ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   বিকাল ৪:১৩ 

Home Blog Page 89

সেই দর্জি মনির ৪ দিনের রিমান্ডে

0

‘বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ’ নামের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনির খান ওরফে দর্জি মনিরের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডল এ রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
দর্জি মনিরের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমানুল করিম লিটন রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩ আগস্ট দর্জি মনিরের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় ঈসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, একটি ছোট দর্জির দোকানের চাকরি করতেন মনির। হঠাৎ করে নিজেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বন্ধু হন। একেক সময় একেক রাজনৈতিক পদবি, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমডি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে নিজের ছবি এডিট করে বসিয়ে নিজেকে বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দাবি করেন।
তিনি ও তার সহযোগীরা ঢাকা মহানগরী এবং বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কমিটি দেওয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেন।
ঈসমাইল হোসেন বলেন, ‘গত ৩০ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানার মাদবর বাজার ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে মনির তার সংগঠনের পদ প্রদান ও বড় বড় নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক করিয়ে দেওয়ার নাম করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে ছবি এডিট করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিজের ছবি বসিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ছবি প্রচার করে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আসছেন। এভাবে নিজেকে বড় মাপের নেতা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করতেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মনির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেকে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার করে এলাকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সৃষ্টি করেন। ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।’
প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রায় সবার সাথেই আছে তার ছবি। কিন্তু, বেশিরভাগ ছবিই ভূয়া। এসব ছবি সুপার এডিট করে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে চলা এই ব্যক্তি মনির খান ওরফে দর্জি মনিরকে চাঁদাবাজির অভিযোগ রোববার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি সব সময় থাকেন তিনি। এমনকি এসএসএফ ঘিরে থাকা অবস্থাতেও যেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা থাকেন না, সেখানেও দেখা যায় মনির খান নামের এক ব্যক্তির অবস্থান।
আবার কখনো প্রধানমন্ত্রী তার কাছ থেকে ফুলের শুভেচ্ছা নিচ্ছেন। এমনকি সজিব ওয়াজেদ জয়ের অনুষ্ঠানে তিনি তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে সবার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন জাতীয় নেতাদের মতো করেই।
এসব ছবিগুলো দেখলে তাই মনে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সবগুলোই ফটোশপের কারসাজি। তবে মনির খানের দাবি ছবিগুলোতে তিনি সত্যি সত্যি প্রধানমন্ত্রী এবং সজিব ওয়াজেদের পাশে ছিলেন।
মনির খানের মুখে নিয়মিত গল্প- আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার ওঠাবসা। নিজেকে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীও পরিচয় দেন তিনি। মূলত এক সময় দর্জির কাজ করা মনির খান কামারাঙ্গিরচরে দর্জি মনির হিসেবে বেশি পরিচিত।
শেখ হাসিনা পরিষদ নামের একটি নাম সর্বস্ব সংগঠনের প্রধান তিনি। সেই সংগঠন চালাতে এবং পদ দিতে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে মনিরের বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসাবেও পরিচয় দিতেন। অথচ যে উপকমিটির সদস্য পরিচয় দিতেন, সেই উপকমিটি এখনো গঠিতই হয়নি। তাকে চেনেনও না কেন্দ্রীয় কমিটির সংশ্লিষ্ট সম্পাদকও।

হেলেনা জাহাঙ্গীরের সহযোগী হাজেরা ও সানাউল্লাহ ৩ দিনের রিমান্ডে

0

বিতর্কিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগী হাজেরা খাতুন এবং সানাউল্লাহ নূরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
পল্লবী থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।
হাজেরা খাতুন জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম ও কথিত জয়যাত্রা টিভির জিএম (অ্যাডমিন) ছিলেন। আর সানাউল্লাহ নূরী জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার পুলিশের এসআই মোঃ আল হেলাল দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
হাজেরা খাতুনের পক্ষে আইনজীবী ফিরোজুর রহমান মন্টু এবং সানাউল্লাহ নূরীর পক্ষে আমানুল করিম লিটন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষে তাপস কুমার পাল এর বিরোধিতা করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
সোমবার রাতে গাবতলী থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরের অন্যতম সহযোগী হাজেরা খাতুন ও সানাউল্ল্যাহ নূরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বার কাউন্সিল পরিচালনায় এডহক কমিটি করেছে আইন মন্ত্রণালয়

0

করোনাভাইরাসের কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না করতে পারায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যের এডহক কমিটি গঠন করেছে আইনমন্ত্রণালয়।
পদাধিকার বলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এডহক বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।
অন্য সদস্যরা হলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আব্দুল বাসেত মজুমদার, সৈয়দ রেজাউর রহমান, মোখলেছুর রহমান বাদল, এইচ এ এম জহিরুল ইসলাম খান (জেড আই খান পান্ন),শাহ মো. খাসরুজ্জামান, মো. কামরুল ইসলাম, ঢাকা আইনজীবী সমিতির কাজী নজীবুল্লাহ হিরু, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির মুজিবুল হক, সিলেট আইনজীবী সমিতির এ এফ মো. রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু, ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতির কবির উদ্দিন ভূঞা, খুলনা আইনজীবী সমিতির পারভেজ ইসলাম খান, রাজশাহী আইনজীবী সমিতির মো. ইয়াহিয়া ও সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতির মো. আব্দুর রহমান।
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর ৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে আইন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।”
আইন সচিব মো. গোলাম সারোয়ারের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ (৮) এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ১৫ সদস্যের সমন্বয়ে এই এডহক বার কাউন্সিল গঠন করে।
“করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর কারণে নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই এডহক বার কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।”
এই এডহক বার কাউন্সিলের মেয়াদ হবে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।
এই কমিটি আগামী বছরের ৩১ মে বা তার আগে ‘বার কাউন্সিলের নির্বাচন’ সম্পন্ন করবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বার কাউন্সিলের ১ জুলাই থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করার নির্দেশনা রয়েছে প্রকাশিত গেজেটে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি সভা করে গত ৩ এপ্রিল বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
এর আগে গত ১৮ মার্চ বার কাউন্সিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৫ মে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।
তফসিল অনুযায়ী গত ২৮ মার্চ থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল শুরু হয়, ৪ এপ্রিল ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ছিল ১১ এপ্রিল। আর ১৫ এপ্রিল ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ।
পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অর্থাৎ বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল। তাকে নিয়ে ১৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি বার কাউন্সিলের।
ভোটের মাধ্যমে দেশের প্রায় অর্ধলক্ষ সনদপ্রাপ্ত আইনজীবী তিন বছরের জন্য ১৪ জন প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। তার মধ্যে সাধারণ আসনে সাতজন ও দেশের সাতটি অঞ্চল থেকে বাকি সাতজনকে নির্বাচন করা হয়।
নির্বাচিত সদস্যরা তাদের মধ্য থেকে একজনকে ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত করেন।
২০১৮ সালের বার কাউন্সিল নির্বাচনে ১৪ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে সরকার সমর্থক বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রার্থীরা ১২টি পদে এবং বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা দুটি পদে বিজয়ী হন।
পরে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হন।
বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয় জুন মাসে।

ডিজিটাল প্লাটফর্মে সাংবাদিকতার নামে এসব কী হচ্ছে ? প্রশ্ন হাইকোর্টের

0

ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোসহ বিভিন্ন কারণে বিতর্কের মুখে ফেলছে সুস্থ সাংবাদিকতাকে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্টও। মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, ‘ইদানীং সাংবাদিকতার নামে এসব কী হচ্ছে? কী এক জাহাঙ্গীর বের হয়েছে। আইপি টিভির নামে কত চ্যানেল বের হয়েছে।’
বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় আদালতের আদেশ নিয়ে ভুল সংবাদ পরিবেশন সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানিকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খানকে উদ্দেশ করে এসব কথা বলেন।
একইসঙ্গে চট্টগ্রামের যে সব পত্রিকা আদালতের আদেশ নিয়ে ভুল সংবাদ পরিবেশন করেছে, সব পত্রিকাকে সংশোধনী দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেছেন আদালত। আগামীকাল বুধবার এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।
এর আগে খুরশীদ আলম খান আদালতকে জানান, চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকা ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংশোধনী দিয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের বদলি সংক্রান্ত কোনো আদেশ স্থগিত করেনি হাইকোর্ট। এরপরও ‘দুদকের সেই কর্মকর্তার বদলির আদেশ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট’ শিরোনামে দৈনিক পূর্বকোণসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকা সংবাদ প্রকাশ করে।
‘সেই দুদক কর্মকর্তার বদলি আদেশ স্থগিত’ শিরোনামে গত ২৯ জুলাই সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক পূর্বকোণ। এ সংবাদটি গতকাল আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। তখন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘না, আমরা এমন কোনো আদেশ দেইনি।’
এ সময় আইনজীবী ওই পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি আদালতকে দেখান। তখন আদালত দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানকে ডেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাজহরুল হকের স্বাক্ষরিত হাইকোর্টের একটি আদেশের অনুলিপির বরাত দিয়ে দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়, হাইকোর্টের আদেশ বলা হয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহে জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন স্বপদে বহাল রাখার আদেশ দেন। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি করতে ওই আদেশ বলা হয়েছে।
কিন্তু লিখিত অনুলিপিতে দেখা যায়, আইনজীবী তাঁর সার্টিফায়েড কপিতে দুই সপ্তাহের জন্য স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) লিখেছেন। কোথাও স্টে (স্থগিত) লেখা হয়নি।
এ কর্মকর্তাকে সম্প্রতি পটুয়াখালীতে বদলি করে দুদক। ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। হাইকোর্ট এ বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে আবেদনটি খারিজ করে দেন।

৩১ আগস্টের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে টিকা গ্রহণের নির্দেশ

0
Office of the Attorney General at the Idaho State Capitol Building in Boise, Idaho.

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে করোনার টিকা নিতে ও টিকা গ্রহণ–সম্পর্কিত কার্ড বা টিকা সনদ প্রশাসনিক শাখায় জমা দিতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া টিকা না নিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বেতন বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণ’ বিষয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
মো. নাসির উদ্দিন জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৮০। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের যেসব কর্মকর্তা–কর্মচারী এখনো কোডিড-১৯–এর টিকা গ্রহণ করেননি, তাঁদের নিবন্ধন সম্পন্ন করে ১৬ আগস্টের মধ্যে কোভিড-১৯–এর টিকা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলো।
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী টিকা গ্রহণ–সম্পর্কিত টিকা কার্ড বা টিকা সনদ ২২ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রশাসনিক শাখায় জমা দেবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া টিকা গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বেতন বন্ধসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৪ দিনের রিমান্ডে হেলেনা জাহাঙ্গীর,আরও দুই সহযোগী গ্রেফতার

0

আলোচিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের পৃথক ৪ মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাজধানীর মিরপুর থানার প্রতারণা মামলা ও পল্লবী থানার টেলিযোগাযোগ আইনের দুই মামলায় ৪ দিন করে মোট ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমান।
এছাড়া গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি। এতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের মোট ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলো।
এর আগে দুপুরে গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে ফের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে হেলেনাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ শাহানুর রহমান।
এদিকে হেলেনা জাহাঙ্গীরের অন্যতম সহযোগী হাজেরা খাতুন এবং সানাউল্ল্যাহ নূরীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তাদের নিয়েই হেলেনা গড়ে তোলেন তার অবৈধ ‘জয়যাত্রা’ টেলিভিশন।

গত ৩০ জুলাই রাত সোয়া ১২ টার দিকে র‌্যাব গুলশান ২ নম্বরের ৩৬ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলার ৫/বি ফ্ল্যাট থেকে হেলেনাকে গ্রেফতার করে।
র‌্যাব জানিয়েছে, তার ফ্ল্যাট থেকে ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ মাদক, ১ টি হরিণের চামড়া, ১ টি বন্য পশুর চামড়া, অন্তত ১০ ধরনের বিদেশী ধারালো চাকু, বিপুল সংখ্যক বিদেশী মুদ্রা, ২ টি ওয়াকিটকি, ১ টি লাল রঙের লাগেজ ভর্তি অবৈধ জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অবৈধ দ্রব্য সামগ্রীর সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না-এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও দুই সহযোগী গেফতার:
হেলেনা জাহাঙ্গীরের অন্যতম সহযোগী হাজেরা খাতুন এবং সানাউল্ল্যাহ নূরীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। মঙ্গলবার বিকেলে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উয়িং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

(হেলেনা জাহাঙ্গীরের আরও দুই সহযোগী)।

কমান্ডার মঈন জানান, ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গের সম্মানহানি করার অপচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে হেলেনা জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে দুজন হাজেরা খাতুন (৪০) ও সানাউল্ল্যাহ নূরী (৪৭)। মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৪-এর অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ এবং দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।
র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হাজেরা খাতুন ২০০৯ সালে কুমিল্লার একটি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করেন। এরপর তিনি হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন মিরপুরে একটি গার্মেন্টস অ্যাডমিন (এইচআর) পদে চাকরি শুরু করেন। তিনি হেলেনা জাহাঙ্গীরের কাছের আত্মীয় এবং নিজের কর্মদক্ষতায় তার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।
২০১৬ সালে তিনি ‘জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন’র ডিজিএম হিসেবে নিযুক্তি পান। এরপর তিনি ‘জয়যাত্রা টিভি’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জিএম (অ্যাডমিন) পদে নিযুক্ত হন। তিনি মূলত দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ হেলেনা জাহাঙ্গীরের আর্থিক বিষয় দেখভাল করতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
জয়যাত্রা টিভি সম্পর্কে গ্রেপ্তার হাজেরা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, জয়যাত্রা টিভি ২০১৮ সাল থেকে হংকংয়ের একটি ডাউন লিংক চ্যানেল হিসেবে সম্প্রচার হয়ে আসছে। এর ফ্রিকুয়েন্সি হংকং থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে। ওই ফ্রিকুয়েন্সির জন্য হংকংকে প্রতি মাসে প্রায় ছয় লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়। হংকং থেকে বরাদ্দ ফ্রিকুয়েন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশে সম্প্রচারের কোনো বৈধ অনুমোদন নেই বলে জানান হাজেরা।
সম্প্রচারের জন্য ক্যাবল রিসিভার জয়যাত্রা টিভি বা তার প্রতিনিধির দ্বারা ক্যাবল ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। প্রতিনিধিরা ক্যাবল ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সম্প্রচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে চাকরিচ্যুত হয়ে থাকেন।
র‌্যাব আরও জানায়, এই টিভি বাংলাদেশের প্রায় ৫০টি জেলায় সম্প্রচারিত হয়ে থাকে। টিভি চ্যানেলটি রাজধানী ও জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে ব্যাপক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অধিকসংখ্যক প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা যায়। গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা প্রতিনিধিকে ৩০ থেকে ৫০০ হাজার টাকা, উপজেলা প্রতিনিধিকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা এককালীন প্রদান করতে হয়। এ ছাড়া প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।
ওই টিভি বিশ্বের প্রায় ৩৪টি দেশে সম্প্রচারিত হয়। যেখানে দেশের গুরুত্ব বিবেচনায় এক থেকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রতিনিধিরা নিয়োগ পেয়ে থাকেন। যারা প্রতি মাসে বিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করে থাকেন। নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ সংগ্রহ ও যাবতীয় হিসাবপত্র গ্রেপ্তার হাজেরা খাতুনের ওপর ন্যাস্ত বলে তিনি জানান।
হাজেরা খাতুনের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিরা নিয়োগ পেয়েছেন। হেলেনা জাহাঙ্গীরের পরিকল্পনা, উৎসাহে বা চাপে, নির্দেশনায় জয়যাত্রা টিভির কোনো কোনো প্রতিনিধি নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যক্তি প্রচার, প্রার্থিতা প্রচার, সাক্ষাৎকার ইত্যাদির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ গ্রেপ্তারকৃতদের মাধ্যমে হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রহণ করে থাকতেন বলে তারা জানান।
যে সমস্ত বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে প্রচারিত হতো না সেগুলো জয়যাত্রা টিভিতে প্রচার করা হতো। যেমন : তাবিজ-কবোজ, টুটকা-ফাটকা, ভাগ্য বলে দিতে পারে, জ্বীনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, ফাঁড়া কেটে যাওয়া এবং গোপন সমস্যার সমাধান ইত্যাদি।
জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন সম্পর্কে হাজেরা খাতুন আরও জানান, ফাউন্ডেশনে ডোনার, জেনারেল মেম্বার, লাইফ টাইম মেম্বার ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এই সংগঠনের প্রায় ২০০ জন সদস্য রয়েছে। তাদের কাছ থেকে সদস্য পদ বাবদ ২০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এর কিছু অংশ মানবিক কাজে ব্যবহার করে জয়যাত্রা টিভি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হতো। অবশিষ্ট অর্থ তার সন্তানদের নামে সঞ্চয় করা হতো।
গ্রেপ্তারকৃত সানাউল্ল্যা নূরী সম্পর্কে র‌্যাব জানায়, তিনি জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি সমন্বয়ক ছিলেন। তিনি হেলেনা জাহাঙ্গীরের নির্দেশনায় প্রতিনিধিদের সমন্বয় সাধন করতেন। প্রতিনিধিদের কেউ মাসিক টাকা দিতে ব্যর্থ হলে বা গড়িমসি করলে তিনি ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতেন। এলাকায় তার নামে চাঁদাবাজি অভিযোগ রয়েছে। তিনি গাজীপুর গার্মেন্টস সেক্টরে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে তার একটি অংশও জয়যাত্রা টিভিতে প্রদান করতেন বলে জানান। এ ছাড়া তিনি গাজীপুর ও তদসংলগ্ন এলাকার অনুমোদনহীন জয়যাত্রা টিভির সম্প্রচার নিশ্চিত করতেন।

ঈশিতা, মৌ ও পিয়াসা রিমান্ডে

0

ভুয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী পরিচয় দিয়ে গ্রেফতার ইশরাত রফিক ঈশিতা ও তার সহযোগী শহিদুল ইসলাকে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
আর বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবা ও সিসাসহ গ্রেফতার মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌয়ের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার (২ আগস্ট) পৃথক পৃথক শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলামের ও আশেক ইমামের আদালত এদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

(ভুয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ঈশিতা)

আদালতে হাজির করে পুলিশ গুলশান থানার মাদক মামলায় পিয়াসাকে দশ দিন ও মোহাম্মদপুর থানায় মাদক আইনের মামলায় মৌকে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত এদের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
গত রোববার রাতে প্রথমে রাজধানীর বারিধারায় মডেল পিয়াসার বাসায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। তার বাসা থেকে বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার করে। পরে পিয়াসার দেয়া তথ্যে আরেক মডেল মরিয়ম আক্তার মৌয়ের মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসায় অভিযান চালায়। তার বাসা থেকেও বিপুল পরিমাণ মদ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মডেল পিয়াসা ও মৌ সংঘবদ্ধ একটি চক্র। তারা পার্টির নামে উচ্চবিত্তদের বাসায় ডেকে মদ ও ইয়াবা খাইয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখতেন। পরে সেই ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন। তাদের বিরুদ্ধে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের মে মাসে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে নাম ছিল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসার। প্রথমে মামলা করতে ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করেছিলেন পিয়াসা। কিন্তু সেই পিয়াসার বিরুদ্ধেই আবার মামলা তুলে নেয়ার হুমকির অভিযোগে জিডি করেছিলেন ভুক্তভোগী। এদিকে ভুয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক, বিশিষ্ট আলোচক এবং কূটনীতিক পরিচয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে গ্রেফতার ইশরাত রফিক ঈশিতা ও তার সহযোগী শহিদুল ইসলাম দিদারের বিরুদ্ধে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
দুই আসামিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর রাজধানীর শাহআলী থানার প্রতারণা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের পৃথক মামলায় ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মো. আশেক ইমাম প্রতারণার মামলায় ৩ দিন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রোববার সকালে মিরপুর থেকে ঈশিতা ও তার সহযোগী দিদারকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৪। এ সময় তার বাসা থেকে ভুয়া আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, সিল, সনদ, প্রত্যয়নপত্র, পাসপোর্ট, ল্যাপটপ, ইয়াবা, বিদেশি মদ ও ভুয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদের দুটি ইউনিফর্ম এবং র‌্যাঙ্ক ব্যাজ উদ্ধার করা হয়। সোমবার সকালে তাদের বিরুদ্ধে মিরপুরের শাহআলী থানায় তিনটি মামলা করা হয়।

ভার্চুয়াল কোর্ট চালু রাখতে অসুবিধা কোথায়? প্রশ্ন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের,বাড়ছে মামলা জট

2

লকডাউনে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু রাখতে অসুবিধা কোথায়? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীরা। তারা বলছেন, ভার্চুয়াল কোর্টে বিচারক ও আইনজীবীরা নিজ নিজ বাসা বা চেম্বার থেকে বিচার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন। স্বাস্থ্য বিধি মেনে দু’একজন স্টাফও রাখতে পারেন। কিন্তু তারপরও লকডাউনে ভার্চুয়াল কোর্টে বিচার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হচ্ছে কেনো? লকডাউনে হাইকোর্ট বিভাগে মাত্র তিন প্রকৃতির তিনটি বেঞ্চ ভার্চুয়ালি খোলা রাখা হয়েছে। আর নিম্ন আদালতে একটি করে আদালত খোলা রাখা হয়েছে। এগুলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও প্রবেশ করতে পারছেন না এমন অভিযোগ বেশিরভাগ আইনজীবীর।
সরকারের দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ছিল ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার জন্য আইন প্রণয়ন করা। এর ফলে বিচার ব্যবস্থা মামলা জটের কারণে যে স্থবির হয়ে পড়ার আশংকা ছিলো তার কিছুটা্ হলেও উত্তোরণের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু কোর্ট প্রশাসন এই উদ্যোগটি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে নি বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে সরকার ঘোষিত লকডাউনে আদালতের ভার্চুয়াল বিচার কার্যক্রমও বন্ধ থাকছে। এ নিয়ে নানামুখি আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে মামলার ভারে স্থবির হয়ে পড়া বিচার ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রের জরুরী সেবার আওতায় আনা দরকার।
করোনা মহামারীতে দেড় বছরেরও বেশীসময় আদালতের স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মামলার ভয়াবহ জট তৈরি হচ্ছে। বিচার প্রার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। আইনজীবীরা পেশাগত আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিচারাঙ্গনে এই ত্রিমুখি সংকট দেশের আর সব অঙ্গনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বলাবলি হচ্ছে, করোনা মহামারী শুরুর পর থেকে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একবারে বন্ধ হয়ে আছে, আর দ্বিতীয় বন্ধের তালিকায় আছে বিচারাঙ্গন। করোনাকালিন সময়ে হাসপাতাল, পুলিশ, ব্যাংক, সিভিল প্রশাসন, মিডিয়া থেকে শুরু করে বেসরকারি খাতের কার্যক্রমও কমবেশী চললেও স্থবির হয়ে গেছে বিচারালয়।

অথচ করোনা শুরু হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে সরকারের আইনমন্ত্রণালয় সশরীরের বিচারকাজের বিকল্প ভার্চুয়াল বিচার কাজ করার জন্য অধ্যাদেশ জারি করে এক যুগান্তকারী নজির সৃষ্টি করে। এর ফলে আদালতে উপস্থিত না হয়ে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ করার সুযোগ সৃস্টি হয়। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিচারাঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা এই ভার্চুয়াল বিচার পদ্ধতি যথাযথভাবে কাজ লাগাতে পারছেন না। সব আদালত ভার্চুয়ালি চালাতে তারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে সরকার ঘোষিত লকডা্উনে বিচরকার্যক্রমও বন্ধ থাকছে। অথচ ভার্চুয়াল বিচারকার্যক্রম চলতে লকডাউন কোনো বাধা ছিলনা বলে মনে করেন আইন ও বিচারাঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত গতবছরের মার্চ মাসে করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সারাদেশে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে অবস্থান করার নির্দেশনা জারি করে। ফলে দেশের অফিস আদালত করকারখানা ব্যবসা বাণিজ্য সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। চরম সংকটকালীন সময়ে সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় মামলা জট। কারণ দেশের আদালতগুলোতে এই সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রায় ৪০ লাখ মামলা বিচারাধিন। এর মধ্যে হাইকোর্টেই বিচারাধিন সাড়ে চার লাখ মামলা। আপিল বিভাগে আছে ২০ হাজারের বেশি। বাদবাকি নিম্ন আদালতে। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্যেই এতো বিপুল সংখ্যক মামলা নিস্পত্তি কেমনে হবে এনিয়ে চিন্তায় চোখে সরষে ফুল দেখেন রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা। এর মধ্যে দিনের পর দিন আদালত বন্ধ থাকায় তা আরো বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই দুশ্চিন্তার আপাতত সমাধান হয়ে আসে ভার্চুয়াল কোর্ট। বিশ্বজুড়ে এই মহামারির মধ্যে পাশের ভারতসহ অনেক দেশের আদালতেই এই পদ্ধতি চালু করে ফেলে। বাংলাদেশ সরকারও বিশেষ করে, আইন মন্ত্রণালয় ত্বরিৎ উদ্যোগ নেয়। ২০২০ সালের ৯ মে আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। (অধ্যাদেশটি ৯ জুলাই আইনে পরিণত হয়)। ফলে অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়। অধ্যাদেশের বিধান অনুসারে, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল কোর্টের জন্য পৃথক প্রাকটিস ডাইরেকশন, আইনজীবীদের জন্য ভার্চুয়াল কোর্টরুম ব্যবহার ম্যানুয়াল, অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানি করতে বিশেষ প্রাকটিস নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। প্রাকটিস ডাইরেকশনসহ ম্যানুয়ালে ব্যবহারিক দিক-নির্দেশনা রয়েছে।
১১ মে (২০২০) থেকে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে হাইকোর্টের পৃথক ১৩টি বেঞ্চে এবং আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম চালু হয়। পরে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রমও পরিচালনা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে নিম্ন আদালতেও জামিন ও অতি জরুরী ফৌজদারি মামলার শুনানি ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে হতে থাকে। আইনজীবী ও বিচারপার্থীরা কিছুটা হলেও স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেন।
কিন্তু বিপত্তি ঘটে লকডাউনের ক্ষেত্রে। করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে গেলে তা ঠেকাতে সরকার দফায় দফায় লকডাউ্ন দিচ্ছে। লকডাউনে সবকিছু বন্ধ রাখা হয়। খোলা থাকে শুধু জরুরী সেবাসমুহ। হাসপাতাল ,আইনশৃংখলা বাহিনী, ব্যাংক,শেয়ার বাজার, বিদ্যুৎ,গ্যাস ,পানি, মিডিয়া এমন কী গার্মেন্টস শিল্পও খোলা রাখা হয়। কিন্তু বিচার ব্যবস্থা যেহেতু জরুরী সেবার আওতার মধ্যে পড়ে না ফলে বিচরালয় বন্ধ থাকে।
এ নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীরা। তারা বলছেন, ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে যদি ঘরে বসেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় তা হলে লকডাউনে তা বন্ধ থাকবে কেনো?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুপ্রিমকোর্টের বেশ কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, লকডাউন না থাকলেও ভার্চুয়াল পদ্ধতিকেই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে এবং দেখা যাচ্ছে হাইকোর্ট বিভাগের ৩৫ থেকে ৩৮টি বেঞ্চে বিচার কার্যক্রম চলেছে। যদিও জরুরী মামলাই শুনানি হয় তারপরও আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা কিছুটা হলেও রিলিফ পাচ্ছেন। কিন্তু সরকার লকডাউন ঘোষণা করলেই ভার্চুয়াল কোর্টের সংখ্যা কমিয়ে দেয়া হয়। যেমন জুলাই মাসের প্রায় পুরোটাই লকডাউনে কাটলো এবং ৫ আগষ্ট পর্যন্ত লকডাউন। আর এই লকডাউনে হাইকোর্টে মাত্র ৩টি বেঞ্চে ভার্চুয়াল বিচার কার্যক্রমের জন্য রাখা হয়েছে। এটার কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না আইনজীবীরা। তারা বলছেন ভার্চুয়ালিই যদি হয় তা হলে সবগুলো বেঞ্চ চালু রাখতে সমস্যা কোথায়? একজন আইনজীবী জানান, হাইকোর্টে ৩ টি ভার্চুয়াল কোর্ট চালু রাখা হয়েছে। কিন্তু ৩ টা বেঞ্চ ৩ ধরণের মামলা শুনছে। সারাদিন অপেক্ষা করেও সিরিয়াল পাওয়া যায় না, মামলা শুনানি করা যায় না। একই অবস্থা নিম্ন আদালতের ক্ষেত্রেও। হাইকোর্টের ৩৮টি বেঞ্চ ভার্চুয়ালি পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও লকডাউনের সময় কেনো আগের মতো বেঞ্চ গঠন করা হলো না তার কোনো জবাব পাচ্ছেন না। একই ভাবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলে, চিফ জুডিশিয়াল ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট একটি করে চালু রাখারও কোনো যুক্তি আইনজীবীরা খুঁজে পাচ্ছেন না।
আইনজীবীরা বলছেন, ৪০ লাখ মামলা নিস্পত্তি আর মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিচারবিভাগকে জরুরী সেবার আওতায় আনতে হবে। এজন্য দ্রুত দেশের সব আদালত সশরীরে না হলেও ভার্চুয়ালি বিচার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। না হলে বিচার বিভাগ ভেঙে পড়বে, ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে পড়বে। বিচারের প্রতি যদি মানুষের অনীহা আসে তাহলে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।
উদ্বুত পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিশন গঠনেরও কথা বলছেন কোনো কোনো আইনজীবী। এই কমিশন মতামত দেবেন কীভাবে মামলা নিষ্পত্তি করা যায়।
আইনজীবীদের কথা, কোর্ট ম্যানেজমেন্ট যদি চায় তাহলে সশরীরেও কোর্ট চালানো সম্ভব। নিম্ন আদালতে এতো মানুষের ভিড় করার দরকার নেই। নির্দিষ্ট মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে যারা কেবল মামলার আসামি,তারাই হাজিরা দেবেন,এমন বিধান করা যেতে পারে।
সাধারণ আইনজীবীরা বলছেন,আদালত বন্ধ থাকায় তারা আর্থিক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থীরাও পড়েছেন দুর্ভোগে। একজন আইনজীবী জানান, তাঁর এক মক্কেল কারাগারে আছেন। জামিনযোগ্য মামলা। আরও ৩ মাস আগেই তার জামিন হয়ে যেতো। কিন্তু আদালতে তিনি আবেদনই করতে পারছেন না। বলেন যদি সবগুলো কোর্ট ভার্চুয়ালি চলতো তা হলে তিনি হয়তো আবেদন করতে পাতেন,শুনানি করতে পারতেন।
একজন আইনজীবী বললেন আরও কঠিন কথা। যদি লকডাউনে পুলিশ আসামী ধরতে পারে, তা হলে আসামির জামিন চাওয়ার জন্য আদালতও খুলে রাখতে হবে।
আইনজীবীরা গণমাধ্যমের লোকদের কাছে তাদের মনের কথা বলতে চান নাম প্রকাশ না করার শর্তে । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে মতামত প্রকাশ করছেন তারা। তাদের মধ্যে ভয়, কোনো কিছু বলে যদি আবার বিচারালয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন। ইতিমধ্যে ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দেয়ায় হাইকোর্টের একজন আইনজীবী আদালত অবমাননার মুখে পড়েছেন। ফলে ভয় ও পেশার আতঙ্কে আইনজীবীরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছেন না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা গুমরে মরছেন। সাধারণ আইনজীবীরা এ জন্য দেশের বিচারাঙ্গন ও সংবিধানের রক্ষক প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তারা বলছেন, বাস্তবতা বিবেচনায় প্রধানবিচারপতি চাইলেই দেশের সব আদালত ভার্চুয়ালি চালু করার নির্দেশনা দিতে পারেন। তারা এ জন্য আইনমন্ত্রীরও সহায়তা চেয়েছেন।

শুল্কমুক্ত কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি, ডিবির অভিযানে গ্রেফতার ১১

0

শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে একটি চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিউমার্কেট ও তেজগাঁও এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া তাঁদের কাছ থেকে ৫০৮ রোল পর্দা উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার। তিনি বলেন, উদ্ধার করা এসব পর্দার মূল্য প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। গ্রেফতার ওই ১১ জন হলেন শাহাদাত হোসেন, সাইফুল ইসলাম, রুবেল আকন, মনির হোসেন, রবিন, শাহিন হাওলাদার, মাসুম, আরিফ হোসেন, সোহাগ ফরাজী, নাজিম ও কামাল হোসেন। রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় তাঁদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, আসামিরা বন্ড সুবিধায় বিদেশ থেকে শুল্কমুক্ত কাপড় আমদানি করে থাকেন। পরে এসব কাপড় অতিরিক্ত লাভের আশায় সুবিধামতো চোরাই পথে খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছিলেন। এর ফলে দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব কাপড় চীন থেকে চট্টগ্রামে আসে। পরে কাপড়গুলো নেওয়া হয় ময়মনসিংহের ভালুকায়। কাপড়গুলো ঢাকায় আনার পর তা জব্দ করা হয়।

ডিবির এই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, আইন অনুযায়ী, বন্ডের পণ্য রপ্তানি ছাড়া দেশের অন্য কোথাও বিক্রি করা যাবে না। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। প্রাথমিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। দেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা যে পণ্য উৎপাদন করছে, তার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, বন্ডের সুবিধায় বাংলাদেশের আড়াই থেকে তিন হাজার গার্মেন্টস এসব কাপড় নিয়ে আসে। তবে বন্ড সুবিধায় আনা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র কাপড়গুলো চোরাই বাজারে বিক্রি করে। এতে আমাদের বস্ত্র খাত হুমকির মধ্যে পড়ছে।’
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রাজীব আল মাসুদের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হাসান আরাফাত ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মধুসূদন দাসের নেতৃত্বে অপরাধী চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির গণমাধ্যম ও গণসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ফারুক হোসেন, এডিসি ইফতেখারুল ইসলাম প্রমুখ।

গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে চিত্রনায়িকা একা আটক

0

রাজধানীতে হাজেরা নামের এক গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে চিত্রনায়িকা একাকে আটক করেছে হাতিরঝিল থানার পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। আর ভুক্তভোগী গৃহকর্মী হাজেরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ গোলাম আজম। জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে সন্ধ্যায় একা নামের এক নারীর বাসা থেকে গৃহকর্মী হাজেরাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর আটক করে থানায় আনা হয় ঢাকাই সিনেমার একসময়ের এই নায়িকাকে।
সুচিকিৎসার জন্য হাজেরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিদর্শক মোহাম্মদ গোলাম আজম বলেন, গৃহকর্মী হাজেরাকে মারধর করায় চিত্রনায়িকা একার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।