ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   বিকাল ৫:২৯ 

Home Blog Page 90

হারিছ চৌধুরী কোথায় ?

0

খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী কোথায় আছেন কেউ জানেনা। ১৪ বছর ধরে তিনি নিখোঁজ। তার সন্ধানে গোয়েন্দারা দেশে বিদেশে নানা অনুসন্ধান চালিয়েও কোনো হদিস পাচ্ছে না। সিলেটে তার পরিবারের লোকজন এবং আত্মীয় স্বজনরাও হারিছ চৌধুরী সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না বা দেননা। ফলে খালেদা জিয়ার প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক সচিব লাপাত্তা হয়ে কোথায় গেলেন তা নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামাতের ক্ষমতাকালীন প্রধানমন্ত্রীর দাপুটে রাজনৈতিক সচিব ছিলেন হারিছ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বসলেও তার মূল ক্ষমতার উৎস ছিল হাওয়া ভবন। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ফখরুদ্দীন -মঈনুদ্দিন সরকার গঠনের পর থেকে হারিছ চৌধুরী হাওয়ায় মিলিয়ে যান। তার কোনো সন্ধান পায়নি ওয়ান-ইলেভেন সরকার। এ সময় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে হারিছ চৌধুরীকে খুঁজতে থাকে গোয়েন্দারা । কিন্তু তার সন্ধান আর মেলেনি। গত ১৪ বছর ধরে তিনি কোথায় আছেন তা স্পষ্ট করে কেউ জানে না।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আলোচিত হাওয়া ভবনের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন হারিছ চৌধুরী। এ ক্ষমতা বলে তিনি দাবড়ে বেড়াতেন সবখানে।

হারিছ চৌধুরীর পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর কেউ বলছেন, তিনি এখন ভারতের করিমগঞ্জেই রয়েছেন। সেখানে তার মামা বাড়ি। সেখানে প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসা। সেখানকার একজন আত্মীয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আবার অন্য সূত্রগুলো বলছেন হারিছ চৌধুরী লন্ডন রয়েছেন। তিনি সেখানে নির্ভৃতে জীবন যাপন করছেন। মাঝেমধ্যে তাকে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় মুখভর্তি দাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। তবে কোনো সূত্রই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না তিনি কোথায় আছেন।

হারিছ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। তার নানাবাড়ি ভারতের করিমগঞ্জে। নানাবাড়িতে যাওয়া-আসার সুবাদে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল সম্পর্কে আগে থেকেই জানাশোনা রয়েছে তার।
চারদলীয় জোট সরকারের বিদায়ের পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে পতন ঘটে হাওয়া ভবন সাম্রাজ্যের। একের পর এক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হতে থাকেন হারিছ চৌধুরী। এরপর নিজেকে রক্ষা করতে ২০০৭ সালের ২৯ জানুয়ারি জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে ভারতে পালিয়ে যান বিএনপি সরকারের দাপুটে এই নীতিনির্ধারক। ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আর দেশমুখী হননি তিনি। গুজব রয়েছে, ২০১৫ সালে গোপনে দেশে এসেছিলেন হারিছ চৌধুরী। কিছুদিন সিলেটে অবস্থান করে নিজের সহায়-সম্পত্তি বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে ফের চলে যান ভারতে। সিলেটে হারিছ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানান, ২০১৫ সালের পর থেকে প্রায় দুই বছর দেশে কারোর সঙ্গেই যোগাযোগ করেননি হারিছ চৌধুরী। তখন তিনি মারা গেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে গত বছর থেকে দেশে নিজের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে ফের যোগাযোগ রাখছেন। দেশের রাজনীতি ও রেখে যাওয়া সম্পত্তির খবরও রাখছেন তিনি। হারিছ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সিলেট বিএনপির এক নেতা জানান, বিভিন্ন দেশ ঘুরে বর্তমানে লন্ডনেই থিতু হয়েছেন হারিছ চৌধুরী।

তবে আরেক সূত্রের খবর, ভারতের করিমগঞ্জে তার মামাবাড়ির আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে পুরনো ব্যবসা রয়েছে। হারিছ চৌধুরীও জড়িয়ে পড়েছেন ব্যবসায়। তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবসার সঙ্গে হারিছ চৌধুরী জড়িত, তা খোলাসা করতে চাননি তিনি। সেখানে প্রকাশ্যেই চলাফেরা করেন হারিছ চৌধুরী। সেখানে বাংলাদেশি কিছু ব্যবসায়ী থাকলেও হারিছ চৌধুরীর চেহারা ও বেশভূষায় খানিকটা পরিবর্তন আসায় তাকে সবাই চিনতে পারেন না। সেখানকার ব্যবসায়ীরা তাকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবেই জানেন। সূত্র জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে নিজের আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ সিলেট বিএনপির এক নেতার সঙ্গে ইন্টারনেট কলিংয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন হারিছ চৌধুরী। প্রায় আধা ঘণ্টার সেই আলাপে রাজনীতি, দেশে ফেরা-না ফেরা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলাপ করেন তিনি। ওই সময় বিএনপি নেতাকে তিনি জানান, তিনি সুস্থ আছেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। তিনি দেশে ফিরতে চান। দেশে ক্ষমতার বদল ঘটলে এবং খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্বে থাকলে তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানান। হারিছ চৌধুরীর স্ত্রী ও সন্তানরাও রয়েছেন দেশের বাইরে। তার স্ত্রী একমাত্র মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে আছেন। সেখানে ব্যারিস্টারি করছেন মেয়ে। হারিছ চৌধুরীর ছেলে নরওয়েতে একটি তেল কোম্পানিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, সন্তানদের সঙ্গে হারিছ চৌধুরীর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সূত্র বলছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিজের নানাবাড়ি আসামের করিমগঞ্জে আত্মগোপন করে ছিলেন হারিছ চৌধুরী। তিনি ভারতে যাওয়ার কয়েকদিন পর তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা বস্তায় ভরে সীমান্ত দিয়ে সেখানে পাঠানো হয়। করিমগঞ্জ থেকে মেঘালয়ে গিয়ে কিছুদিন থাকেন তিনি। পরে ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে যান। সেখান থেকে ইরানে ভাই আবদুল মুকিত চৌধুরীর কাছে যান হারিছ চৌধুরী। কয়েক বছর সেখানেই ছিলেন। মুকিত চৌধুরী ইরানে একটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন। তবে মুকিত চৌধুরী মারা যাওয়ার পর আর ইরানমুখী হননি হারিছ। হারিছ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামি হওয়ার আগে দেশে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এজন্য বিএনপি স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন হারিছ চৌধুরী। কিন্তু ওই সময় দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাকে দেশে ফিরতে নিষেধ করেন।

সূত্রটি জানিয়েছে হারিছ চৌধুরী এখন ক্যান্সারে আক্রান্ত। এ প্রসঙ্গে জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের যুক্তরাষ্ট্র শাখার একজন দায়িত্বশীল নেতা লন্ডনে বসবাসরত হারিছ চৌধুরীর এক নিকটাত্মীয়ের বরাত দিয়ে জানান, ‘হারিছ চৌধুরী ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। নিয়মিত রক্ত পরিবর্তন করতে হয়। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে দুইবার তিনি আমেরিকাতে চিকিৎসা করালেও আরোগ্য লাভ হয়নি।
জৌলুস নেই চৌধুরী বাড়ির:
হারিছ চৌধুরী’ ঢাকা থেকে সিলেটের কানাইঘাটে গ্রামের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন হেলিকপ্টারে। রাজকীয় বাড়ি বানিয়েছিলেন। নাম দিয়েছিলেন চৌধুরী বাড়ি। তিনি গ্রামে অবস্থানকালে এক মুহূর্তের জন্যও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটত না। প্রভাব খাটিয়ে বাড়ির ভেতরেই পোস্ট অফিস, কৃষি ব্যাংক, মডেল স্কুল, তফশিল অফিস, দাতব্য চিকিৎসালয়, এমনকি পুলিশ ফাঁড়িও স্থাপন করিয়েছিলেন। আশপাশের সব রাস্তা কাঁচা হলেও তাঁর বাড়িতে যাওয়ার আড়াই কিলোমিটার রাস্তা পিচঢালা। বাড়ির ভেতর নির্মাণ করা হয়েছিল নজরকাড়া বাংলো, ছিল চিড়িয়াখানাও। চৌধুরীবাড়ির সেই জৌলুস এখন আর নেই। কারণ বাড়ির ‘প্রাণপুরুষ’ সেই চৌধুরী ১৪ বছর ধরে ‘নিখোঁজ’।
যে সব মামলায় দণ্ডিত হারিছ চৌধুরী:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০১৮ সালে যাবজ্জীবন সাজা হয় হারিছ চৌধুরীর।
একইবছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটাবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হারিছ চৌধুরীর সাতবছরের জেল ও দশ লাখ টাকা জরিমানা হয়েছে। এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও সাজা হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার এক মামলায় হারিছ চৌধুরীসহ ২৮ জনের জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।মামলাটি বিচারাধিন রয়েছে। এ ছাড়া গুশলানে সরকারি বাড়ি দখল করায় দুদকের আমলার আসামিও হারিছ চৌধুরী।

নি‌র্দোষ প্রমা‌ণিত হলেন বাংলা‌দেশি বং‌শোদ্ভূত ব্রিটিশ এম‌পি আফসানা

0

প্রতারণার মামলা থেকে খালাস পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি আফসানা । ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লেবার পার্টির এমপি আফসানা বেগমকে ‘প্রতারণা করে ফ্ল্যাট পাওয়ার’ মামলা থেকে খালাস দিয়েছে আদালত।
শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্ট এ মামলার তিনটি অভিযোগ থেকেই আফসানা বেগমকে অব্যাহতি দিয়েছে।
পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস আসনের এই এমপির বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য ‘গোপন করে’ এবং ‘প্রভাব খাটিয়ে’ লন্ডন কাউন্সিলের তিন লাখ ডলার দামের একটি ফ্ল্যাট পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছিল এ মামলায়।
আদালতে আফসানা বলেন, তার ‘কর্তৃত্ববাদী’ সাবেক স্বামীই তার আর্থিক বিষয়গুলো দেখভাল করতেন। ফ্ল্যাটের জন্য তিনি নিজে ওই আবেদন করেননি। ফ্ল্যাটের জন্য কাগজপত্রে নিজের নাম দেখে তিনি ‘মর্মাহত’ হয়েছেন।
‘অসৎ উদ্দেশ্যে’ এসব অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও শুনানিতে দাবি করেছিলেন আফসানা। আদালতের রায়ে সব অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
লেবার পার্টির এই এমপি এক বিবৃতিতে বলেন, “এ মামলার ফলে আমাকে দুর্দশায় পড়তে হয়েছে এবং সামাজিকভাবে আমার ভাবমূর্তি ধ্বংস করেছে।”
২০১৯ সালের ব্রিটিশ নির্বাচনে টাওয়ার হ্যামলেটস বারার পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস আসন প্রথমবার নির্বাচন করেই জিতে যান ৩০ বছর বয়সী আফসানা। পরের বছর তার বিরুদ্ধে এই মামলা করে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।
মামলায় বলা হয়, টাওয়ার হ্যামলেটস বারায় বাবার পরিবারের সঙ্গে থাকার সময় ২০১১ সালে ফ্ল্যাটের জন্য লন্ডন কাউন্সিলে আফসানার নামে আবেদন জমা পড়ে। পরে তিনি ২০১৩ সালে স্বামীর বাড়িতে ওঠেন।
আফসানার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, স্বামীর বাড়িতে চলে যাওয়ায় তার আর ফ্ল্যাটের দরকার ছিল না। কিন্তু সে কথা তিনি কাউন্সিলকে অবহিত করেননি।
তাছাড়া আফসানার নামে জমা পড়া আবেদনে বলা হয়েছিল, তিন কক্ষের একটি বাসায় গাদাগাদি করে তাকে থাকতে হয়। সে অবস্থা বিবেচনা করেই তাকে ফ্ল্যাট বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়। অথচ ২০০৯ সালে তার খালার করা আবেদনপত্রে দেখা যায় ওই বাড়িতে চারটি বেডরুম আছে।
আফসানা বেগম বরাবরই আদালতে বলেছেন, ওই বাড়িতে তিনটি বেডরুমই ছিল এবং সেখানে তার নিজের কোনো আলাদা বেডরুম ছিল না। তার খালা কেন চারটি বেডরুমের কথা বলে আবেদন করেছেন, সেটা তার জানা নেই।
শুনানিতে তিনি বলেন, এহতেশামুল এক ‘কর্তৃত্ববাদী’ পুরুষ, সব সময় ‘জবরদস্তি’ করতেন। তার আর্থিক বিষয়াদি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন সাবেক স্বামী। ওই সময়টাতেই তার নামে ফ্ল্যাটের জন্য আবেদন করা হয়, তিনি নিজে সেই আবেদন করেননি।
শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া রায়ে খালাস পান ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এই সদস্য।
আফসানার জন্ম ও বেড়ে ওঠা টাওয়ার হ্যামলেটসে হলেও বাংলাদেশে তাদের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। এক সময় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আবাসন বিভাগে চাকরি করতেন তিনি।
কুইনমেরী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতিতে লেখাপড়া করা আফসানার বাবা মনির উদ্দিন টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলর ছিলেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীর ৩ দিনের রিমান্ডে

0

র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এদিকে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় আরও একটি মামলা হয়েছে।
গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম শুক্রবার রাতে জানান, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো একত্রিত রেখে দ্বিতীয় মামলা করা হয় হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।”
এই মামলাতেও রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া রাতেই মিরপুরের পল্লবী থানায় আরো কয়েকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসা থেকে দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‍্যাব। তখন তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্মানহানি করার অপচেষ্টার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখায়। আজ শুক্রবার র‍্যাব সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন শেষে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।
হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সংগঠনের নীতিবহির্ভূত হওয়ায় কদিন আগে আতাকে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
নামের সঙ্গে লীগ যুক্ত করে গড়ে ওঠা আওয়ামী লীগের অনুমোদনহীন একটি সংগঠনের সভাপতি পদে নাম আসার পর তার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিয়েছে দলটির মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটি।
জয়যাত্রা গ্রুপের কর্ণধার হেলেনা জাহাঙ্গীর নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন। সম্প্রতি ফেসবুকে বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নাম আসে। সব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তিনি অস্বীকার করেছেন।

সাংসদ অধ্যাপক আলী আশরাফ আর নেই

0

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আওয়ামী লীগ দলীয় প্রবীণ সাংসদ ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ আর নেই। শুক্রবার বিকেল তিনটা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। সাংসদের ছেলে ও চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ তাঁর বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মৃত্যুকালে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি সবার কাছে ‘আশরাফ ভাই’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি চান্দিনা থেকে পাঁচবার সাংসদ নির্বাচিত হন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংসদ মো. আলী আশরাফ ২০০০ সালে কিছুদিন ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বও পালন করেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি সরকারি প্রতিশ্রুতিসংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।
গত ৩ জুলাই প্রথমে গলব্লাডারে পাথর অপারেশনের জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সেখানে তাঁর নিউমোনিয়া হয়। শেষে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তিনি লাইফ সাপোর্টেও ছিলেন। সেখানেই তিনি মারা যান।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শোক : এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে অধ্যাপক আলী আশরাফের মৃত্যুতে পৃথক পৃথক শোকবার্তায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবর্গ মরহুমের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক; কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ; আইনমন্ত্রী আনিসুল হক; অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল; শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি; পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন; পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান; শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন; বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বীরপ্রতীক; বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি; সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ; পরিবেশ মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন; ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী; রেলপথ মন্ত্রী মোঃ নূরুল ইসলাম সুজন; বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান; প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
এছাড়া শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার; যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল; বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ; সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু; নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন; আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক; পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য; পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক; তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ মুরাদ হাসান; গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ; সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী; মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা; ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এবং পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম।

ভুমি রেকর্ডের ছোটখাটো ত্রুটি এসি ল্যান্ডরাই সংশোধন করতে পারবেন, পরিপত্র জারি

0

ভূমি জরিপের পর চূড়ান্তভাবে মুদ্রিত ও প্রকাশিত খতিয়ানের ভুল মাঠপর্যায়েই সংশোধন বা রেকর্ড সংশোধন করতে পারবেন সহকারী কমিশনাররা (ভূমি)। তাঁদের এ নির্দেশ দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এসি ল্যান্ডদের (সহকারী কমিশনার ভূমি) মাধ্যমে এ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে খতিয়ানের ছোটখাটো ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য ভূমির মালিককে দেওয়ানি আদালত ও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার দরকার হবে না। এতে ভূমিসংক্রান্ত জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। এ ছাড়া পরিপত্রটি পড়ে জমির মালিকেরাও সহজে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা পেতে পারেন।

২০১৫ সালে খতিয়ানের ভুল সংশোধনবিষয়ক একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছিল। নানা জটিলতার কারণে মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া সহজ ছিল না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এই পরিপত্র জারি করতে নির্দেশ দেন, যাতে পরিপত্রটিই উদাহরণ হিসেবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ব্যবহার করতে পারেন।

পরিপত্রে বিভিন্ন আইনের সূত্র উল্লেখ করে বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ভূমি জরিপের পর চূড়ান্তভাবে মুদ্রিত ও প্রকাশিত খতিয়ানের করণিক ভুল, প্রতারণামূলক লিখন এবং যথার্থ ভুলের বিভিন্ন সম্ভাব্য ধরন বর্ণনা করা হয়েছে পরিপত্রে। এসব ভুল সংশোধনের পদ্ধতিও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সহজেই সাত পৃষ্ঠার পরিপত্রটি থেকে রেফারেন্স গ্রহণ করতে পারেন।
পরিপত্রে রেকর্ড সংশোধের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়ার ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, আবেদনকারীকে আবেদনের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ কোর্ট ফি সংযুক্ত করতে হবে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করার সিস্টেম চালু হলে তা নির্ধারিত সরকারি হিসাবে সরাসরি দেওয়া যাবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মিসকেসে রেকর্ড সংশোধনের আদেশ হওয়ার পর আবেদনকারীর কাছ থেকে নামজারি মামলার জন্য নির্ধারিত হারে নোটিশ জারি ফি, রেকর্ড সংশোধন বা হালকরণ ফি এবং খতিয়ান সরবরাহ ফি একত্রে ডিসিআরের মাধ্যমে আদায় করতে হবে। আর তা যথারীতি সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। তবে জেলা প্রশাসক বা তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ভুল সংশোধনের জন্য আবেদনে কোর্ট ফি কিংবা অন্যান্য ফি আদায় প্রযোজ্য হবে না।

হেলেনা জাহাঙ্গীর আটক; বাসা থেকে মদ হরিণের চামড়া ক্যাসিনো বোর্ড উদ্ধার

0

আওয়ামী লীগে পদ হারানো ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাড়িতে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থানের পর তাকে আটকের কথা জানিয়েছে র‌্যাব।
“তার বাসায় মদ, হরিণের চামড়া, ক্যাসিনো বোর্ড, ওয়াকিটকিসহ বেশ কিছু অবৈধ সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।” জানিয়েছে র‍্যাব।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাকে বাড়ি থেকে আটকের পর র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল কে এম আজাদ বলেন, “তাকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সম্প্রতি আলোচনায় উঠে আসা হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশানের বাড়িতে রাত ৮টার দিকে এই অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ঘণ্টা দুয়েক পর র‌্যাবের নারী সদস্যদের সেখানে ঢুকতে দেখা যায়।
এরপর রাত সোয়া ১২টার দিকে র‌্যাবের সদস্যদের সঙ্গে বেরিয়ে আসেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। তার মুখে ছিল মাস্ক। পরনে ছিল চেক জামা ও হলুদ ওড়না।
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীর জয়যাত্রা গ্রুপের কর্ণধার। তিনি নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন।
হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটিতে সদস্য ছিলেন। কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগেরও উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন তিনি।
‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি ‘ভূইফোঁড়’ সংগঠনের সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরের সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশ হলে তাকে দুই কমিটি থেকেই বাদ দেয় আওয়ামী লীগ।

রাজধানীতে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ কন্ট্রাক্ট শুটার দলের ৩ সদস্য গ্রেফতার

0

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় আরব আলীকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো মোঃ সাহজামান ওরফে সাবু, মোঃ দুলাল প্যাদা ও মোঃ সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন।
বুধবার চাঁদপুর ও রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকা হতে তাদেরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিম। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।
প্রেস ব্রিফিংএ জানানো হয়, ক্যান্টনমেন্ট থানার পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় বসবাসকারী পানি ও সুয়ারেজ লাইন ঠিকাদার আরব আলীকে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা রুজু হয়। এ ঘটনায় চাদঁপুর জেলার হাইমচর থানার মিয়া বাজার ও রাজধানীর পল্লবী এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ কন্ট্রাক্ট শুটার দলের সদস্য সাবু, দুলাল ও সুজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ।
অভিযুক্তদের গ্রেফতার সংক্রান্তে তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তকালে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত, সিসি ক্যামেরার ভিডিও চিত্র ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ২৮ জুলাই,(বুধবার) চাঁদপুর হাইমচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবুকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্য মতে পল্লবী থানার কালশী বাউনিয়াবাধস্থ তার বাসা হতে ৬ চেম্বার বিশিষ্ট ১টি রিভলবার ও ১০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। কালশী এলাকা হতে ঘটনায় জড়িত দুলাল ও সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত হতে ১টি পিস্তল ও ২০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সকল সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী ইব্রাহীম এবং যুবরাজের তত্ত্বাবধানে থেকে ঢাকা মহানগরীর ভাষানটেক, ক্যান্টনমেন্ট ও পল্লবী থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় মাটি ভরাট, বিতর্কিত জায়গায় জমির দখল-বেদখল এবং গ্যাস, পানি ও সুয়ারেজ লাইন তৈরির কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি করতো। এছাড়াও তারা অত্র এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দিয়ে জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়, ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করতো।
তিনি আরো বলেন, এ সকল সন্ত্রাসীরা ঘটনা ঘটানোর পর চাঁদার টাকা, ইয়াবা বিক্রির টাকা নিয়ে পদ্মা-মেঘনার দুর্গম চর এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করতো।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকার হাজারীবাগ ও পল্লবী এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে জমি দখল-বেদখল ও কন্ট্রাক্ট শুটারসহ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।
চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও কন্ট্রাক্ট শুটিংয়ের সাথে সম্পৃক্ত সন্ত্রাসীদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য প্রদানের জন্যে নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ করেন পুলিশের এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র আইনে পৃথক ৩ টি মামলা রুজু হয়েছে।

বিচার বিভাগে করোনা আক্রান্ত ৯৬৫, চিকিৎসাধীন ৫৯ বিচারক

0

দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অধস্তন আদালতের মোট ৩২৫ জন বিচারক এবং ৬৪০ জন সহায়ক কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ মুহূর্তে সারা দেশের অধস্তন আদালতের ৫৯ বিচারক করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মুহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশের অধস্তন আদালতের মোট ৩২৫ বিচারক এবং ৬৪০ সহায়ক কর্মচারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত বিচারকদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২৬৪ জন। দুইজন বিচারক কর্মরত অবস্থায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। করোনা আক্রান্ত সহায়ক কর্মচারীদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪৮৯ জন এবং ৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
সাইফুর রহমান বলেন, এ মুহূর্তে অধস্তন আদালতের ৫৯ জন বিচারক এবং ১৪৩ জন সহায়ক কর্মচারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন।

মুনিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা: পুলিশ রিপোর্টের শুনানি হবে আদালত নিয়মিত চালু হলে

0

নিয়মিত আদালত বন্ধ থাকায় মুনিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা থেকে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে গুলশান থানা পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হয়নি। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) এর ওপর শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) সাধারণ নিবন্ধন শাখার নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে শুনানি না হওয়ার বিষয়টি জানান।
তিনি বলেন, নিয়মিত আদালত চালু হওয়ার পরে শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারিত হবে এবং পুলিশের জমা দেওয়া প্রতিবেদন গৃহীত হবে কি না সে বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।
মামলার বাদী নুসরাত জাহান তানিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আমি নারাজি আবেদন করবো এবং বিচারের জন্য সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত লড়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে তারা আমার সঙ্গে যোগযোগ করেননি।’
গত ১৯ জুলাই গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান মুনিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা থেকে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
উল্লেখ্য কোনো মামলায় পুলিশ রিপোর্ট বাদির পছন্দ না হলে তিনি ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুযায়ি নারাজি আবেদন দাখিল করতে পারেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাজিষ্ট্রেট মামলাটি পুন:তদন্ত এবং তদন্তকারি কর্মকর্তা পরিবর্তনের নির্দেশ দিতে পারেন। আর নারাজি খারিজ হলে এর বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতে আপিল করতে পারেন বাদি। হাইকোর্টে রিভিশন করার সুযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তবে আইনগত ভাবে আসামির নারাজি আবেদনের সুযোগ নেই।
গত ২৬ এপ্রিল রাতে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর দায়ের হওয়া মামলায় আসামি করা হয় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

সেই কুলসুমী গ্রেপ্তার

0

হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অন্য নারীকে দিয়ে খাটানো চট্টগ্রামের সেই কুলসুমা আক্তার কুলসুমীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাত ৩টার দিকে পতেঙ্গা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ওসি নেজাম উদ্দিন।
কুলসুমীর পরিবর্তে তার হয়ে জেল খাটা মিনু আক্তার হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার ১৩ দিনের মাথায় গত ২৮ জুন মধ্যরাতে নগরীর বায়েজিদ লিংক রোডে রহস্যজনক ট্রাকচাপায় মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
মুঠোফোন নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ২০০৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পোশাককর্মী কোহিনুর আক্তার ওরফে বেবিকে হত্যা করা হয়।
এই ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বছরের ২৬ অক্টোবর কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীকে গ্রেপ্তার করে। ৩১ অক্টোবর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
এক বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুলসুমী জামিনে বের হয়ে আসেন। তার জামিন পাওয়ার প্রায় আট বছর পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এই মামলার রায় দেয়।
রায়ে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের দিন অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

(জেল খাটা মিনু আক্তার,ট্রাক চাপায় যার রহস্যজনক মৃত্যু হয়)।
এরপর ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুমী ‘সেজে’ মিনু আক্তার ‘স্বেচ্ছায়’ সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কুমিল্লার ময়নামতি এলাকার বাসিন্দা মিনুর স্বামী ঠেলাগাড়ি চালক বাবুল বছর পাঁচেক আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর মিনু আক্তার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় আসেন।
সন্তানদের ভরণ-পোষণের ‘মিথ্যা আশ্বাসে’ মিনু যখন অন্যের হয়ে সাজা ভোগ করছিলেন তখন তার দুই ছেলে ইয়াছিন (১০) ও গোলাপ (৭) সীতাকুণ্ডের একটি এতিমখানায় থাকত এবং মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে (৫) স্থানীয় এক ব্যক্তি লালন পালন করছিল। কিন্তু আশ্বাস মতো কোনো টাকা বা সন্তানদের জন্য খাবার কিছুই মিনু আক্তার পাননি।
এরমধ্যেই ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল কুলসুমী রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেন। ৩০ এপ্রিল হাই কোর্ট আপিল গ্রহণ করে। পরবর্তীতে দণ্ডিত কুলসুমী জামিন আবেদন করলে চলতি বছর ১১ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট তা বাতিল করে দেয়।
এদিকে গত ২১ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর চতুর্থ দায়রা জজ আদালতকে চিঠি দিয়ে জানায়, কারাগারে থাকা নারী দণ্ডিত কুলসুমী নন।
পরদিন কারাগারে থাকা মিনু আক্তারকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন।
ওই সময় আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, জবানবন্দিতে মিনু আক্তার বলেছিলেন, মর্জিনা নামের এক নারী তাকে চাল, ডাল দেবে বলে জেলে ঢোকায়। তিনি প্রকৃত আসামি কুলসুম আক্তারকে চেনেন না।
একই সঙ্গে আদালত কারাগারের নিবন্ধন দেখে হাজতি আসামি কুলসুমী ও সাজাভোগকারীর মধ্যে অমিল খুঁজে পান। তখন আদালত কারাগারের নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট কিছু নথি হাই কোর্টে কুলসুমীর করা আপিলের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য পাঠায়।
এই ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে আইনজীবী মো. শিশির মনির তা আপিল সংশ্লিষ্ট হাই কোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন। শুনানি শেষে ৭ জুন মিনুর মুক্তির আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।
চট্টগ্রামে এসে উচ্চ আদালতের সেই আদেশ পৌঁছালে ১৬ জুন মুক্তি পান মিনু আক্তার। কিন্তু গত এপ্রিলে রোজার মধ্যে মিনুর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস দুর্ঘটনায় মারা যায়। জেল থেকে বের হওয়ার পর মেয়ের মৃত্যুর খবর পান মিনু।
মুক্তির ১৩ দিনের মাথায় ২৮ জুন গভীর রাতে বায়েজিদ লিংক রোডে ‘ট্রাকচাপায়’ মিনু মারা যান বলে জানায় পুলিশ। পরদিন বেওয়ারিশ হিসেবে তার লাশ দাফন করে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম।
মিনুর মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অস্বাভাবিক’ উল্লেখ করে তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ ও ভাই রুবেল হোসেন। বিডি নিউজ।