‘বালিশকাণ্ড’ হিসেবে বহুল আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে হওয়া মামলায় পাবনা গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমসহ ৭ প্রকৌশলীর জামিন কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
সোমবার জামিন বাতিলে দুদকের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ এই দুই সপ্তাহের রুল দেন।
দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
পাবনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রিন সিটি প্রকল্পের ২০ ও ১৬ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য অস্বাভাবিক দামে বালিশসহ আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রী কেনায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর পাবনায় পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।
দুদকের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন ও উপ-সহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে পাবনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা করেন।
ওই প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে ২০১৯ সালের ১৬ মে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীতে ২০ তলার ১১টি ও ১৬ তলার আটটি ভবন হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলার আটটি ও ১৬ তলার একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য একটি বৈদ্যুতিক চুলার দাম ধরা হয়েছে সাত হাজার ৭৪৭ টাকা এবং তা ভবনে তুলতে খরচ ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা, একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং তা ভবনে তুলতে খরচ ধরা হয়েছে ৭৩০ টাকা। একটি বৈদ্যুতিক কেটলির দাম পাঁচ হাজার ৩১৩ টাকা, যা তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে দুই হাজার ৯৪৫ টাকা।
৭ প্রকৌশলী হলেন পাবনা গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম, উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আহমেদ সাজ্জাদ খান ও মোস্তফা কামাল, উপ সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল কবীর, শফিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মো. তারেক ও আমিনুল ইসলাম।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বালিশকাণ্ডে মাসুদসহ ৭ প্রকৌশলীর জামিন বাতিলে হাইকোর্টের রুল
ইভ্যালির বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না,জানতে চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়
ইভ্যালির বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ইভ্যালিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় পাশাপাশি কোম্পানিটির ব্যবসা পদ্ধতিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সোমবার ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলের কাছে এ চিঠি পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।১ আগস্টের মধ্যে ইভ্যালিকে নোটিশের জবাব ও ব্যবসা পদ্ধতি জানানোর সময় দেওয়া হয়েছে। কারণ দর্শানোর সঙ্গে ছয়টি বিষয় আবশ্যিকভাবে জানাতে হবে ইভ্যালিকে—নোটিশে এ কথাও বলা হয়েছে।

ছয় প্রশ্ন
১. প্রথমেই জানতে চাওয়া হয়েছে, গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত গ্রাহক ও মার্চেন্টদের নিকট মোট ৪০৭ কোটি টাকা দায়ের বিপরীতে ইভ্যালির কাছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকা চলতি সম্পদ থাকার কারণ কী? বাকি টাকা ইভ্যালির কাছে আছে কি না। থাকলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে, না থাকলে দিতে হবে পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা।
২. ১৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহকের কাছে মোট দায়ের পরিমাণ কত, গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের বিনিময়ে যে পণ্য দেওয়ার কথা, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা কী এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
৩. ১৫ জুলাই পর্যন্ত মার্চেন্টদের নিকট দায়ের পরিমাণ কত এবং তা পরিশোধের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
৪. ব্যবসা শুরুর পর থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে ইভ্যালি কী টাকা নিয়েছে, মার্চেন্টদের কত অর্থ পরিশোধ করেছে এবং প্রশাসনিক ও অন্যান্য খাতে কী পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ।
৫. ইভ্যালির ব্যবসা পদ্ধতি এবং বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা।
৬. ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা এবং ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো ব্যবসা পদ্ধতি বা কার্যক্রম ইভ্যালিতে এখনো আছে কি না, থাকলে কী—এসব বিষয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা।
কারণ দর্শানোর নোটিশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে যে ইভ্যালি গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়েও যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করছে না। যেসব মার্চেন্টের কাছ থেকে পণ্য নেওয়া হয়েছিল, তাদেরও অর্থ পরিশোধ করছে না ইভ্যালি। এসব কার্যকলাপের ফলে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা এবং বিক্রেতার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৬ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সে অনুযায়ী গ্রাহকের কাছে ২১৪ কোটি এবং মার্চেন্টের কাছে ১৯০ কোটি টাকার দায় রয়েছে ইভ্যালির। এ দায়ের বিপরীতে ইভ্যালির মোট সম্পদ ৯২ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৬৫ কোটি টাকা মাত্র চলতি মূলধন। নোটিশে এ তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইভ্যালির বিভিন্ন কার্যকলাপের ফলে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা এবং বিক্রেতার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি এবং এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কিত এক বৈঠকে ইভ্যালিকে এই নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় রোববার। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, জননিরাপত্তা বিভাগ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় (আরজেএসসি) এবং ই–কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ফোন উদ্ধার
ছিনতাইয়ের ৫০ দিন পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান ডিএমপি রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান।
সাজ্জাদুর রহমান বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করেছে ডিএমপি। একই সঙ্গে ফোন চোরাই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ছগির, সুমন মিয়া, জাকির, আরিফ ও জীবন। আরিফের ল্যাপটপে থাকা ছবির সূত্র ধরে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ১২ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় একজনের ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে সগির ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসা করে জাকির নামের একজনের নাম জানা যায়। জাকিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরিফের নাম জানা যায়। পরে আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, আরিফের ল্যাপটপ অনুসন্ধান করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এর মোবাইল ফোনের একটি ছবি পাওয়া যায়। পরে আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জীবনের নাম পাওয়া যায়। আর জীবনকে গ্রেপ্তার করার পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের চুরি হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, জীবনের কাছ থেকে আরও কয়েকটি চোরাই মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রীর ফোনটি কে ছিনতাই করেছিল, এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা মন্ত্রীর মুঠোফোনটি উদ্ধারের পর আমরা মিরপুর বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা জানিয়েছে, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এর মুঠোফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজনকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় আমরা এখনো জানতে পারিনি। তবে আমরা ধারণা করছি, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের মোবাইলফোন ছিনতাইয়ের সঙ্গে ছগির ও সুমন জড়িত ছিলেন।’
এর আগে গত ৩১ মে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে বের হয়ে বিজয় সরণির ট্রাফিক সিগন্যালের যানজটে আটকা পড়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানকে বহনকারী গাড়িটি। তখন গাড়ির গ্লাস খুলে মোবাইলফোনে কথা বলছিলেন মন্ত্রী।
এ সময় হঠাৎ এক ছিনতাইকারী ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পরপরই পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ব্যক্তিগত সহকারী কাফরুল থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনার ৫০ দিন পর ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হলো।
বিশ হাজার টাকার জন্য বাড়ির মালিককে খুন, দু’দিনেই হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ গ্রেফতার হলো খুনী
বিশ হাজার টাকার জন্য বাড়ির মালিককে খুন। তারপর সেই মৃতদেহ বাথরুমে ফেলে উধাও হত্যাকারী। কিন্তু তার সেই পলায়ন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, হত্যার দুইদিনের মধ্যে সে ধরা পড়ে পুলিশের জালে। উদঘাটন হয় একটি ক্লুলেস হত্যা মামলার মূল রহস্য।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এর কাশিমপুর থানার ওসি মাহবুব এ খোদা জানান, গত ১৫ জুলাই,বিকেল সাড়ে পাঁচটায় দক্ষিণ পানিশাইল পদ্মা হাউজিং প্রকল্পে এ ব্লকে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ৩য় তলার বাথরুমে অর্ধ গলিত গলাকাটা একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়। যা স্থানীয়রা উক্ত বাড়ির মালিক আমিনুল ইসলাম খন্দকার ওরফে বাবুল (৬০) এর বলে শনাক্ত করে। এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়।
গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া অপরাধ (উত্তর) বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রেজওয়ান আহমেদ জানান, নির্মাণাধীন ভবনের এই হত্যা মামলাটি ছিল সম্পূর্ন ক্লুলেস। তাই থানা পুলিশের পাশাপাশি একাধিক টিম এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মৃতদেহ পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ১৭ জুলাই ভোর রাতে আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় হত্যাকারী জাহাঙ্গীর আলম সোহাগকে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি।
হত্যাকান্ডের মোটিভ সম্পর্কে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গত ১৩ জুলাই, রাত অনুমান আটটায় আসামী জাহাঙ্গীর আলম সোহাগ ভিকটমের নির্মাণাধীন ৫ম তলা ভবনের ৩য় তলায় উঠে ভিকটিমকে ফোন করে বলে আপনার নির্মাণাধীন ভবনে ২/৩ জন লোক উঠেছে। ভিকটিম তখন উপরে উঠে মোবাইল ফোনের আলোতে লোক খুঁজতে থাকেন। কাউকে না পেয়ে ৩য় তলায় ঘটনাস্থল কক্ষে চেক করার সময় পেছন থেকে জাহাঙ্গীর তার মুখ চেপে ধরে বিশ হাজার টাকা দাবি করে। আমিনুল ইসলাম টাকা দিতে না চাইলে আসামীর কাছে থাকা ধারালো গার্মেন্টস এর কাটিং ছুরি গলায় ধরে ভয় দেখায়। তখন তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এতে করে জাহাঙ্গীরের হাত সামান্য কেটে ও ছিলে যায়। আমিনুল ইসলাম বাঁচার জন্য আসামীর ডান হাতের আঙ্গুলে কামড় দিলে জাহাঙ্গীর ভিকটিমের গলায় ধারালো কাটিং ছুরি দিয়া আঘাত করে। ভিকটিম এর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর জাহাঙ্গীর ভিকটিমের পাঞ্জাবীর পকেট থেকে ৯৯৭ টাকা নিয়ে নেয় এবং মৃতদেহটি বাথরুমের ভিতর লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। তদন্তে নেমে পুলিশ বেশকিছু সূত্র ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই খুনের রহস্য উদঘাটন করতে ও খুনিকে ধরতে সক্ষম হয়।
দুদকের মামলা: পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ডিএডি মোতালেব স্ত্রীসহ কারাগারে
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ও তাঁর স্ত্রী ইসরাত জাহানকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দেন। দুদকের আদালত পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
পরিদর্শক বলেন, রোববার আদালতে দুই আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ৩০ জুন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ সংস্থাটির উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে মোতালেব হোসেন ও তাঁর স্ত্রী ইসরাত জাহানের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রায় চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ আনা হয় মোতালেব দম্পতির বিরুদ্ধে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মোতালেব হোসেন ২০০৪ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৭৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৯ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। তিনি দুদকে জমা দেওয়া সম্পদের হিসাব বিবরণীতে ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৮ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত ৪১ লাখ ২৩ হাজার ৩৮৯ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগদখল করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অন্য মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোতালেব হোসেনের স্ত্রী ইসরাত জাহান ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেন। দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তিনি ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ২৫৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন। সব মিলিয়ে তিনি জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত ৩ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখেছেন।
একুশে পদক ২০২২ এর জন্য মনোনয়ন প্রস্তাব আহবান
শিল্প-সংস্কৃতি,মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি (জীবিত/মৃত), গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার নিকট হতে একুশে পদক ২০২২ এর জন্য মনোনয়ন প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।
রোববার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থা, সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সকল জেলা প্রশাসক এবং স্বাধীনতা পদক/ একুশে পদকে ভূষিত সুধীবৃন্দকে আগামী ১৫ অক্টোবর, ২০২১ এর মধ্যে মনোনয়ন প্রস্তাব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাবলি ও একুশে পদক নীতিমালা এবং মনোনয়ন প্রস্তাবের ফরম সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে পাওয়া যাবে।
একুশে পদক প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর ভাষা আন্দোলন, শিল্পকলা (সংগীত, নৃত্য, অভিনয়, চারুকলাসহ সকল ক্ষেত্র), মুক্তিযুদ্ধ, সাংবাদিকতা, গবেষণা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অর্থনীতি, সমাজসেবা, রাজনীতি, ভাষা ও সাহিত্য এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন ক্ষেত্রে এ পদক প্রদান করা হয়ে থাকে।
নাটকে আইনজীবীর অসম্মান ; অভিনেতা মোশাররফ করিমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
অভিনেতা মোশাররফ করিমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবী ও আইন পেশাকে অসম্মান করায় তার বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন কুমিল্লা বারের ১০ আইনজীবী। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দন কান্তি নাথ বাদী পক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি আমলে নিয়ে পিআইবিতে তদন্ত করে আগামী ১৮ ই আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অপর চার বিবাদী হলেন- অভিনেতা জামিল হোসাইন, অভিনেতা ফারুক আহমেদ, পরিচালক আদিবাসি মিজান এবং বৈশাখী টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
মামলাটি প্রসঙ্গে আইনজীবী রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বৈশাখী টিভিতে ‘হাই প্রেশার-২’ নামের একটি নাটক প্রচার হয়েছিল। সে নাটকে বিভিন্নভাবে আইন পেশাকে অসম্মান ও আইনজীবীদের মানহানি করা হয়েছে। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে আদালতে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক চন্দন কান্তি নাথ মামলাটি আমলে নিয়েছেন। আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।।
করোনার দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, জনপ্রতিনিধি সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাকালে তাঁর সরকারের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষ যাতে কোনো রকম কষ্ট না পায়। তাদের খাদ্যের চাহিদা পূরণ, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা অর্থাৎ তাদের করোনা থেকেও যেমন মুক্তি দেওয়া, তেমনি আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করা। যে কারণে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ সরকার ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের এ কাজে সহায়তা করায় সব মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সচিবদের তিনি ধন্যবাদ জানান।
সরকারপ্রধান রোববার সকালে মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং এপিএ ও শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান-২০২১–এর প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

করোনার দুর্যোগ মোকাবিলায় তিনি প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী থেকে জনপ্রতিনিধি সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সাহসী ভূমিকা রেখেছে এবং এত বাধার মধ্যেও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেও সবাই নিজ নিজ কাজ চালিয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী এই সমস্যাটি হলেও করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা তাঁর সরকারেরর অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থা গতিশীল রেখে জনগণের জন্য কাজ করে যাওয়াটাই তাঁর সরকারেরর লক্ষ্য।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন সরকারে এসেছি বাংলাদেশের মানুষের জন্য সেবক হিসেবে কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার জন্য কোনো কিছু নয়, শুধু একটা সুযোগ মানুষের জন্য কাজ করার, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করার এবং যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী করোনা প্রতিরোধকল্পে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করে পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের বাড়ি যেতে ইচ্ছুক যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। ইনশা আল্লাহ কেউ বাদ যাবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। আমি জানি, আমাদের মানুষগুলো একটু গ্রামের উদ্দেশে ছুটতে পছন্দ করে, মাস্ক পরতে চায় না। কিন্তু প্রশাসনের যাঁরা যেখানে দায়িত্বরত আছেন, তাঁরা একটু চেষ্টা করবেন মানুষকে বোঝাতে এবং তারা যেন মাস্কটা অন্তত পরে আর যেন সাবধানে থাকে।’
পর্যায়ক্রমে সবাইকে ভ্যাকসিন দিতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো মানুষ যেন ভ্যাকসিন থেকে বাদ না পড়ে। সেভাবে কিন্তু আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি বলেন, ‘আমরা ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছি। ভ্যাকসিন আসছে। আমাদের দেশের সবাই যেন ভ্যাকসিন নিতে পারে, তার জন্য যত ভ্যাকসিন দরকার আমরা কিনে আনব এবং দেশের সবাইকে সেই ভ্যাকসিন দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি আমাদের দেশের মানুষ যেন কোনো রকম ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যক্তিপর্যায়ে শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম শ্রেষ্ঠ বিভাগ হিসেবে এপিএ সম্মাননা পাওয়ায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সব সময় একটা লক্ষ্য ছিল সরকার জনগণের সেবা করবে। কাজেই যারা সেবা করবে, তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা, তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অর্থাৎ জনগণের সেবামূলক প্রশাসন গড়ে তোলা। তিনি বলেন, ‘সরকারে থেকে শুধু সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করব তা নয়, এখানে আমাদের একটা দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের প্রতি। জনগণের কল্যাণে, স্বার্থে এবং ভাগ্য পরিবর্তনে। সেই কথা চিন্তা করেই আমরা সব কর্মকাণ্ড-বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন বাজেট দিই এবং প্রশাসনে নানা কর্মকাণ্ড আমরা পরিচালনা করি, সেগুলো যেন গতিশীলতা পায়, সেগুলো যেন জনকল্যাণমুখী হয় এবং জনগণ যেন এর সুফল ভোগ করতে পারে—সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করি।’ তিনি বলেন, ‘২০১৪–১৫ সালে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমরা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ যে কাজগুলো করব, সেটার একটা জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কাজগুলো যাতে সঠিকভাবে হয়, সেটা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এই বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি করেছি। যেখানে সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবেরা এবং আমাদের মন্ত্রণালয়য়ের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্বাক্ষর করবেন। এর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের নানা দপ্তর এবং বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট সচিব এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্বাক্ষর করে কাজগুলো যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, দেখবেন।’
ধারাবাহিকভাবে সরকারে থাকায় দেশের উন্নতি এমনটাই হয়, অভিমত ব্যক্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘তাঁর সরকার পরিচালনায় আজকে করোনা নামের এমন একটা বাধা এসেছে যেটি সমগ্র বিশ্বেই সংকটের সৃষ্টি করেছে। তবে এই সংকটের সময় কীভাবে আমাদের চলতে হবে, সব সময় সেই কর্মপন্থা সুনির্দিষ্ট করেছি। কারণ, করোনার ফলে সব থেকে বেশি আঘাত এসেছে আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে।’
আমাদের দুঃখ হলো, বাংলাদেশকে আমরা যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম সেখানে করোনা নামক একটা অদৃশ্য শত্রুর বিরাট ধাক্কা লেগেছে, বলেন তিনি।
ওয়ান–ইলেভেনের প্রেক্ষাপটে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিনা বিচারে তাঁর সাবজেলে অন্তরীণ থাকতে বাধ্য হওয়ার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন এমন একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয় যে আওয়ামী লীগকে আর কখনো বোধ হয় ক্ষমতায় আসতে দেবে না। কিন্তু জনগণের ওপর আমার বিশ্বাস ছিল, তাই ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করি এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন শুরু করি।’ বাসস।
রূপগঞ্জে হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মত্যুর মামলার তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুড কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের প্রাণহানির ঘটনার কারণ শনাক্ত করতে ১০ টি বিষয় প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। শনিবার দুপুরে আগুনে পোড়া কারখানা পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান সিআইডির ডিআইজি ইমাম হোসেন।

সিআইডির ডিআইজি বলেন,তদন্তভার পেয়ে বিভিন্ন আলামতসহ মাঠ পর্যায়ে স্বাক্ষ্য ও তথ্য সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করতে কয়েকটি বিষয় চিহ্নিত করে তদন্ত কাজ চলছে। সিআইডির তদন্তে যে কোন ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত কাজ সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেন সিআইডির এই কর্মকর্তা। এ সময় অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জেলা পুলিশের দায়ের করা মামলাটির তদন্তভার পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। দূর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে সিআইডির তদন্ত দল আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
সিআইডি পূলিশের ডিআইজি জানান, জুস কারখানায় আগুনে পুড়ে যাওয়া বিভিন্ন আলাতম সিআইডি ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছে। এগুলো ফরেনসিক করা হবে। তদন্তের প্রয়োজনে আগুন লাগার পর ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত শ্রমিকসহ উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের সাথে কথা বলে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করা হবে। এতো হতাহতের জন্য কোম্পানীর ব্যক্তিগত গাফিলতি কতটুকু ছিলো তাও খতিয়ে দেখা হবে। মালিকপক্ষসহ অন্যকারো গাফিলতি পেলে ব্যবস্হা নেয়া হবে।
গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎঃ ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডির বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা
অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের আবেদনে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দিয়েছেন, যা শনিবার জানা যায়।
৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এর আগে গত ৮ জুলাই ইভ্যালির শীর্ষকর্তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছিল দুদক।

আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর দুদকের প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, “দুদক যখন জানল, তারা বিদেশ চলে যেতে পারেন, তখন দুদক ব্যবস্থা নেয়।
“তখন এখতিয়ার সম্পন্ন কোর্ট খোলা ছিল না। বৃহস্পতিবার এখতিয়ার সম্পন্ন কোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞার আদেশ এসেছে।” দুদকের নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের পর ইভ্যালির এমডি রাসেল ফেইসবুকে লিখেছিলেন, তাদের বিদেশ যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে তিনি ‘পজিটিভলি’ দেখছেন।
তবে সরকার ও দুদকের পদক্ষেপের পর ইভ্যালির কার্যালয়টি বন্ধ রয়েছে কিছু দিন ধরেই। হটলাইনে ফোন করেও কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া অগ্রিম এবং মার্চেন্টের পাওনা ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ ও পাচারের’ অভিযোগে ইভ্যালির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।
দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী ও উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালামকে এই অনুসন্ধানের কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক চিঠিতে ইভ্যালির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠির সঙ্গে ইকমার্স প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাত পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদনও যুক্ত করে দেওয়া হয়।
সেই প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, “গত ১৪ মার্চ দেখা যায়, ইভ্যালি ডটকমের মোট সম্পদ ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৬ টাকা (চলতি সম্পদ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা) এবং মোট দায় ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৪ টাকা।
“উক্ত তারিখে ইভ্যালি ডটকমের গ্রাহকের নিকট দায় ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের নিকট দায় ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকা। গ্রাহকের নিকট থেকে অগ্রিম হিসেবে গৃহিত ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের নিকট থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকার মালামাল গ্রহণের পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির নিকট কমপক্ষে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ ১ হাজার ৯১৪ টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির নিকট সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা ।”
দুদকে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়, “ইভ্যালি ডটকমের চলতি সম্পদ দিয়ে মাত্র ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে বা অর্থ ফেরত দিতে পারবে। বাকি গ্রাহক ও মার্চেন্টের পাওনা পরিশোধ করা উক্ত কোম্পানির পক্ষে সম্ভব নয়।
“তদুপরি গ্রাহক ও মার্চেন্টের নিকট হতে গৃহিত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকার কোনো হদিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে গ্রাহক ও মার্চেন্টের নিকট হতে গৃহিত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকা আত্মসাৎ কিংবা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে কোনো আর্থিক অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে দুদককে অনুরোধ করা হয়।











