেন- পরীমনি, হেলেনা জাহাঙ্গীর, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, মরিয়ম আক্তার মৌ এবং প্রযোজক নজরুল ইসলাম। এদের ছাড়াও আরও তিন জনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। তারা হলেন- রোজিনা আক্তার, যার ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে বরিশালের বানারীপাড়া এবং ঢাকার মোহাম্মদপুরের নেয়ামত উল্লাহর দুই ছেলে সালেহ চৌধুরী ওরফে কার্লোস ও মিশু হাসান।
বুধবার বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে এদের অ্যাকাউন্টের লেনদেনসহ যাবতীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে পরীমনির পুরো নাম শামসুন নাহার স্মৃতি উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিকানা দেয়া হয়েছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া।
জানা গেছে, একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুরোধে এসব ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ। এ ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, শুরু থেকে লেনদেন বিবরণী, কোনও ধরনের সঞ্চয় বা ঋণ হিসাব থাকলে তার স্থিতিসহ যাবতীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।।
আরও ৬ মামলা সিআইডিতে:
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে গ্রেফতার প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ, হেলেনা জাহাঙ্গীর, ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও ৬ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে সিআইডি। এ নিয়ে সিআইডি এ বিষয়ক ১৪টি মামলা তদন্ত করার দায়িত্ব পেল। সিআইডির গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজাদ রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও ডিএমপির থানা থেকে রাতে ছয়টি মামলার তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে পাওয়া আটটি মামলা সিআইডি এখন তদন্ত করছে।
সম্প্রতি রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় মাদক, পর্নোগ্রাফি, বিশেষ ক্ষমতা আইন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মোট ১৫টি মামলা করা হয়।
পিয়াসা ,জিমি কারাগারে:
মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, চিত্রনায়িকা পরীমনির কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ করিম জিমি ও কবির হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ আদেশ দেন।
এদের পৃথক ভাবে হাজির করে আরও রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গাড়ি চোর চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার; ৩ বছরে শতাধিক গাড়ি চুরি
আন্ত:জেলা গাড়ি চোর চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এই চক্রটি মুহূর্তেই যেকোনো গাড়ির লক ভাঙা কিংবা বিকল্প চাবি ব্যবহার করে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চুরি করে সটকে পড়ে। এরা এতোই দক্ষ যে গাড়ি শনাক্তের জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইসও বিকল করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর গাড়ির মালিককে ফোন করে অর্থ আদায় কিংবা গাড়ি বিক্রি করে দেয় চক্রটি।
চক্রের সদস্যরা এতটাই ধূর্ত যে, গ্রেপ্তার এড়াতে তারা অ্যানড্রয়েড মোবাইলের পরিবর্তে ব্যবহার করে ফিচার বাটন মোবাইল ফোন। একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সর্বোচ্চ পাঁচ দিন। এই পাঁচ দিন রাতে ঘুমাতে যাবার আগে মোবাইলগুলো রেখে আসে নিজেদের থেকে এক কিলোমিটার দূরে। এই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন কারাগারে বসেই গাড়ি চুরির ছক কষে; এরপর কারাগার থেকে বেরিয়ে তারা শুরু করে একের পর চুরি।

বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।
তিনি জানান, একটি দুটি নয়, জিপিএস বিকল করে গত তিন বছরে শতাধিক গাড়ি চুরি করেছে সংঘবদ্ধ এই চক্রের সদস্যরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর দারুস সালামের বেরিবাধ এলাকা থেকে গাড়ি চুরি চক্রের ওই পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব-৪।
আটককৃতরা হলেন—মো. সোহেল, সাগর, সাকিব হোসেন, হাসানও মো. কামরুজ্জামান। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি পিকআপ, সাতটি টায়ার রিং, দুটি টায়ার, একটি টুলস বক্স, একটি চাবির ছড়া ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
মোজাম্মেল হক জানান, আটক সংঘবদ্ধ চক্রটি পরস্পরের যোগসাজশে গত তিন বছর ধরে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিনি পিকআপ চুরি করে আসছিল। আটক সোহেল ও সাগর সম্পর্কে আপন ভাই। তারা ঢাকার একটি হাইস্কুল ও নারায়ণগঞ্জের একটি কলেজে পড়াশোনা করতেন। তারা উভয়ই মাদকাসক্ত। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ও মাদকের টাকা জোগাড় করতেই গাড়ি চুরি শুরু করেন তারা। বিশেষ করে সোহেলের গাড়ি চালানোর দক্ষতা থাকায় পিকআপ গাড়ির লক ভাঙা ও যেকোনো চাবি দিয়ে গাড়ি স্টার্ট করার বিষয়ে তিনি অভিজ্ঞ। এছাড়াও গাড়িতে থাকা ট্র্যাকিং ডিভাইস দ্রুত শনাক্ত করে অকেজো করে দিতে সক্ষম সাগর।
ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সোহেল ও সাগর গত বছর গাড়ি চুরি মামলায় কুমিল্লায় কারাগারে ছিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে মাদক মামলায় গ্রেফতার সাকিবের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তারা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে হাসান ও কামরুজ্জামানকে নিয়ে গাড়ি চুরির চক্র গড়ে তোলে। পার্কিংয়ে থাকা পিকআপই তারা বেশি চুরি করত। ড্রাইভার বা মালিকের অনুপস্থিতিতে সুবিধামতো সময়ে বিশেষ কৌশলে গাড়ির লক ভেঙে ও বিশেষ ধরনের মাস্টার চাবি দিয়ে স্টার্ট করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যেত তারা। এছাড়াও মাদকসেবী ড্রাইভারের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করে পিকআপ ভ্যান চুরি করতে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করতো। এজন্য গাড়ি চুরি করে মালিকের কাছ থেকে আদায় করা টাকার একটি অংশ ড্রাইভারকে দিত তারা। এর বাইরে চালকদেরকে বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক প্রয়োগ করে অজ্ঞান করে পিকআপ নিয়ে পালিয়ে যেত তারা। এছাড়াও চোরাই গাড়ির মালিককে ফোন দিয়ে গাড়ি ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর বাইরে চোরাই গাড়ির রঙ পরিবর্তন করে ভুয়া নম্বর-প্লেট লাগিয়ে কম দামে সেগুলো বিক্রি করে দিত। এই দুই প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হলে গাড়ির যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করত তারা।’ তাদের অন্য সহযোগীদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও র্যাব-৪-এর অধিনায়ক জানান।
প্রতি্বন্ধীদের হেয় করায় ফরিদুর রেজা সাগর-শাইখ সিরাজ-ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা
একটি নাটক এবং টেলিভিশনের একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধিতা নিয়ে ‘নেতিবাচক, ভ্রান্ত ও ক্ষতিকর’ ধারণা এবং শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে ঢাকা সিএমএম আদালতে চ্যানেল আইর এমডিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে।
বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আবু বকর ছিদ্দিকীর আদালতে মামলার ওপর শুনানি করে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জীবনানন্দ চন্দ জয়ন্ত সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বশির আল হোসাইন নামের এক প্রতিবন্ধী অধিকার কর্মী মামলা দুটির আবেদন করেন। একটি মামলা দায়ের করা হয় ‘ঘটনা সত্য’ নামের একটি নাটক নিয়ে, যা চ্যানেল আইয়ের ঈদুল আজহার অনুষ্ঠানে গত ২৩ জুলাই প্রচার করা হয়েছিল।

ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, নাটকের চিত্রনাট্যকার মঈনুল সানু, পরিচালক রুবেল হাসান, অভিনেতা আফরান নিশো, অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরীকে।
অপর মামলা করা হয়েছে চ্যানেল আইয়ের আলোচনা অনুষ্ঠান ‘টু দ্য পয়েন্ট’ এর ১১ জুলাইয়ের পর্ব নিয়ে, যেখানে একজন আলোচকের কথায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে ‘নেতিবাচক ধারণা’র প্রকাশ ঘটেছে বলে অভিযোগ। ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে ফরিদুর রেজা সাগর, শাইখ সিরাজ, অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী জাহিদ নেওয়াজ খান, প্রযাজক রাজু আলিম, উপস্থাপক সোমা ইমলাম এবং আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকা ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনকে।
মামলা দুটির বাদী বশির আল হোসাইন, সকল সাক্ষী এবং আইনজীবী মোহাম্মদ রেজাউল করিম সিদ্দিকী সকলেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলে জানান আইনজীবী।
নাটকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘ঘটনা সত্য’ নাটকে দেখানো সংলাপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের বাবা মা ও পরিবারকে ‘ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে।’
আর দ্বিতীয় মামলায় বাদীর অভিযোগ ‘টু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিলের খেলা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের একটি মন্তব্য নিয়ে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, ওই টকশোতে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আমার নিজের ছেলেটারে প্রতিবন্ধী বানাইয়া রাইখা আমি এখন আর্জেন্টিনার ছেলে এবং ব্রাজিলের ছেলে নিয়া লাফাচ্ছি। লাফানো ঠিক আছে। আমরা অনেক ছোটবেলা থেকে ম্যারাডোনার ভক্ত, কিন্তু নিজের ছেলেটারে এভাবে প্রতিবন্ধী বানাব?’
দেশের ফুটবল খেলার মানের অবনতি, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, ব্যর্থতা ও অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে ‘প্রতিবন্ধী বানাইয়া রাইখা’ এবং ‘এভাবে প্রতিবন্ধী বানাব’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে ‘নেতিবাচক, ভ্রান্ত ও ক্ষতিকর’ ধারণা দেওয়া হয়েছে বলে বাদীর অভিযোগ।
তিনি মামলার অভিযোগে বলেছেন, এ ধরনের নেতিবাচক শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হয়েছে।
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এন্টিবায়োটিক উৎপাদন: স্বাস্থ্য সচিব,ডিজিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল
জিএমপি অনুসরন না করে ,হাইকোর্টের রায় অমান্য করে বরিশালের ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস নামের একটি ওষুধ কোম্পানী এন্টিবায়োটিক উৎপাদন ও বিক্রি করায় স্বাস্থ্য সচিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
বাকিরা হলেন- ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক,ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এফ এম আনোয়ারুল হক।
এন্টিবায়োটিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে ওষুধ কোম্পানিগুলোর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস’ (জিএমপি) নীতি অনুসরণ এবং জিএমপি অনুসরণের সক্ষমতা অর্জনের ভিত্তিতে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনের অনুমোদন সংক্রান্ত রায় অমান্য করায় তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভযোগ আনা হবে না তা চার সপ্তাহের মধ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ বুধবার এ রুল জারি করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
এ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, “আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এন্টিবায়োটিকের উৎপাদন চালিয়ে গেলেও ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিরুদ্ধে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর বা অন্যান্যরা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
জিএমপি অনুসরণ না করে এন্টিবায়োটিক উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে ২০১৬ সাল মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাই কোর্টে জনস্বার্থে মামলা করে।
ওই মামলার শুনানি শেষে আদালত ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট ইন্দো বাংলা ফর্মাসিউটিক্যালসসহ ২০টি ওষুধ কোম্পানির মানহীন ওষুধ উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাশাপাশি ১৪টি কোম্পানিকে এন্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
সেই সাথে ৩৪টি কোম্পানির অনুমোদন বাতিলে ‘বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা’ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং এসব কোম্পানির লাইসেন্স ও এন্টিবায়োটিক উৎপাদনের অনুমোদন কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করা হয়।
চার কোম্পানি এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলেও হাই কোর্টের আদেশই বহাল থাকে।
পরবর্তীতে রুল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালত রায় দেয়। রায়ে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ‘ব্যর্থ’ ২০ কোম্পানির সব ওষুধ এবং ১৪টি কোম্পানির এন্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।
এসব কোম্পানি গোপনে ওষুধ তৈরি বা বিক্রি করছে কি না এবং কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রতি তিন মাস পর পর আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয় রায়ে।
যে ১৪টি কোম্পানির এন্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট তার মধ্যে বরিশালের ইন্দো বাংলা ফর্মাসিউটিক্যালসও ছিল।
আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে এই ওষুধ কোম্পানিটি ফের এন্টিবায়োটিক উৎপাদন করছে, সম্প্রতি এমন খবর প্রকাশ হলে বিবাদিদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনতে এইচআরপিবির পক্ষ থেকে হাই কোর্টে আবেদন করা হয়।
বুধবার সে আবেদনের শুনানি করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননরা রুল জারি করে হাই কোর্ট।
দেড় বছর পর খুলে দেয়া হলো সব অধস্তন আদালত, স্বাভাবিক বিচারকাজ চলবে
দেশের সব অধস্তন আদালতে স্বাভাবিক বিচারকাজ চলবে। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়ালি অথবা শারীরিক উপস্থিতিতে দেশের সব অধস্তন আদালত-ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণসহ স্বাভাবিক বিচার কাজ চালানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। যা সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দেশের সকল অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।”
গত বছরের মার্চ মাসে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর সরকারি সিদ্ধান্তে দেশের সব অফিস আদালত বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে সংক্রমণ কিছু কমলে সীমিত পরিসরে অফিস আদালত খুললেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে নি। এর মধ্যে আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি আইন করে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চালানো হয়। তবে নিম্ন আদালত প্রায় বন্ধই থাকে। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে সরকার কঠোর লকডাউন ঘোষণা করলে হাইকোর্টেও ভার্চুয়াল বেঞ্চ সীমিত হয়ে যায়। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থিদের কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত অধস্তন আদালত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলো। আর পূর্ব ঘোষণা অনুয়ায়ী বুধবার থেকে হাইকোর্টের সব বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ শুরু হয়েছে।
প্রধানবিচারপতির নির্দেশনায় সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের জারি করা বিজ্ঞপ্তির ফলে অধস্তন আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় বিচারক এখন থেকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শারীরিক উপস্থিতিতে অথবা নির্ধারিত নিয়মে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সব ধরনের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
তবে শারীরিক উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের নির্দেশনায়। এতে বলা হয়, স্বাস্থ্য বিধি মেনে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্টিত করে এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে জেলা ও দায়রা জজ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মোট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সস্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এই আদেশ পালনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজনে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অধস্তন আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়া সব বিচারিক কাজ চালানোর সিদ্ধান্ত ছিল।
হাইকোর্টে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চলছেঃ
এদিকে বুধবার থেকে হাইকোর্টের সব বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ শুরু হয়েছে। কার্যতালিক্ অনুযায়ী ৫৩ টি বেঞ্চে বিচারকাজ হচ্ছে। এর মধ্যে ৩১ টি দ্বৈত বেঞ্চ এবং ২২ টি একক বেঞ্চ রয়েছে।
জমজ ১৯ শিশুকে ভিকারুননিসায় ভর্তি করতে হাইকোর্টের নির্দেশ
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পৃথক ১৯টি পরিবারের জমজ ১৯ শিশুকে চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার এক শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি বিপুল বাগমার।
উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট ভর্তির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন প্রকৌশলী আবদুল্লাহ, কবির মাহমুদসহ ওই শিশুদের অভিভাবক।
পৃথক পরিবারের ১৯ জমজ (মোট ৩৮টি শিশু) শিশু ভর্তির আবেদন করে। তাদের মধ্যে প্রত্যেক পরিবারের একজন করে মোট ১৯ জন লটারির মাধ্যমে ভিকারুননিসা নুন স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। অপর জমজ ১৯ জনকে ভর্তি করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ কারণে তাদের ভর্তি করার নির্দেশনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবকরা। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে সাড়া না পেয়ে রিট আবেদন দাখিল করা হয়।
ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, প্রত্যেক পরিবারে জমজ বাচ্চারা সব সময় একসাথে থাকে। একসাথেই খেলাধুলা করে। তাদের চাওয়াও একইরকম। তারা প্রায় সব কাজে একজন আরেকজনকে অনুকরণ করে। এ কারণে তাদের সুস্থ মানসিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য একসাথে থাকাটা খুবই জরুরি। আলাদা থাকলে তারা মানসিক সমস্যায় ভোগে। তাদের যদি আলাদা কিছু দেওয়া হয় বা আলাদা পরিবেশে রাখা হয়, তারা এক ধরনের মানসিক সমস্যায় ভোগে। খারাপ প্রভাব পড়ে তাদের ওপর।
তিনি বলেন, ১৯টি পরিবারের ১৯টি শিশু ভর্তি হতে পেরেছে। আর ১৯টি শিশু ভর্তি হতে পারেনি। যারা ভর্তি হতে পারেনি তাদের সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে রিট আবেদন করা হয়েছে। বাদ পড়াদের ভর্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।










