ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   বিকাল ৩:১০ 

Home Blog Page 88

চয়নিকা চৌধুরী আটক

0

‘চলচ্চিত্র ও নাট্য নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে রাজধানীর পান্থপথ থেকে তাকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সুত্রে জানা যায়, পান্থপথ থেকে আটকের পর চয়নিকা চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। চয়নিকার বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
চয়নিকা চৌধুরী বাংলাদেশের একজন আলোচিত পরিচালক। ২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ‘শেষ বেলায়’ নাটকের মধ্য দিয়ে পরিচালনা শুরু করেন তিনি। ‘বিশ্বসুন্দরী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে অভিষেক ঘটে তার। ওই সিনেমার নায়িকা পরীমনি। এর আগে ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় বনানীর বাসা থেকে পরীমনি ও তার সহযোগীকে আটক করে র‍্যাব। তার বাসা থেকে নানা মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। আটকের পর তাকে নেওয়া হয় র‍্যাবের সদর দপ্তরে। রাতভর সেখানেই থাকতে হয় পরীমনিকে।
পরদিন ৫ আগস্ট রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করে র‍্যাব। একই দিন তাকে আদালতে পাঠিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তথ্য অধিকার নিয়ে যারা আন্দোলন করে, তারা নিজেরাই তথ্য দেয়না; ৯৫ শতাংশ এনজিও তথ্য গোপন রাখে, গবেষণা টিআইবির

1

এ তো পুরো উল্টো ঘটনা! সরকারের কাছে যারা অবাধ তথ্য চেয়ে আন্দোলন করেন তথ্য অধিকারের, সেই তারা নিজেরাই তথ্য দিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক পিছিয়ে। এ যেনো অনেকটা, ‘নিজের বেলায় ষোল আনা পরের বেলায় আনাগুণা’এর মতো অবস্থা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)র এক গবেষণায় বলা হয়েছে, তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার চেয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) কাছ থেকে সহজে কোনো তথ্য মেলে না। আইনগতভাবেও তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়ার উপায় থাকে না। কারণ এনজিওগুলো তথ্য অধিকার আইন ও বিধিমালা মেনে চলে না। ফলে কোনো মিডিয়াকর্মী এসব এনজিও থেকে সহজে কোনো তথ্য বের করতে পারেন না এবং তথ্য চেয়েও পাওয়া যায় না।
বৃহস্পতিবার ‘তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ চর্চার মূল্যায়ন’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি এই তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে, তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের প্রায় এক যুগ পার হলেও স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও প্রচার কার্যকর করার ক্ষেত্রে এখনো সরকার, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি সংগঠন ও গণমাধ্যমের সমন্বিত প্রচারণাসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা থেকে উত্তরণে ১১ দফা সুপারিশ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের (১৫৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ৩৯টি এনজিও) ওয়েবসাইটের ওপর তথ্য সংগ্রহ করে মিশ্র পদ্ধতিতে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করা হয়েছে। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে স্কোরিং করা হয়েছে। নির্ধারিত তিনটি ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত মোট ২৫টি নির্দেশকের (তথ্যের ব্যাপ্তিতে ১৯টি, প্রবেশগম্যতায় চারটি ও উপযোগিতায় দুটি নির্দেশক) ভিত্তিতে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ চর্চার মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাপ্ত চূড়ান্ত স্কোরের শতকরা হারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্তোষজনক (৬৭-১০০ শতাংশ), অপর্যাপ্ত (৩৪-৬৬ শতাংশ) এবং উদ্বেগজনক (০-৩৩ শতাংশ) এই তিনটি গ্রেডিংয়ে ভাগ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশে অগ্রগতি যথেষ্ট সন্তোষজনক নয়। তথ্যের প্রবেশগম্যতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবস্থা দেখা গেলেও তথ্যের ব্যাপ্তি ও উপযোগিতার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানেই আরও কার্যকর উদ্যোগ দরকার। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে বিধিমালা অনুযায়ী অনেক তথ্য প্রকাশিত হলেও তথ্যের হালনাগাদকরণ এবং ধরন অনুযায়ী তথ্যের বিন্যাস, বিস্তৃতি ও তথ্যপ্রাপ্তির সহজলভ্যতার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দরকারি তথ্যের ঘাটতি লক্ষণীয়। এছাড়া ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় ধারণার ঘাটতিও বিদ্যমান।
সার্বিকভাবে অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট এনজিওর তুলনায় ভালো স্কোর পেয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সন্তোষজনক স্কোর পেয়েছে; প্রায় আট দশমিক পাঁচ শতাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্কোর উদ্বেগজনক। পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রথম দশটি র‌্যাংক বা অবস্থানে রয়েছে ৬৯টি প্রতিষ্ঠান, যাদের প্রাপ্ত স্কোর ৩৩ থেকে ৪২ এর মধ্যে। প্রথম স্থানে সার্বিকভাবে ৪২ স্কোর (৮৪ শতাংশ) পেয়ে যুগ্মভাবে আছে খাদ্য মন্ত্রণালয়, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয় স্থানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং যুগ্মভাবে তৃতীয় স্থানে আছে কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেতু বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা বোর্ড, শিল্প মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন চার স্কোর (আট শতাংশ) পেয়েছে আন্তঃবাহিনী নির্বাচন পর্ষদ।
অন্যদিকে, কোনো এনজিও-ই প্রথম ১০ অবস্থানে নেই, এমনকি গবেষণার মানদণ্ডে কোনো এনজিও-ই সন্তোষজনক স্কোর পায়নি; উপরন্তু ৯৪.৯ শতাংশ এনজিওর স্কোর উদ্বেগজনক। এনজিওদের মধ্যে প্রথম ১০টি অবস্থানে রয়েছে ১৯টি প্রতিষ্ঠান, যাদের প্রাপ্ত স্কোর সাত থেকে ২২ এর মধ্যে। সর্বোচ্চ স্কোর ২২ (৪৪ শতাংশ) পেয়ে প্রথম স্থানে আছে জাতীয় পর্যায়ের এনজিও কোস্টাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন, দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা আহসানিয়া মিশন ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র। প্রথম ১০টি অবস্থানের মধ্যে ছয়টি আন্তর্জাতিক এনজিও এবং তালিকার বাকি সকল ওয়েবসাইট জাতীয় পর্যায়ের এনজিওর। সার্বিকভাবে উদ্বেগজনক গ্রেডিংপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গড় স্কোর আট (শতকরা হার ১৫), অপর্যাপ্ত গ্রেডিংপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গড় স্কোর ২৭ (শতকরা হার ৫৪), এবং সন্তোষজনক গ্রেডিংপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গড় স্কোর ৩৭ (শতকরা হার ৭৫)।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের ডিজাইন এবং প্রকাশিত তথ্যের ধরন কাছাকাছি। কিন্তু এনজিও’র ক্ষেত্রে একক কোনো ডিজাইন বা ফরম্যাট দেখা যায় না। এছাড়া এনজিওর ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশের চর্চার ঘাটতিও বিদ্যমান। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যের ব্যাপ্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নির্দেশকসমূহের মধ্যে ১১টি নির্দেশকে ৫০ শতাংশ বা তার অধিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের স্কোর উচ্চ। মাত্র একটি নির্দেশকে ৭৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের স্কোর মধ্যম এবং পাঁচটি নির্দেশকে ৫০ শতাংশ বা তার অধিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের স্কোর নিম্ন।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক ও সেবা সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশের মাত্রা অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের (যথাক্রমে ৫৪.৯ শতাংশ এবং ৫৯.৪ শতাংশ) ওয়েবসাইটে সন্তোষজনক। ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশে অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্কোর (৪৫.৮ শতাংশ) অপর্যাপ্ত এবং কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্কোর (৫৪.২ শতাংশ) উদ্বেগজনক। অন্যদিকে ওয়েবসাইটে নির্দেশকের ধরনভেদে অধিকাংশ এনজিও’র (৮০ শতাংশের অধিক) সকল ধরনের তথ্য প্রকাশের মাত্রা উদ্বেগজনক এবং একটি ছাড়া সকল নির্দেশকে অধিকাংশ এনজিও’র স্কোর নিম্ন।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নে যেমন সরকারি ও বেসকারি সংস্থাসমূহের ভূমিকা ছিল, তেমনি এটির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের কাজটিও সরকারি ও বেসকারি সংস্থাসমূহের। আইনটি প্রণয়নের ১১ বছর পর এসে তথ্য প্রাপ্তির সুযোগ আগের তুলনায় বাড়লেও সার্বিকভাবে এবং মোটা দাগে তা সন্তোষজনক নয়। স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের বিষয়টি আইনগত গুরুত্ব পেলেও তার চর্চা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। এই গবেষণার প্রতিটি মাপকাঠিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও তাদের আরও উন্নতির সুযোগ ছিল। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও প্রচার গুরুত্ব পায়নি এবং এর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়নি। এখনো অনেক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটই নেই। এতে করে জনগণ প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তথ্য অধিকার আইনের সুফল হিসেবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়ার কথা থাকলেও তা পরিপূর্ণভাবে হচ্ছে না।’
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওগুলো আরও অনেক ভালো করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্কোর সন্তোষজনক তো নয়ই, উল্টো প্রায় ৯৫ শতাংশ এনজিওর অবস্থাই উদ্বেগজনক, যা হতাশার। আন্তর্জাতিক এনজিওর ক্ষেত্রেও তথ্য বিধিমালা অনুযায়ী তথ্য নেই। যেহেতু, বেসরকারি সংস্থাগুলো তথ্য অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত এবং তারা এর বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে কাজ করে, তাই তাদের স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের চর্চা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।’
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশলসমূহের মধ্যে তথ্য প্রকাশ ও তথ্যের অভিগম্যতা নিশ্চিত করা অন্যতম হলেও দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু এটিই যথেষ্ঠ নয়। এজন্য দরকার রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা, দুর্নীতিতে যারা জড়িত তাদের কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা, এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। তবে তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।’
তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের চর্চা বৃদ্ধিতে ১১ দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি। সুপারিশসমূহের মধ্যে রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও প্রচার নির্দেশিকা প্রণয়ন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এবং নির্দেশিকার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে তদারকি বৃদ্ধি করা; সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, সেবা ও সেবা প্রদানকারীর তথ্য, কর্মকর্তা কর্মচারীর ক্ষমতা ও দায়িত্ব ইত্যাদি হালনাগাদ তথ্য বিধি অনুযায়ী গুরুত্ব সহকারে প্রকাশে আরও উদ্যোগী হওয়া; তথ্য অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত আবেদনকৃত তথ্যের ধরন বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তথ্যের ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশের ব্যবস্থা করা; প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কিত অভিযোগ দায়েরের জন্য ওয়েবপেইজে সুনির্দিষ্ট স্থান রাখা এবং অনলাইনের মাধ্যমে কার্যকর নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় ও নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রচলিত ফন্টে (ইউনিকোড) প্রকাশ করা; ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনা বিভাগের জনবলের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং ওয়েবসাইটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীসহ ও ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও প্রচার সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতাবৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা; ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা এবং হালনাগাদকরণের তারিখ উল্লেখ করা; প্রতিবন্ধীদের সংশ্লিষ্ট সেবা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা, ওয়েবসাইটকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করার উদ্দেশ্যে ভয়েস অ্যাক্টিভেটেড ব্যবস্থা প্রবর্তন করা; তথ্য কমিশনসহ তথ্য অধিকার অ্যাক্টিভিস্ট ও গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে সমন্বিত প্রচারণার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বৃদ্ধি করা; তথ্য প্রকাশ ও প্রচারে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানসমূহের দক্ষতা ও সক্ষমতা পর্যবেক্ষণের জন্য তথ্য কমিশনের ক্ষমতা ও তদারকি বাড়ানো, এবং তদারকি কার্যক্রমে নাগরিক সমাজ ও জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করেন টিআইবির সাবেক গবেষক জুলিয়েট রোজেটি, ফাতেমা আফরোজ এবং কুমার বিশ্বজিত দাস। আর প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র ফেলো শাহজাদা এম আকরাম।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সমন্বয়ক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

মাদকের মামলায় পরীমনি ৪ দিনের রিমান্ডে

0

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে চার দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।
বনানী থানার মামলায় বৃহস্পতিবার রাতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রশীদের আদালতে তাকে হাজির করা হলে, আদালত এ আদেশ দেন।
পরীমনির সঙ্গে তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকেও একই মামলায় চার দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।
ঢাকা মহানগরের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অপর একটি মাদক মামলায় একই আদালত চলচ্চিত্র পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজ ও তার সহযোগী সবুজ আলী দুজনের প্রত্যেককে চার দিন করে রিমান্ডে দিয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) শেখ সোহেল রানা পরীমনি, নজরুল ইসলাম রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে সাড়ে আটটার দিকে আদালতে হাজির করেন।
আদালতে তিনি পৃথক মাদক মামলায় পরীমনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুর সাত দিন এবং নজরুল ইসলাম রাজ ও তার সহযোগী সবুজ আলীর সাত দিন রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
আদালতে এ রিমান্ডের আবেদন বাতিল চেয়ে তাদের জামিনের আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। আসামিদের পক্ষের আইনজীবী নিলাঞ্জনা হেনা আদালতে এ আবেদন জমা দেন।
শুনানি শেষে আদালত পরীমনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুর এবং নজরুল ইসলাম রাজ ও তার সহযোগী সবুজ আলীর প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ম্যাজিস্ট্রেটদের যথাযথ প্রশিক্ষণের নির্দেশ হাইকোর্টের

0

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ম্যাজিস্ট্রেটদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার মৌখিকভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সঠিক ও আইনগতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারে।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে আলাপ করতে বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন হাইকোর্টকে জানান, তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘গত কয়েকমাস ধরে পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট দেখছি যে, খাসকামরায় বসে বা থানায় বসে ঘটনা ঘটার অনেক পরে সাজা দেওয়া হচ্ছে। এভাবে মোবাইল কোর্ট সাজা দিতে পারে না। আইন অনুযায়ী তারা তো ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিচার করবে।’
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় দুই শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের সাজা দেওয়ার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া ব্যাখ্যার একটি অনুলিপি আগামী ২৬ আগস্টের মধ্যে হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আদালতে এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতকে জানান, বুধবার রাতে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে তিনি মুঠোফোনে কথা বলেছেন এবং জেলা প্রশাসন তাকে জানিয়েছেন যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই নাবালককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
প্রেমের সম্পর্কের জেরে পারিবারিকভাবে গত ১ আগস্ট নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার দুওজ ইউনিয়নের একটি গ্রামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৫ বছর) সঙ্গে তার সমবয়সী একজনের বিয়ের আয়োজন করা হয়। এ খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিয়া সুলতানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পুলিশ পাঠিয়ে তাদের আটক করে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে একমাস করে সাজা দেন। এরপর তাদের গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ঘটনা নিয়ে গত ৪ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে দণ্ড’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ইমেইলে চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
তিনি জানান, ২০১৯ সালের হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিচার করতে পারবেন না।
এরপর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম শিশু দুটিকে তাৎক্ষনিক মুক্তির নির্দেশ দেন। সূত্র -দ্য ডেইলি স্টার।

দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর বরখাস্ত

0

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অবহেলা, অসদাচরণ, অদক্ষতা ও দুর্নীতির অভিযোগে একটি বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
বুধবার রাতে ডিএসসিসি সচিব আকরামুজ্জামানের সই করা এক অফিস আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নাসিরাবাদ, দক্ষিণগাঁও, ডেমরা ও মান্ডা এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পর আওতায় ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে লায়নহাটি সড়কে আবেদ মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন দেব দোলাইখালের উপর সেতু নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হওয়ার আগেই ঠিকাদারকে সব বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক যাচাইয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার কারণে ডিএসসিসির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।
এ কারণে এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং প্রকৌশল বিভাগ অঞ্চল-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, অদক্ষতা ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
একইসঙ্গে চাকরি থেকে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি খোরাকি ভাতা পাবেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।

মহারাষ্ট্রে থানা হেফাজতে স্থান পাওয়া এক বাংলাদেশী দম্পতির করুণ কাহিনী

0

পাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হয়ে দুই বছর জেল খেটে বাংলাদেশী এক দরিদ্র দম্পতির এখন স্থান হয়েছে ভারতের মহারাষ্ট্রের থানা হেফাজতে। এই দম্পতির দেশে রয়েছে ৩ সন্তান। আইনী জটিলতায় তারা সহজে ফিরতে পারছেন না বাংলাদেশে। এ নিয়ে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এই অসহায় নারী ও তার স্বামীর করুণ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। ‘আইন আদালত’এর পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো।
ভারতে বাংলাদেশী নারী দুই বছর জেল খাটার পর স্বামীসহ দিন কাটাচ্ছেন থানায়। “আমার স্বামী জানতো না যে আমি কোথায়। এক মাস পর জেলে যখন আমাদের দেখা হলো তখন আমরা খুব কান্না করেছি। তারা আমাকে বিক্রি করতে যাচ্ছিলো, কিন্তু আমি যাইনি”।
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের ফরাসখানা পুলিশ স্টেশনে বসে বিবিসিকে একথা বলছিলেন বাংলাদেশের মাজিদা।
মাজিদা ও তার স্বামী মোহাম্মদ এখন আছেন ফরাসখানা পুলিশ স্টেশনে বা থানা ভবনেই। ফরাসখানা পুলিশ তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশের খুলনার অধিবাসী মোহাম্মদ ও মাজিদার এই ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে। দরিদ্র এই দম্পতির তিন সন্তান আছে।
মোহাম্মদ রিকশা চালাতেন, কিন্তু দুর্ঘটনায় তার এক পা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিলো। সে সময় তার র পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস রিকশাটি চুরি হয়ে যায়।
এদিকে তার মাথায় ছিলো ঋণের বোঝা। মোহাম্মদ ও মাজিদা হতাশ হয়ে পড়েছিলো। মোহাম্মদের এক বন্ধু কাজ দেয়ার আশা দেখিয়ে তাকে ভারতে যেতে অনুরোধ করলো।
তিনি আরও বললেন যে তাদের পাসপোর্ট করা সহ অন্য সব বিষয় তিনিই দেখবেন। ওই বন্ধু তাকে বাংলাদেশেই একজনের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেন যিনি তাদের ভারতে নিয়ে যান এবং পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আরেকজনের হাতে তুলে দেন। সেই ব্যক্তিই ট্রেনে করে তাদের পুনেতে নিয়ে যান।

বাংলা থেকে পুনের বুধওয়ার পেথে:
তাদের দুজনকে (মোহাম্মদ ও মাজিদা) পুনের বুধওয়ার পেথ এলাকায় নেয়া হয়। কিন্তু হঠাৎ এক পুলিশী অভিযানে আটক হন মোহাম্মদ। মাজিদাকে পাচারকারীরা একটি কক্ষে আটকে রেখেছিল। তাকে বলা হয় যে তিনি যদি তার স্বামীকে জেল থেকে মুক্ত করতে চান, তাহলে তাকে দেহব্যবসায় জড়িত হতে হবে।
কিন্তু এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে কয়েকদিন ওই কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ সময়টিতে তিনি পার্শ্ববর্তী একটি পুলিশ স্টেশনের কথা জানতে পারেন। পরে একজন বাঙ্গালী নারীর সহায়তায় তিনি সেখানে যান এবং পুরো ঘটনা খুলে বলেন। কিন্তু যেহেতু মাজিদা ও মোহাম্মদ ভারতে অবৈধভাবে এসেছেন, সেকারণে পুলিশ মাজিদাকে আটক করে। আদালতে দুজনই দোষ স্বীকার করে এবং তাদের দুই বছর তিন মাস করে জেল হয়। এই সাজার মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের ষোলই জুন। আদালত তাদের কাগজপত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো পর্যন্ত ফরাসখানা থানা হেফাজতে তাদের রাখার নির্দেশ দেয়। ফলে গত ষোলই জুন থেকে মাজিদা ও মোহাম্মদ ফরাসখানা থানার হেফাজতেই আছেন।
ওই থানার সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর রাজেন্দ্র লান্দাগে বিবিসি মারাঠি সার্ভিসকে বলেছেন, “আদালতের নির্দেশ মতো ওই দম্পতি থানা ভবন ছাড়তে পারবে না। তারা যে বাংলাদেশী তেমন সব প্রমাণ আমরা আদালতে দিয়েছি। এগুলো বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। এখানে আমাদের পুলিশ সদস্যরা তাদের থাকা খাওয়াসহ যাবতীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।”
সেই থেকে ওই থানার এক কোণে একটি কক্ষ তাদের আবাসস্থল। পুলিশ কনস্টেবল সমীর পাওয়ার নিজের ফোন দিয়ে ওই দম্পতিকে তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছেন।
ফোনে ছোট সন্তানকে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মাজিদা। তিনি তার সন্তানদের দেখার জন্য উদগ্রীব।
“আমাদের এখন যাওয়ার কোন উপায় নেই। আমার বাচ্চারা কাঁদছে। মা কাঁদছে। প্রতিনিয়ত জানতে চাইছেন যে আমরা কবে ফিরবো। কেন আমরা এতদিন এখানে। আমরা বলেছি ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলাপ করছে। বাংলাদেশ সরকার অনুমতি দিলেই তারা আমাদের ছেড়ে দিবে। বাড়িতে খাবার নাই। আমার ছেলেমেয়েরা না খেয়ে ঘুমাতে যেতে হচ্ছে,” বলছিলেন মাজিদা।
বাড়ির কথা মনে করে মোহাম্মদেরও চোখে পানি। তিনি বলছেন, “আমাদের ঘরের অবস্থা ভালো নয়। ভিক্ষা করে চলে এখন পুরো পরিবার। আমি ছিলাম একমাত্র অবলম্বন। তিন সন্তান আমার ও তাদের মায়ের ফেরার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা দেড় মাস ধরে এখানে আছি। ভারত সরকারের সাথে সব কাগজপত্র নিয়ে কাজ শেষ। জানি না বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে কি হলো। জানিনা আমাদের ছাড়া আর কতদিন পরিবার বাঁচবে”।
ফরাসখানা পুলিশ মোহাম্মদ এবং মাজিদার গ্রামের বাড়ির ঠিকানা বের করেছে। তারা মোহাম্মদের একটি পরিচয়পত্রও পেয়েছে। মাজিদার জন্ম নিবন্ধন সনদও সংগ্রহ করেছে তারা। বাংলাদেশের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদও জানিয়েছে যে মোহাম্মদ ও মাজিদাকে তারা চেনে।
মোহাম্মদ বলছেন তিনি আবার বাড়ি ফিরে কাজ করে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চান। “না হলে ভারতে আমাকে কাজের সুযোগ দিন যাতে করে অর্থ উপার্জন করে দেশে পাঠাতে পারি”।
মোহাম্মদ ও মাজিদা এখন ফেরার অপেক্ষায় এবং তাদের তিন সন্তান বাবা-মায়ের পথ চেয়ে অপেক্ষা করছে।
বাড়িতে তাদের ফোন নেই। কনস্টেবল সমীর পাওয়ার তাদের এক আত্মীয়ের ফোনে কল দিয়ে কথা বলিয়ে দেন। কিন্তু যখনই ফোন দেন মাজিদার চোখ ভরে ওঠে অশ্রুতে। বিবিসি বাংলা।

৪ মামলায় মিশু-জিসান ১৫ দিনের রিমান্ডে

0

মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা চক্রের দুই সদস্য শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান (৩১) ও তার সহযোগী মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানের (৩৯) ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করে ভাটারা থানা পুলিশ। এ সময় ৪ মামলায় তাদের ১০ দিন করে মোট ৪০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে তাদের ১৫ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ।
মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে জাল টাকা, অস্ত্র, মাদক ও অশ্লীল ভিডিও উদ্ধার করে । পরে আলাদা চারটি মামলা করা হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে।
র‌্যাব জানায়, মিশু ও তার সহযোগী জিসান একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এই চক্রের সদস্য ১০ থেকে ১২ জন। তারা রাজধানীর গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে থাকেন। পার্টিতে সব উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্যরা অংশ নেয়।
জানা গেছে, বিশেষ ক্ষমতা আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে মিশু-জিসানের বিরুদ্ধে। মিশু একসময় রাজধানীতে পেশাদার ছিনতাইকারী হিসেবে পুলিশের তালিকাভুক্ত ছিলেন। একটি গরুর ফার্মের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অস্ত্রের কারবার করে আসছিলেন।
এদিকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার মডেল পিয়াসা ও মৌয়ের সঙ্গে আর কারা জড়িত খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ। এই দুই মডেলকে ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়টিও তদন্ত করছেন তারা। বিশ্লেষণ করা হচ্ছে পিয়াসা ও মৌয়ের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত।
বারিধারার ৯ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর বাড়ির ৫ম তলার অভিজাত ভবনটির ২য় তলার ফ্ল্যাটের ভাড়া প্রতি মাসে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এম আর গ্রুপের পরিচালক পরিচয়ে ২ বছরের চুক্তিতে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা। অগ্রিম পরিশোধ করেছিলেন আরও কয়েক লাখ টাকা।
রোববার (১ আগস্ট) রাতে ফ্ল্যাটটিতে অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ ইয়াবা, বিদেশি মদ, সিসা তৈরির কাঁচামাল জব্দ করে। ভবন মালিকের অভিযোগ, মিথ্যা তথ্য দিয়ে পিয়াসা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন।
পিয়াসার দেওয়া তথ্য থেকে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার আরেক মডেল মৌ আক্তারের রয়েছে মোহাম্মদপুরে ৫ তলা আলিশান বাড়ি। নেক্সাস, পাজেরো ও টয়োটা ব্র্যান্ডের ৩টি দামি গাড়ি চালাতেন মৌ।

টিকা কেন্দ্র বসছে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে,সম্ভাব্যতা দেখে এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

1

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সব সদস্যকে দ্রুত করোনার টিকা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি টিম বুধবার এ জন্য সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন পরিদর্শন করে সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন পরিচালকের নেতৃত্বে আইনজীবী সমিতি ভবন পরিদর্শন করে টিকাদান কেন্দ্র খোলার বিষয়টি দেখে এসেছেন। আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিষ্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসে সমিতি ভবনে টিকাদান কেন্দ্র খোলার বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে গেছেন। তিনি জানান, সমিতির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, আইনজীবী সমিতি ভবনে অন্তত ১৫ দিনের জন্য যেনো টিকাদান কেন্দ্র খোলা হয়। যাতে বারের প্রত্যেক সদস্য টিকা নিতে পারেন। তিনি জানান সুপ্রিমকোর্ট বারে প্রায় ৮ হাজার সদস্য রয়েছেন। যারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে টিকা নিয়েছেন তারা ছাড়া যারা এখনো নিতে পারেন নি তারা সবাই যেনো টিকা নিতে পারেন তা নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে ১৬ জুলাই প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় সুপ্রিমকোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেলের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ জুলাইর মধ্যে দেশের সব আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে করোনা ভাইরাসের টিকা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গি টিকা কার্ডসহ টিকা গ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ১২ আগস্টের মধ্যে রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরো বলা হয়, ‘প্রত্যেক জেলার জেলা ও দায়রা জজ/মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অধীনস্থ বিচারক এবং কর্মকর্তা/কর্মচারিদের এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারক তার এবং তার অধীনস্থ কর্মকর্তা/কর্মচারিদের কোভিড-১৯ এর টিকাদান কার্ড-এর কপি সংগ্রহপূর্বক ভ্যাকসিন গ্রহণসংক্রান্ত তথ্যাবলী সংযুক্ত ছক অনুযায়ী আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে সফটকপি scinfocovid19@gmail.com-এ এবং হার্ডকপি অত্র কোর্টের রেজিস্ট্রার, হাইকোর্ট বিভাগ-এর নিকট প্রেরণ করবেন। তবে বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সবাই টিকা নিতে পারেন নি বলে জানা গেছে। কারণ নিবন্ধন করে প্রথম ডোজ টিকা নেয়ার ১২ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়ার বিধান রয়েছে। ফলে এক মাসের মধ্যে দুইডোজ টিকা নেয়ার সুযোগ নেই।
একই অবস্থা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসেও । এ অফিসের ১৮০ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর মধ্যে সবাই এখনো টিকা নেননি্ । গত সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে এক নোটিশ জারি করে বলা হয়েছে ৩১ আগষ্টের মধ্যে প্রত্যেক কর্মকর্তা কর্মচারী টিকা না নিলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমন কি বেতন বন্ধ করে দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে একমাসের মধ্যে দুই ডোজ টিকা কিভাবে নেবেন সে বিষয়ে কিছু বলা হয় নি।
আইনজীবীরা বলছেন, সমিতি ভবনে এক বা একাধিক টিকা কেন্দ্র স্থাপন করে প্রত্যেক আইনজীবীকে টিকা প্রদান নিশ্চিত করে আদালত পুরোপুরি খুলে দেয়া হোক। এ ছাড়া শুধু আইনজীবীই নন তাদের সহকারীদেরও টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

কুয়াকাটায় রাখাইনদের দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ আদালতের

0

কুয়াকাটায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী রাখাইনদের দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে প্রভাবশালীদের স্থাপনা নির্মাণ করার বিষয়টির সত্যতা জানতে চেয়েছে আদালত। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শোভন শাহরিয়ার স্বত:প্রণোদিত বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার দেয়া এক আদেশে, আগামী ৪০ কার্যদিবসের মধ্যে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন বিচারক।
আদালত বলেন, রাখাইন সম্প্রদায়ের দেবোত্তর সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় আবাসন ব্যবসায়ীর লোকজন জাল কাগজ তৈরি করে দখল করে সেমিপাকা ভবন নির্মাণ করছেন। এটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।

(দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ চলছে)।
এ বিষয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তিন দফা নির্দেশনাও দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে—গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই জমি রাখাইনদের দেবোত্তর সম্পত্তির অংশ কি না, ওই জমিতে সেমিপাকা ভবন নির্মাণাধীন কি না এবং জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরির বিষয়ে রাখাইনদের মন্দির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এমং তালুকদারের অভিযোগ সত্য কি না, তার সবিস্তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
রাখাইনদের দেবোত্তর সম্পত্তি বেহাত:
সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলোসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়,পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী রাখাইনদের দেবোত্তর সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। পুরোনো বৌদ্ধমন্দির, মন্দিরের মঠ ও ঠাকুরবাড়ির দেবোত্তর সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় এক আবাসন ব্যবসায়ীর লোকজন এই দখলদারির সঙ্গে জড়িত। ইতিমধ্যে দখলদাররা দেবোত্তর সম্পত্তিতে প্রাচীর ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছে।
রাখাইনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুয়াকাটায় ৯৯ শতাংশ জমির ওপর প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো এই সম্পত্তিতে একসময় কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার ছিল। এখানে ২০ ফুট লম্বা শায়িত বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। পাশেই রয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের মহাশ্মশান। মন্দিরটির চারদিকের জমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে। মাঝখানে মন্দিরের মঠগুলো কালের সাক্ষী হয়ে এখনো কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে। কুয়াকাটায় নবনির্মিত পৌর ভবনের পাশেই সেখানকার রাখাইন সম্প্রদায়ের এই দেবোত্তর সম্পত্তি। ২০ জুলাই গিয়ে দেখা যায়, বালু ফেলে এর মধ্যে ২০ শতাংশ জায়গা ভরাট করে ফেলা হয়েছে। সেখানে সেমি পাকা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার একটি আবাসন প্রতিষ্ঠান এই জমি স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে কিনে নেওয়ার জন্য বায়না দলিল করেছে। এই বায়না দলিলের কথা বলে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে স্থাপনা তুলছে। এ সম্পর্কে ওই আবাসন প্রতিষ্ঠানের কুয়াকাটা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর মৃধা বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান রাখাইনদের সম্পত্তি দখল করেনি। রাখাইনদের সম্পত্তির খতিয়ান এবং তাঁদের জমির খতিয়ান ভিন্ন। রাখাইনদের দেবালয় দখলের প্রশ্নই ওঠে না।

জাহাঙ্গীর মৃধা আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে জমি কিনে এবং বায়না করে স্থাপনা তুলছে। যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই সম্পত্তির কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়েছি।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে জমি কিনে বায়না দলিল করা হয়েছে। এ সম্পর্কে ইলিয়াস হোসেন বলেন, তাঁরা রাখাইনদের কাছ থেকে এই সম্পত্তি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়েছেন। তাঁদের নামে বিএস জরিপ হয়েছে।
এ সম্পর্কে রাখাইন অধিকার আন্দোলনের নেত্রী কুয়াকাটা কেরানিপাড়ার বাসিন্দা লুমা মগনী বলেন, যাঁরা ওই জমির মালিকানা দাবি করছেন, কাগজে তাঁদের জমির মালিকানা দাবির ভিত্তি নেই। জালিয়াতির মাধ্যমে বিএস জরিপে তাঁরা এই জমির মালিক বনে গেছেন।
রাখাইনদের মন্দির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এমং তালুকদার অভিযোগ করেন, পুরোনো বৌদ্ধমন্দির ও ঠাকুরবাড়ির দেবোত্তর সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে পেশিশক্তির জোরে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। এতে সহায়তা করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
কুয়াকাটার সঙ্গে রাখাইনদের ইতিহাস-ঐতিহ্য জড়িত এবং তাঁদের জীবনধারা, সংস্কৃতি কুয়াকাটাকে সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করেন স্থানীয় পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার। তিনি বলেন, রাখাইন সম্প্রদায়ের দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে কলাপাড়ার ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, রাখাইনদের দেবালয়ের জমি চিহ্নিত হওয়ার আগপর্যন্ত সেখানে সব কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকে সম্পত্তির কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। কাগজ পরীক্ষা করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শাহজালাল সার কারখানার ৩৯ কোটি টাকা আত্মসাত; ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

0

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল সার কারখানা প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ১০ জনের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত সিলেট জেলা কার্যালয়ে উপ-পরিচালক নূর ই আলম এসব মামলা করেন। বুধবার দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক এ তথ্য জানান।
আসামিরা হলেন- শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাবেক সহকারী প্রধান হিসাব রক্ষক ও হিসাব বিভাগীয় প্রধান (বরখাস্ত) খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল এবং প্রকল্পের সাবেক রসায়নবিদ (বরখাস্ত) নেছার উদ্দিন আহমদ। অন্য আসামিরা হলেন মেসার্স টিআই ইন্টারন্যাশনালের মালিক হালিমা আক্তার (আসামি খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবালের স্ত্রী), মেসার্স রাফী এন্টারপ্রাইজের মালিক নূরুল হোসেন, ফালগুনী ট্রেডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম ইসমাইল খান, মেসার্স আয়মান এন্টারপ্রাইজের মালিক সাইফুল হক, মেসার্স এন আহমদ অ্যান্ড সন্সের মালিক নাজির আহমদ, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মালিক হেলাল উদ্দিন, মেসার্স ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনালের মালিক জামশেদুর রহমান খন্দকার এবং মেসার্স সাকিব ট্রেডার্সের মালিক আহসান উল্লাহ চৌধুরী।
মামলাগুলোর এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এসব মামলা করা হয়েছে।