ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ৯:২৪ 

Home Blog Page 93

আওয়ামী লীগের উপকমিটির পদ হারালেন সেই হেলেনা জাহাঙ্গীর

0

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্যপদ হারিয়েছেন ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর। নামের সঙ্গে ‘লীগ’ যুক্ত করে গড়ে ওঠা আওয়ামী লীগের অননুমোদিত একটি সংগঠনের সভাপতি পদে নাম আসার পর তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটি। এই উপকমিটিতেই সদস্য ছিলেন দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক পদে থাকা হেলেনা জাহাঙ্গীর।
জয়যাত্রা গ্রুপের কর্ণধার হেলেনা জাহাঙ্গীর নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন। সম্প্রতি ফেইসবুকে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নাম আসে।
সেই কারণেই তাকে উপকমিটির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি।

তিনি বলেন, “সে (হেলেনা) কোথা থেকে কী করে, তার কোনো ঠিক নেই। “যখন আমরা তাকে নিয়েছিলাম, তখন তো এটা জেনেই নিয়েছিলাম যে আমাদের পরিবারের একজন সদস্য। এখন যদি সে নিজে নিজেই নেতা হয়ে যায়, তাহলে আমরা কী করব?”
“বুঝে না বুঝে যা ইচ্ছে তাই করছেন। আর এগুলো আমাদের না জানিয়ে করেছেন। আমি ইতিমধ্যে আমাদের দপ্তরে জানিয়েছি, তাকে অব্যাহতির চিঠি দিয়ে দেওয়ার জন্য। আমাদের উপকমিটিতে যেহেতু সে নিয়মনীতি ভঙ্গ করেছে, তার সদস্যপদ আমরা বাতিল করে দিয়েছি,” বলেন চুমকি।
উপকমিটিতে হেলেনার পদ পাওয়ার বিষয়ে চুমকি বলেন, “উনি তো কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য। আওয়ামী পরিবারের হিসেবেই আমি জানি। উনার জয়যাত্রা টেলিভিশন নামে একটা মিডিয়া আছে, যেটার সাথে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী মহোদয় আছেন। এই সুবাদেই উপকমিটিতে উনাকে আমরা রেখেছিলাম।”

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম রুহুল আমিন শনিবার বলেন, “আমরা তাকে অব্যাহতি দিয়ে দিয়েছি। গত মাসে ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়েছি।”
কী কারণে অব্যাহতি দিয়েছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অভিযোগ অনেক আছে, সেটা আমরা বলতে চাই না। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা দপ্তর থেকে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি।”
‘চাকরিজীবী লীগ’ নামে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা দুই-তিন বছর ধরেই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সংগঠনটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।
এ বিষয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীর শনিবার বিকালে বলেন, “আমাকে উপকমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কোনো চিঠি আমি পাইনি। দলীয়ভাবে কেউ কিছু বলেওনি।”
চাকরিজীবী লীগে সম্পৃক্ততা অস্বীকার না করে তিনি বলেন, “আমি চাকরিজীবী লীগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলাম না। আমাকে এই কমিটিতে সভাপতি করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাই অনেকেই ফেইসবুকে দিয়েছে। যেহেতু আমাকে সভাপতি বানানোর কথা ছিল, সেই হিসেবে কেউ হয়তবা দিয়েছেন।”

হেলেনা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এবং জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এইচ এম এরশাদের পুরনো দুটি ছবিও সম্প্রতি ফেইসবুকে ছড়িয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে এক ফেইসবুক পোস্টে জবাবও দিয়েছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর।
তিনি লিখেছেন, “খালেদা জিয়া ও অন্যান্যদের সাথে যে ছবিগুলা ভাইরাল হচ্ছে সেটা বিয়েতে এসেছিল তখন তোলা ছবি এবং এই ছবি গুলা আমি নিজেই ফেইসবুকে দিয়েছিলাম।
“আমি একজন প্রকৃত ১০০% ব্যবসায়ী ও সরকারের একজন কমার্শিয়ালি ইমপোর্টেন্ট পার্সন CIP…সেখান থেকে রাজনীতিতে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর সৈনিক ছোটবেলা থেকেই। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদেরকে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে যেতে হয় একটা ছবি মানুষের রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে না।”

ভগবানকে নিয়ে ফেইসবুকে কটুক্তি করার অভিযোগে, ঢাবি শিক্ষক কার্জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

1

‘ভগবান’কে নিয়ে ফেইসবুকে কটুক্তি করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক অমিত ভৌমিক শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমান কার্জনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করার জন্য উপচার্যের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন একজন আইনজীবী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন শুক্রবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তার ব্যক্তিগত আইডিতে ‘ভগবান’কে নিয়ে কটুক্তিমূলক লেখা পোস্ট করেন। সেই পোস্টটি মূহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এর প্রতিবাদ করেন।
বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক অমিত ভৌমিক বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, ধর্মীয় উগ্রবাদ সৃষ্টি, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পোস্টটি করেছেন।তিনি পোস্টটি করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনূভুতিতে আঘাত করেছেন। তাই আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এদিকে হাফিজুর রহমান কার্জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সুমন কুমার রায় নামের একজন আইনজীবী। আবেদনে বলেন মি.কার্জনের এমন মন্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এদিকে নিজের পোস্টে বিপরীত প্রতিক্রিয়া এবং প্রতিবাদ পেয়ে নিজের ফেইসবুক আইডি থেকে পোস্টটি সড়িয়ে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, “আমি প্রত্যেকটি ধর্মের ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল এবং মনে করি যে কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা উচিত নয়। তবুও অসচেতনভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আমার পোস্টের মাধ্যমে কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে থাকি সেজন্য আমি ক্ষাপ্রার্থী।”
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি জানান, একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রোববার থেকে হাইকোর্টে ৩টি বেঞ্চে সীমিত পরিসরে বিচারিক কার্যক্রম চলবে,নিম্ন আদালতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় নি

0

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোরতম বিধিনিষেধকালে হাইকোর্টে বিচারিক কার্যক্রম ভার্চুয়ালি সীমিত পরিসরে ৫ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত হবে। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভায় সর্বসম্মতিতে এ সিদ্ধান্ত হয়। সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ওই সভা হয়।
তবে নিম্ন আদালতের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয় নি। আইনজীবীরা বলছেন,ভার্চুয়াল বিচারকাজ চালানো হলে হাইকোর্টের সব বেঞ্চেই চালু করা সম্ভব। একইসঙ্গে নিম্ন আদালতেও ভার্চুয়ালি বিচারকার্যক্রম চালু রাখা দরকার। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধু আদালতের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মচারীদেরও আদালতে আনা যেতে পারে।
আদালতে বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন মামলা জটের সৃষ্টি হচ্ছে অপর দিকে আইনজীবীরাও আর্থিক অনটনে পড়েছেন। বিচার প্রার্থীরাও পড়েছেন দুর্ভোগে।
শু্ক্রবার ফুলকোর্ট সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫ আগষ্ট পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগের পৃথক তিনটি একক বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালিত হবে। রিট ও দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি–সংক্রান্ত একটি করে তিনটি বেঞ্চে তিনজন বিচারপতি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে অতি জরুরি বিষয়ে শুনানি গ্রহণ ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেবেন। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান শুক্রবার রাতে এসব তথ্য জানিয়েছেন। সভায় সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণ শেষ করতে হবে বলে সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া আগামী ৫ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ফুল কোর্ট সভায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার কারণে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। পরে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘কঠোরতম বিধিনিষেধ’ আরোপ করা হয়।

রাজধানীতে গাঁজার চাহিদা বেড়েছে, দু’দিনেই দেড়শ কেজি উদ্ধার, আসছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত হয়ে

0

লকডাউনে রাজধানীতে গাঁজার চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে। মাত্র দুদিনেই রমনা, মহাখালি ও মিরপুর এলাকা থেকে অন্তত দেড়শ কেজি গাঁজা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। বেশিরভাগ গাঁজা আসছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত এলাকা থেকে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে রমনা পার্কের অরুনোদয় গেটের সামনে থেকে ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

তারা বিশেষ কায়দায় পিকআপ ভ্যানে করে এ গাঁজা পরিবহন করছিল। গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার দেবাশীষ কর্মকার জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বেলা তিনটার দিকে কাঙ্খিত নীল রঙের পিকআপ ভ্যানটি রমনা পার্কের সামনে আসলে ডিবি পুলিশের মাইক্রোবাস দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়। তখন পিকআপ ভ্যান রেখে পালানোর চেষ্টা করলে আজগর ও মনির নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা গাঁজা রাখার কথা স্বীকার করে এবং পিকআপ ভ্যানের পাটাতনের নিচ থেকে একে একে বের করে ২৫টি গাঁজার প্যাকেট। যার ওজন ৫০ কেজি। গ্রেফতারকৃতরা জানায় ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে এসব গাঁজা নিয়ে আসা হয়। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর টেকনিক্যাল এলাকা থেকে ৪০ কেজি গাঁজাসহ একজনকে গ্রেফতার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতের নাম মোঃ সেলিম, তার বাড়ি চাঁদপুর। মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাজিরুর রহমান জানান, মিরপুরের টেকনিক্যাল যাত্রী ছাউনি থেকে সেলিমকে ৪০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয়। সেলিম দুটি চটের বস্তা নিয়ে টেকনিক্যাল যাত্রী ছাউনিতে অপেক্ষা করছিল। একটি বস্তা থেকে ২২ কেজি ও আরেকটি বস্তা থেকে ১৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে এই গাঁজা কুমিল্লা থেকে নিয়ে আসে। এর আগে সোমবার রাজধানীর মহাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬০ কেজি গাঁজাসহ একজনকে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা গুলশান ইউনিট। গ্রেফতারকৃতের নাম- মোঃ নিজাম উদ্দিন (৩৫)। এসময় তার কাছ থেকে গাঁজা বহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ জানায় সোমবার সন্ধ্যায় বনানী থানার মহাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত নিজাম জানিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করতো।

আফগানিস্তানের কান্দাহারে শতাধিক মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তালেবানরা

0

আফগানিস্তানের কান্দাহারের স্পিন বোলদাকে তালেবানরা শতাধিক মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে আফগান প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
এই প্রসঙ্গে আফগানিস্তানের অন্তর্দেশীয় দপ্তরের মুখপাত্র মিরওয়াইস স্নেনেকজা বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদীরা স্পিন বোলদাকের নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলের নিরীহ আফগানদের বাড়িঘর আক্রমণ করে এবং বাড়িঘর লুট করে ১০০ জন নিরীহ মানুষকে খুন করে। এদের আসল চেহারা উন্মোচন হল।’ জানা যায়, কান্দাহার প্রদেশ কাউন্সিলের এক সদস্যের দুই ছেলেকেও খুন করা হয়েছে। যদিও এই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে তালেবানরা। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরে দখল নেয় তালেবানরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ওই শহরে লুটপাট চালাচ্ছে তালেবান জঙ্গিরা। ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। এমনকী সরকারি দপ্তরগুলোও হামলা চালিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। আফগানিস্তানের নিরাপত্তা এজেন্সির তরফে জানানো হয়েছে, এখনও অনেক দেহ মাটিতে পড়ে রয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে বেশিরভাগ সেনা সরিয়ে নিয়েছে আমেরিকা। তবে তাতেও যে সহজে তালেবানদের রেহাই দেবে না তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল সেনার এক মুখপাত্রের কথায়। তালেবানের বিরুদ্ধে আফগান বাহিনীকে সাহায্য করতে ইতিমধ্যেই বিমানহানা শুরু করেছে আমেরিকা। গত কয়েক দিন ধরেই আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। তবে কোথায় কোথায় এবং কী রণকৌশলে এই হামলা চালানো হয়েছে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও উত্তর দেয়নি পেন্টাগন। পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি জন কিরবি বলেন, “পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য দিতে চাই না। তবে এটা বলতে পারি যে গত কয়েক দিনে আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি জায়গায় বিমানহানা চালানো হয়েছে। আফগান বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য এই হামলা জারি রাখা হবে।” আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা সেনা তুলে নিতেই গোটা দেশ জুড়ে ফের তাণ্ডব চালাতে শুরু করেছে তালেবান জঙ্গিরা। আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশই তালেবানের দখলে চলে গিয়েছে। দেশের ৪০০টি জেলাকে ইতিমধ্যেই কব্জা করে ফেলেছে জঙ্গিরা। আমেরিকা সেনা তুলে নেওয়ায় কঠোর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে আফগান বাহিনীকে। তালেবানের হাত থেকে এলাকা উদ্ধারের চেষ্টায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

পাকিস্তানে নিরাপত্তাহীনতায় চীনা বিনিয়োগ; একে ৪৭ রাইফেলের ছবি ভাইরাল, নিরাপত্তা রক্ষায় চীনের ব্যয় বাড়ছে

0

পাকিস্তানে এক বাস বিস্ফোরণে নয়জন চীনা কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশটিতে চীনের প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়িক বিনিয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মীদের নিরাপত্তা রক্ষায় চীনকে ব্যয় করতে হবে বলে বলা হচ্ছে।
জানা গেছে , বাসটি পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের দাসু জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে চীনা প্রকৌশলীদের নিয়ে যাওয়ার পথে বিস্ফোরিত হয়। এসময় ১৩জন ব্যাক্তি নিহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে এ দুর্ঘটনার কারণ জানাতে পাকিস্তান ও চীনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিটি ছিলো পরস্পরবিরোধি।
ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে বলা হয় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস লিক হয়ে এ বিস্ফোরণ হয়। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় দাবি করে এটি ‘বোমা হামলা’ এবং বিষয়টি নিয়ে তারা ‘দুঃখ ও নিন্দা’ প্রকাশ করে। তারা পাকিস্তানের কাছে কঠোর শাস্তি দাবি করেছে। ঘটনাটি নিয়ে দুপক্ষের এই অসামঞ্জস্য বিবৃতি নিয়ে গণমাধ্যমগুলোয় ক্ষোভে ফেটে পড়ে চীনা নাগরিকরা। পাকিস্তান সত্য গোপন করছে বলে অনেকে অভিযোগ করে।

এদিকে পাকিস্তানের মাটিতে চীনা কর্মীদের কাধে এ কে ৪৭ রাইফেল নিয়ে কাজ করার একটি ছবি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। ইন্ডিয়া টুডেতে প্রকাশিত দেখা যাচ্ছে হাতে একে ৪৭ রাইফেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে পাকিস্তানে কর্মরত চিনারা। মনে করা হচ্ছে আত্মরক্ষার স্বার্থেই তারা এই কাজ করছে। পাকিস্তানের সিপিইসি প্রজেক্টে কাজ করছেন বহু চিনের নাগরিক।
এদিকে বাসে বোমা হামলার প্রাথমিক অনুসন্ধানে ‘বিস্ফোরকের চিহ্ন’ পাওয়ার পর পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী টুইটারে বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিষয়টিকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।’ পরবর্তী পর্যায়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে ফোনালাপে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং এই বিস্ফোরণকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে উল্লেখ করেন।
চীনের জননিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ঝাও কেঝি জানিয়েছেন ঘটনাটি তদন্তে সহায়তা করতে পাকিস্তানে গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠিয়েছে তারা। কিন্তু এ পদক্ষেপই কি যথেষ্ট?
বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক পদচারণা যেমন বাড়ছে তেমনি নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে তাদের করনীয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা আরএএনডি করপোরেশনের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ি, বিভিন্ন দেশে চীনের ৩০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর ১০ কোটির বেশি চীনা নাগরিক অন্যদেশে ভ্রমন করছে। এইসব নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষার জন্য চীন কি কোনদিন নিজেদের সামরিক সম্পদ মোতায়েনে বাধ্য হবে?

বিগত কয়েকবছর ধরে বিদেশে চীনা নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ হামলাগুলোর অন্যতম এই বাস বিস্ফোরণ। একদিকে দেশের অভ্যন্তরে জাতীয়তাবাদের উত্থান এবং দেশের বাইরে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মুহুর্তে বেইজিংকে এখন দেখাতে হবে তারা নিজেদের নাগরিকদের রক্ষার বিষয়টিতে কতোটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
এছাড়া পাকিস্তানের বাস বিস্ফোরণের ঘটনাটি মধ্য এশিয়ায় চীনের প্রকল্পগুলো কতোটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে তা বুঝিয়ে দিচ্ছে। দেখা গিয়েছে বিগত বছরগুলোয় বেইজিংয়ের উচ্চাবিলাসি বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প এবং অবকাঠামো স্কিমের একাধিক প্রকল্পে বোমা হামলা হয়েছে।
এরমধ্যে সবচেয়ে বড় হুমকিতে রয়েছে চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি)। এই ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেল্ট অ্যান্ড রোড ফ্লাগশিপ প্রকল্পটি চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলের সঙ্গে আরব সাগরে পাকিস্তানের কৌশলগত গাদোয়ার বন্দরকে সড়ক,রেলপথ,পাইপলাইন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে সংযুক্ত করবে। অবশ্য দাসু জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সিপিইসির আওতায় জ্বালানী প্রকল্পগুলোয় অন্তর্ভূক্ত নয়। তবে পাকিস্তানের দূর্ঘটনাটি সিপিইসি প্রকল্পে কর্মরত হাজার হাজার চীনা শ্রমিকদের আতঙ্কের মধ্যে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে চীনের তহবিলে পরিচালিত প্রকল্পগুলো ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এসব উন্নয়ন কর্মসূচিতে তারা খুব বেশি উপকৃত হচ্ছে না বলে দাবি করছে। বিশেষ করে বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে চীন বিরোধি মনোভাব ক্রমে ঘনীভূত হচ্ছে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে করাচিতে চীনা কনস্যুলেটে হামলার দায় স্বীকার করে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। এর ছয় মাস পরেই গাদোয়ারে একটি বিলাসবহুল হোটেলে হামলা করা হয়। এই হোটেলটি গাদোয়ার বন্দরে কর্মরত চীনা কর্মীরা ব্যবহার করতেন।
প্রতিবেশি আফগানিস্তানে সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য পাকিস্তান নিজেদের জড়িত করার কারণে আসন্ন মাসগুলোয় দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে সামনে রেখে আফগানিস্তানের একটি বড় অংশ তালেবানরা এরইমধ্যে দখল করে নিচ্ছে।
বিভিন্ন প্রকল্প ও সেখানে কর্মরত চীনা নাগরিকদের এখন পর্যন্ত নিরাপত্তার জন্য বেইজিং মূলত পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ করা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো সুরক্ষার জন্য ক্রমে চীনভিত্তিক বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানির দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারে ৪৯ টি বিদেশি বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৯টিই চীনভিত্তিক। ২০১৯ এবং ২০২০ সালে এই কোম্পানির সংখ্যা বেড়েছে। এসময়টিতে বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের কাজও এগিয়েছে।

চট্টগ্রামে গৃহকমী নির্যাতন, নারী চিকিৎসক গ্রেফতার

0

চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁওয়ে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে নাহিদা আক্তার রেনু নামে এক নারী চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কিশোরী গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের পাশাপাশি মাথার চুল কেটে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।
নির্যাতনের শিকার তসলিমা আক্তারেরর (১৫) বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায়। তার বাবার নাম আব্দুল গণি।
ভিকটিম কিশোরীর পুরো শরীরেই নিযাতনের চিহ্ন রয়েছে। চোখ মুখ থেকে শুরু করে গলা, হাত-পিঠ শরীরের কোনও অংশেই বাদ যায়নি নির্যাতন থেকে। কোনও কারণ ছাড়াই লাঠি দিয়ে পেটানো হতো তাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত চিকিৎসক নাহিদা আক্তার রেনু (৩৪) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আছেন।
নির্যাতিতার এক আত্মীয় বলেন, কাজল দেওয়ায় চোখে মেরেছে আর গলায়ও আঘাত করেছে। গলায় দাগও রয়েছে।
নাহিদা আকতার রেনু নামের ওই নারী চিকিৎসকের শিশু সন্তান গৃহপরিচারিকা কিশোরীর মাথায় হাত লাগিয়ে সেই হাত পুনরায় মুখে দেয় বলে জোরপূর্বক তার চুলও কেটে দেওয়া হয়। সবশেষ কাজল দেওয়ার অপরাধে আঘাত করা হয় ওই কিশোরীর চোখে। পরে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গৃহপরিচারিকাকে উদ্ধারের পাশাপাশি নারী চিকিৎসককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
নির্যাতনে অসুস্থ কিশোরীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় রাতে গৃহকর্মী তাসলিমার বাবা আব্দুল গণি একটি মামলা দায়ের করেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা গৃহঋণ পাবেন এক কোটি টাকা পর্যন্ত,অর্থমন্ত্রণালয়ের পরিপত্র জারি

0

প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা এখন থেকে ৪ শতাংশ সুদ দিয়ে গৃহ নির্মাণ ঋণ নিতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক বলতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের বোঝানো হয়েছে। ঋণ পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে। এর আনুষ্ঠানিক নাম ‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা’। ১ জুলাই ২০২১ সাল থেকে এটি কার্যকর। প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা এখন থেকে ৪ শতাংশ সুদ দিয়ে গৃহ নির্মাণ ঋণ নিতে পারবেন
পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার। এই পরিপত্রের মাধ্যমে ৪ শতাংশ সুদে গৃহ নির্মাণ ঋণ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগ মোট চারটি আলাদা পরিপত্র জারি করল। প্রথমটি হচ্ছে সরকারি কর্মচারী, এরপর অধস্তন আদালতের বিচারক ও তৃতীয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য। প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ছাড়া সবারই ঋণ পাওয়ার সর্বোচ্চ সীমা ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। এতে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা গৃহ নির্মাণ বাবদ ঋণ প্রদানের সুবিধা রাখা হয়। সরকারি কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণ ঋণ নীতিমালার আওতায় অধস্তন আদালতের বিচারকেরাও গৃহ নির্মাণ ঋণ সুবিধা পেয়ে থাকেন।
জানা গেছে, প্রধান বিচারপতির পাশাপাশি আপিল বিভাগে বর্তমানে ৫ জন বিচারক রয়েছেন, আর হাইকোর্ট বিভাগে আছেন ৯২ জন বিচারক।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যেক বিচারকের মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য এই সিদ্ধান্ত খুবই সময়োপযোগী হয়েছে।’
প্রধান বিচারপতির পাশাপাশি আপিল বিভাগে বর্তমানে ৫ জন বিচারক রয়েছেন, আর হাইকোর্ট বিভাগে আছেন ৯২ জন বিচারক
নীতিমালা অনুযায়ী গৃহ নির্মাণ ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ সরল সুদ। সুদের ওপর সুদ আদায় করা যাবে না। ঋণগ্রহীতা দেবেন ৪ শতাংশ সুদ আর বাকি ৫ শতাংশ সুদ ভর্তুকি হিসেবে বহন করবে সরকার।
ঋণ দেবে রাষ্ট্রমালিকানাধীন তফসিলি ব্যাংকগুলো, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ও পাঁচটি বেসরকারি বাণিজ্যিক—ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। সরকার চাইলে অন্য যেকোনো বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার কাজে নিয়োগ দিতে পারবে।
গৃহ নির্মাণ ঋণ বলতে বাড়ি (আবাসিক) নির্মাণের জন্য একক ঋণ, জমিসহ বাড়ি কেনার জন্য একক ঋণ, জমি কেনাসহ বাড়ি (আবাসিক) নির্মাণের জন্য গ্রুপভিত্তিক ঋণ, বাড়ি (আবাসিক) নির্মাণের জন্য গ্রুপভিত্তিক ঋণ ও ফ্ল্যাট কেনার ঋণকে বোঝাবে।
বলা হয়েছে, ঋণগ্রহীতাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হতে হবে। আবেদনের সর্বশেষ সময়সীমা হবে তাঁদের অবসরে যাওয়ার এক বছর আগপর্যন্ত। কেউ ঋণ নিয়ে অবসরে চলে গেলে তাঁকে ৯ শতাংশ হারেই সুদ পরিশোধ করতে হবে। একজন আবেদনকারী কেবল একবারই এ নীতিমালার আওতায় গৃহ নির্মাণ ঋণ পাবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, একজন আবেদনকারী দেশের যেকোনো এলাকায় গৃহ নির্মাণের জন্য ঋণ নিতে পারবেন। ঋণ পাওয়ার জন্য প্রস্তাবিত ভূমি ও বাড়ি অথবা ফ্ল্যাট সম্পূর্ণ দায়মুক্ত হতে হবে। ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে কেবল সম্পূর্ণ তৈরি ফ্ল্যাটের জন্য ঋণ নেওয়া যাবে। তবে ফ্ল্যাট যদি কোনো সরকারি সংস্থা তৈরি করে, সে ক্ষেত্রে ‘সম্পূর্ণ তৈরি ফ্ল্যাট’ এর শর্ত শিথিলযোগ্য।
বলা হয়েছে, ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ২০ বছর। ঋণের কিস্তি গ্রহীতার বেতন হিসাব থেকে ঋণের মেয়াদ পর্যন্ত মাসিক ভিত্তিতে কেটে নেওয়া হবে। ঋণগ্রহীতা অবসরে যাওয়ার পর সরকার সুদ ভর্তুকি দেবে না।
ঋণগ্রহীতা মারা গেলে ঋণের অপরিশোধিত কিস্তি তাঁর প্রাপ্য আনুতোষিক হতে জমা হবে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। যদি আনুতোষিকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ঋণ আদায় নিশ্চিত না হয়, তাহলে সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে তাঁর উত্তরাধিকারীর কাছ থেকে ঋণের অপরিশোধিত অংশ আদায়যোগ্য হবে। সূত্র -প্রথম আলো।

মুনিয়ার আত্মহত্যা প্ররোচণার মামলা থেকে বসুন্ধরার এমডি আনভীরকে অব্যাহতি দিলো পুলিশ

0

কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়াকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের কোনো ‘দোষ পায়নি।
মুনিয়ার বোনের করা এ মামলার অভিযোগ থেকে আনভীরকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে গুলশান থানা পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেছেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৯ জুলাই আদালতে ওই ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ দাখিল করেন।
“মুনিয়ার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
গত ১৯ এপ্রিল রাতে ঢাকার গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ২১ বছর বয়সী মোশারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সেই রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন ওই তরুণীর বোন নুসরাত।
সেখানে বলা হয়, ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে সায়েম সোবহান আনভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন মুনিয়ার সঙ্গে। ওই বাসায় তার যাতায়াত ছিল। কিন্তু বিয়ে না করে তিনি উল্টো ‘হুমকি’ দিয়েছিলেন মুনিয়াকে।
মামলা হওয়ার পর পুলিশের আবেদনে আনভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। তবে তার স্ত্রী- সন্তানসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য লকডাউনের মধ্যে বিমান ভাড়া করে দুবাই চলে যান।
অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কখনো কথা বলেননি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি। এপ্রিলের শেষ দিকে তার আগাম জামিনের জন্য হাই কোর্টে একটি আবেদন করা হলেও মহামারীর মধ্যে লকডাউনে সে আবেদনের শুনানি তখন আর হয়নি।
মুনিয়া ঢাকার মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার মনোহরপুরে; পরিবার সেখানেই থাকেন। মৃত্যুর মাস দুয়েক আগে এক লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন তিনি।
মুনিয়ার মৃতদেহ উদ্ধারের পর সেখান থেকে তার মোবাইলসহ বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধার করে পুলিশ, যার মধ্যে ছয়টি ডায়েরি ছিল। সিসিটিভির ভিডিও পরীক্ষা করে মুনিয়ার ফ্ল্যাটে আনভীরের যাতায়াতের ‘প্রমাণ পাওয়ার’ কথাও সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল।

বড় বোন তানিয়া সে সময় বলেছিলেন, “মুনিয়া ডায়রি লিখত। সেখান থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে।”
তিনি বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানালেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সে সময় বলেছিলেন, তদন্তে প্রমাণ পেলে তখনই তারা ব্যবস্থা নেবেন।
তানিয়া তার মামলায় আনভীরকে আসামি করলেও মুনিয়ার ভাই আশিকুর রহমান সবুজ দাবি করেন, তার বোন মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে এবং হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরী তাতে ‘জড়িত’।
মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর তিনি ঢাকার আদালতে হত্যা মামলার আবেদন নিয়ে গেলেও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার তদন্ত চলায় আপাতত নতুন মামলার কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আদেশ দেন বিচারক।
আশিকুরের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় শারুন সে সময় বলেছিলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপ ইস্যুটাকে ভিন্ন খাতে নিতে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমি এই ঘটনায় সম্পৃক্ত নই। আইন এবং বিচারের প্রতি আমার শতভাগ আস্থা আছে।” বিডি নিউজ।

পেগাসাস কাণ্ড তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করেছে ইসরায়েল, তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে কিছু বলা যাবে না

0

পেগাসাস কাণ্ডে তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রীদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছে ইসরায়েল। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছে ইসরায়েলের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং বিশেষজ্ঞদের বিষয়টি সম্পর্কে জবাবদিহি করাই তাদের কাজ। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইসরায়েলি সংস্থা এনএসও গ্রুপের মুখপাত্র জানিয়েছে, ‘আশা করছি, আমাদের সংস্থার কাজকর্ম আগের মতোই স্বাভাবিক থাকবে।’ তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে বিষয়টি নিয়ে কিছুই বলতে পারবে না এই নবগঠিত কমিটি। অথচ, এনএসও গ্রুপের পেগাসাস স্পাইওয়্যারের রপ্তানি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় তারাই দেখভাল করে বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলা হয়নি। যদিও বিশ্বজুড়ে পেগাসাস বিতকর্র পর মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গাৎজ বলেছিলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ এবং অপরাধ দমনের জন্যই সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই স্পাইওয়্যার ব্যবহার করবে বলে আমরা আশা করি।’ কিন্তু এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করেই বিশ্বের তাবড় তাবড় রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকদের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রসঙ্গত ইসরায়েলি কোম্পানি এনএসও গ্রুপের তৈরি ‘পেগাসাস’ সফটওয়ার ব্যবহার করে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, এমনকি কোনো দেশের ক্ষমতাসীন পরিবারের সদস্যদের ওপরও ফোনে আড়িপাতা হয়েছে এমন খবর প্রকাশ হয়েছে সম্প্রতি। যা নিয়ে তোলপাড় চলছে বিশ্বজুড়ে। ৫০ হাজারের বেশি ফোন নম্বরের একটি তালিকা ফাঁস হয়েছে যাদের স্মার্টফোনে আড়িপাতা হয়েছে ।
দ্য গার্ডিয়ান’, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’, ‘দ্য ওয়ার’সহ ১৭ টি সংবাদমাধ্যমের একটি সম্মিলিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘পেগাসাস’ নামে পরিচিত একটি ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী হাজার-হাজার মানুষকে নিশানা করা হয়েছিল।
ইজরায়েলের ‘এনএসও গ্রুপ’ নামে একটি সংস্থা ‘পেগাসাস’ সফটওয়ার তৈরী করেছে। এই সফটওয়ার মোবাইলে আড়িপাতার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।