পর্ন ছবি তৈরি করে ‘হটশটস’ নামের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ভিডিও ছড়ানোর দায়ে গ্রেফতার ভারতীয় অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী রাজ কুন্দ্রা। আসল সত্য উদঘাটনে তাকে দফায় দফায় জেরাও করা হচ্ছে। তবে অভিনেত্রীর স্বামীকে গ্রেফতারির সিদ্ধান্তের বিরোধিতার সরব তাঁর আইনজীবী আবেদ পোণ্ডা। সে প্রসঙ্গে যুক্তিও খাড়া করেছেন তিনি।
এদিকে পুলিশের নজর এখন অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির দিকেও। মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে নেমে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান রাজের এই পর্ন ছবি তৈরির ব্যবসায় সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিলেন শিল্পা শেঠির। তবে শিল্পার বিরুদ্ধে এই নিয়ে কোনও জোরাল প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তে নেমে মুম্বাই পুলিশের হাতে এমন কিছু তথ্য এসেছে যার ফলে নাম জড়িয়ে যেতে পারে শিল্পারও। এমন খবর দিচ্ছে ভারতীয় পত্রপত্রিকা।
আইনজীবী আদালতে জানান, দর্শকরা যদি সরাসরি যৌন মিলন বা সঙ্গমরত অবস্থায় পর্দায় কোনও যুগলকে দেখতে পান তবেই সেটাকে পর্ন বলে বিবেচনা করা যেতে পারে। না হলে অন্য ভিডিও ‘ভালগার’ বা অশ্লীল ভিডিও বলে গণ্য হবে। পুলিশ কি খতিয়ে দেখছে আজকাল ওয়েব সিরিজে কী ধরণের কনটেন্ট দেখানো হয়, সেগুলো কতটা অশ্লীল, কিন্তু অবশ্যই পর্ন নয়। এখানে এমন কোনও প্রমাণ নেই যে দু’জন মানুষ সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছে। সেটা না হলে কখনই তা পর্ন নয়। এছাড়া পুলিশ ঠিক বৈধভাবে রাজ কুন্দ্রাকে গ্রেফতার করেনি বলেও অভিযোগ তাঁর আইনজীবীর। তাঁর দাবি, ভারতীয় দণ্ডবিধি ৪১ নম্বর নোটিসে সাক্ষর করানো হয়েছিল রাজ কুন্দ্রা। ভারতীয় দণ্ডবিধি ৪১ নম্বর নোটিসে সাক্ষর করার অর্থ তদন্ত প্রক্রিয়ায় যোগদানের জন্য থানায় ডেকে পাঠানো হচ্ছে। তবে তা সত্ত্বেও কেন রাজ কুন্দ্রাকে গ্রেপ্তার করা হল, তার যৌক্তিকতাই খুঁজে পাচ্ছেন না আইনজীবী।

এদিকে মুম্বইয়ের ক্রাইম ব্রাঞ্চ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ মাস আগে ব্যবসা শুরু করেন রাজ। লন্ডনে বসবাসকারী ভগ্নিপতি প্রদীপ বক্সির সঙ্গে মিলে এই ব্যবসা করেন তিনি। গত বছর লকডাউনের পর থেকে রাজ কুন্দ্রার ব্যবসা কার্যত ফুলে ফেঁপে উঠেছিল। সেই সময় ঘরবন্দি বহু মানুষ ওই ভিডিও দেখেই সময় কাটিয়েছিলেন। তাই এই ব্যবসা থেকে দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছিলেন শিল্পার স্বামী। অন্যদিকে, পর্ন ছবির রমরমা বেড়ে যেতেই গত বছরই গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল সংস্থা ‘হটশট’কে নিষিদ্ধ বলে জানায়। এরপর ‘প্ল্যান বি, বলিফেম’ নামে নতুন পর্ন অ্যাপ তৈরি করে রাজ। ভারত থেকে সব ভিডিও ‘হটশট’ অ্যাপে আপলোড করতে পারতেন না রাজ। ভগ্নিপতি প্রদীপের সংস্থা কেনরিন লিমিটেডকে ‘উইট্রান্সফার’-এর মাধ্যমে প্রদীপকে পাঠাতেন রাজ। তারপর তা আপলোড করা হত। অন্যদিকে, পর্ন তারকা পুনম পাণ্ডে এবং মডেল সাগরিকার পর বুধবার ফের এক মহিলা রাজ ও উমেশের বিরুদ্ধে তাঁকে নগ্ন হয়ে অডিশন দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলেই অভিযোগ।
যৌন মিলন দেখানো না হলে তা পর্ন নয়, আদালতে সাফাই রাজ কুন্দ্রার আইনজীবীর, নজরে অভিনেত্রী শিল্পা শেঠিও
পর্ন ভিডিও থেকে রাজ কুন্দ্রার দৈনিক আয় ৮ লাখ
পর্ন ভিডিও তৈরি ও তা অ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রা এ ব্যবসা থেকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা উপার্জন করতেন। মুম্বাইয়ের যুগ্ম নগরপাল মিলিন্দ ভারাম্বে জানান যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা আত্মীয় প্রদীপ বক্সীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, হাজার হাজার কোটিতে এই ব্যবসার লেনদেন হয়েছে, সেই সব আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। আমরা এসব আয় খতিয়ে দেখছি। এইগুলো অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ধরা হবে, এখন পর্যন্ত আমরা রাজ কুন্দ্রার বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে ৭.৫ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছি।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ কুন্দ্রা আর্মস প্রাইম মিডিয়া নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ছয় মাস পর সেই কোম্পানির আওতায় তৈরি হয় হটশট নামের ভিডিও অ্যাপ। যে অ্যাপটিকে মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে পর্ন স্ট্রিমিং অ্যাপ বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে লন্ডনের ব্যবসায়ী প্রদীপ বক্সীকে ২৫ হাজার ডলারে এই অ্যাপ বিক্রি করে দেন রাজ কুন্দ্রা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আর্মস প্রাইম মিডিয়া থেকে পদত্যাগ করেন রাজ কুন্দ্রা। কিন্তু হটশটের যাবতীয় কর্মকাণ্ড চলত রাজের নেতৃত্বেই। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে উঠে এসেছে সেই তথ্য-প্রমাণ। শালীনতার মাত্রা ছাড়ানোর জেরে ২০২০ সালের জুন মাসেই গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপেল অ্যাপ স্টোর থেকে বাতিল করা হয় এই অ্যাডাল্ট অ্যাপ।
ভরাম্বে জানান, ভারতে বসে ভিডিও তৈরি করেও সেটা আপলোড করতে পারবেন সরকারি প্রতিবন্ধকতার ছাড়াই, সে কারণে মুম্বাই থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফরেন প্ল্যাটফর্মে ওই পর্ন ভিডিও পাচার করতেন রাজ কুন্দ্রা। অভিযুক্তর অফিস থেকেই লন্ডনের কোম্পানি কেনরিন লিমিটেডে সেসব ভিডিও পাঠাতেন তিনি। এরই মধ্যে সার্ভারের ডেটা খতিয়ে দেখছে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ১৭ জন বাংলাদেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে আট শতাধিক অভিবাসীর মৃত্যু হয়।
তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্ট বুধবার জানায়, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে এই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড ভূমধ্যসাগর থেকে ৩৮০ জনের বেশি অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা মোঙ্গি স্লিম বলেন, ‘১৭ জন বাঙালি মারা গেছেন। ৩৮০ জনের বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিবাসীরা নৌকায় করে লিবিয়ার জুয়ারা থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।’
রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, জুয়ারা লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত। সেখান থেকে নৌকা অভিবাসীদের নিয়ে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপের দেশ ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করে। তিউনিসিয়ার উপকূলে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
নৌকায় থাকা অভিবাসীদের মধ্যে সিরিয়া, মিসর, সুদান, মালি ও বাংলাদেশের নাগরিকেরা ছিলেন বলে জানায় রেড ক্রিসেন্ট।
গত ২৪ জুন ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশি, মিসরীয়সহ মোট ২৬৭ জনকে উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড। তাঁদের মধ্যে ২৬৪ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। বাকি তিনজন মিসরের নাগরিক। তাঁরা লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালির পথে রওনা হয়েছিলেন। ভূমধ্যসাগরে তাঁদের ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড।
২৪ জুনের আগে ১০ জুন ১৬৪ বাংলাদেশিকে তিউনিসিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার করে দেশটির কোস্টগার্ড। তাঁরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার আগে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় গত ১৮ মে ৩৬ জন এবং ২৭ ও ২৮ মে উপকূল থেকে ২৪৩ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড।
এ ছাড়া মে মাসে লিবিয়ার অবৈধ অভিবাসন দমন বিভাগের (ডিসিআইএম) কর্মকর্তারা আলজেরিয়ার সীমান্তবর্তী মরু এলাকা দারাসে অপহরণকারীদের কবল থেকে ৮৬ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেন। তাঁরা বেনগাজি হয়ে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার পথে অপহরণকারীদের কবলে পড়েছিলেন।
রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এক হাজারের বেশি অভিবাসী তিউনেসিয়ায় আটক হয়েছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ হাজার জন ইতালিতে পৌঁছেছেন। এ তালিকার শীর্ষে থাকা বাংলাদেশের আড়াই হাজারের বেশি ব্যক্তি ইউরোপে পৌঁছেছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যানুসারে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে আট শতাধিক অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
রাজধানীতে ৫ হাজার পিস ইয়াবা, ২০ লাখ জাল টাকাসহ ৩ জন গ্রেফতার
রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকা থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজন এবং যাত্রাবাড়ি থেকে ২০ লাখ টাকার জাল নোটসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কদমতলী থানা পুলিশ জানিয়েছে মঙ্গলবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কদমতলী থানার সাদ্দাম মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ সাত্তার নামে এক মাদক ব্যবসায়িকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ২০ লাখ জাল টাকাসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো মিনারা বেগম ও রাসেল।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের ডেমরা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ আজহারুল ইসলাম মুকুল জানান, গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তথ্য আসে যে, কাজলার একতা ফলের মার্কেটে কিছু লোক জাল টাকাসহ অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় ওই মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করে ডিবির ডেমরা জোনাল টিম। অভিযানে ২০ লাখ মূল্যমানের জাল টাকাসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সাবেক কূটনীতিকের মেয়েকে গুলি করে হত্যা
পাকিস্তানের এক সাবেক কূটনীতিকের মেয়েকে রাজধানী ইসলামাবাদে হত্যা করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানে নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূতের মেয়েকে ইসলামাবাদ থেকে অপহরণ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি অভিজাত এলাকা থেকে শওকত মুকাদামের মেয়ে নুর মুকাদামের (২৭) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বলে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে। শওকত দক্ষিণ কোরিয়া ও কাজাখস্তানে পাকিস্তানি কূটনীতিক হিসেবে কাজ করেছেন।
নুরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নুরের এক বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূতের মেয়েকে রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে অপহরণের পর নির্যাতনের ঘটনায় দেশটিতে নিযুক্ত কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এই নিয়ে শোরগোলের মাঝেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।
কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দিতে মনস্থির করে রেখেছিলেন জিয়াউর রহমান, সামরিক আদালতের বিচার ছিল অবৈধ; তদন্ত কমিটি করতে বলেছিল হাইকোর্ট,বাস্তবায়ন হয়নি ১০ বছরেও
১৯৭৬ সালে বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনালে গোপন বিচার করে রায় ঘোষণার ৩ দিনের মধ্যে ফাঁসি দেয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল এম এ তাহের বীর উত্তমকে। সামরিক আদালতে কোনো আইনজীবীর সহায়তা পাননি কর্নেল তাহের। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতেও যেতে দেয়া হয়নি। মনে হয়েছিল, জেনারেল জিয়াউর রহমান তার জীবন রক্ষাকারী কর্নেল তাহেরকে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড দেবেন এটা আগেই মনস্থির করে রেখেছিলেন । দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন ২১ জুলাই(১৯৭৬) ভোর রাতে তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের এই বিচারকে ৩৫ বছর পর অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। তাহেরের বিচারের ৩৪ বছর পর তাঁর পরিবারের পক্ষে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে ২০১১ সালে দেয়া হাইকোর্টের রায়ে তাহেরকে শহীদের মর্যাদা, তাহেরসহ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, সামরিক আদালতে বিচারের ঘটনা এবং এর প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখার জন্য সরকারকে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। রায়ে জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঠাণ্ডা মাথার খুনী উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনেক আগেই জিয়াউর রহমান কর্নেল তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। ফলে বিচার ছিল একটি প্রহসন মাত্র।
বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১১ সালের ২২ মার্চ এ রায় দিয়েছিলেন।
রায় ঘোষণার ১০ বছর পার হয়ে গেলেও এই রায় অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর হয় নি। সবচেয়ে বড় বিষয় কর্নেল তাহেরের বিচারসহ সেসময় সামরিক আদালতে বিচারের ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিলো রায়ে। কিন্তু ১০ বছরেও তা করা সম্ভব হয় নি।

হাইকোর্টের রায়ে তাহেরের মৃত্যুদণ্ড ‘ঠান্ডা মাথার খুন’ বলে চিত্রিত করতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিল। এ ছাড়া দণ্ডিত ব্যক্তিদের তালিকা থেকে রিট আবেদনকারীদের নাম মুছে ফেলারও নির্দেশ দেয়া হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, কর্নেল তাহেরের মৃত্যুদণ্ড একটি হত্যাকাণ্ড। কারণ, ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনেক আগেই জেনারেল জিয়াউর রহমান কর্নেল তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানে মনস্থির করেন। যেহেতু জেনারেল জিয়া জীবিত নেই, আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার সম্ভব নয়। এর পরও সরকারের উচিত হবে এই হত্যার জন্য দায়ী কেউ জীবিত থাকলে, তাঁকে খুঁজে বের করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা। কর্নেল তাহেরকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দেশের গৌরব উল্লেখ করে আদালত বলেন, তাঁর হত্যাকাণ্ড দেশের ইতিহাসের একটি কলঙ্কময় অধ্যায়। কর্নেল তাহেরের ফাঁসিকে ‘নিরঙ্কুশ খুন’ বলে অভিহিত করেছেন আদালত। রায়ে বলা হয়, যে অপরাধের জন্য তাহেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, সেই অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের কোনো বিধান ছিল না। সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। তথাকথিত বিচারকে কোনো অবস্থাতেই বিচার বলে বিবেচনা করা যায় না। বিচারকেরা যে রায় দিয়েছেন, তা ছিল নেহাতই প্রভুদের কণ্ঠস্বর।
রায়ে বলা হয়, এখানে আসামিদের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়নি আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ। এমনকি সাক্ষীদের জেরা করারও সুযোগ দেওয়া হয়নি।
রায়ে আদালত আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, তা-ও শোনানো হয়নি। তাঁদের জিজ্ঞাসা করা হয়নি, তাঁরা দোষ স্বীকার করেন কি না। তাঁদের সাফাই সাক্ষীরও সুযোগ দেওয়া হয়নি। আত্মীয়-পরিজন ও আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়নি এফআইআর ও অভিযোগপত্রের কপি। ফৌজদারি মামলায় যেসব প্রক্রিয়ার অনুসরণ করার কথা ছিল, তার কোনোটাই অনুসরণ করা হয়নি।
কর্নেল তাহেরের গোপন বিচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পঁয়ত্রিশ বছর পর চারটি রিট মামলা করা হয়েছিল। রিট মামলাগুলো করেছিলেন কর্নেল তাহেরের স্ত্রী লুৎফা তাহের এবং তার ভাই ড. আনোয়ার হোসেনসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের পাশাপাশি জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুসহ পাঁচজন রিট মামলা করেছিলেন, তাদেরও ওই সামরিক আদালতে বিচারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল।
সবগুলোর রিটের ওপর একসঙ্গে শুনানি হয়। চূড়ান্ত শুনানিতে আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ড.এম জহির, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আক্তার ইমাম, এ এফ এম মেসবাউদ্দিন, আবদুল মতিন খসরু, জেড আই খান পান্না ও এম আই ফারুকীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য শুনেন। রিট আবেদনকারিদের পক্ষে শুনানি করেন ড.শাহদীন মালিক।
রিটের শুনানিকালে মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ, ঘটনার সময় ঢাকার জেলা প্রশাসক এম এম শওকত আলী, কর্মরত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মহিবুল হক, হাসানুল হক ইনু, আনোয়ার হোসেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফজলুর রহমানও আদালতে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নূরুল ইসলাম। তাহেরের সঙ্গে সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি কয়েকজনও আদালতে বক্তব্য দেন।
শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২২ মার্চ আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তাহেরের গোপন বিচার অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়, তাহেরসহ অন্যদের বিচার ছিল লোক দেখানো ও প্রহসনের নাটক। এটা কোনো বিচার হয়নি। তাই বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিচার-প্রক্রিয়া ও সাজা ছিল অবৈধ। বিচার ও সাজা বাতিল করা হলো। আদালত অভিমতে বলেন, ওই বিচার প্রথম থেকেই অবৈধ, আর পুরো বিচারটি ছিল একটি বিয়োগান্ত নাটক ও বানানো বিচার।
বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে রায়ে বলা হয়, তাহেরের তথাকথিত বিচার ও ফাঁসি দেওয়ার ঘটনা ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। ওই বিচার ও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ছিলেন জিয়াউর রহমান। একই সঙ্গে তাহেরকে শহীদের মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি কথিত ওই সামরিক আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার বর্ণনা করে রায়ে বলা হয়, ১৯৭৬ সালের ১৪ জুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ১৭ জুলাই তাহেরকে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। এরপর ২১ জুলাই তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু তাহেরকে যে আইনে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, সেই আইনে ওই সময় মৃত্যুদণ্ডের কোনো বিধান ছিল না। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর ’৭৬-এর ৩১ জুলাই মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হয়। তাই আইনগতভাবে ওই দণ্ড ছিল অবৈধ। তথাকথিত ওই আদালতের বিচারক আবদুল আলী ও অন্যরা বলেছেন, বিচারের সময় তাঁদের সামনে কোনো কাগজ বা নথিপত্র ছিল না। এ ছাড়া আসামিরা জানতেন না যে তাঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ। তাঁদের পক্ষে বক্তব্য দিতে কোনো আইনজীবীও দেওয়া হয়নি। এসব বিবেচনায় ট্রাইব্যুনাল ও এর কার্যক্রম ছিল অবৈধ। তথাকথিত ওই বিচার সংবিধানের ২৭, ২৯, ৩০, ৩২, ৩৩ ও ৩৫ অনুচ্ছেদ ও সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার পরিপন্থী।
জিয়া জড়িত: রায়ে লিফশুলজ ও অন্যদের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, জেনারেল জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ এসেছে, যদিও বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনা এ মামলার বিচার্য বিষয় নয়। ওই সময় হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। সঠিক ইতিহাস ও সত্যের খাতিরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এটা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হলো। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, আইনজ্ঞ, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং অবসরপ্রাপ্ত বেসামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তার সমন্বয়ে ওই কমিটি গঠন করতে বলা হয়।
তথ্য পর্যালোচনা করে রায়ে বলা হয়, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ডে স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের জয় বাংলা স্লোগান মুছে ফেলেন। বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণের স্থান রেসকোর্স ময়দানকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিণত করেন এবং সেখানে শিশুপার্ক স্থাপন করেন।
পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর পদ দেন জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতাবিরোধী কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমানকে দেন মন্ত্রীর পদ। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সেনা কর্মকর্তাদের উচ্চপদে আসীন করেন তিনি।
তাহেরকে শহীদের মর্যাদা: ইতিহাস ও বিভিন্ন নথিপত্র থেকে ওই প্রহসনের বিচার এবং দেশদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত তাহেরসহ অন্যদের নাম বাদ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছেন, তাহেরসহ অন্যরা সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের ক্ষোভের শিকার ছিলেন বলেই মৃত্যুবরণ ও কারাবরণ করেছিলেন। তাঁরা জিয়ার স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠায় পাশে না থেকে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাহেরকে দেশদ্রোহের অভিযোগ মুছে দিয়ে মহান দেশপ্রেমিক হিসেবে চিহ্নিত করে শহীদের মর্যাদা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো। কথিত বিচারের মুখোমুখি হাসানুল হক ইনু, মাহমুদুর রহমান মান্না, মেজর জিয়াউদ্দিনসহ অন্যদের দেশপ্রেমিক হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার কথাও রায়ে বলা হয়।
আর্থিক ক্ষতিপূরণ বিবেচনা: রায়ে আদালত তাহেরের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বলেন, ওই সময় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অনেকেই সেনা কর্মকর্তা এবং সরকারি চাকরিতে ছিলেন। কিন্তু গোপন বিচারের কারণে তাঁদের সাজা হয় এবং অনেকে চাকরিচ্যুত হন। যাঁদের সাজা হয়েছিল, তাঁদের পেনশনসহ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছিল।
পেগাসাস কাণ্ডে ওয়াশিংটনপোস্টে বাংলাদেশের নামও রয়েছে: আতঙ্কে সাংবাদিক ,অধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ আমলারা
পেগাসাস কাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশের সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ,আমলা অনেকেই এই অতঙ্কের মধ্যে আছেন। কার মোবাইল নজরদারিতে পড়েছে, কে কখন কী বলেছেন এ নিয়ে নিজেরাই এখন আতঙ্কিত। কবে আবার কী ফাঁস হয়ে যায় এ নিয়েও রয়েছে চিন্তা।
প্রসঙ্গত ইসরায়েলি কোম্পানি এনএসও গ্রুপের তৈরি ‘পেগাসাস’ সফটওয়ার ব্যবহার করে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, এমনকি কোনো দেশের ক্ষমতাসীন পরিবারের সদস্যদের ওপরও ফোনে আড়িপাতা হয়েছে এমন খবর প্রকাশ হয়েছে সম্প্রতি। যা নিয়ে তোলপাড় চলছে বিশ্বজুড়ে। ৫০ হাজারের বেশি ফোন নম্বরের একটি তালিকা ফাঁস হয়েছে যাদের স্মার্টফোনে আড়িপাতা হয়েছে ।
দ্য গার্ডিয়ান’, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’, ‘দ্য ওয়ার’সহ ১৭ টি সংবাদমাধ্যমের একটি সম্মিলিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘পেগাসাস’ নামে পরিচিত একটি ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী হাজার-হাজার মানুষকে নিশানা করা হয়েছিল।
ইজরায়েলের ‘এনএসও গ্রুপ’ নামে একটি সংস্থা ‘পেগাসাস’ সফটওয়ার তৈরী করেছে। এই সফটওয়ার মোবাইলে আড়িপাতার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

এ তথ্য ফাঁস হওয়ার পর এনএসও দাবি করেছে তারা নিজেরা কারো ফোনে আড়ি পাতে না। তাদের সফটওয়ার কেউ কিনে নিয়ে ব্যবহার করতে পারে। সেই সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি ক্রেতাদেরই বিক্রি করা হয় সেই ফোন হ্যাকিং সফটওয়ারটি। অর্থাৎ কোনো দেশের সরকার ছাড়া এই সফটওয়ার কেউ কিনতে পারেনা এবং ব্যবহারও করতে পারে না।
অতীতে ফোন হ্যাকিংএর জন্য যেসব সফটওয়ার ব্যবহার করা হতো
ইসরায়েলের এনএসও গ্রুপের তৈরি পেগেসাস সফটওয়্যার সেগুলোর চেয়ে অনেক বেশি আপডেট। এর আগের স্পাইওয়্যার ঘরানার সফটওয়্যারগুলো কার্যকর হওয়ার জন্য ব্যবহারকারীর দিক থেকে অন্তত একটি ক্লিকের দরকার হতো। কিন্তু পেগেসাসের ক্ষেত্রে তা দরকার পড়ছে না। লক্ষ্যবস্তুর ব্যবহৃত ডিভাইসের যেকোনো নিরাপত্তা ত্রুটির ফাঁক গলে এই নজরদারি চালু হয়ে যাবে। ব্যক্তির ব্যক্তিগত বলে কিছুই আর থাকবে না। যখন যাকে খুশি, তার অন্দরেই উঁকি মারতে পারবে। দরকার শুধু গ্রাহকের দিক থেকে একটি সবুজ সংকেত।
পেগাসাস কি বাংলাদেশেও ব্যবহৃত হয়েছে?
বিবিসি বাংলা জানিয়েছে বিশ্বের ১৭টি প্রথম সারির মিডিয়া, সাংবাদিকতা বিষয়ক প্যারিস-ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ফরবিডেন স্টোরিজ‘ এবং সেইসাথে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের পুরোটা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।
অনুসন্ধানে যেসব দেশে ব্যাপকহারে এই নজরদারি চালানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে তেমন ১০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু ভারতের নাম রয়েছে। তবে তালিকা আরো লম্বা কিনা তা এখনো অপরিষ্কার।
বিশ্বের প্রায় যে ৫০টি দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি মোবাইল ফোনে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও‘র তৈরি পেগাসাস নামের সফটওয়ারটি ঢুকিয়ে নজরদারির নজির এই অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে তাতে বাংলাদেশের কোনো টেলিফোন নম্বর রয়েছে কিনা তা এখনও অস্পষ্ট।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট, যারা এই অনুসন্ধান প্রকল্পের অন্যতম অংশীদার, সোমবার প্রকাশিত তাদের এক রিপোর্টে বাংলাদেশের নাম লেখা হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের ঐ রিপোর্টে ‘কারা এনএসও‘র ক্রেতা?‘ – এ উপ-শিরোনামে (সাব- হেড) ৪৫ টি দেশের নাম লেখা হয়েছে যেখানে পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে নজরদারি হয়েছে বা হচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সেই তালিকায় ভারত, পাকিস্তানের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার আর যে দেশটির নাম রয়েছে তা বাংলাদেশ।
তবে এই তালিকার সূত্র হিসাবে সিটিজেনস ল্যাব নামে ক্যানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম বলা হয়েছে।
২০১৮ সালের তালিকায় বাংলাদেশ:
জানা গেছে, সিটিজেনস ল্যাব, পেগাসাসের ব্যবহার নিয়ে তাদের ২০১৮ সালের এক অনুসন্ধানের পর প্রথম বাংলাদেশের নাম করেছিল। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, “কোনো দেশে কোনো মোবাইল ফোনে পেগাসাসের উপস্থিতি পাওয়ার অর্থ এই যে সেদেশের সরকারই পেগাসাসের ক্রেতা।“
ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত রিপোর্টে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য না দেয়া হলেও, সরকারের একজন মন্ত্রী পেগাগাস কেনা বা ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
সরকারের টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে উদ্ধৃত করে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার লিখেছে, “টেলিযোগাযোগ বিভাগ বা তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ এই ধরণের কোনো স্পাইওয়্যার কেনেনি। কেনার কোনো প্রশ্নই আসেনা… বাংলাদেশের মানহানির চেষ্টা হচ্ছে।
ইমসি ক্যাচার:
অবশ্য এ বছরের গোড়ার দিকে কাতারের আল জাজিরা টিভি তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলে নজরদারির জন্য বাংলাদেশ গোপনে ইসরায়েলি প্রযুক্তি কিনেছে – যে খবর নিয়ে সেসময় দারুণ হৈচৈ হয়।
জানুয়ারির শেষ দিকে প্রচারিত আল জাজিরার এক দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, পিকসিক্স নামের একটি ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ইমসি ক্যাচার নামে এই যন্ত্র দিয়ে ওয়াই-ফাই, সেলুলার এবং ভিডিও নজরদারি করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি হয় এবং ২০১৯ সালে পূর্ব ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরিতে দু’জন ইসরায়েলি গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর চারজন বাংলাদেশি গোয়েন্দাকে প্রশিক্ষণ দেয়।
আল জাজিরা তাদের প্রমাণ হিসাবে নথিপত্র-ছবি-ফুটেজ প্রচার করে, তবে বাংলাদেশে সরকার অবশ্য সেসময় তা অস্বীকার করে।
পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র তৈরির অভিযোগে বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী গ্রেফতার
পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র তৈরি ও একটি অ্যাপের মাধ্যমে সেগুলো সরবরাহ করার অভিযোগে নামকরা বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী ও ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রাকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ।
মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত রাজ কুন্দ্রাকে ২৩ শে জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অধীনে মামলা করা হয়েছিল। এই মামলার তদন্ত চলাকালীন সোমবার রাজ কুন্দ্রাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে যে, মামলায় রাজ কুন্দ্রার জড়িত থাকার বিষয়টির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে তাদের হাতে।
পুলিশ তার বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ কুন্দ্রার পরিবার বা শিল্পা শেঠির পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দেয়া হয়নি।

এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুম্বাই পুলিশের একটি দল গ্রিন পার্ক নামে একটি বাংলোয় অভিযান চালিয়েছিল। সেখানে পর্নো চলচ্চিত্রের শুটিং হওয়ার বিষয়ে জানতে পেরে পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়।
সেসময় পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ জনের মধ্যে দুজন অভিনেতা ও দুই তরুণীও ছিলেন।
রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী?
আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলায় বলা হয়: “রাজ কুন্দ্রা হটশট নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও নিয়ে ব্যবসা করছিলেন। যখন গিহান ভাশিষ্ট নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তখন তিনি উমেশ কামাত নামে একজনের নাম নেন। উমেশ কামাত রাজ কুন্দ্রার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী-পিএ। তিনিই এসব বিষয়ে রাজ কুন্দ্রার জড়িত থাকার কথা পুলিশকে অবহিত করেছিলেন।”
রাজ কুন্দ্রা দাবি করেছেন যে, তিনি তার হটশট অ্যাপটি প্রদীপ বকশী নামে একজন ওয়ান্টেড আসামীর কাছে বিক্রি করেছেন।
তবে পুলিশের এক বিবৃতি বলছে: “তদন্তে জানা গেছে যে, রাজ কুন্দ্রা নিয়মিত এই অ্যাপের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে খবরাখবর নিয়ে আসছিলেন। তিনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও তৈরি করেছিলেন যার অ্যাডমিনও ছিলেন তিনি নিজেই। এই গ্রুপে তিনি হটশটের ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছিলেন। এসম্পর্কিত বিতরণ এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে সেখানে আলোচনাও করতেন তিনি।”
পুলিশের বিবৃতি আরও জানাচ্ছে: “গিহান ভাশিষ্ট ও উমেশ কামাত দুজনই প্রযোজক ও পরিচালক ছিলেন এবং হটশটের জন্য তারা গল্প লিখতেন এবং সেগুলো ইমেইলের মাধ্যমে অন্যদের কাছে পাঠানোর সময় সিসিতে রাজ কুন্দ্রাকে উল্লেখ করা হতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অনেক আলোচনাও হয়েছে।”
আইপিএল স্পট ফিক্সিংয়েও জড়িত থাকার অভিযোগ:
২০১২ সালে, রাজ কুন্দ্রা আইপিএল স্পট ফিক্সিংয়ের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন এবং তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আইপিএল দল রাজস্থান রয়্যালসে রাজ কুন্দ্রার একটি অংশীদারিত্ব ছিল। রাজ কুন্দ্রা ছাড়াও স্পট ফিক্সিংয়ের মামলায় পুলিশ অনেক খেলোয়াড়কে গ্রেপ্তার করেছিল।
আদালতে ২০১৫ সালের ২২ শে জানুয়ারি, বিসিসিআইয়ের তৎকালীন সভাপতি এন শ্রীনিবাসনের জামাতা এবং চেন্নাই সুপার কিংসের দলের প্রিন্সিপাল গুরুনাথ মেইয়াপ্পান এবং রাজস্থান রয়্যালসের কো-ওনার রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে স্পট ফিক্সিং এবং ম্যাচ সম্পর্কিত তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
মুদগাল কমিটির রিপোর্টের পরে সুপ্রিম কোর্ট প্যানেল চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালসকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। সেই সাথে মেইয়াপ্পান ও রাজ কুন্দ্রাকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়।
শাল এবং হীরা বাণিজ্য:
রাজ কুন্দ্রার বাবা বালকৃষ্ণ ব্রিটেনে ছোটখাটো একজন বাস কন্ডাক্টর হিসাবে কাজ করতেন। ১৯৯৪ সালে রাজ নেপালে যান এবং এখানে পশমিনা শাল তার ভাগ্য বদলে দিয়েছিল।
নেপাল থেকে তিনি যখন ব্রিটেনে ফিরে আসেন, তখন তিনি কন্টেইনার ভর্তি করে পশমিনা শাল নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বড় বড় সব ব্রিটিশ ফ্যাশন হাউসগুলোতে এই শাল সরবরাহ করেছিলেন। প্রথম বছরেই তিনি প্রায় ২০ মিলিয়ন পাউন্ড লাভ করেছিলেন।
এখন অন্যান্য ব্যবসায়ে হাত দেয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ রাজের কাছে রয়েছে। তবে রাজ কুন্দ্রা কেবল শাল আমদানির ব্যবসাতেই থেমে থাকেননি।
তিনি হীরার ব্যবসাতেও হাত দিয়েছিলেন এবং সেখানেও সফল হন।
রাশিয়া, ইউক্রেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলিতে ব্যবসায়ের সুযোগ দেখে রাজ খনিজ, রিয়েল এস্টেট এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবসার দিকেও ঝোঁকেন।
কথিত আছে যে, মধ্যবিত্ত অবস্থা থেকে ধনী ব্যবসায়ী হওয়ার যাত্রা তার জন্য সহজ ছিল না।
উদাহরণস্বরূপ বলা হয়, তিনি তার কলেজের পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি এবং মাত্র দেড় লাখ রুপি মূলধন দিয়ে তার ব্যবসা শুরু করেন।
শিল্পা শেঠির সাথে বিয়ে:
২০০৪ সালে, সাকসেস ম্যাগাজিনে এশিয়ান বংশোদ্ভূত ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় ১৯৮ তম স্থানে উঠে আসেন রাজ কুন্দ্রা। ২৯ বছর বয়সে এই তালিকায় উঠে আসা সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন তিনি।
তিন বছর পরে, অর্থাৎ ২০০৭ সালে, তিনি তার প্রথম স্ত্রী কবিতার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান। এর পরে লন্ডনে শিল্পা শেঠি বিগ ব্রাদার নামে একটি টিভি শোতে অংশ নিতে গেলে সেখানে তার সাথে সাক্ষাত হয় রাজ কুন্দ্রার। ধীরে ধীরে তারা কাছে আসতে শুরু করেন।
শিল্পা ও কুন্দ্রা ২০০৯ সালের নভেম্বরে ভারতে বিয়ে করেন এবং একই বছর রাজ কুন্দ্রা আইপিএল টিম রাজস্থান রয়্যালসে ১১.৭ শতাংশ শেয়ার কিনে নেন।
রাজ বর্তমানে দুই সন্তানের জনক এবং শিল্পা শেঠি ফাউন্ডেশন নামে একটি দাতব্য সংস্থাও পরিচালনা করেন।
পর্নো এবং আইন
পর্নোগ্রাফি বিশ্বজুড়ে একটি বড় ব্যবসা। এতে যৌন ক্রিয়াকলাপ এবং নগ্ন ছবি, ভিডিও, টেক্সট, অডিও এবং অন্যান্য উপাদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পর্নোগ্রাফি বিরোধী আইন এ জাতীয় উপাদান ইলেকট্রনিক্যালি প্রকাশ, কাউকে পাঠানো বা সম্প্রচার এবং বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
বিশ্বের বৃহত্তম পর্ন ওয়েবসাইট হিসাবে বিবেচিত ‘পর্নহাব’-এর মতে, ভারত তার দ্রুত বর্ধনশীল বাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, ক্রমবর্ধমান যৌন সহিংসতার পিছনে পর্নো দায়ী। ২০১৮ সালে, ভারতের টেলিযোগাযোগ অধিদফতর দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহকারী সব কোম্পানিকে ৮২৭টি পর্নো ওয়েবসাইট ব্লক করার নির্দেশ দেয়।
দিল্লি হাইকোর্টে এক ধর্ষণ মামলার শুনানির সময় আসামি বলেছিলেন যে, তিনি ধর্ষণ করার আগে পর্নো ভিডিও দেখেছিলেন। বিবিসি বাংলা।
মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসে বিশ্বজনমত গড়ায় ১২ জন পেলেন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি
স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রবাসে বিশ্ব জনমত গঠনে ভূমিকা রাখায় দেশের বিশিষ্ট ১২ ব্যক্তিকে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার।
সোমবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়। এর ফলে এখন থেকে সরকার নির্ধারিত প্রাপ্য সম্মানী ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাবেন তারা।

স্বীকৃতিপ্রাপ্তরা হলেন- বর্তমানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক,

আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, জাতীয় জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক ড. এনামুল হক, দৈনিক মানবকণ্ঠের সাবেক সম্পাদক সদ্য প্রয়াত জাকারিয়া চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত রাজিউল হাসান, বিশিষ্ট গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের অন্যতম সহসভাপতি সৈয়দ মোজাম্মেল আলী, পাট ও পাটজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী আবুল খায়ের নজরুল ইসলাম, যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেট মাহমুদ আব্দুর রউফ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী (কায়সার) ও হবিগঞ্জ জেলা আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আফরাজ আফগান চৌধুরী।
গেজেটভুক্ত সবাই মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং পাকিস্তানি গণহত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠনে অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। তারা তৎকালীন যুক্তরাজ্য ছাত্র সংগ্রাম পরিষদেরও সদস্য ছিলেন।
জলাধার সংরক্ষণ নিয়ে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায় প্রকাশ: নতুন দুটি মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ
নদী, খাল, বিল, হাওরসহ সব জলাভূমি ও জলাধার সংরক্ষণ ও রক্ষায় ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি’ ও ‘জলাভূমি’ নামে দুটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে হাই কোর্টের এক রায়ে।
একই সঙ্গে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি’ ও ‘জলাভূমি রক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে পৃথক আইন প্রণয়নেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রায়ে জলাধার বা জলাভূমি দূষণ বা ক্ষতিগ্রস্ত করে উন্নয়ন প্রকল্প ও শিল্পাঞ্চল বা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবাসন ব্যবসায়ী নূর আলীর ইউনিক প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ‘সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটি ও সোনারগাঁ ইকোনমিক জোনের’ মাটি ভরাট কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব নির্দেশনা ও সুপারিশ এসেছে।
বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর এই রায় দিয়েছিল।
রোববার রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ১৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বিচারপতি মো. আমরাফুল কামাল। রায়ের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন বিচারপতি রাজিল আল জলিল।
রায়ে সুপারিশের পাশাপাশি কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আদালত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলেছে, “এই রায়ের অনুলিপি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণের জন্য পাঠানো হোক, যাতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশের সব জলাভূমি রক্ষায় জরুরিভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।“
হাই কোর্ট গত ডিসেম্বরে শুনানি শেষে রায়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর, জৈনপুর, চরহিস্যা, চরভবনাথপুর, ভাটিয়াবান্দা ও রতনপুরের কৃষিজমি, নিচু ভূমি ও জলাভূমিতে মাটি ভরাট অবৈধ ঘোষণা করে।
ইউনিক প্রপার্টিজ এই ছয় মৌজার কৃষিজমি, জলাভূমি ও মেঘনা নদীর অংশবিশেষ ভরাট করে সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটি নির্মাণের কাজ শুরু করে।
এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৪ সালে রিট করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২ মার্চ হাই কোর্ট রুল জারির পাশাপাশি ওই এলাকায় ইউনিক প্রপার্টিজের মাটি ভরাট কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
এরপর সোনারগাঁ ইকোনমিক জোনের জন্য প্রাক্-যোগ্যতার অনুমোদন পেয়েছে জানিয়ে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড হাই কোর্টের আগের আদেশ সংশোধন চেয়ে আবেদন করে।
এই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট নিষেধাজ্ঞার আদেশ সংশোধন করে কার্যক্রম পরিচালনার আদেশ দেয়।
এই আদেশের বিরুদ্ধে বেলা আপিল করলে আপিল বিভাগ হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞার আদেশ বহাল রাখে। পরে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ ডিসেম্বর রায় দেওয়া হয়।
আদালতে বেলার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মিনহাজুল হক চৌধুরী, আলী মুস্তফা খান ও সাঈদ আহমেদ কবীর।
সোনারগাঁ ইকোনমিক জোনের পক্ষে রুল শুনানি করেন আইনজীবী মুরাদ রেজা ও আহসানুল করিম। ইউনিক প্রপার্টিজের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আবু তালেব।
রায়ে ওই ছয় মৌজার কৃষিজমি, নিচু ভূমি ও জলাভূমি কী পরিমাণ দখল ও বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে, সেটির পরিমাণ ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করার জন্য যৌথভাবে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত সাপেক্ষে ওই ছয়টি মৌজায় বালু দিয়ে ভরাট করা কৃষিজমি, নিচু ভূমি ও জলাভূমি সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটি ও সোনারগাঁ ইকোনমিক জোনের খরচে পুনরুদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফেরত আনতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে রায়ে বলা হয়, “সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ১১ ও ১২ নম্বর প্রতিপক্ষ থেকে আদায় করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হল।“
জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না
পূর্ণাঙ্গ রায়ে সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “দেশের সব জলাভূমির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।“
আর ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংরাদেশ বনাম বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য’ রিট মামলার রায় তুলে ধরে বলা হয়েছে, “পাবলিক ট্রাস্ট সম্পত্তি তথা জনগণের ন্যস্ত সম্পত্তি তথা জাতীয় সম্পত্তি।
ফলে প্রকৃতি, পরিবেশ, জলবায়ু, জলাভূমি, সমুদ্র, সৈকত, নদ-নদী, নদ-নদীর পাড়, খাল-বিল, হাওর-বাওর, নালা, ঝিল, ঝিরি এবং সব প্রকার উন্মুক্ত জলাভূমি, পাহাড়-পর্বত, বন, বন্যপ্রাণী এবং বাতাস বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ এর ৫ ধারা মোতাবেক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গায় শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না।“
জলাধার বা জলাভূমি দূষণ বা ক্ষতিগ্রস্ত করে উন্নয়ন প্রকল্প, শিল্পাঞ্চল বা অর্থনৈতিক অঞ্চল নয়
‘জলাধার কনভেনশন’ নামে পরিচিত আন্তরাষ্ট্রীয় বৈশ্বিক চুক্তি ‘রামশার কনভেনশন’ অঙ্গীকার তুলে ধরে রায়ে বলা হয়েছে, “রামশার কনভেনশন চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ সকল জলাভূমির তালিকা করে তা রামশার কনভেনশনের তালিকাভূক্তিকরণ, সংরক্ষণ এবং বিচক্ষণ ব্যবহার (ওয়াইজ ইউজ) করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট অঙ্গিকারাবদ্ধ।“
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ এর ৩৩ ধারা তুলে ধরে বলা হয়েছে, “পরিবেশ আইন ও সরকার স্বীকৃত, অনুমোদিত পরিবেশগত আন্তর্জাতিক সব কনভেনশন, প্রটোকল এবং আইন মেনে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোনোভাবেই এসব আইনের পরিপন্থি কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।“
সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ, অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন ২০১০, রামশার কনভেনশন, তুরাগ নদীর রায় অনুযায়ী প্রকৃতি ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প, শিল্পাঞ্চল এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা যাবে না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
সুপেয় বা পানযোগ্য, নিত্য ব্যবহার উপযোগী পানি, ফলন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সেচের পানি তেলের চেয়েও মূল্যবান উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়েছে, “তেল বা জীবাশ্ম জ্বালানি ছাড়া মানবজাতি চলতে পারে। কিন্তু সুপেয় বা পানযোগ্য পানি বা নিত্য ব্যবহার উপযোগী পানি ছাড়া মানবজাতি, প্রাণীকুল, জীবজগৎ এক মুহূর্ত চলতে পারবে না।“
বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সুপেয় পানির ভাবিষ্যত গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে রায়ে।
এতে বলা হয়েছে, “সৌদি আরব যদি তেলের খনির অধিকারী হয়, তাহলে বাংলাদেশ সুপেয় পানি বা ব্যবহার উপযোগী পানির অধিকারী। ভবিষ্যতে এক গ্যালন তেলের দামের চাইতেও দশগুন বেশি দাম দিয়ে পানি কিনতে হতে পারে।“
তাই সুপেয় পানি বা ব্যবহার উপযোগী পানির ক্ষেত্র বা উৎসের ক্ষতি করে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে রায়ে।
পাশাপাশি নবায়ণযোগ্য জ্বালানি আইন প্রণয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি কমিশন গঠনসহ ১৪টি সুপারিশ করা হয়েছে রায়ে।
এগুলো হল-
>> জার্মানির নীতি অনুসরন পূর্বক বাংলাদেশকে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা;
>> এই সংক্রান্ত রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন;
>> ‘সাইকেল লেন ছাড়া কোনো সড়ক নয়’ নীতি অবলম্বন করে ঢাকাসহ বাংলাদেশের সকল সড়ক ও মহাসড়কে বাধ্যতামূলক বাইসাইকেল লেন এবং সাইকেল স্ট্যান্ড নির্মাণ;
>> বাংলাদেশের সকল নদ-নদী এবং খালের উভয় পাড়ে পার্ক স্থাপন, হাঁটার পথ এবং বাইসাইকেলের জন্য পৃথক লেন করা;
>> বাংলাদেশকে নেদারল্যান্ডসের মত বাইসাইকেলের দেশ হিসেবে তৈরি করার দীর্ঘমেয়াদী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা;
>> বাংলাদেশের সকল বিল, হাওর-বাওর, নালা, ঝিল, ঝিরিসহ সকল জলাভূমির চারপাশে সুরক্ষা বেষ্টনী দিয়ে পায়ে চলার পথ তৈরি করা’
>> প্লাস্টিক ব্যাগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ১ হাজার ২০০ বছরের পুরনো জাপানের ঐহিত্যবাহী ফুরসকি ব্যাগ তথা বাজার করার ব্যাগ তথা মোড়ানো কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারের প্রচলন করা;
>> সকল উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইকোসেন্ট্রিক তথা প্রকৃতিকেন্দ্রীক পন্থা অবলম্বন গ্রহণ করা;
>> জেনোসাইডের মত ইকোসাইডকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন, ১৯৭৩ এর ৩ ধারায় অন্তর্ভূক্তকরণ;
>> বাংলাদেশের সকল জাতীয় পার্কে, জাতীয় উদ্যানকে পৃথক ব্যবস্থাপনা, রক্ষণ, সংরক্ষণ এবং পারিচালনার নিমিত্তে পৃথক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করে আমেরিকার জাতীয় উদ্যানের আদলে বিশেষ করে ইয়োসমেটিক ন্যাশনাল পার্কের আদলে তৈরি করা;
>> বাংলাদেশের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যগুলো (সুন্দরবন, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ শহর এবং পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার) বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে রক্ষণ, সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে পৃথক কর্তৃপক্ষ তথা বিশ্ব ঐতিহ্যগুলো সুন্দরবন, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ শহর এবং পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার রক্ষণ, সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা।
মামলাটি চলমান (কন্টিনিউয়াস মেন্ডামাস) রেখে রায়ে জলাভূমির সুরক্ষা, উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনায় অবিলম্বে আলাদা ‘জলাভূমি মন্ত্রণালয়’ সৃষ্টির পাশাপাশি জলাভূমি সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় দ্রুত আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশ ‘রামশার কনভেনশন’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন করেছে সেহেতু উক্ত অঙ্গীকার এবং চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত জাতীয় নীতিমালা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব ও কর্তব্য।
রায়ের আরও কিছু নির্দেশনা দিয়েছে উচ্চ আদালত। এতে বলা হয়েছে, “অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ এর ৩৩ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আবেদন করলে আবেদনপত্রের সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র সংযুক্তকরণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।“
ডিজিটাল ডাটাবেজ প্রণয়নের ক্ষেত্রে এসপিএ, আরআর এসও সেটেলাইটের সাহায্যে আরএস/জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশেল সব জলাভূমির ভৌগলিক অবস্থান নির্ণয় এবং জীব বৈচিত্র বিষয়ক তথ্যাদি সংগ্রহ করে দেশের সকল ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলার ম্যাপ প্রস্তুত করে উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
আদালত সরকারি–বেসরকারি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই মাস অন্তর এক দিন এক ঘণ্টাব্যাপী জলাভূমির প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা, রক্ষা ও দূষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্লাস নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
নির্দেশ অনুসারে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্লাস নিচ্ছে কি না, তা তদারক করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলায় প্রতি তিন মাস অন্তর এক দিন জলাভূমির প্রয়োজনীয়তাবিষয়ক দিনব্যাপী র্যালি, চিত্র প্রদর্শনী, বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা, আলোচনা ও সেমিনার করতে পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। বিডি নিউজ ।










