পাকিস্তানের ওকারা শহরে একটি ছাগলকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে পাঁচ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, শহরের সাতঘরা এলাকায় অভিযুক্তরা ছাগলটিকে ধর্ষণ করে হত্যার পর পালিয়ে যায়।
আজহার হোসেন নামে একজন ব্যাক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, তার পোষা ছাগলটিকে একদল ব্যক্তি যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন করে। নির্যাতনের কারণে ছাগলটির মৃত্যু হয়।
সাতঘরা পুলিশ স্টেশনের একজন কর্মকর্তা মুহাম্মদ উসমান বিবিসিকে বলেন, ছাগলটির মৃতদেহ উদ্ধার করে একটি পশু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সেখানে ময়নাতদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, “ছাগলটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে।” খবর বিবিসি বাংলা।
পুলিশ বলছে, হাসপাতালের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তারা একটি মামলা লিপিবদ্ধ করেছেন।
আজহার হোসেন পুলিশকে বলেছেন, তার ছাগলটির মূল্য ছিল ৬০ হাজার পাকিস্তানি রুপি।
ছাগলটি তার ঘরের সামনে বাঁধা ছিল। অভিযুক্তরা বাঁধন খুলে একটি ফাঁকা স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ছাগলটিকে ধর্ষণ করে তারা। তারা ছাগলটিকে নির্যাতনও করে।
মি. হোসেন পুলিশের কাছে তিনজন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করেন। বাকী অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা।
মি. হোসেন পুলিশকে বলেন, ঘরের সামনে ছাগলটিকে বাঁধা না দেখতে পেয়ে তিনি ক’জন বন্ধুকে নিয়ে খুঁজতে বের হন। এক পর্যায়ে তারা দেখতে পান অভিযুক্তরা ছাগলটিকে নির্যাতন করছে। দূর থেকে তাদের দেখতে পেয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
মি. হোসেন যখন ছাগলটির কাছে পৌঁছান, ততক্ষণে সেটি মরে গেছে।
হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের যে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে তাতে স্পষ্টভাবে যৌন ক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের ধরার পর তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য।
পুলিশের কর্মকর্তা মুহাম্মদ উসমান বিবিসিকে বলেছেন, একজন মানুষের সাথে এ ধরণের অপরাধ ঘটলে যতটা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হতো, এই ক্ষেত্রেও সেই একই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে।
এ ঘটনায় পাকিস্তানের দণ্ডবিধির ৪২৯ ও ৩৭৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
৪২৯ ধারা অনুযায়ী কোন প্রাণীকে হত্যা, আহত কিংবা বিকলাঙ্গ করা হলে দশ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা দুই বছরের কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
পুলিশ বলছে, মানুষের সাথে ‘অস্বাভাবিক যৌন অপরাধের’ যে শাস্তি, কোন প্রাণীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের শাস্তিও সেই একই।
পাকিস্তানি দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী, প্রকৃতির নিয়মকে অগ্রাহ্য করে কেউ যদি কোন পুরুষ, মহিলা কিংবা কোন প্রাণীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তবে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
পাকিস্তানে ছাগলকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা
আমু’কে নিয়ে কটুক্তি; ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় হাইকোর্টে জামিন হয়নি ছাত্রলীগ কর্মীর
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের কর্মী মো. তরিকুল ইসলাম অপুর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। তার বিরুদ্ধে আরও সাতটি মামলা থাকায় বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
আওয়ামী লীগে বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু ও সুমাইয়া হোসেন নামের এক নারীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘মানহানিকর মন্তব্যের’ অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তরিকুলকে।
জামিন আবেদনের শুনানিতে তরিকুলের আইনজীবী ইউসুফুর রহমান হাইকোর্ট বেঞ্চকে বলেন, ‘মামলার এফআইআরে তরিকুলের নাম উল্লেখ ছিল না। তবে, পুলিশ সন্দেহভাজন অভিযুক্ত হিসেবে তরিকুলকে আটক করে।’
‘এছাড়া এফআইআরে বলা হয়েছে আমির হোসেন আমু ও সুমাইয়া হোসেনের নামে মানহানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। তবে, ঠিক কী মন্তব্য করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই।’
আইনজীবী ইউসুফুর রহমান আরও বলেন, ‘একই মামলার প্রধান আসামি ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মো. রাব্বী আগেই হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েছেন।’
তিনি জানান, তরিকুল প্রায় চার মাস ধরে কারাগারে থাকলেও, ঝালকাঠির কোনো আইনজীবী তার পক্ষে নিম্ন আদালতে দাঁড়াননি।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় তরিকুলের জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারও ছবি আপলোড করে মানহানিকর মন্তব্য করা গুরুতর অপরাধমূলক কাজ। দেশ-বিদেশের মানুষ সেটা দেখতে পায়। এতে ওই ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। তাই এই মামলায় অভিযুক্ত আসামি জামিন পেতে পারে না।’
তুষার কান্তি রায় বলেন, ‘আরও সাতটি মামলায় অভিযুক্ত থাকায় হাইকোর্ট তরিকুলের জামিন আবেদন খারিজ করেছেন।’
ঝালকাঠি বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঝালকাঠি থানায় ওই মামলা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমির হোসেন আমু ও সুমাইয়ার বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে ঝালকাঠির স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মো. রাব্বীসহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করা হয়।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত ৯ এপ্রিল তরিকুলকে গ্রেপ্তার করে। সূত্র – দ্য ডেইলি স্টার।
সাঈদ খোকনের কতো টাকা আছে জানতে সব ব্যাংকে চিঠি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের ব্যাংক হিসেবে কতো টাকা আছে তা জানতে সব ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। আগামী তিনদিনের মধ্যে তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানাতে সব ব্যাংককে চিঠি দেয়া হয়েছে। এর আগে গত মাসে সাঈদ খোকনের ব্যাংক হিসাব জব্দ (ফ্রিজ) করতে দুদককে আদেশ দিয়েছিল আদালত।
মঙ্গলবার ব্যাংকগুলোতে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের ব্যাংক হিসাবের সমস্ত তথ্য তিন কর্ম দিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে। চিঠিতে সাঈদ খোকনের জাতীয় পরিচয় পত্র, জন্ম তারিখ, পিতামাতার নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত মাসের আদালতের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন সাঈদ খোকনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছিল। সে সময় সাঈদ খোকন অভিযোগ করেছিলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের এহেন কর্মকাণ্ড ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের প্ররোচনায় সংগঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মলেন করে তিনি বলেছিলেন, তাপস নগর পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতে প্রায়ই আমার প্রতি বিভিন্ন হয়রানি ও বিদ্বেষমূলক আচরণ করে আসছেন।
অবৈধ সম্পদের মামলায় টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার আসামি টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চার্জশিট দিয়েছে দুদক।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন সোমবার চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন।
সেখানে ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৭ টাকা সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার ‘জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ’ অর্জন ও অন্যকে হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে।
দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক জানান “সোমবার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে। মোট ২৯ জনকে এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে।”
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যার অভিযোগে প্রদীপ গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত বছরের ২৩ অগাস্ট দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে এই মামলা করেন।
প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার ‘জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ’ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয় মামলার এজাহারে।
আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, “তদন্তের পর টাকার অংকে কিছু পরিবর্তন হয়েছে। ওসি প্রদীপ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে যে সম্পদ অর্জন করেছেন তা স্ত্রী ও শ্বশুরের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও ভোগ দখলে রেখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।”
অভিযোগপত্রে যেসব সম্পদের উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হল- নগরীর পাথরঘাটায় একটি ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরে সেমিপাকা ঘর, ৪৫ ভরি সোনার গয়না, একটি করে কার ও মাইক্রোবাস এবং কক্সবাজারে ফ্ল্যাট।মামলায় বলা হয়েছে, প্রদীপ ‘ঘুষ ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গোপন করার জন্য চট্টগ্রামের পাথরঘাটা এলাকায় ওই ছয়তলা বাড়ি করেন তার শ্বশুরের নামে। পরে তার শ্বশুর ওই বাড়ি তার মেয়ে চুমকিকে দান করেছেন বলে দেখানো হয়।
আয়কর রির্টানে চুমকি কারণের কমিশন ব্যবসা এবং বোয়ালখালী উপজেলায় ১০ বছরের জন্য লিজ নেওয়া পাঁচটি পুকুরে মাছের ব্যবসার যে আয় দেখানো হয়েছে, তাও স্বামী প্রদীপ দাশের ‘জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল বলেন, “মাছ চাষের ব্যবসার যে হিসেব দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার অস্তিত্ব নেই বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে।”
এর আগে গত ২৯ জুন দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের জব্দ করা সম্পত্তি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ডিসির জিম্মায় থাকবে বলে আদেশ দেয় আদালত।
কক্সবাজারের টেকনাফের কাছে বাহারছড়া চেকপোস্টে গত বছরের ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
ওই ঘটনার পর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস গতবছরের ৫ অগাস্ট কক্সবাজারের হাকিম আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেখানে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলিকে ১ নম্বর এবং টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।
মামলা হওয়ার পর ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য ৬ অগাস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর প্রদীপকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর হত্যা মামলায় ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় র্যাব। গত ২৭ জুন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রদীপসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।সূত্র -বিডি নিউজ।
বিমানবন্দরে ৯ হাজার ইয়াবাসহ সৌদি আরবগামী যাত্রী আটক
প্রায় নয় হাজার ইয়াবাসহ সৌদি আরবগামী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
বুধবার (২৮ জুলাই) ভোর ৬টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি আরবগামী যাত্রী সাদ্দামকে আটক করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জিয়াউল হক জানান, আটক সাদ্দাম সালাম এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে প্রথমে ওমানের মাস্কাট এবং কানেন্টিং ফ্লাইটে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে যাওয়ার কথা ছিল। বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তার ফ্লাইট ছিল। তবে তিনি ভোর ৬টার দিকে বিমানবন্দরে আসেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম ইয়াবা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তার দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৮ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘সাদ্দামের ব্যাগ খুলে উপরে অনেক কাপড় দেখা যায়, তার নিচে সেলাই করা ব্যাগের একটি কাভার ছিল। ওই কাভারের ভেতরে কার্বন পেপার ও স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় এসব ইয়াবা পাওয়া যায়। সাদ্দাম জানিয়েছেন, তারা এই ইয়াবাগুলো দু থেকে তিনশ টাকা পিস হিসেবে কিনে থাকেন । এগুলো যদি তিনি সৌদি আরবে নিয়ে যেতে পারতেন, তবে প্রতি পিস এক থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করতেন। সাদ্দামের বাড়ি কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায়। সেখানে ইয়াবা পাচারের একটি চক্র রয়েছে। ওই চক্রটি তাকে সৌদি আরবে যাওয়ার টিকিট, ভিসা করে দিয়েছে। জানা গেছে, এই ইয়াবাগুলো বিক্রির পর সাদ্দামও একটি লভ্যাংশ পেতেন। ইয়াবাগুলো নিয়ে তিনি সৌদি আরবের দাম্মামের এক প্রবাসীর কাছে হস্তান্তর করতেন।’
ইয়াবা পাচার তার এটাই প্রথম নয় উল্লেখ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হক জানান, ‘আমরা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। ২০২০ সালে সাদ্দাম ইয়াবা পাচারের সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। এরই মধ্যে ইয়াবার বড় এই চালান তিনি সৌদি আরবে পাচার করতে যাচ্ছিলেন। তিনি এই পথে নতুন নয়।’
‘সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা ইয়াবাসেবী রয়েছেন তারা এবং কিছু সৌদি নাগরিকও ইয়াবা সেবন করছেন। তারা এসব ইয়াবার গ্রাহক বলে জানিয়েছে পুলিশ।’
করোনায় ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সানিয়া আক্তারের মৃত্যু
ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সানিয়া আক্তার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত ১৪ জুলাই তার করোনা পরীক্ষার পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। এর পর অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সানিয়া আক্তারের বয়স হয়েছিল মাত্র ২৯ বছর। হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্তা ছিলেন। ১৯৯২ সালের ১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াই হাজার উপজেলার হোগলাকান্দা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। দশম বিজেএস (বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস) পরীক্ষার মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১ মার্চ চাকরিতে যোগদান করেন। সানিয়া আক্তারের স্বামী এএইচএম ইমরানুর রহমান ঝালকাঠিতেই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত আছেন।
সানিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি। প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী পৃথক শোকবার্তায় মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সানিয়া আক্তারের মৃত্যুতে পৃথক শোক জানিয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো: গোলাম সারওয়ার ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিমের মৃত্যুতে আইনমন্ত্রীর শোক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় অবস্থিত কুল্লাপাথর শহিদ স্মৃতিসৌধের তত্ত্বাবধায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।
তাঁর মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় আইনমন্ত্রী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে কুল্লাপাথর এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে জীবন হারানো শহিদদের মরদেহ সংগ্রহ করে তিনি পৈতৃক ভিটায় দাফন করেন এবং সমাধিস্থল তৈরি করেন। এরপর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আজীবন শহিদদের সমাধিস্থল (কুল্লাপাথর শহিদ স্মৃতিসৌধ) তত্ত্বাবধান ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন তিনি।
তাঁর মৃত্যুতে কসবা তথা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক মহান ব্যক্তিত্বের শূন্যতা তৈরি হলো। ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী তাঁকে আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে। মন্ত্রী শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
মরহুম আব্দুল করিম মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি পুত্র, কন্যা এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মাল্টার কারাগারে ১৮ মাস ধরে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশি
অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মাল্টায় যাওয়া ১শ ৬৫ বাংলাদেশি দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে বন্দি দেশটির কারাগারে। তাদের মুক্ত করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন-আয়েবার নেতারা।
মানবিক কারণে তাদের মুক্তি দেয়ার আহবান জানানোর পাশাপাশি এ নিয়ে তৎপরতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে প্রতিদিনই ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা চালায় অভিবাসন প্রত্যাশীরা। কিন্তু অবৈধপথে প্রবেশ করায় তাদের বিভিন্ন দেশ গ্রহণ তো করেই না বরং শেষ পর্যন্ত তাদের জায়গা হয় কারাগারে। দ্বীপ রাষ্ট্র মাল্টায় আটক ১৬৫ জন বাংলাদেশির ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছে। দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে কারাগারে বন্দি তারা।

এ অবস্থায় তাদের মুক্ত করতে এগিয়ে এসেছে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন-আয়েবা। সংগঠনের মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মাল্টা যান। দেশটির স্বরাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা।
মাল্টা সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব কেভিন মাহোনে, নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তা রায়ান এসপানিয়ল, ডিটেনশন সেন্টারের মহাপরিচালক রবার্ট ব্রিংকাউ। বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান আয়েবা মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ।
আয়েবা মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ বলেন,’সবার সহযোগীতা প্রয়োজন। এই প্রবাসীদের ব্যাপারে সবার দায়িত্ব আছে। তাদের জন্য আমরা কাজ করবো। আপনারাওসঙ্গে থাকবেন।’
মানবিক কারণে আটক বাংলাদেশীদের মুক্তির দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। আয়েবা নেতা আ ক ম সেলিম বলেন,’আমরা অথোরিটিকে বলেছি। আশাকরছি আগামীতে একটি সুইটেবল জায়গাতে কাজ করতে পারবো।’
আয়েবা নেতা আহমেদ ফিরোজ বলেন,’বাংলাদেশি যে ১৬৫ জন চরম মানবেতন জীবন যাপন করছে তাদের ব্যাপারে আইনজীবি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি তাদের বিষয়ে কাজ করছেন।’
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আইনের মধ্য দিয়েই তাদের মুক্তি সম্ভব বলে মনে করেন আয়েবা নিযুক্ত আইনজীবী এতিয়েন কালেয়া।
আটক বাংলাদেশিদের মুক্ত করতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার এবং প্রয়োজনে আবারও মাল্টায় যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সংগঠনের কর্মকর্তারা।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে অপপ্রচার, ফ্রান্সে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বিরুদ্ধে আইনী নোটিশ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অসত্য প্রতিবেদন প্রকাশ করায় রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) বিরুদ্ধে আইনী নোটিশ দিয়েছেন ফরাসি আইনজীবী মাদৌ কোনে।
গত ২ জুলাই আরএসএফ প্রকাশিত ‘ওল্ড টাইর্যান্টস, টু উইমেন এন্ড আ ইউরোপিয়ান: আরএসএফ আনভেইলস ইটস ২০২১ এডিশন অভ প্রিডেটরস অভ প্রেস ফ্রিডম’ নিবন্ধে শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ নিয়ে অসত্য বিবরণ দেয়ায় কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না ১৫ দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে এ নোটিশে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার ফরাসি নাগরিক আবুল কাশেম, মজিবুর রহমান, মনজুরুল হাসান চৌধুরী এবং কয়েস দিলওয়ার হুসাইনের পক্ষে প্যারিসের আইনজীবী গত সোমবার (২৬ জুলাই) এই নোটিশ জারি করেন।
ফ্রান্সে অবস্থিত সংস্থা আরএসএফের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অংশের ত্রুটিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত নানাদিক উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, ‘খোদ ফ্রান্সের আইন অনুযায়ীই এটি অপরাধ। কারণ সেদেশে ১৮৮১ সালের ২৯ জুলাই প্রণীত গণমাধ্যম স্বাধীনতা বিষয়ক আইন অনুসারে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অসৌজন্যমূলক কোনো মন্তব্য জনসম্মুখে প্রকাশ নিষিদ্ধ।’
একই আইনের ২৯ ধারায় এ ধরনের কোনো বিবরণ বিবৃতি, হাতে লেখা, ছাপা, পোস্টার-প্ল্যাকার্ড বা অন্য কোনো আকারে প্রকাশ করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলা হয়েছে।
প্যারিসে ইস্যু করা এই লিগ্যাল নোটিশে দেশের সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) থেকে ঐ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে দেয়া প্রতিবাদলিপিরও উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (ফরাসিতে রিপোর্টার্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ারস- আরএসএফ) এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের নির্দেশে গত ৯ জুলাই তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার আরএসএফ বরাবর প্রতিবাদলিপি পাঠান। সেখানে বাংলাদেশ নিয়ে অসত্য প্রতিবেদনটি অবলেপন করা অন্যথায় আইনী ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছিল।
ইন্টারনেট গতিতে উগান্ডা, সোমালিয়ার চেয়েও পেছনে বাংলাদেশ
মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গড় গতিতে বাংলাদেশ উগান্ডা ,সোমালিয়ার চেয়েও পেছনে। পৃথিবীতে বাংলাদেশের পেছনে আছে শুধু দুটি দেশ। তার একটি হলো আফগানিস্তান এবং আরেকটি দেশ হলো ভেনেজুয়েলা। মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৭টি দেশের মধ্যে ১৩৫তম।
ইন্টারনেট অ্যাকসেস ও পারফরম্যান্স অ্যানালিসিস কম্পানি ওকলার সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ওকলা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক ইন্টেলিজেন্স, টেস্টিং অ্যাপ্লিকেশন্স এবং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে।
এই বছরের মে মাসের তুলনায় জুনে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে দেশের অবস্থান দুই ধাপ পিছিয়েছে। আর একই সময়ে মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশ আরও একধাপ পিছিয়ে প্রায় তলানিতে নেমেছে। বাংলাদেশের নিচে মাত্র দুটি দেশ রয়েছে।
মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই বাজে। দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশই মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। তবে ব্রডব্যান্ডে তুলনামূলক একটু ভালো অবস্থা রয়েছে। যদিও আগের মাসের তুলনায় জুনে ব্রডব্যান্ড গতির দিক দিয়ে বাংলাদেশ দুই ধাপ পিছিয়েছে বলে সংস্থাটির প্রতিবেদনে জানানো হয়।
স্পিডটেস্ট ডটনেটে ১৩৭টি দেশের মোবাইল ইন্টারনেট গতির হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৫তম। বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটে ডাউনলোড স্পিড ১২ দশমিক ৪৮ মেগাবিট পার সেকেন্ড (এমবিপিএস)। আর আপলোড স্পিড ৭ দশমিক ৯৮ এমবিপিএস।
মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে সুদান, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও উগান্ডার মতো দেশও এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের চেয়ে। আর বাংলাদেশের পেছনে কেবল আফগানিস্তান ও ভেনেজুয়েলা। সর্বশেষ অবস্থানে থাকা আফগানিস্তানের ডাউনলোড স্পিড ৭ দশমিক ৩৭ এমবিপিএস।
চলতি জুন মাসে বৈশ্বিক গড় ডাউনলোড গতি হচ্ছে ৫৫ দশমিক ৩৪ এমবিপিএস। আর আপলোড স্পিড হচ্ছে ১২ দশমিক ৬৯ এমবিপিএস।
২০১৮ সালের জুনে মোবাইল ইন্টারনেটের গতির হিসাবে ১২৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১২তম। সে সময় বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গড় গতি ছিল ৮ দশমিক ৯৭ এমবিপিএস। এ ছাড়া আপলোড স্পিড ৫ দশমিক ৪৬ এমবিপিএস। তিন বছরের ব্যবধানে দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কিছুটা বাড়লেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় তা অনেক কম।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, দেশে মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান খারাপ হওয়ার উল্লেখযোগ্য একটি বড় কারণ হচ্ছে পর্যাপ্ত তরঙ্গ না থাকা। দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যার তুলনায় তরঙ্গ খুবই নগণ্য। এতে করে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন ইন্টারনেট গ্রাহকরা। সেবার মান বাড়াতেই গত ৮ মার্চ অব্যবহৃত তরঙ্গের নিলাম হয়। নিলামে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবির তরঙ্গ আগের তুলনায় বাড়লেও ইন্টারনেটের গতিতে এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। যদিও এসব অপারেটরের অধিকাংশ টাওয়ার ফোরজির আওতায় আনা হয়েছে।
অনলাইনে ইন্টারনেটের গতি জরিপকারী প্রতিষ্ঠান স্পিডটেস্টের চলতি বছরের জুনে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ লিবিয়া, সিরিয়া, উগান্ডা ও সোমালিয়ার মোবাইল ইন্টারনেট ডাউনলোড স্পিড হচ্ছে ১৬ দশমিক ৬ থেকে ২২ দশমিক ২ এমবিপিএস পর্যন্ত। মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে জুন মাসে ছয় ধাপ এগিয়ে পাশের দেশ ভারতের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১০৯তম আর তাদের মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতি ১৭ দশমিক ৮৪ এমবিপিএস। মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ১২৯, পাকিস্তান ১১৪ ও নেপাল ১০৫তম অবস্থানে রয়েছে।
মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে শীর্ষস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যাদের ডাউনলোড ও আপলোড গতি যথাক্রমে ১৯৩ দশমিক ৫১ এমবিপিএস ও ২৮ দশমিক শূন্য ৫ এমবিপিএস। এর পরের অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, নরওয়ে, সাইপ্রাস ও চীন।
এদিকে মোবাইল ইন্টারনেটের তুলনায় ব্রডব্যান্ডে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলক ভালো। চলতি বছরের মে মাসের তুলনায় জুনে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি সামান্য বাড়লেও বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। স্পিডটেস্টের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস শেষে ১৮১টি দেশের মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৮তম, যা মে মাসে ছিল ৯৬তম। জুনে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ডাউনলোড স্পিড দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ২৭ এমবিপিএস, যা আগের মাসে ছিল ৩৮ দশমিক ১৩ এমবিপিএস। জুনে আপলোড গতিও কিছুটা বেড়ে ৩৭ দশমিক ২২ এমবিপিএসে উঠেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ভারত ব্রডব্যান্ডে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বৈশ্বিক ব্যাংকিয়ে ভারতের অবস্থান হচ্ছে ৭০তম। শীর্ষে রয়েছে মোনাকো, যে দেশটির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ডাউনলোড গতি হচ্ছে ২৬০ দশমিক ৭৪ এমবিপিএস। এর পরের অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর।











