ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুরে মন্ত্রী ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ বিষয়ে সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ এবং এদেশের সরকারের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে আসছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সময়ে সময়ে সরব, আবার অনেক সময় প্রচণ্ড নীরব থাকে।’সংস্থাটির গ্রহণযোগ্যতা হারানোর বিষয়ে ড. হাছান বলেন, ‘এদেশে শত শত মানুষকে পেট্রোলবোমায় পুড়িয়ে হত্যা-দগ্ধ করার সময় যখন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কোনো বিবৃতি দেয় না, ফিলিস্তিনে যখন পাখি শিকারের মতো মানুষ হত্যার সময় যখন এক সপ্তাহ চুপ থাকে, আবার যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বিবৃতি দেয়- তখন এই সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা আসলে হারিয়ে গেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয় ব্যাখ্যা করে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যই এ আইন। একজন গৃহিণী, সাংবাদিক, রিকশাচালক বা কর্মকর্তা, সবার ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্যই এই আইন। আগে যখন ডিজিটাল বিষয়টি ছিল না, তখন আইনেরও প্রয়োজন ছিল না। এখন যখন বিষয়টি এসে গেছে, মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আইনেরও প্রয়োজন আছে। ডিজিটাল মাধ্যমে কারো চরিত্রহনন করা হলে, অসত্য অপপ্রচার হলে, তাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এ আইন এবং সাধারণ মানুষই এ আইনের আশ্রয় নেয়।’ বিশ্বব্যাপী এধরনের আইনের উদাহরণ তুলে ধরে ড. হাছান বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুরসহ অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ আইন করা হয়েছে এবং হচ্ছে। সুতরাং এনিয়ে বার বার কথা বলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদের করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ‘এটা শুভবুদ্ধির উদয়। এবং এতে তিনি স্বীকার করে নিলেন যে, ভ্যাকসিন নিয়ে তার আগের কথাগুলো মিথ্যা ছিল।’ সূত্র- সারাবাংলা।
‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: অ্যামনেস্টির বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বললেন ড. হাছান মাহমুদ
সব মামলায় জামিনের মেয়াদ এক মাস বাড়ল
করোনা (কোভিড-১৯) মহামারির ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মাঝে চলমান কঠোর বিধিনিষেধে বিভিন্ন মামলায় আসামিদের জামিনের মেয়াদ ও আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের কার্যকারিতা আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। সোমবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘যেসব মামলায় আসামিকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়া হয়েছে- সেসব মামলার জামিন এবং সব ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলোর কার্যকারিতা আগামী এক মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।’এর আগে চলতি বছর ৫ ও ১৮ এপ্রিল, ২ ও ২৭ মে এবং ২৭ জুন পাঁচ দফায় পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে সব আসামির জামিন যথাক্রমে ২, ৪, ১ ও ১ মাস করে বাড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
মুনিয়ার ভিসেরা রিপোর্ট নিয়ে রহস্য, আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বাদি
কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশের ফাইনাল রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন মামলার বাদি। নিহত মুনিয়ার বোন মামলার বাদি নুসরাত জাহান তানিয়া জানিয়েছেন, তিনি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করবেন। এ জন্য আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আগামি ২৯ জুলাই ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভুইয়ার আদালতে পুলিশ রিপোর্ট গ্রহণ করা হবে কী না এর শুনানি রয়েছে। সে দিনই তিনি নারাজি দেবেন বলে জানিয়েছেন।

(মামলার বাদি নুসরাত জাহান তানিয়া)
নুসরাত জাহান তানিয়া বলেন, মূল আসামিকেই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, এটা তো অন্যায়। আমি আদালতে নারাজি দেবো। আনভীরকে যদি অব্যাহতি দেওয়া হয়, তাহলে দেশে অন্যায়ের বিচার হবে কী করে?
তানিয়া বলেন, পুলিশ শুরুতেই বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। কিন্তু আনভীর জড়িত থাকার পরও তাকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো, সেটা তো আমি জানি না। তানিয়া প্রশ্ন করেন মুনিয়ার ময়না তদন্ত কবে হয়েছে, কী তার রিপোর্ট, ভিসেরা রিপোর্টে কি এসেছে কিছুই তারা জানতে পারেন নি। পুলিশ তাদের কিছুই জানায়নি। সবকিছুই যেনো গোপন করে রাখার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য কোনো মামলায় পুলিশ রিপোর্ট বাদির পছন্দ না হলে তিনি ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুযায়ি নারাজি আবেদন দাখিল করতে পারেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাজিষ্ট্রেট মামলাটি পুন:তদন্ত এবং তদন্তকারি কর্মকর্তা পরিবর্তনের নির্দেশ দিতে পারেন। আর নারাজি খারিজ হলে এর বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতে আপিল করতে পারেন বাদি। হাইকোর্টে রিভিশন করার সুযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তবে আইনগত ভাবে আসামির নারাজি আবেদনের সুযোগ নেই।

(আনভীর ও মুনিয়া-ছবি সংগৃহীত)।
উল্লেখ্য, কলেজছাত্রী মুনিয়ার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় বসুন্ধরা শিল্প গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ। তাই মামলার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ১৯ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।
তবে আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন এ ধরণের একটি চাঞ্চল্যকর মামলায় যেখানে সুনির্দিষ্ট আসামি রয়েছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ না করেই মামলা ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ায় তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হবেই।
কেউ আসামী হলেই তাকে অপরাধী বলা যাবে না। কিন্তু এটা প্রমাণ করার জন্য বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হতে হবে। আলোচিত মামলাটি শুরু থেকেই কেমন যেনো “ঢাক ঢাক গুড় গুড়” আচরণ করছে পুলিশ।
গত ২৬ এপ্রিল রাতে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর দায়ের হওয়া মামলায় আসামি করা হয় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
ঘটনার রাতেই মুনিয়ার বোন নুসরাত বাদি হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগ করা হয়, এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয়ের পর ২০১৯ সালে আনভীর মুনিয়াকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনভীরের পরিবার মুনিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পারে। তখন আমার বোনকে (মুনিয়াকে) আনভীরের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন তার মা।
এ ঘটনার পর আনভীর মুনিয়াকে কৌশলে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন। গত মাসের (মার্চ) ১ তারিখে গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার বি/৩ ফ্যাটটি ভাড়া নেন আনভীর। ১ মার্চ থেকে মুনিয়া সেই ফ্ল্যাটেই ছিলেন এবং আনভীর মাঝে মাঝে ওই ফ্ল্যাটে আসা যাওয়া করতেন।

গত ২৩ এপ্রিল ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় ইফতার পার্টিতে গিয়ে মুনিয়া ছবি তোলেন। ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে সেই ছবি পোস্ট করলে সেটি আনভীরের পরিবারের একজন দেখে ফেলেন এবং আনভীরকে জানান। বিষয়টি নিয়ে আনভীর মুনিয়াকে বকাঝকা করেন এবং হুমকি দেন। ২৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে মুনিয়া তার মোবাইল নম্বর থেকে নুসরাতকে ফোন করে কান্নাকাটি শুরু করেন।
তিনি বলেন, ‘আনভীর আমাকে বিয়ে করবে না, সে শুধু আমাকে ভোগ করেছে। এছাড়া আমাকে সে ‘মনে রাখিস তোকে আমি ছাড়ব না’ বলে হুমকি দিয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, মুনিয়া নুসরাতের কাছে চিৎকার করে বলেন, ‘যেকোনো সময় আমার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তোমরা তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসো।’
মোসারাত জাহান মুনিয়া মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
গুলশান থানা সূত্রে জানা যায়, মুনিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বাড়ির মালিক, মালিকের মেয়ের জামাইসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলা সংক্রান্ত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তারা। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করেছে পুলিশ।
মুনিয়া যে ফ্ল্যাটটিতে থাকতেন সেই ভবনের বেশকিছু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করে পুলিশ। সেসব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই ফ্ল্যাটে সায়েম সোবহান আনভীরের যাতায়াতের প্রমাণ পায় তারা। তবে ঘটনার দিন বা এর আগের দিন মুনিয়ার ফ্ল্যাটে আনভীরের যাতায়াতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে এই দুই দিন সন্দেহজনক কারও যাতায়াত ওই বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাটের আশপাশে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর মুনিয়ার সঙ্গে আনভীরের যে ফোনকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তাতে দেখা যায়,আনভীর মুনিয়াকে টাকা চুরির দায়ে অভিযুক্ত করে টাকা ফেরত দেয়ার হুমকি দেন। এই ফোন রেকর্ড পুলিশ সংগ্রহ করেছে কী না এবং এর কোনো রাসায়নিক বা ফরেনসিক পরীক্ষা হয়েছে কী না তা জানায়নি পুলিশ। এ ছাড়া মুনিয়ার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে কি আছে তাও জানা যায় নি। মুনিয়ার বাসা থেকে পাওয়া তার ডায়রিসহ বিভিন্ন আলামত থেকে কি পাওয়ার গেছে এসব কিছুই জানায়নি পুলিশ।
উল্লেখ্য মুনিয়াকে বিষ প্রয়োগ কিংবা ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা এমন বেশ কয়েকটি বিষয় পরীক্ষার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল। এ জন্য ভিসেরা, ডিএনএ ও মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষা করতে মহাখালি সিআইডির ল্যাবরটরিতে আলামত পাঠানো হয়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সেলিম রেজা এই রিপোর্ট পাঠানোর কথা জানালেও রিপোর্টের বিষয়ে কিছু জানাতে রাজি হননি। রিপোর্ট এসেছে কী না তাও বলতে চাননি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসেরা রিপোর্ট,ডিএনএ প্রোফাইলিং, মাইক্রো বায়োলজিক্যালসহ সব মিলিয়ে দুমাসের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া সম্ভব। তবে মুনিয়ার মৃতদেহের রিপোর্টে কি আছে তার সবকিছুই যেনো রহস্যঘেরা।
মামলার বাদি এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে বলেছেন, পুলিশ তাদের অভিযোগ আমলেই নেয়নি। মুনিয়ার বোন ও মামলার বাদি জানান তিনি বিভিন্নভাবে হুমকির সম্মুখিন হচ্ছেন। নিররাপত্তা চেয়ে গত মে মাসেই তিনি কুমিল্লা সদর থানায় জিডি করেন। তিনি যে ব্যাংকে চাকরি করতেন কানো কারণ ছাড়াই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানান ।
দেশে আরও নতুন তিন উপজেলা
দেশে আরও তিনটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দিয়েছে সরকার। নতুন তিনটিসহ মোট উপজেলা হল ৪৯৫টি।
সোমবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন তিন উপজেলাগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সোমবারের বৈঠকে কক্সবাজারের সদরের ঈদগাঁও, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার উপজেলার মধ্যনগর থানাকে উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
“এছাড়া এলাকবাসীর দাবিতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাকে শান্তিগঞ্জ নামকরণ করা হয়েছে।”
নতুন তিনটি নিয়ে দেশে উপজেলার সংখ্যা ৪৯৫টিতে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “এলাকার লোকজনের অসুবিধা হচ্ছিল মূল উপজেলা থেকে দুর্গম এলাকায় এসব থানা হওয়াতে। এসব থানাকে উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।”
“এই তিনটি আগে থেকে থানা ছিল। উপজেলা হতে যে ক্রাইটেরিয়া রয়েছে এগুলো তা পুরোপুরি পূরণ করে না, কিন্তু তিনটিই রিমোট এরিয়া, এজন্য নিকার এগ্রি করেছে। একই সঙ্গে নিকার নির্দেশনা দিয়েছে এরপর থেকে ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল না করলে যাতে প্রস্তাব না আনা হয়।” বিডি নিউজ।
পাচারের সময় শাহজালালে আড়াইকোটি টাকার বিদেশী মুদ্রাসহ ১ জন গ্রেফতার
বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা শরীরে পেঁচিয়ে পাচারের সময় ইস্তাম্বুলগামী তার্কিশ এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশি এক যাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটে ওঠার আগে জাহাঙ্গীর গাজী (৩৬) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জব্দ বিদেশি মুদ্রা প্রায় ‘আড়াই কোটি’ টাকার সমপরিমাণ বলে এপিবিএন জানিয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাহাঙ্গীরের আচরণে সন্দেহ হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে প্রথমে তার কাছে কিছু নেই বলে জানান।
“পরে শরীর তল্লাশী করে বাংলাদেশি আড়াই কোটি টাকার আটটি দেশের মুদ্রা পাওয়া যায়। যার মধ্যে ১১ লাখ ৬৫ হাজার সৌদি রিয়াল রয়েছে। শরীরে বিশেষ পদ্ধতিতে এসব মুদ্রা পেঁচানো ছিল।”
জাহাঙ্গীর এসব মুদ্রা বহনের কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি জানিয়ে এপিবিএন কর্মকর্তা জিয়াউল বলেন, “তিনি ‘কমার্শিয়াল পার্সন’ হিসেবে যাতায়াতের সুযোগ নিয়ে এসব মুদ্রা পাচার করছিলেন।”
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর একজন কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “গত দুই বছর ধরে তিনি সেই ব্যবসা করছেন না। তার পাসপোর্টে দেখা গেছে, এই সময়ের মধ্যে তিনি ১২৮ থেকে ১৩০ বার দেশের বাইরে গেছেন।”
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান জিয়াউল হক।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের আহবান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের
অনলাইনে ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ বন্ধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান ও মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন অথবা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সোমবার ‘ভিন্নমতের স্থান নেই’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটির এই আহ্বান এসেছে।
বাংলাদেশের ১০ জন নাগরিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলা পর্যালোচনা করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল ‘ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সমালোচনা’ করার কারণে তাদের ‘বিনা বিচারে আটক ও নির্যাতনের মত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার’ হতে হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অন্তত ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের বেশিরভাগকেই অনলাইনে ‘ভুয়া ও আক্রমাণাত্মক’ বক্তব্য প্রকাশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় বলে এ মানবাধিকার সংগঠনের ভাষ্য।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট, গায়ক, অধিকারকর্মী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, এমনকি একজন কৃষকও রয়েছেন, যিনি লিখতে বা পড়তে জানেন না।
এর মধ্যে একটি মামলায় গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদ ১০ মাস কারাগারে থেকে সেখানেই মারা গেছেন। কারাগারে তিনি ‘নির্যাতনের শিকার’ হয়েছিলেন বলে কারাবন্দি একজনের বরাতে অভিযোগ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এ সংগঠনের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের ক্যাম্পেইনার সাদ হামাদি বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় কর্তৃপক্ষ যে ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতেই স্পষ্ট, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ করা বা ভিন্নমত প্রকাশ করা কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।”
“মতপ্রকাশে এমন অন্যায্য বিধিনিষেধ বাংলাদেশের সমাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও সুশীল সমাজের কাজের পরিসর সঙ্কুচিত করেছে।”
‘শুধুমাত্র মতপ্রকাশের অধিকারের চর্চা করায়’ যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাদ হামাদি।
২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অনলাইনে কোনো মন্তব্য শেয়ার করার কারণেও বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি, ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা এবং গ্রেপ্তারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এ বিষয়গুলো ইন্টারন্যাশনাল কভেনেন্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটসে (আইসিসিপিআর) বর্ণিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ‘লঙ্ঘন’, যে সনদে বাংলাদেশও স্বাক্ষর করেছে।
সাদ হামাদি বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল আইনকে আইসিসিপিআর এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পদক্ষেপ নিতে ২০১৮ সালের মে মাসে ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ চলাকালে জাতিসংঘের বিভিন্ন সদস্য দেশের যেসব সুপারিশ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছিল, সেগুলোর কথা আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করার আগেই জাতিসংঘের বিশেষ দূতরা এর খসড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র সে সময় বাংলাদেশ সরকারকে ওই আইন সংশোধনেরও আহ্বান জানিয়েছিল।
“এসব সুপারিশ গ্রহণ করার পরও সরকার এখন পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।”
যাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাগুলো অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে পর্যালোচনা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে মুশতাক আহমেদ ছাড়াও কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক রুহুল আমিন, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের কৃষক আবু জামান, বাউল শিল্পী রিতা দেওয়ান, আলোকচিত্র সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল, ব্যবসায়ী এমদাদুল হক মিলন, সুনামগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক মাহতাব উদ্দিন তালুকদার এবং চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের নেতা দেওয়ান মাহমুদা আক্তার লিটার কথা এসেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ডিজিটাল নিরপাত্তা আইনে মানহানির অপরাধকে যেভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাতে ‘মারাত্মক ত্রুটি’ রয়েছে। এর মাধ্যমে আইনটিকে ‘ভিন্নমত দমনের হাতিয়ারে’ পরিণত করা হয়েছে।
মানহানির অভিযোগকে ফৌজদারি আইনের বদলে দেওয়ানি আইনে বিচারের জন্যও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বিডি নিউজ।
সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন ৫ আগষ্ট পর্যন্ত স্থগিত করল হাইকোর্ট
আগামী ২৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট ।
সোমবার (২৬ জুলাই) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও বিপুল বাগমার।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে এ উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ স্থগিত চেয়ে স্থানীয় সাতজন বাসিন্দা এবং ছয়জন আইনজীবী এ রিট আবেদন করেন।
এর আগে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে রোববার আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এ নোটিশ দিয়েছিলেন।
নেটিশে বলা হয়, গত ১১ মার্চ সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে সিলেট-৩ আসনটি শূন্য হয়। ১৫ মার্চ নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই আসন শূন্য ঘোষণা করে। ২৯ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী ৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। কিন্তু দৈবদুর্বিপাকের কারণে তা সম্ভব না হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী আরো ৯০ দিন সময় বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পায় ইসি। এরপর গত ২ জুন ওই উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এ তফসিলে ১৪ জুলাই ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়। পরে ইসি ১৫ জুন তারিখ পরিবর্তন করে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে ২৮ জুলাই।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, দৈবদুর্বিপাকের কারণে সংবিধান অনুযায়ী সিলেটের এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তাই ২৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচন স্থগিত করা যাবে না-এ বক্তব্য আইনের সঠিক ব্যাখ্যা নয়। ইসির উচিত চলমান করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে ‘লকডাউনে’র সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন না করা এবং ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্য যে কোনো সময়ে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা। তিন লাখ ৫২
হাজার ভোটারের এ নির্বাচন অনুষ্ঠান সরকারের বর্তমান ‘লকডাউন’ নীতিরও বিরোধী।
করোনা আক্রান্ত হয়ে এ বছরের ১১ মার্চ সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যু হয়। এরপর ১৫ মার্চ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার পর ৯০ দিন পেছালেও ২৮ জুলাই ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান নৌকা প্রতীকে, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে, বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ডাব প্রতীকে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য (বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমেদ চৌধুরী মোটর গাড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। করোনা পরিস্থিতিতে কঠোর ‘লকডাউন’ দিয়ে সরকার মানুষকে ঘরে রাখার চেষ্টাকালে প্রার্থীরা নেতাকর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তফসিল অনুযায়ী ২৬ জুলাই রাত ১২টায় প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকবে।
মুনিয়া আত্মহত্যা: বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে অব্যাহতির ঘটনায় পুনঃ তদন্ত দাবি ৫১ নাগরিকের
মুনিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা থেকে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ আদালতের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ৫১ নাগরিক। বিবৃতিতে আনভীরের অব্যাহতির ঘটনায় পুনঃ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রোববার এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ‘মামলার পর পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার তো দূরে থাক এমনকি থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এমন তথ্য আমাদের জানা নেই। বিপরীতে বিচার চেয়ে আয়োজিত একটি নাগরিক সমাবেশে বাধা দেওয়া, মামলার পর আনভীরের অবাধ চলাচল, মুনিয়ার বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য, কুৎসা ও অবিরাম অপপ্রচার চালানো, মামলার বাদীর বিরুদ্ধে নানা হয়রানিমূলক ঘটনা তদন্তকে প্রভাবান্বিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।’
এ সব পরিপ্রেক্ষিতে এই মামলায় সুষ্ঠু তদন্ত হয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার যথেষ্ট অবকাশ আছে বলে জানান বিবৃতিদাতারা।
তারা বলেন, ‘আমরা এই মামলার সুষ্ঠুভাবে পুনঃ তদন্ত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি এবং পুলিশের কাছে থাকা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামতগুলোর (যেমন-নিহতের ডায়েরি ইত্যাদি) যেন যথাযথ ও ন্যায়ানুগ বিশ্লেষণ হয় তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। মামলার বাদীকে কোনো চাপের মুখে পদ্মা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চাকরিচ্যুত করেছে কিনা সরকারকে তাও খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করছি। একইসাথে মুনিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং মামলার বাদীকে হয়রানি বন্ধ এবং তাকে ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মনে করি মুনিয়ার আত্মহত্যা বা হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও উপযুক্ত বিচার দেশের আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা রক্ষার স্বার্থে খুবই জরুরি। নারীর বিরুদ্ধে সংহিসতা রোধে সরকারের যে ঘোষিত নীতি রয়েছে তার প্রতি সরকারের আন্তরিকতা এ ধরনের ঘটনায় ক্ষমতাশালী ও বিত্তশালী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই প্রমাণিত হতে পারে।’
অবিলম্বে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে না-রাজী দরখাস্ত দাখিল করে এ ঘটনার পুনরায় নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন বিবৃতিদাতারা।
বিবৃতিদাতারা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, অর্থনীতিবিদ ও নির্বাহী সভাপতি পিপিআরসি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, মানবাধিকার কর্মী ড. হামিদা হোসেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতিয়ারা নাসরীন, নারীপক্ষের সদস্য শিরিন প হক, সেন্ট্রাল উইমেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক পারভীন হাসান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, মানবাধিকার কর্মী ড. ফষ্টিনা পেরেরা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের নির্বাহী পরিচালক সঞ্জীব দ্রং, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন ক্লিনিক্যাল নিউরোসাইন্স সেন্টারের পরিচালক ড. নায়লা জেড খান সহ ৫১ নাগরিক।
করোনায় নির্বাচন কর্মকর্তার মৃত্যু; সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচন নিয়ে শঙ্কা, স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ
সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। রোববার বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইসরাইল হোসেন আগামি ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত সিলেট -৩ আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সিলেট জেলা প্রশাসককে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হয়।

( নির্বাচন কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন,মারা গেলেন করোনায়)।
আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুতে উপনির্বাচন স্থগিত হবে কী না এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দেশে একদিকে চলছে কঠোর লকডাউন আরেক দিকে করোনা সংক্রমন বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট ৩ আসনের ভোটাররা আছেন আতঙ্কে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা যদিও ইতিমধ্যে বলেছেন উপনির্বাচন স্থগিতের সম্ভবানা নেই।
এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিবেচনায় সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বরাবরে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন পাঁচ আইনজীবী। অন্যথায় তাঁরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হবেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার এই নোটিশ পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য গত ১১ মার্চ করোনা আক্রান্ত হয়ে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী মারা যান। এরপর ১৫ মার্চ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আসনটিতে উপ নির্বাচনের তফসীল অনুযায়ী ২৮ জুলাই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ও পরিচালক (জনসংযোগ) এসএম আসাদুজ্জামান জানান, সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ২ জুন নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই উপনির্বাচনে ইসরাইল হোসেনকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই দায়িত্ব পালনের সময় ৩ জুলাই ইসরাইলসহ তিনজন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ইসরাইল হোসেন ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান।
তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন সন্তানসহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ইসরাইল হোসেনের মৃত্যুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাসহ নির্বাচন কমিশন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিবেচনায় সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বরাবরে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন পাঁচ আইনজীবী।
পাঁচ আইনজীবীর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ই–মেইলে রোববার ওই আইনি নোটিশ পাঠান। ওই উপনির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে গণমাধ্যমের আসা সিইসির বক্তব্য তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়, সিইসি বলেছেন যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে চলমান লকডাউনেও নির্বাচন স্থগিত রাখা সম্ভব নয়। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ দফার শর্তানুযায়ী সিলেট উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত। তাই ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন স্থগিত করা যাবে না—এই বক্তব্য আইনের সঠিক ব্যাখ্যা নয়।
আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের উচিত চলমান করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে লকডাউনের সময় নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজন না করা এবং ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্য যেকোনো সময় ভোট গ্রহণ নির্ধারণ করা। ৩ লাখ ৫২ হাজার ভোটারের এই নির্বাচন অনুষ্ঠান সরকারের বর্তমান লকডাউন নীতিরও বিরোধী। সুতরাং ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।
তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণের বৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সিলেট-৩ আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয় নোটিশে। অন্যথায় নোটিশদাতারা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হবেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশদাতা পাঁচ আইনজীবী হলেন মোহা. মুজাহিদুল ইসলাম, আল-রেজা মো. আমির, জোবায়দুর রহমান, মো. জহিরুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।
পেগাসাসের জন্যই লাখ লাখ মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারে, উদ্ভট দাবি ইসরাইলের প্রস্তুতকারী সংস্থার
বিশ্বজুড়ে বিতর্কের জেরে ধাক্কা খাচ্ছে ভাবমূর্তি। দাবি উঠছে পেগাসাসের মতো সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার যারা বানায়, সেই ধরনের সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত। সব মিলিয়ে রীতিমতো বিতর্কে পেগাসাস এর প্রস্তুতকারী সংস্থা ইসরাইলের এনএসও গ্রুপ। আর এই বিতর্কের মুখে এবার আজব সাফাই গাইল তাঁরা। এনএসও গ্রুপের দাবি, বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন শুধু পেগাসাসের -এর মতো প্রযুক্তির জন্যই। আমরা পৃথিবীকে নিরাপদ করে তোলার জন্য সাধ্যমতো কাজ করছি।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটি দাবি করেছে,”বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারছেন, নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছেন শুধু পেগাসাসের এবং এই ধরনের অন্য সফটওয়্যারের জন্যই। বিভিন্ন অ্যাপের এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনের আড়ালে বিশ্বব্যাপী যে অপরাধ এবং সন্ত্রাসের জাল ছড়িয়েছে, তা সম্পর্কে তদন্ত করতে এবং সন্ত্রাস রুখতে আমরাই বিভিন্ন নিরাপত্তা এজেন্সিকে সাহায্য করছি।” এসএসও গ্রুপের যুক্তি, “আমরা এবং অন্য বেশ কয়েকটি সাইবার ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি বিভিন্ন দেশের সরকারকে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দিই কারণ, সামাজিক মাধ্যম বা ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপের আড়ালে যে অপরাধের জাল ছড়িয়ে পড়ছে তা নিয়ন্ত্রণ করার কোনও উপায় কারও কাছে নেই। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি, এই পৃথিবীকে আরও নিরাপদ করে তোলার।” পেগাসাসকে ঘিরে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে সংস্থার সাফ যুক্তি, আমরা নিজেরা এই সফটওয়্যার ব্যবহারও করি না। এটার বিস্তারিত তথ্যও আমাদের হাতে নেই।
উল্লেখ্য পেগাসাস হচ্ছে ইসরায়েলের সংস্থা ‘এনএসও গ্রুপ’-এর তৈরি একটি সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে ফোনে আড়ি পাতা যায় বা ফোন হ্যাক করা যায়। ফলে যে স্মার্টফোনটিকে নিশানা করা হয়েছে সেটির ভয়েস কল ও হোয়াটসঅ্যাপ ডেটা-সহ সমস্ত তথ্য হামলাকারীর হাতে চলে যায়। এই কাজটি এতটাই গোপনে হয় যে ফোনটির ব্যবহারকারী আক্রান্ত হওয়ার কথা জানতেই পারেন না। ফলে তাঁর অজান্তেই গোপন কথাবার্তা, তথ্য সমস্ত কিছু ফাঁস হয়ে যায়। বিশেষ করে, রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, সাংবাদিক ও কুটনীতিবিদের এই স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে নিশানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পেগাসাস রিপোর্ট নিয়েই এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বই উত্তাল।










