প্রধানবিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার কারণে আদালত অবমাননার মুখে পড়া সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আশরাফুল ইসলামকে তলব ও তার ব্যাখ্যার বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগ।
রোববার আবেদনটি শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ ছিল। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সমন্বয়ে চার বিচারপতির বেঞ্চে শুনানির জন্য আবেদনটি উত্থাপন করা হয়। আদালতে লিখিত জবাব দাখিল করেন আশরাফুল ইসলাম। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন তাদের প্রস্তুতির জন্য শুনানি দুই সপ্তাহ মুলতবি রাখার আবেদন জানান। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে আগামি ২ সেপ্টেম্বর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। শুনানিতে আইনজীবী আশরাফুল ইসলামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শেখ আওসাফুর রহমান ও সৈয়দ মামুন মাহবুব। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

শুনানি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনও আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম।
এদিকে আদালতের আদেশ অনুসারে আইনজীবী আশরাফুল ইসলামের ৫টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে এবং যেটি থেকে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে পোস্ট দেয়া হয়েছিল সেটি মুছে ফেলা হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে বিটিআরসি।
করোনাকালে ঘরে বসে আদালত পরিচালনার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম ১৪ জুলাই ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ওই আইনজীবীর ফেসবুক পোস্ট আপিল বিভাগের নজরে আনার পর ১৫ জুলাই প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আইনজীবির বিরুদ্ধে কেনো আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না তার ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য তলব করেন। এ সময় পর্যন্ত তাকে আইনপেশা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
প্রধানবিচারপতিকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট; আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার শুনানি ২ সেপ্টেম্বর
বুধবার থেকেই হাইকোর্টের সব বেঞ্চে বিচারকাজ চলবে
আগামী ১১ আগস্ট বুধবার থেকেই হাইকোর্ট বিভাগের সব বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচার কাজ পরিচালিত হবে। এবিষয়ে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে রোববার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামী ১১ আগস্ট হতে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন-২০২০’ এবং এতদসংক্রান্তে জারি করা প্রাকটিস নির্দেশনা অনুসরণ করতঃ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগের সকল বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এর আগে গত ৫ আগস্ট প্রধান বিচারপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে ৮ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগে ১২টি বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচার কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সে অনুসারে রোববার থেকে এই ১২টি বেঞ্চে বিচার কাজ পরিচালিত হয়। কিন্তু রোববার বিকেলে প্রধানবিচারপতি আগামি বুধবার থেকেই হাইকোর্টের সব বেঞ্চে বিচারকাজ চালানোর সিদ্ধান্ত দেন।
প্রসঙ্গত বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি রয়েছেন ৯২ জন আর আপিল বিভাগে বিচারপতি রয়েছেন ৫ জন। হাইকোর্ট বিভাগে যদি সবগুলো দ্বৈত বেঞ্চে বিচারকার্যক্রম শুরু হয় তা হলে ৪৬টি বেঞ্চে বিচারকার্যক্রম চলবে। এতে অধিকসংখ্যক মামলার শুনানি সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা এবং তারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। লকডাউনে হাইকোর্টে বিচার কার্যক্রম খুবই সীমিত পরিসরে চলে। মাত্র ৩টি বেঞ্চ রাখা হয় । আইনজীবীরা বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রধানবিচারপতির কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন।
এর আগে গত ৫ আগস্টের ফুলকোর্ট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধস্তন আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়া সব বিচারিক কাজ চালানোর কথা জানানো হয়।
অধস্তন আদালতে কিছু বিচারকাজ চলবে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে। আর কিছু বিচারকাজ চালানো হবে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে।
আইডিয়াল স্কুলের আতিকুরের দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা
দুর্নীতির অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাম উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৮ আগস্ট) ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ আদেশ দেন।
জানা যায়, আতিকুর রহমান কনকর্ড নামে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে ২০০৪ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। স্কুলে যোগদানের পর তিনি ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আয়কৃত অর্থ দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। এর মাঝে বনশ্রী এলাকায় খান ফিলিং অ্যান্ড এলপিজি, বনশ্রী মসজিদ মার্কেটে বিশ্বাস লাইব্রেরি, আফতাবনগরে বি ব্লকে বিশ্বাস বাজার, বনশ্রী ৫ নম্বর সড়কের ১২ নম্বর প্লটে ভিশন-৭১ নামে একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান, আফতাবনগরে চারটি বাড়ি এবং বনশ্রীতে আরেকটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া দেশের ১৫টি ব্যাংকে আতিকুর রহমান খানের ৯৭টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংক হিসাবগুলোতে ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১১০ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ টাকা লেনদেন হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আতিকুর রহমান খানের মালিকানাধীন ন্যাশনাল ফ্রায়েড চিকেনের নামে সাউথইস্ট ব্যাংকে ২০১৫ সালে একটি হিসাব খোলা হয়। ওই হিসাবে প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। কিন্তু সরেজমিন আফতাবনগরে সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এছাড়া আতিকুর রহমান খানের মালিকানাধীন এইচ কে খান এন্টারপ্রাইজের নামে প্রাইম ব্যাংকের একটি হিসাবে ৮ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় বনশ্রীর মসজিদ মার্কেটের বিশ্বাস লাইব্রেরি দেখা গেছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুব রহমান আতিকুরকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
খুলনায় হিন্দুদের মন্দির-বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা; ১০ জন গ্রেপ্তার
খুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালী গ্রামে মন্দির, হিন্দুসম্প্রদায়ের বেশ কিছু দোকান ও বাড়িঘর ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বিকেলে হামলার ঘটনাটি ঘটে। খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, ওই হামলার ঘটনায় করা মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এলাকায় আছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রূপসার ঘাটভোগ ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম ও সম্রাট মোল্লা, শিয়ালী গ্রামের মঞ্জুরুল আলম, বামনডাঙ্গা গ্রামের শরিফুল ইসলাম শেখ, রানা শেখ, মোমিনুল ইসলাম, মোল্লাহাট উপজেলার বুড়িগাংনী গ্রামের আকরাম ফকির, সোহেল শেখ, শামীম শেখ ও জামিল বিশ্বাস। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে শতাধিক যুবক রামদা, চাপাতি, কুড়াল নিয়ে শিয়ালী গ্রামে হামলা চালান। তাঁরা অতর্কিতভাবে বাজারের বিভিন্ন দোকান ভাঙচুর করেন। এ সময় শিবপদ ধরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করা হয়। তাঁরা সেখানকার কয়েকটি মন্দিরেও ভাঙচুর করেন। কয়েকজন বাধা দিতে এলে তাঁদের পিটিয়ে আহত করা হয়। এলাকাবাসী প্রতিরোধ তৈরি করার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় রূপসা উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু বাদী হয়ে শনিবার রাতে রূপসা থানায় মামলা করেন। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী শক্তিপদ বসু বলেন, দুর্বৃত্তরা শনিবার ব্যক্তিগত ও সর্বজনীন মিলিয়ে পাঁচটি মন্দির, একটি সমাধি মন্দির ও সেখানকার মূর্তি ভাঙচুর করেছে। এ ছাড়া তিনটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা নারীদের নানাভাবে অপদস্থ করেছে। তেরখাদা উপজেলার শেখপুরা গ্রামের এবং রূপসা উপজেলার চাঁদপুর, বামনডাঙ্গা, শিয়ালী গ্রামের দুর্বৃত্তরা এই হামলা চালিয়েছে।
রূপসা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবাইয়া তাছনিম বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মসজিদে নামাজ চলার সময় হিন্দুসম্প্রদায়ের লোকজন কীর্তন করছিলেন, এমন অভিযোগে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। ঘটনার পরপরই প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তাদের নিয়ে স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি মিটমাট করা হয়। ওই দিনের ঘটনার সঙ্গে শনিবারের হামলার সম্পর্ক নেই বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আছেন। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত। পুলিশ প্রশাসন ও র্যাব-৬–এর একটি দল সেখানে টহল দিচ্ছে।
এদিকে রোববার সকালে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ, রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগ, খুলনা মহানগর ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা ওই এলাকা পরিদর্শনে যান। এলাকার মানুষ এ সময় নেতাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খবরের সূত্র -প্রথম আলো , ছবি-বিবিসি বাংলা ও বিডি নিউজ ।
রোববার থেকে হাই কোর্টে ১২টি ভার্চুয়াল বেঞ্চ, নিম্ন আদালতে শারীরিক ও ভার্চুয়ালি দুভাবেই বিচারকাজ চলবে
কঠোর লকডাউনের মধ্যেও বিচার কাজ আরও সচল রাখতে হাইকোর্টে ভার্চুয়াল কোর্টের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামি রোববার থেকে ১২ টি ভার্চুয়াল কোর্টে বিচারকাজ চলবে। এর মধ্যে ৯ টি থাকবে দ্বৈত বেঞ্চ আর ৩ টি থাকবে একক বেঞ্চ। চলমান লকডাউনে এতোদিন হাইকোর্টে মাত্র ৩ টি বেঞ্চে বিচারকাজ চলে আসছে, যা বাড়ানোর জন্য দাবি জানাচ্ছিলেন আইনজীবীরা।
গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারকদের নিয়ে ফুল কোর্ট সভা করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বেলা সাড়ে ১০টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত এসব বেঞ্চে বিচার কাজ চলবে। এ ছাড়া রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অধস্তন আদালতেও সাক্ষ্যগ্রহণ ছাড়া সব ধরণের বিচার কাজ চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির এ নির্দেশনা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, “দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধকল্পে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া আগামী রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে হাই কোর্ট বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য বেঞ্চ গঠন করা হল।”
দ্বৈত বেঞ্চগুলো মধ্যে রয়েছে- বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর (ফৌজদারি) সমন্বিত বেঞ্চ, বিচারপতি মো. রইস উদ্দিন ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দির (ফৌজদারী) বেঞ্চ, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের (ফৌজদারি) বেঞ্চ, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের (রিট) বেঞ্চ, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের (রিট ও ফৌজদারি-দুদক) বেঞ্চ, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের (দেওয়ানি) বেঞ্চ, বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের (রিট) বেঞ্চ এবং বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের (ফৌজদারি) বেঞ্চ।
একক বেঞ্চ চালাবেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার (কোম্পানি ও অ্যাডমিরালিটি সংক্রান্ত), বিচারপতি মাহমুদুল হক (দেওয়ানি) ও বিচরপতি মো. সেলিম (ফৌজদারি)।
অধস্তন আদালতে দুভাবে চলবে বিচারকাজঃ
ফুলকোর্ট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আগামী রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অধস্তন আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়া সব বিচারিক কাজ চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর মধ্যে কিছু বিচারকাজ চলবে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে। আর কিছু বিচারকাজ চালানো হবে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে।
৮ থেকে ১২ অগাস্ট শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি দরখাস্ত/আপিল/বিবিধ মামলাসহ সব ধরনের শুনানি গ্রহণ (সাক্ষ্য ব্যতীত) ও নিষ্পত্তি হবে।
আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে শারীরিক উপস্থিতিতে অধস্তন দেওয়ানি আদালতে সাকসেশন ও অভিভাবকত্ব নির্ধারণ বিষয়ক মামলা দায়ের, শুনানি ও নিষ্পত্তি করা যাবে।
স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে ফৌজদারি আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোতে নালিশি মামলা দায়ের করা যাবে।
ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি অধস্তন ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালগুলোতে শারীরিক উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণের আবেদন দাখিল করতে পারবেন। এক্ষেত্রে শুনানি কার্যক্রমের পদ্ধতি ও সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ ও সমন্বয় করতে হবে, যাতে আদালত প্রাঙ্গণে ও আদালত ভবনে কোনো জনসমাগম না ঘটে।
আত্মসমর্পণের আবেদন শুনানির সময় আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তি এবং তার আইনজীবী ছাড়া অন্য কোনো আইনজীবী এজলাস কক্ষে অবস্থান করবেন না। একটি আবেদনের শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এজলাস কক্ষ ত্যাগ করার পর বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তী দরখাস্ত শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন।
তবে অধস্ত আদালত, ট্রাইব্যুনালে জামিন শুনানির সময় বা আমলি আদালতের হাজিরার জন্য হাজতি আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আর রিমান্ড শুনানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে কারা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ভার্চুয়ালি শুনানি করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া প্রত্যেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেটকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করে যেতে বলা হয়েছে এ বিজ্ঞপ্তিতে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে ১৬ আগস্ট থেকে হাইকোর্ট বিভাগের সবগুলো বেঞ্চেই ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চালানো হতে পারে। সে সময় ৩৮ টি কোর্ট খোলা রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। আর আদালতের স্টাফ ও আইনজীবীদের টিকা গ্রহণ সম্পন্ন হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতেও দেশের সব আদালতে বিচারকাজ চালু করা হবে।
পারমিট ছাড়া মদ পানের সুযোগ নেই আইনে ; হাত বাড়ালেই মিলছে মদ, ঢিলেঢালা নজরদারি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স বা পারমিট ছাড়া বাংলাদেশের কোনো নাগরিক অ্যালকোহল বা মদ পান করতে পারেন না। আর এই মদ পানের পারমিট পেতে হলে দেশের একজন মুসলিম নাগরিককে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিতে হবে। অমুসলিম নাগরিক হলে চিকিৎসকের পরামর্শের দরকার না হলেও পারমিট ছাড়া মাদ পান করতে পারবেন না। অর্থাৎ দেশের প্রচলিত আইনে মদ পানের কোনো বিধান নেই। শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শে এবং মাদ্রকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পারমিট নিয়েই একজন মদ পান করতে পারেন। একজন লোক কতটুকু মদ খাবেন তা পারমিটে উল্লেখ থাকে এবং সে অনুযায়ী মদ তিনি রাখতে পারেন। কিন্তু সম্প্রতি পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মদ উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্ন ওঠছে , এসব মদ রাখার ও খাওয়ার কোনো লাইসেন্স আছে কী না। যদিও আইন অনুযায়ী কোনো ব্যাক্তির বাসায় বা হেফাজতে এতো পরিমাণ মদ রাখার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে এতো মদ তারা কোথা থেকে কি ভাবে সংগ্রহ করেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠেছে। রাজধানীসহ সারাদেশেই হাত বাড়ালেই মিলছে মদ।

আইন অনুযায়ী দেশে উৎপাদিত মদ ও বিদেশ থেকে আমদানিকৃত মদের সব হালনাগাদ তথ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে থাকার কথা। এই মদ আনা ও সংরক্ষণ কঠোর ভাবে মনিটর করার কথা আইনে বলা হয়েছে। নির্ধারিত বার বা পানশালা ছাড়া মদ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। ফলে যাদের বাসা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়, সেগুলো অবৈধতো বটেই কোথা থেকে কারা আনে এ নিয়ে রহস্যে সৃষ্টি হয়েছে। আইন শৃংখলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চোখ এড়িয়ে বিদেশী মদ কি ভাবে অবাধে বিক্রি হয় এ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধন) ২০২০, পর্যালোচনা করে এ সব বিষয় জানা যায়। এই আইনের তৃতীয় অধ্যায়ে যেখানে মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধকরণ ও নিয়ন্ত্রণ (লাইসেন্স ,পারমিট বা পাস ) এর কথা বলা হয়েছে তাতে রয়েছে বেশ কিছু বিধি নিষেধ।
অ্যালকোহল পান, ইত্যাদি সম্পর্কে বিধি-নিষেধগুলো হলো:
(১) পারমিট ব্যতীত কোনো ব্যক্তি অ্যালকোহল পান করতে পারবেন না এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে সিভিল সার্জন অথবা সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অন্যূন কোনো সহযোগী অধ্যাপকের লিখিত ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত কোনো মুসলমানকে অ্যালকোহল পান করার জন্য পারমিট প্রদান করা যাবে না।
(২) মুচি, মেথর, ডোম, চা শ্রমিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কর্তৃক তাড়ি ও পচুঁই পান করার ক্ষেত্রে এবং রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাসমূহ এবং অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কর্তৃক ঐতিহ্যগতভাবে প্রচলিত অথবা প্রস্তুতকৃত মদ পান করার ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।
(৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন-
(ক) লাইসেন্সপ্রাপ্ত বার-এ বসে বিদেশি ও পারমিটধারী দেশিয় নাগরিকগণ অ্যালকোহল পান করতে পারিবেন; এবং
(খ) কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী বিদেশি নাগরিকরা শুল্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত পাস বইধারী অথবা প্রচলিত ব্যাগেজ রুলসের দ্বারা স্বীকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে, অ্যালকোহল আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়, বহন, সংরক্ষণ অথবা পানের ব্যাপারে কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।
(৪) অ্যালকোহল সংক্রান্ত সকল শুল্কমুক্ত কার্যক্রম (Duty Free Operations) এই আইনের অধীন প্রদত্ত লাইসেন্সবলে সম্পাদিত হবে। এই আইনের ১২ ধারার ১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে :
মাদকদ্রব্যের ব্যবস্থাপত্র প্রদান সম্পর্কে বিধি-নিষেধ
(১) চিকিৎসক ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো মাদকদ্রব্য ঔষধ হিসাবে ব্যবস্থাপত্র প্রদান করতে পারবেন না।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তিতে একবারের অধিক মাদকদ্রব্য ক্রয় করা যাবে না।
প্রচলিত আইন পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে যেসব মদ বা অ্যালকোহল উদ্ধার করা হচ্ছে এর সবই অবৈধ। এসব মদ যারা বাসাবাড়িতে বসে পান করছেন তারাও আইনবহির্ভূত ভাবে পান করছেন।
পরীমনির কস্টিউম ডিজাইনার জিমি গ্রেফতার
চিত্রনায়িকা পরীমনি গ্রেফতার হওয়ার দুই দিনের মাথায় তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ করিম জিমিকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের যুগ্ম-কমিশনার হারুন অর রশীদ শুক্রবার রাতে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, সন্ধ্যায় গুলশান থেকে গ্রেফতার করে জিমিকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
পরীমনি গত জুন মাসে ঢাকা বোট ক্লাবে গিয়ে ‘নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার’ হওয়ার অভিযোগ তোলার পর জিমির নামও আলোচনায় আসে। জিমিও সেদিন বোট ক্লাবে পরীমনির সঙ্গে ছিলেন।
১৩ জুন প্রথমে ফেইসবুক পোস্টে এবং সেই রাতেই বনানীতে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে আবাসন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং জিমির পরিচিত তুহিন সিদ্দিকী অমির বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ তোলেন পরীমনি।
পরদিন তিনি সাভার থানায় মামলা করলে ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (বিনোদন ও সংস্কৃতি) উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং ট্র্যাভেল এজেন্সির ব্যবসায় জড়িত তুহিন সিদ্দিকী অমিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অবশ্য পরে তারা জামিন পেয়ে যান।
পরীমনির বনানীর বাসায় সেই সংবাদ সম্মেলনে জিমি উপস্থিত ছিলেন। বোটক্লাবের ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি পরীমনিকে ‘মারধরের’ ঘটনা এবং নিজেও মারধরের শিকার হওয়ার কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেছিলেন।
চয়নিকা চৌধুরীকে ৩ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে
চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে ৩ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ।
তিনি বলেন, চয়নিকা চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। সবাই প্রশ্ন করছিল, পরীমনির কথিত মা চয়নিকা চৌধুরীকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। এ ছাড়া রিমান্ডে থাকা আসামিদের কাছ থেকেও কথিত এই মা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এখন তাঁকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে যখন ডাকা হবে, তিনি আসবেন। এই শর্তে তাঁকে ছাড়া হচ্ছে।

এর আগে সন্ধ্যায় রাজধানীর পান্থপথে চয়নিকা চৌধুরীর গাড়ি ডিবি পুলিশ ঘিরে ফেলে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে যেতে হবে জানিয়ে নেমে আসতে বললেও তিনি রাজি হচ্ছিলেন না। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার পর একপর্যায়ে তিনি তাঁর গাড়িতে নারী পুলিশ সদস্যদের ওঠার অনুমতি দেন। এরপর ওই গাড়িতে ডিবির আরও কয়েকজন উঠে পড়েন। সেই গাড়িতে করেই তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
চয়নিকা চৌধুরীকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে থাকেন পরীমনি। উত্তরা বোট ক্লাব-কাণ্ডের পর পরীমনির পাশে সব সময় দেখা গেছে তাঁকে। এর আগে বুধবার বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে গ্রেফতার করে র্যাব। তার বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা করে আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে: আইনমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে অবশ্যই রায় কার্যকর করা হবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ অঙ্গিকার ব্যক্ত করে বলেছেন, আমি শুধু এটুকু বলে রাখতে চাই, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা কে কোথায় আছে সে সম্পর্কে আমরা জানি। আমরা তাদেরকে ধরে আনব এবং সেই চেষ্টা অব্যাহত আছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিসভায় তিনি এ কথা বলেন।
শুক্রবার সকালে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগদান করেন আইনমন্ত্রী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাকি খুনিরা যারা পলাতক আছে, যতই সময় লাগুক, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে অবশ্যই রায় কার্যকর করব।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে করোনা মহামারি চলছে। এ সময়ে উপজেলায় কোনো জনসমাগম ঘটিয়ে কাঙালি ভোজ না করে অসহায় হতদরিদ্র এক হাজার সেলুন ও চা-দোকানিকে খাদ্য সামগ্রী উপহার পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাশেম ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আক্তার, পৌর মেয়র ও যুবলীগের আহ্বায়ক তাকজিল খলিফা কাজল, আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসেন বাবুল, ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন বেগ শাপলু, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন নয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার
রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকা থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা এবং মাতুয়াইল এলাকা থেকে ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ডিএমপির মতিঝিল গোয়েন্দা বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে মতিঝিল টিএন্ডটি কলোনীর ১নং মসজিদ গেটের পাশে ফকিরাপুল যাত্রী ছাউনীর সামনে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে কিছু লোক পালাতে থাকে। তখন গ্রেফতার করা হয় সোহাগ ও কবিরকে।
গ্রেফতারকৃত সোহাগের কাঁধে থাকা ব্যাকপ্যাকের মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয় ১৫০টি জিপারযুক্ত ইয়াবার পলিপ্যাক। যার প্রতি প্যাকে ২০০ পিস অর্থাৎ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা। আর কবির হোসেনের হাতে থাকা শপিং ব্যাগের মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয় ১০০টি জিপারযুক্ত ইয়াবার পলিপ্যাক। যার প্রতি প্যাকে ২০০ পিস করে অর্থাৎ ২০ হাজার পিস ইয়াবা। গ্রেফতারকৃতরা কক্সবাজারসহ দেশের সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা কিনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করে থাকে।
৪০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেফতার:

এদিকে কদমতলী থানার মাতুয়াইল এলাকা থেকে ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- কাজী হামিদুল হক সুমন ও মোঃ ইমতিয়াজ। গোয়েন্দা পুলিশ জানায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাতুয়াইল কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে এলাকা থেকে ৪০ কেজি গাঁজাসহ সুমন ও ইমতিয়াজকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা কুমিল্লা হতে গাঁজা এনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকে।








