ঢাকা   সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ১:১১ 

Home Blog Page 98

পাকিস্তানে দুটি কুকুরের ‘মৃত্যুদণ্ড’

0

আবাসিক এলাকায় প্রাতঃভ্রমণে বের হয়েছিলেন মির্জা আখতার নামের এক আইনজীবী। এ সময় পাকিস্তানের করাচির এক সড়কে দুটি কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। এর বিচারে ওই দুটি কুকুরকে ‘মৃত্যুদণ্ড’ দেওয়া হয়। তবে এই শাস্তি কোনো আদালতে দেওয়া হয়নি। বরং কুকুরের মালিক হুমায়ুন খান ও আইনজীবী মিলে এই শাস্তি দিয়েছেন।
গাল্ফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদিনের মতো গত মাসের এক সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন মির্জা আখতার। এ সময় দুটি কুকুর তার ওপর হামলা করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফাঁকা সড়কে দুটি কুকুর আইনজীবীর ওপর চড়াও হয়। ওই ভিডিওটি দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়।
এরপর কুকুরের মা‌লিক হুমায়ুন খানের সঙ্গে ও আইনজীবী মির্জার মধ্যে সমঝোতা হয়। শেষ পর্যন্ত কুকুরের মালিককে ক্ষমা করে দিতে রাজি হয়েছেন, তবে শর্তসাপেক্ষে। প্রধানতম শর্তই হলো কুকুর দুটিকে কোনো পশু চিকিৎসকের সাহায্য নিয়ে বিনা যন্ত্রণায় মেরে ফেলতে হবে। ওই ধরনের আরও কুকুর তার কাছে থাকলে তাকেও দিতে হবে।
এ ছাড়া আইনজীবীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে কুকুরের মালিককে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো হিংস্র কুকুর তিনি পুষবেন না। আরেকটি শর্ত ছিল, যদি তার কোনো পোষ্য থাকে, তবে ক্লিফটন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে সেটির নাম নথিভুক্ত করতে হবে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হ্যান্ডলার ছাড়া সেই পোষ্যকে রাস্তায় বের করা যাবে না।
এমনই নানা শর্তের মাধ্যমে বোঝাপড়া হয়েছে। সাক্ষীদের দিয়ে সইও করানো হয়েছে। তা আদালতে জমাও দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের বোঝাপড়ার ঘটনায় পশুপ্রেমীরা হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

কঠোর লকডাউনেও কমেনি মাদক পাচার, একদিনে শুধু তেজগাঁও থেকেই ৯০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

0

একদিনে শুধু রাজধানীর তেঁজগাও থানা এলাকা থেকে প্রায় ৯০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। কঠোর লকডাউনের মধ্যেই রাজধানীতে অবাধে চলছে মাদক বেচাকেনা। গাঁজা আর ইয়াবায় ছেয়ে গেছে রাজধানী। সোমবার হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ আবু জাহের ও মোঃ শাহাদত হোসেন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার সন্ধ্যায় হাতিরঝিল থানার শেখ দিলু বেপারী ওয়া্কফ এষ্টেট জামে মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ তাদেরকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, কুমিল্লা হতে গাঁজা সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে। এদিকে সোমবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে ৮ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ শাহাদত মোল্লা, মোঃ মাসুম মিয়া ও মোঃ কবির বিশ্বাস। দুপুরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার তিব্বত কলোনী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে একই দিন তেজগাঁও থানা এলাকার খামারবাড়ি খেঁজুর বাগান থেকে ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে তেজগাঁও থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ হানিফ ও মোঃ ওয়াশিকুর রহমান তালাশ। এসময় গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার ও চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
তেজগাঁও থানার ওসি মোঃ সালাহ উদ্দিন মিয়া জানান, সোমবার সকালে খামারবাড়ি এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের সার্জেন্ট মোঃ নাজমুল হুদা ও কনস্টেবল মোঃ শাহজাহান।এ সময় খামারবাড়ির খেজুর বাগান মোড়ে একটি প্রাইভেট কারকে থামার জন্য সিগন্যাল দেন সার্জেন্ট মোঃ নাজমুল হুদা। এরপর গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা অসংলগ্ন আচরণ করতে থাকে। পুলিশের সন্দেহ হলে গাড়ির ব্যাক ডালা খুললে সেখানে দুইটি বস্তায় বিভিন্ন সাইজের ২৫টি প্যাকেটে গাঁজা রাখা দেখতে পান। যার পরিমাণ ৪০ কেজি। উক্ত গাঁজাসহ হানিফ ও ওয়াশিকুর রহমান তালাশকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকা হতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেরিবাঁধ এলাকায় এ গাঁজা নিয়ে যাচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।

ঈদ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে ৯ দিন সব খোলা, এর পর ফের ‘কঠোর বিধিনিষেধ’

0

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার এক প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে, ঈদুল আযহা উদযাপনের জন্য চলমান বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
১৪ই জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩শে জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত সব ধরণের বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে।
কারণ হিসেবে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে এ সময়ে অর্থনৈতিক সব কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এরপর ২৩শে জুলাই ভোর ৬টা থেকে ৫ই অগাস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সরকার বলছে ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
ওই সময়ে জনগণকে মাস্ক পরা এবং কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এসময় জনসাধারণের যাতায়াতে বাধা থাকবে না, এবং ঈদ সামনে রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।
২৩শে জুলাই থেকে আবার ‘কঠোর’ লকডাউন:
প্রজ্ঞাপনে ২৩শে জুলাই ভোর ৬টা থেকে ৫ই অগাস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত নতুন করে যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলেছে, তাতে ২৩টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
এর মধ্যে কয়েকটি:
* সকল সরকারি, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে
* সড়ক, রেল ও নৌ-পথে গণপরিবহন, অভ্যন্তরীণ বিমান ও সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে
* শপিংমল মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে
* সকল পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে
* সব শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে

* জনসমাবেশ হয় এমন সামাজিক অনুষ্ঠান, যেমন বিয়ের অনুষ্ঠান-জন্মদিন-পিকনিক ইত্যাদি, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে
* আইনশৃঙ্খলা, জরুরি পরিষেবা, খাদ্যদ্রব্য পরিবহণ ত্রাণ বিতরণ, রাজস্ব আদায়, সরকারি ও বেসরকারি টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় দেখিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।
* অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যেমন ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটা, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকারের মত কাজ ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে
* কাঁচা বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে
* খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি করতে পারবে
* বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় সেনাবাহিনী মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে
* আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকেট দেখিয়ে গাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে
* পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান, কার্গো ভেসেল নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকব
* বন্দরসমূহ অর্থাৎ বিমান, নৌ ও স্থল বন্দর এবং এর সাথে সম্পৃক্ত অফিস বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবে
* টিকা কার্ড দেখিয়ে কোভিডের টিকা গ্রহণ করতে যাওয়া যাবে
* বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে
* প্রত্যেক জেলার ম্যাজিস্ট্রেট নিজ জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলের অধিক্ষেত্র, সময় ও এলাকা নির্ধারণ করবেন।
* মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ নিশ্চিত করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
* স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করতে পারবেন।
* ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নির্দেশনা দেবে
* বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে অর্থ বিভাগ নির্দেশনা দেবে
* সরকারি কর্মচারীগণ নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকতে হবে, এবং দাপ্তরিক কাজসমূহ ভাচুয়ালি সম্পন্ন করতে হবে
শর্তাবলী পালনের জন্য ‘সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইন- ২০১৮’ এর আওতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ করোনাভাইরাসের উর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে পহেলা জুলাই থেকে আরোপ করা এক সপ্তাহের ‘কঠোর লকডাউন’ পরে আরেক সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৪ই জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে।
তবে এপ্রিল মাসের পাঁচ তারিখ থেকে দেশে বিভিন্ন নামে লকডাউন বা চলাচলে বিধিনিষেধ চলছে।

যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার রিপোর্ট নিয়ে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চিঠি দেয়া হবে,জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

0

যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত মানবাধিকার রিপোর্টে বাংলাদেশ অংশের ভুল ও বানোয়াট তথ্যের প্রতিবাদ জানাবে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে ঢাকাস্থ ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে ডেকে এনে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চিঠি পাঠানো হবে। আর এর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন ভুল তথ্যের মধ্যে সরকারের কাছে সবচেয়ে আপত্তিজনক মনে হয়েছে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে খালেদা জিয়াকে হাউজ অ্যারেস্ট বা গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।
বিষয়টিকে চরম বিভ্রান্তিমূলক বলছে সরকার। কারণ খালেদা জিয়া গৃহবন্দি নন। তিনি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাগারে ছিলেন। তার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বয়স,অসুস্থতা এবং করোনা মহামারি বিবেচনা করে সরকার খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড প্রথমে ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না এবং দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। পরবর্তীতে তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তিনি এখন সাজা স্থগিতের সুযোগ নিয়ে বাসায় আছেন। ক’দিন আগে চিকিৎসার জন্য হাসাপাতালেও ভর্তি হয়েছেন । তাঁর সঙ্গে দলের লোকজন এবং আত্মীয় স্বজন দেখা করতে পারছেন। কাজেই খালেদা জিয়া গৃহবন্দি বলে যে তথ্য বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক।
সোমবার গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়া গৃহবন্দি নন। বাংলাদেশের ভেতরে চলাফেরায় তাঁর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তারপরও তারা (যুক্তরাজ্য ) এ কথা লিখেছে, সেটি আমি আপত্তি করে লিখবো ও প্রতিবাদ করবো। এ নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চিঠি পাঠাবো।
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনও যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রিপোর্টটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন । তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের উচিত এই ধরনের চর্চা বন্ধ করা।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের ওই রিপোর্ট তথ্যনির্ভর নয়। নিজের দেশের অবস্থা ভালো করতে পারে না কিন্তু অন্যদের উপদেশ দেয়। গঠনমূলক তথ্য দিলে সেটি কাজে আসবে। কিন্তু বানোয়াট তথ্য দিলে সেটি কোনো উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেওয়া হয়েছে বলে সবাই মনে করবে। তারা উপদেশ দিতে আসে কিন্তু এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’
এর আগে রোববার (১১ জুলাই) ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জাভেদ প্যাটেলকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। সেখানে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনের কিছু অংশে বিভ্রান্তিকর বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘গৃহবন্দি’ হিসেবে ওই প্রতিবেদনে মন্তব্য করাটা চরম বিভ্রান্তিমূলক বলে ব্রিটিশ দূতকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়।
ব্রিটিশ দূতকে জানানো হয়, খালেদা জিয়া বিদেশ যাবেন না, দেশে চিকিৎসা নেবেন, এই শর্তে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের জন্য কারাদণ্ড স্থগিত করে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর ও ২০২১ সালের মার্চে দুই দফায় তাঁর কারাদণ্ড স্থগিত করে মুক্তির আদেশের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থানের বিষয় নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকলে যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার যাতে বাংলাদেশ সরকার কিংবা সরকারি দল আওয়ামী লীগের বিষয়ে কটাক্ষমূলক ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে, সেটি তলবের সময় ব্রিটিশ দূতকে মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে মন্তব্য নিয়েও সরকার উদ্বেগ জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনে বাংলাদেশে অবস্থানের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের যেভাবে অভিহিত করা হয়েছে, তা যেমন আন্তর্জাতিকভাবে ঠিক নয়, তেমনি তা বাংলাদেশের আইনেও স্বীকৃত নয়।
যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জাভেদ প্যাটেল বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো তাঁর দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরবেন বলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

রাজধানীর বাড্ডায় জাল টাকার কারখানায় গোয়েন্দাদের হানা, ৪৩ লাখ জাল টাকাসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

0

রাজধানীর বাড্ডা থানা এলাকা থেকে জাল টাকা তৈরির একটি কারখানার সন্ধানসহ বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি গুলশান বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- আব্দুর রহিম শেখ, ফাতেমা বেগম, হেলাল খান, আনোয়ার হোসেন ও ইসরাফিল আমিন।
সোমবার (১২ জুলাই) দুপুরে বাড্ডা থানার নুরের চালা সাঈদ নগর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ৪৩ লক্ষ তৈরিকৃত জাল টাকাসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এ অভিযান সম্পর্কে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন উৎসবে বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে জাল টাকা তৈরি চক্র, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি, ছিনতাইকারী এদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। আমরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এদের তৎপরতা রুখতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি। ডিবির ডিসি মশিউরের নেতৃত্বে এ বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।
জাল টাকায় শুধু দেশবাসী প্রতারিত হচ্ছে না রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে যারা অধিক টাকা বহন করবেন, তাঁরা নগদ ক্যাশ বহন না করে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করার জন্য অনুরোধ করেন ডিবির এই কর্মকর্তা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, অভিযানকালে কারখানাটি থেকে ১০০০ টাকা ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের প্রায় ৪৩ লক্ষ তৈরিকৃত জাল টাকা, একটি ল্যাপটপ, দুইটি কালার প্রিন্টার, বিপুল পরিমাণে আঠা ও আইকা, বিভিন্ন ধরনের রং, জাল টাকা তৈরির জন্য A 4 সাইজের প্রচুর কাগজ, নিরাপত্তা সুতার বান্ডেল, লেমিনেটিং মেশিন, কাটার, বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো সম্পন্ন বিশেষ কাগজ জব্দ করা হয়েছে। যা দিয়ে কয়েক কোটি মূল্যের জাল টাকা তৈরি করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা জাল টাকা ও মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে জড়িত থেকে আগেও গ্রেফতার হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত ফাতেমা বেগম ২০১৯ সালে হাতিরঝিল এলাকার একটি বাসায় জাল টাকা তৈরি করার সময় অপর সহযোগীসহ হাতে নাতে ধরা পড়েছিল। কিন্তু তার স্বামী রহিম ওই সময় পালিয়ে গিয়েছিল। ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকা খুচরা এবং পাইকারি বিক্রি করতো। গত তিন বছর ধরে ঈদসহ অন্যান্য উৎসবের আগে আগে জাল টাকা তৈরির কাজে নিয়োজিত থেকে বিপুল পরিমান জাল টাকা বাজারে ছেড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।
১০০ টি কাগজের ১ হাজার টাকার নোটের এক বান্ডেল জাল টাকা তৈরি করতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। তৈরিকারকরা প্রতি বান্ডেল পাইকারি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। পাইকাররা আবার এ গুলোকে প্রান্তিক পর্যায়ের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে প্রতি বান্ডেল ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। যা রুট পর্যায়ের জাল টাকার কারবারিরা কখনো কখনো গহনা, কখনো কাপড় চোপড়, ভোজ্য পণ্য এমনকি পশুর হাটে বিক্রি করে ছড়িয়ে দিয়ে থাকে বলে তিনি জানান।

যুক্তরাজ্যের রিপোর্ট তথ্যনির্ভর নয়,তারা নিজেরা ভালো করতে পারে না, অন্যদের উপদেশ দেয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0

যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রিপোর্টটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। সোমবার নিজ দপ্তরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের উচিত এই ধরনের চর্চা বন্ধ করা।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের ওই রিপোর্ট তথ্যনির্ভর নয়। নিজের দেশের অবস্থা ভালো করতে পারে না কিন্তু অন্যদের উপদেশ দেয়। গঠনমূলক তথ্য দিলে সেটি কাজে আসবে। কিন্তু বানোয়াট তথ্য দিলে সেটি কোনো উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেওয়া হয়েছে বলে সবাই মনে করবে। তারা উপদেশ দিতে আসে কিন্তু এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করা হয়। পরে গত রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে এনে প্রতিবাদ জানানো হয়। যুক্তরাজ্যের প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘হাউজ অ্যারেস্ট’ করে রাখা হয়েছে বলে যা উল্লেখ করা হয় সেটা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়েছে যে, এটি চরম বিভ্রান্তিকর। এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে অবগত করা হয়, খালেদা জিয়ার ভাই একটি আবেদন করেন এবং সরকার আইন অনুযায়ী, শাস্তি স্থগিত করে ২০২০’র মার্চে তাকে মুক্তি দেয় এই শর্তে যে, তিনি দেশে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং বিদেশ সফর করবেন না। প্রথম অবস্থায় তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে দুইবার বাড়ানো হয়েছে।
এ ধরনের আইনি বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকলে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কাছ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূতকে পরামর্শ দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের বরাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘তিনি স্বীকার করেছেন তাদের রিপোর্ট আরও তথ্যনির্ভর হওয়া উচিত ছিল। তিনি আমাদের উদ্বেগ তার সদর দপ্তরে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।’
সাংবাদিকদের বিদেশে বিভিন্ন অনিয়ম প্রসঙ্গে লেখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের টাকা-পয়সা আছে, একটি এনজিওকে কাজে লাগিয়ে দেয়।’ কোনো দেশ ফেরেশতা নয় কিন্তু কাউকে খামোখা দোষারোপ করা নিম্ন মন-মানসিকতার পরিচয় উল্লেখ করেন আব্দুল মোমেন।

মিতু হত্যা: এসপি বাবুলের সোর্স মুছাসহ ৩ আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

0

চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যা মামলার তিন আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। তিন আসামি হলেন কামরুল শিকদার ওরফে মুছা, এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা ও মো. কালু।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, মাহমুদা হত্যার তিন আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। আদালতের আদেশটি স্থল ও বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মুছা। পুলিশ বলছে তাঁকে খোঁজা হচ্ছে। যদিও মুছার স্ত্রী পান্না বেগম ঘটনার পর থেকে দাবি করে আসছেন তাঁর স্বামীকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মুছার খোঁজ এখনো মেলেনি। আসামি কালু ঘটনার পর থেকে পলাতক। এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা জামিনে রয়েছেন।
২০১৬ সালের ৫ জুন বড় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় মাহমুদাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ছিল ১২ বছর বয়সী বড় ছেলে। মাহমুদা হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর স্বামী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। ডিবি পুলিশের পর গত বছরের মে মাস থেকে মামলাটি তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
চলতি বছরের ১২ মে এ মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। এতে বলা হয়, তিন লাখ টাকা দিয়ে স্ত্রীকে খুন করান বাবুল। ওই দিন বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে বাবুলসহ আটজনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। এই মামলায় বাবুলকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। গত ১৭ মে থেকে কারাগারে আছেন বাবুল।

স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন রাখলো আপিল বিভাগ

0

স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছিলেন স্বপন কুমার বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি। নীলফামারীর সৈয়দপুরে ২০০৬ সালে তাকে দেওয়া এ দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পাশাপাশি তাকে কনডেম সেল থেকে সাধারণ সেলে স্থানান্তরেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে বিনা ফিতে আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমান উদ্দিন ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরসেদ।
গত ৮ জুলাই এ মামলার শুনানিতে আসামির পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতকে বলেন, স্ত্রী স্বপ্না ঘোষকে পূর্ব পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়নি। পারিবারিক ঝগড়ার এক পর্যায়ে উত্তেজিত অবস্থায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে আসামি স্বপন কুমার বিশ্বাসকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ড কোনোটাই দেওয়া সমীচীন হবে না। এ মামলায় প্যানাল কোডের ৩০৪/২ ধারা অনুযায়ী আসামির সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছরের বেশি হতে পারে না।
ওইদিন মামলাটি বিনা ফিতে পরিচালনার কথা জানিয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতকে জানান, কারাগার থেকে স্বপন কুমার বিশ্বাস নামে ওই ফাঁসির আসামি অনেক কাকুতি-মিনতি জানিয়ে তাকে চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে স্বপন জানিয়েছে, তিনি দরিদ্র মানুষ। আইনজীবী রেখে মামলা পরিচালনা করার সামর্থ্য তার নেই।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবর নীলফামারীর সৈয়দপুর থানার নয়াটোল গ্রামে প্রথম স্ত্রী স্বপ্না ঘোষকে (৩৫) হত্যা করেন তার স্বামী স্বপন। তার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর এ নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে মাথায় আঘাত করে খুন করেন। পরে লাশ ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। একই বছরের ২৮ অক্টোবর সৈয়দপুর থানার এসআই শফিউল হক নিহতের স্বামী স্বপনের নামে মামলা করেন। ওইদিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে ২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর নীলফামারীর দায়রা জজ আদালত স্বপনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
এরপর ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল বিচারিক আদালতের দেওয়া ওই রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে স্বপন আপিল করেন। একই সময়ে তার মামলাটি বিনা ফিতে পরিচালনা করতে আইনজীবীকে চিঠি দেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে সোমবার রায় দিলেন আপিল বিভাগ।

বেসরকারি ৩ বিমানসংস্থার কাছে বেবিচকের পাওনা সাড়ে ৭শ কোটি টাকা, নিলামে উঠছে অকেজো ১২ বিমান , সাড়া নেই মালিকদের

0

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দেশের বেসরকারি ৩টি বিমান সংস্থার কাছে শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিমানের পার্কিং চার্জ, ল্যান্ডিং ফি বাবদ সাড়ে ৭শ কোটি টাকা পায়। বিমান সংস্থাগুলো বছরের পর বছর পার্কিং চার্জ দিচ্ছে না। বেবিচক থেকে বারবার তাগাদা দেয়া হলেও টনক নড়ছে না তাদের। এবার কর্তৃপক্ষ ৩টি বিমান সংস্থার ১২টি বিমান নিলামে বিক্রি করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এই বিমানগুলো কয়েকবছর ধরে বিমানবন্দরে পার্কিং করে ফেলে রাখা হয়েছে। এগুলো অকেজোও হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।সবচেয়ে বেশি টাকা বকেয়া পড়ে আছে জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাছে। এরপরই আছে রিজেন্ট এয়ারলাইন্স ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স।

বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১২ টি বিমান পার্কিং চার্জ না দিয়েই দীর্ঘদিন পড়ে আছে কার্গোতে।
এগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে ১০টিই গত ৮ বছর ধরে কার্গো ভিলেজের জায়গা দখল করে আছে। এসব পরিত্যক্ত বিমানের কারণে কার্গোর মাল ওঠা-নামায় সমস্যা হয়। তাই জায়গা খালি করতে দীর্ঘদিন ধরে উপায় খুঁজছিল বেবিচক। সর্বশেষ এ বিষয়ে গঠিত ৪ সদস্যের কমিটি বিমানগুলো নিলাম করার সুপারিশ করেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে বিমানবন্দরে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি, জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাভিয়েনা এয়ারলাইন্সের একটি করে প্লেন দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। এদের মধ্যে রিজেন্ট বাদে সবগুলোই ৮ বছর ধরে একই অবস্থায় স্থান দখল করে আছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তারা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ থেকে ১৯০ কোটি, জিএমজি এয়ারলাইন্স থেকে ৩৬০ কোটি এবং রিজেন্ট থেকে ২০০ কোটি টাকা পাবে। এই টাকা আদায়ের জন্যে তারা প্লেনগুলো নিলামে তুলতে চায়।
বছরের পর বছর পড়ে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিলামে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে বিমানগুলো কেটে কেজি দরে বিক্রি করা হবে।
বেবিচক সূত্র সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে নিলামের প্রক্রিয়া ঠিক করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি নিলামের কর্মপদ্ধতি এবং সুপারিশমালাও দিয়েছে। এখন কেবল নিলাম আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পালা।
এ বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক তৌহিদ-উল আহসান বলেন, এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্লেনগুলো সেখান থেকে সরিয়ে না নেয় এবং টাকাও পরিশোধ না করে সেক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশনের রুল অনুযায়ী চেয়ারম্যান প্লেনগুলো বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করার ক্ষমতা রাখেন। এয়ারলাইন্সগুলোকে বেশ কয়েকবার প্লেন রাখার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে অথবা প্লেন সরিয়ে নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ‘প্লেনগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে’ বলে সতর্কও করা হয়েছে। তারা কোনো সাড়া দেয়নি। বর্তমানে প্লেনগুলোর ডি-রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে বেবিচকের কমিটি যে কর্মপদ্ধতি সুপারিশ করেছে, সেই অনুযায়ী নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহজালালের বড় অংশ দখল করে রাখা ১২টি প্লেন নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। পার্কিং চার্জ না দিয়েই এই বিমানগুলো দীর্ঘদিন পড়ে আছে কার্গোতে। বছরের পর বছর পড়ে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিলামে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে বিমানগুলো কেটে কেজি দরে বিক্রি করা হবে।
আজ সোমবার বেবিচক সূত্র গণমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে নিলামের প্রক্রিয়া ঠিক করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি নিলামের কর্মপদ্ধতি এবং সুপারিশমালাও দিয়েছে। এখন কেবল নিলাম আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পালা।
বেবিচক জানায়, বর্তমানে বিমানবন্দরে মোট ১২টি এয়ারক্রাফট পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে ১০টিই গত ৮ বছর ধরে কার্গো ভিলেজের জায়গা দখল করে আছে। এসব পরিত্যক্ত প্লেনের কারণে কার্গোর মাল ওঠা-নামায় সমস্যা হয়। তাই জায়গা খালি করতে দীর্ঘদিন ধরে উপায় খুঁজছিল বেবিচক। সর্বশেষ এ বিষয়ে গঠিত ৪ সদস্যের কমিটি প্লেনগুলো নিলাম করার সুপারিশ করেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে বিমানবন্দরে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি, জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাভিয়েনা এয়ারলাইন্সের একটি করে প্লেন দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। এদের মধ্যে রিজেন্ট বাদে সবগুলোই ৮ বছর ধরে একই অবস্থায় স্থান দখল করে আছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তারা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ থেকে ১৯০ কোটি, জিএমজি এয়ারলাইন্স থেকে ৩৬০ কোটি এবং রিজেন্ট থেকে ২০০ কোটি টাকা পাবে। এই টাকা আদায়ের জন্যে তারা প্লেনগুলো নিলামে তুলতে চায়।
এ বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক তৌহিদ-উল আহসান বলেন, এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্লেনগুলো সেখান থেকে সরিয়ে না নেয় এবং টাকাও পরিশোধ না করে সেক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশনের রুল অনুযায়ী চেয়ারম্যান প্লেনগুলো বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করার ক্ষমতা রাখেন। এয়ারলাইন্সগুলোকে বেশ কয়েকবার প্লেন রাখার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে অথবা প্লেন সরিয়ে নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ‘প্লেনগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে’ বলে সতর্কও করা হয়েছে। তারা কোনো সাড়া দেয়নি। বর্তমানে প্লেনগুলোর ডি-রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে বেবিচকের কমিটি যে কর্মপদ্ধতি সুপারিশ করেছে, সেই অনুযায়ী নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের রেস্টুরেন্টে মরা মুরগি, ব্যাখ্যা চায় বিমান কর্তৃপক্ষ

0

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট’-এ সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু তাদের চোখ ‘ফাঁকি’ দিয়েই দিনের পর দিন সেখানে রান্না করা হতো মরা মুরগি। আর সেই খাবার ভোক্তাদের পরিবেশন করত হোটেল কর্তৃপক্ষ। শেষ রক্ষা অবশ্য হয়নি। গত ১২ জুন ওই রেস্টুরেন্ট থেকে ১৮৬টি মরা মুরগি উদ্ধার করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। গ্রেপ্তার করা হয় রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার, বাবুর্চি, মৃত মুরগির জোগানদাতা, মুরগি বহন করা গাড়ির চালকসহ সাতজনকে। সংরক্ষিত ওই এলাকায় ভোক্তাদের সঙ্গে নজিরবিহীন এ প্রতারণায় বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ায় ‘এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট’ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ববিচক)।
গত রবিবার এক চিঠির মাধ্যমে রেস্টুরেন্ট সংশ্লিষ্ট আমিন মোহম্মদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রমজানুল হক নিহাদের (লিজ মালিক) কাছে এ ব্যাখ্যা চেয়েছেন বেবিচকের উপপরিচালক (সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) ইসরাত জাহান পান্না। আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস হাউসের পশ্চিম পাশে ইজারাকৃত এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টে গত ১২ জুন বিকালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেট। এ সময় ওই রেস্টুরেন্টের সামনে ১৩৩টি মৃত, ৫৩টি জবাই করা ও কিছু জীবিত মুরগি পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে রেস্টুরেন্টের অ্যাকাউন্ট্যান্ট রবিউল ইসলাম ও হিসাব সহকারী ইস্রাফিল হোসেন, বাবুর্চির সহকারী সালাউদ্দিন ও মরা মুরগি বহনকারী ট্রাকের সহকারী রানাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সালাউদ্দিন ও রানা মরা মুরগি বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। এতে বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। সেই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকা- ইজারায় সম্পাদিত চুক্তির ১৪ নম্বর শর্তের পরিপন্থী। এ অবস্থায় এয়াপোর্ট রেস্টুরেন্টে মৃত মুরগি পাওয়া যাওয়াসহ এ ধরনের অনৈতিক কাজ সংঘটনের বিষয়ে চিঠি জারির সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে। অন্যথায় বিধিমতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।